থার্টি ফার্স্ট: সন্ধ্যার পর উৎসব না করার ‘পরামর্শ’ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : বছরের শেষ দিন সন্ধ্যার পর বর্ষবরণের উৎসব না করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সচিবালয়ে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এক অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এই পরামর্শ দেন বলে দুইজন মন্ত্রী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সন্ধ্যার পরে থার্টি ফার্স্ট উৎসব না করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিধিনিষেধ দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও সন্ধ্যার পরে এই উৎসব না করার পরামর্শ দিয়েছেন।”

বৈঠকে উপস্থিত আরেকজন মন্ত্রী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আনন্দ করতে কোনো বাধা নেই। তবে তা রাতে না করাই ভাল। সব সময় একভাবে আনন্দ করতে হবে এমন নয়। দিনেও আনন্দ করা যায়।”

ওই মন্ত্রী জানান, ‘দেশি-বিদেশি চক্র’ দেশকে অস্থিতিশীল করতে সক্রিয় রয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সদস্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।

মন্ত্রিসভা বৈঠকে পর্যটনমন্ত্রী মেনন পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে কক্সবাজারে ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ উদযাপনের বিষয়ে কথা বলেন। এরপরেই মসজিদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা, জঙ্গিদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার নিয়ে কথা বলেন কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী।

গত ২৪ ডিসেম্বর মিরপুরে জেএমবির আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও ‘সুইসাইড ভেস্ট’ উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে ১৬টি ‘হাতে তৈরি গ্রেনেড’ ছিল।

পরদিন গত ২৫ ডিসেম্বর রাজশাহীর বাগমারায় একটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়, যাতে হামলাকারী নিজেই নিহত হন।

এর একদিন পর ২৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের এক বাসায় জেএমবির আরেক আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়; সেখান থেকে স্নাইপার রাইফেল, বিস্ফোরক, গুলি ও সেনাবাহিনীর পোশাক উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশা।

বৈঠকে উপস্থিত আরেকজন মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক এসব ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে বলে সতর্ক করে দেন।

“মন্ত্রিসভার সদস্যেদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতি বুঝে সবাইকে কাজ করার নির্দেশনা দেন।”

Developed by: