সিলেটে ছাইদুল হত্যায় এক যুবককে যাবজ্জীবন, ৩ জনের দন্ড

112সিলেটে ছাইদুল ইসলাম (১৭) হত্যা মামলায় এক যুবককে যাবজ্জীবন ও তার সহযোগী ৩ জনকে ১ বছর করে কারাদন্ড এবং ৪ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার সকালে সিলেটের বিশেষ দায়রা জজ (জননিরাপত্তা বিঘœকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল) এর বিচারক মোঃ মফিজুর রহমান ভুঁইয়া এ রায় ঘোষনা করেন।

দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হচ্ছে- সুনামগঞ্জের দিরাই থানার ভাটিপাড়া গ্রামের আতাউল করিমের পুত্র বর্তমানে নগরীর সুবিদবাজার এলাকার বাসিন্দা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হুমায়ুন আহমদ শান্ত (১৮), হবিগঞ্জের বাহুবল থানার দৌলতপুর গ্রামের মোঃ আঃ সামাদের পুত্র বর্তমানে নগরীর খাসদবির উদয়ন ২৩ নং বাসার বাসিন্দা উজ্জল ওরফে সিরাজুল ইসলাম (২১), নগরীর বাদাম বাগিচা ১ নং রোডের হামিদ মিয়ার কলোনীর আঃ খালেকের পুত্র কাবুল (১৮) ও ফদিগঞ্জ থানার চিরকা চাঁদপুর গ্রামের মোঃ আবু জাফরের পুত্র বর্তমানে নগরীর ইলাশকান্দি সৈয়দমুগনি এলাকার লাকী ভিলার বাসিন্দা মোঃ শরিফ (২২) এবং খালাসপ্রাপ্তরা হচ্ছে- বিশ্বনাথের লাবনী ওরফে মইনুল ইসলাম (১৯), একই থানার মুন্না ওরফে মুন্না আহমদ (১৮), নগরীর বাদাম বাগিচার বাবু ওরফে ওসমান গনি (২০) ও খাসদবিরের সৈয়দ হাসান আলী (২৩)। বর্তমানে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী হুমায়ুন আহমদ শান্ত, উজ্জল ওরফে সিরাজুল ইসলাম ও কাবুল পলাতক রয়েছেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, ২০১০ সালের ৩১ মার্চ সকালের দিকে বাদাম বাগিচাস্থ খেলার মাঠে ছাইদুল ইসলামের সাথে ক্রিকেট খেলা নিয়ে হুমায়ুন আহমদ শান্ত, উজ্জল,কাবুল ও শরিফের সাথে কথাকাটাকাটি হয়।

ওইদিন খেলা শেষে ছাইদুল বাড়ি ফেরার পথে দুপুর ১ টার দিকে বাদামবাগিচা ৪নং গলির পুজা গাছের নিকটে পৌছিলে উক্ত আসামীরা পরিকল্পিতভাবে তার উপর হামলা চালায়। এ সময় হুমায়ুন আহমদ শান্ত তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো চাকু দিয়ে উপর্যুপরি কুপায় এবং অন্যান্য আসামীরা তাকে কিল-ঘুষি মেরে ফেলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন ছাইদুলকে উদ্ধার করে দ্রুত সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরদিন ১ এপ্রিল সকাল ৬ টার দিকে ছাইদুল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের পিতা নগরীর বাদামবাগিচা কাজি গার্টেন হাউজ ১৭ নং বাসারা বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বাদি হয়ে হুমায়ুন আহমদ শান্ত, উজ্জল,কাবুল ও শরিফকে আসামী করে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২ (০১-০৪-১০)।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে মহানগর গোয়েন্দ পুলিশের (ডিবি)’র এসআই আবু শীষ ২০১২ সালের ২৬ মে আদালতে ৮ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশীট (নং-১৬৮) দাখিল করেন এবং ২০১৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারী থেকে ওই ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালত চার্জগঠন করে এ মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।

দীর্ঘ শুনানী ও ১২ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন শেষে আদালত আসামী হুমায়ুন আহমদ শান্তকে ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ২০ হাজার টাকা জরিমান অনাদায়ে আরো ৩ মাসের সশ্রম কারাদন্ড এবং, উজ্জল,কাবুল ও শরিফকে ৩২৩ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাদের প্রত্যেককে ১ বছরের বিনাশ্রমে কারাদন্ড এবং আসামী মইনুল ইসলাম, মুন্না ওরফে মুন্না আহমদ,বাবু ওরফে ওসমান গনি ও সৈয়দ হাসান আলীর আদালতে দোষ প্রমানিত না হওয়ায় তাদেরকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে স্পেশাল পিপি এডভোকেট নওশাদ আহমদ চৌধুরী ও আসামীপক্ষে এডভোকেট ফখরুল ইসলাম, এড. নোমান মাহমুদ ও এড. শাহ আফরাফুল ইসলাম মামলাটি পরিচালনা করেন।

Developed by: