ঢাকায় ময়নাতদন্তের পর অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নাজিমুদ্দিন সামাদকে সিলেটে তার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।
তার চাচাতো ভাই মামুন রশিদ জানান, বিয়ানীবাজারের ভরাউঠ গ্রামে জানাজা শেষে শুক্রবার বেলা ১১টায় পারিবারিক কবরস্থানে নাজিমকে দাফন করা হয়।
মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের পর বৃহস্পতিবার নাজিমের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রাতে চাচাতো ভাই বদরুলের কাছে হস্তান্তর করা হয় মরদেহ। তিনি কফিন নিয়ে ভোর ৬টায় গ্রামের বাড়িতে পৌঁছান।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সান্ধ্যকালীন কোর্সের ছাত্র ২৭ বছর বয়সী নাজিমকে বুধবার রাত ৯টার দিকে সূত্রাপুরের একরামপুরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গুলি চালিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
নাজিম ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে অনলাইনে লেখালেখিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি সিলেটে গণজাগরণ আন্দোলনের সংগঠক হিসেবেও কাজ করেছিলেন বলে বন্ধুরা জানিয়েছেন।
ইসবুকে তার বন্ধুরা লিখেছেন, হেঁটে যাওয়ার পথে আক্রান্ত হন নাজিম। হামলাকারীরা ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি দিয়ে আক্রমণ করেছিল।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এখনও পাওয়া না গেলেও মর্গের কর্মীরা জানিয়েছেন, নাজিমের মাথার এক পাশে গুলি এবং অন্য পাশে কোপের চিহ্ন ছিল।
হেফাজতের আন্দোলনের সময় ‘নাস্তিক ব্লগারদের’ যে কথিত তালিকা কয়েকটি গণমাধ্যমে এসেছিল, তাতে নাজিমের নামও ছিল।
জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এই ঘটনা মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে আরেকটি আঘাত।
নাজিম হত্যার ঘটনায় পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে অজ্ঞাতপরিচয় ৫/৬ জনকে আসামি করে সূত্রাপুর থানায় একটি মামলা করেছে।
–

