জাতীয় রাজনীতিতে নেতৃত্ব শূণ্য সিলেট

02সিলেট, ২৯ অক্টোবর- এক সময় দেশের জাতীয় রাজনীতিতে নেতৃস্থানীয় ভূমিকায় ছিলেন সিলেটের রাজনীতিবিদরা। প্রায় সকল রাজনৈতিক দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের প্রভাবশালী অবস্থানে ছিলেন তারা। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে জাতীয় রাজনীতিতে সিলেটের নেতাদের দাপট কমে এসেছে। দেশপ্রেম, যোগ্যতা ও জনসম্পৃক্ততার অভাবে আগের মতো সিলেটের নেতারা জাতীয় পর্যায়ে তাদের অবস্থান তৈরি করতে পারছেন না বলে মনেকরেন স্থানীয় নেতারা।

বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুস সামাদ আজাদ, জাতীয় সংসদে সর্বোচ্চবার বাজেট পেশ করার গৌরবের অধিকারী অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্পিকার হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া, সাবেক মন্ত্রী ফরিদ গাজী, এরশাদ আমলের রিয়াল এডমিরাল এম এ খান -প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় এই রাজনীতিবিদদেও সবাই ছিলেন সিলেটের কৃতিসন্তান।

জাতীয় রাজনীতিতে তারা ছিলেন স্বমহিমায় উদ্ভাসিত। নিজ নিজ দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে তাঁদের অবস্থান ছিল দাপুটে। জাতীয় রাজনীতির মাঠেও তাঁরা প্রথম সারির নেতা। তাদের হাত ধরেই সিলেট বিভাগ এগিয়ে গিয়েছিল সমৃদ্ধির পথে।

প্রতিথযশা এসব নেতাদের মৃত্যুতে জাতীয় রাজনীতিতে সিলেট অভিভাবকশূণ্য হয়ে পড়েছে। তাদের উত্তরসূরীরাও এই শূণ্যতা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন।

বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী আশা জাগিয়েছিলেন সামাদ আজাদ-সাইফুরদের শূণ্যতা পূরণের। কিন্তু নানা ঘাত-প্রতিঘাতে তারা সে শূণ্যতা পূরণ করতে পারেননি।

আওয়ামী লীগের একসময়কার প্রভাবশালী নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মহাজোট সরকারের গত মেয়াদের শেষের দিকে রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। কিছুদিনের মাথায় বস্তাভর্তি টাকাসহ তাঁর এপিএস ধরা পড়ার ঘটনার পর পদত্যাগ করেন তিনি। এরপর দফতরবিহীন মন্ত্রী হিসেবেই সরকারের মেয়াদ পার করেন তিনি। বর্তমান সরকারের মন্ত্রীসভায় তার স্থান হয়নি। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও তিনি এখন অনেকটা কোনঠাসা।

আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী তারুণ্যের অহংকার হিসেবেই বিবেচিত হতেন সিলেটের রাজনীতিতে। কিন্তু এ দুইনেতাও সম্ভাবনার ঝলকানি দেখিয়ে হারিয়ে যান রাজনীতির ময়দান থেকে। ওয়ান ইলেভেনের সময় সংস্কারপন্থী তকমা গায়ে লাগায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কোনঠাসা হয়ে পড়েন সুলতান মনসুর। আর প্রায় দুইবছর ধরে ‘নিখোঁজ’ রয়েছেন ইলিয়াস আলী।

আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মহসিন আলী। তার মৃত্যুতে যে মৌলভীবাজার তথা সিলেটে যে শূণ্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা এখনো পূরণ হয়নি।

বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের মধ্যে সিলেটের হয়ে জাতীয় পর্যায়ে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের মধ্যে অন্যতম আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন। কিন্তু জাতীয় রাজনীতিতে তারা সিলেটবাসীর প্রত্যাশা পূরণে পুরোপুরি সক্ষম হননি।

একসময় বামধারার জাতীয় রাজনীতিতেও সিলেটের নেতাদের অবস্থান ছিল শক্তিশালী। কমরেড বরুণ রায় ও পীর হবিবুর রহমানের মতো দেশপ্রেমিক নেতারা এ দেশের বাম রাজনীতির পুরোধা ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বামধারার রাজনীতিতে তাদের ধাঁরেকাছেও যেতে পারেননি কোন উত্তরসূরি।

Developed by: