নবীগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার নিয়ে রহস্য

নবীগঞ্জে বড় ভাকৈড় গ্রামে গৃহবধূ রুমেনা বেগম ও তার দুই সন্তানকে পরিকল্পিত হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত পৃথক দুটি মামলা নাটকীয় মোড় নিয়েছে। আদালতে গোয়েন্দা কর্মকর্তার চার্জশিট, নারাজি আবেদন এবং বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে পিবিআই। গোপন ও প্রকাশ্য তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্যের দাবি করা হয়েছে।

গত ২২শে মার্চ নিহত ওই গৃহবধূকে পারিবারিক কলহের জের হিসেবে দুই সন্তানসহ পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে নবীগঞ্জ থানা ও আদালতে পৃথক মামলা করেন আশুক মিয়া ও মো. বাছিত মিয়া। গাছের ডাল থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ এবং পুকুরের পানিতে ভেসে ওঠা দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

থানা ও আদালতে মামলা ছাড়াও সুষ্ঠু বিচার এবং রহস্য উদঘাটনে আইনমন্ত্রীসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তৃতীয় দফায় মামলার তদন্ত করছে পিবিআই পুলিশ।

মামলা সূত্রে প্রকাশ, উপজেলার বড় ভাকৈড় ইউনিয়নের বড় ভাকৈড় গ্রামের গৃহবধূ রুমেনা বেগম (৩৫) এবং তার দুই সন্তান মুসা মিয়া (৭) ও কন্যা সন্তান মুসলিমাকে পরিকল্পিতভাবে গত বছরের ২২শে মার্চ গভীর রাতে ঘাতক স্বামী ফরিদ মিয়া সহযোগীদের নিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় ফরিদ মিয়াকে প্রধান অভিযুক্ত করে গৃহবধূর চাচা আশুক মিয়া ৬ জনের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। তদন্ত করেন এসআই আশেকুল ইসলাম। প্রধান অভিযুক্ত ফরিদ মিয়া ও হুছন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে আদালতে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। ৩০শে মার্চ শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্ত এবং আসামি গ্রেপ্তার নিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ও সুষ্ঠু বিচার চেয়ে একই ঘটনায় মো. বাছিত মিয়া আদালতে মামলা করেন।

পুলিশ সুপারের নির্দেশে ১২ই এপ্রিল তদন্তের দায়িত্ব জেলা গোয়েন্দা শাখায় মামলার কেস ডকেটসহ প্রেরণ করেন। গোয়েন্দা শাখার এসআই মো. ইকবাল বাহার মামলা তদন্তের দায়িত্ব নেন। আদালতের নির্দেশে অভিযুক্ত আবুল হাসানকে দুদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ এবং কুতুব উদ্দিন, এহিয়া মিয়াকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। নিহত গৃহবধূর মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলনের জন্য আদালতে আবেদন করেন।

২৫শে মে শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশ কবর থেকে উত্তোলনের আদেশসহ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার জামিলকে নিয়োগ দেন। ২৭শে মে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতে উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে গৃহবধূ রুমেনার লাশ উত্তোলন করেন। গত ৩রা ডিসেম্বর মামলার প্রধান অভিযুক্ত বড় ভাকৈড় ইউনিয়নের মৃত আতাউর রহমানের পুত্র ঘাতক ফরিদ মিয়ার বিরুদ্ধে গৃহবধূ রুমেনাকে মানুষিক নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনায় দেয়ার অভিযোগ সংবলিত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা ইকবাল বাহার।

অপর আসামি দুই সহোদর বুরহান উদ্দিন, সাহাব উদ্দিন, বুরহান উদ্দিনের স্ত্রী ফাতেমা বেগম, মৃত নাছির উদ্দিনের পুত্র তারা মিয়া ওরফে তেরাব উদ্দিন, রুস্তম উল্যার পুত্র আফজল মিয়া, নাছির উদ্দিনের পুত্র কুতুব উদ্দিন, মৃত আতাউর রহমানের পুত্র মতিউর রহমান, এহিয়া, তাজিম উল্যার পুত্র লিটন মিয়া, সফত উল্যার পুত্র আলীম উল্যা, টগাই উল্যার পুত্র আমীর হোসেন, লালা উল্যার পুত্র মাসুক মিয়াকে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।

ওদিকে মামলার ভিসেরা রিপোর্ট প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা, তদন্ত কর্মকর্তা মামলার আলমত জব্দ না করে ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করেছেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব এবং অন্যায় সুবিধা গ্রহণ করে আসামিদের অব্যাহতি দেয়া হয়েছে মর্মে ১৪ই জানুয়ারি নারাজি আবেদন দাখিল করা হয়েছে।-সিলেটভিউ২৪ডটকম/মাজা/কেআরএস

Developed by: