সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি সম্মেলনে রবিবার সম্পন্ন হয়েছে। সম্মেলনে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে সিলেট বিএনপির এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ শাখার তিনটি পদে নেতা নির্বাচন করা হয়। নির্বাচনে ইলিয়াসপন্থী হিসেবে পরিচিত প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে।
সিলেট বিএনপির সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন আবুল কাহের শামীম। তিনি সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের একান্ত অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এ পদে অপর একমাত্র প্রার্থী ছিলেন দিলদার হোসেন সেলিম। তিনি একসময় সাইফুরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত থাকলেও পরে বিএনপির নিখোঁজ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক এম. ইলিয়াস আলীর বলয়ে যোগ দেন।
জেলার সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন আলী আহমদ। তিনিও ছিলেন সাইফুর অনুসারী। তবে একসময় ইলিয়াস বলয়ের সাথে যুক্ত হলেও পরবর্তীতে সাইফুর বলয়ের রাজনীতিকদের সাথে বেড়ে যায় তার সখ্যতা। এই পদে হেরেছেন ইলিয়াস আলীর ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি এডভোকেট সামসুজ্জামান জামান।
জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সমসংখ্যক ভোট পেয়েছেন এমরান আহমদ চৌধুরী ও হাসান আহমদ পাটোয়ারি রিপন। তাদের মধ্যে এমরান চৌধুরী সাইফুর বলয়ের আর পাটোয়ারি রিপন ইলিয়াস বলয়ের। জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক পদে হেরেছেন ইলিয়াস আলীর আরেক ঘনিষ্টজন কারাবন্দি থাকা কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি আবদুল আহাদ খান জামাল। একটি ভোটও পাননি ইলিয়াস অনুসারী জেলা বিএনপির সাবেক দফতর সম্পাদক ময়নুল হক।
সিলেট মহানগর বিএনপির তিনটি পদেও ভরাডুবি ঘটেছে ইলিয়াস বলয়ের। সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন নাসিম হোসাইন। সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন বদরুজ্জামান সেলিম। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মিফতাহ সিদ্দিকী নির্বাচিত হয়েছেন। সিলেটে গ্র“পিং রাজনীতির উত্থানের সূচনা থেকেই নির্বাচিত এই তিন নেতা সাইফুর বলয়ের সাথে যুক্ত।
সভাপতি পদে হেরেছেন ইলিয়াস বলয়ের নেতা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাইয়ুম জালালী পংকী। সাধারণ সম্পাদক পদে হেরেছেন ইলিয়াস বলয়ের নেতা সিটি কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম। সাংগঠনিক সম্পাদকের পদে একাধিক প্রার্থী ছিলেন সাইফুর বলয়ের। এরপরও পদটি তারা দখলে নিয়েছেন ব্যালটের লড়াইয়ে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ/এমইউএ/এএস

