স্টাফ রিপোর্টার : যানজট নিরসন ও সৌন্দর্য্যবর্ধনের লক্ষ্যে সিলেট নগরীর ব্যস্ততম কোর্ট পয়েন্টে নির্মাণ করা হয়েছিল ফুটওভার ব্রিজ। সিলেটের প্রথম ফুটওভার ব্রিজটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ওভারব্রিজটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর থেকে ওভারব্রিজটি পড়ে আছে অব্যবহৃতভাবে। ওভারব্রিজের পরিবর্তে নিচ দিয়ে লোকজন রাস্তা পারাপার করায় প্রায় দেড় কোটি টাকার ফুট ওভারব্রিজটি পড়ে আছে অকার্যকর অবস্থায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়- ২০০৮ সালে আবুল মাল আবদুল মুহিত তার নির্বাচনী ইশতেহারে সিলেটে দৃষ্টিনন্দন ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্র“তি দেন। ওইসময় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর তিনি তার প্রতিশ্র“তি বাস্তবায়ন করতে না পারলেও দ্বিতীয়বারের মতো অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে তিনি ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। গত বছরের ২১ মে তিনি কোর্ট পয়েন্টে ওভারব্রিজটির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওভারব্রিজটি তিনি উদ্বোধন করেন ৩ সেপ্টেম্বর।
নির্মাণকালে ফুট ওভারব্রিজটিতে সিলেটের সুরমা নদীর উপর লোহার তৈরি ঐতিহাসিক কিনব্রিজের আদল ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়অ। কিন ব্রিজের মতো ওভারব্রিজটি নির্মিত হয় লোহার প্লেট ও রেলিং দিয়ে। ওভারব্রিজটিতে দেয়া হয় লাল রঙ। যে কেউ ওভারব্রিজের দিকে তাকালেই চোখে ভেসে ওঠতো কিনব্রিজের চিত্র। রাতের বেলায়ও যাতে পথচারীরা ওভারব্রিজটি স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করতে পারেন সেজন্য আধুনিক আলোকসজ্জারও ব্যবস্থা রাখা হয়।
উদ্বোধনের সময় সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কিনব্রিজের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ফুট ওভারব্রিজটির রং করা হলেও পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করা হয়। এতে কিনব্রিজের সাথে ফুটে ওঠা সামঞ্জস্য হারায় ওভারব্রিজটি। উদ্বোধনের পর রাতের বেলা ওভারব্রিজে আলো জ্বললেও এখন তা বন্ধ রয়েছে। ফলে সৌন্দর্য্য হারাতে বসেছে ওভারব্রিজটি।
এদিকে, সিলেটের ব্যস্ততম এলাকা কোর্ট পয়েন্ট ও বন্দরবাজার এলাকার যানজট নিরসনেও ওভারব্রিজটি কোন ভূমিকা রাখতে পারছে না। রাস্তা পারাপারে লোকজন ওভারব্রিজটি ব্যবহারে খুব একটা আগ্রহী নন। কৌতুহলবশত মাঝে মধ্যে কেউ ওভারব্রিজটির উপর দিয়ে রাস্তা পারাপার করতে দেখা যায়। এছাড়া ওভারব্রিজের পশ্চিমপ্রান্তে গড়ে ওঠেছে সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড। এই স্ট্যান্ডের কারণে ওভারব্রিজের পশ্চিম দিকের দুইটি সিঁড়ির প্রবেশমুখ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কোন পথচারীর ইচ্ছে থাকলেও রাস্তা পারাপারে ওভারব্রিজটি ব্যবহার করতে পারছেন না ।
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘ফুট ওভারব্রিজ দিয়ে খুব কম সংখ্যক লোক রাস্তা পার হচ্ছেন। তবে সময়ের ব্যবধানে ওভারব্রিজ দিয়ে রাস্তা পারাপারে মানুষের আগ্রহ বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।’

