গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে ভয়ঙ্কর আখ্যায়িত করে খালেদা জিয়ার ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রস্তাব গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মওদুদ আহমেদ।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য রোববার সন্ধ্যায় পুরান ঢাকার স্বামীবাগে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যে এই আহ্বান জানান।
মওদুদ বলেন, “আজকে আমাদের এখানে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের উত্থানের ফলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, এটা বাংলাদেশের জন্য একটি ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি বলে আমরা মনে করি।
“সরকারের কাছে আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন- আসুন জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করি। আসুন, আজকে আমরা সকলে মিলে দল-মত নির্বিশেষে, সকল গোষ্ঠিকে নিয়ে, সকল শ্রেণির প্রতিনিধিদেরকে নিয়ে, সুধী সমাজের যেসব সংগঠন আছে সবাইকে নিয়ে আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্ম তৈরি করি।”
দলের অবস্থান স্পষ্ট করতে মওদুদ বলেন, “বিএনপি কোনো রকমের সাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করে না। আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি। “আমরা যখন ক্ষমতায় ছিলাম, তখন সকল সম্প্রদায়ের লোক বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক শান্তিতে ও নিরাপদে ছিল। আমরা সেই অবস্থাতে ফিরে যেতে চাই।”
আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভবনামৃত সংঘ-ইসকনের আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে স্বামীবাগ আশ্রমের জায়গাটি দুর্বৃত্তদের হাত থেকে উদ্ধার করে ইসকনকে হস্তান্তরে ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ভূমিকার কথা স্মরণ করেন আয়োজকরা।
মওদুদ তাদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, “যদি দেশে জনপ্রতিনিধিত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক সরকার থাকে, তাহলে জঙ্গিবাদের পতন হতে বাধ্য।
“আমরা মনে করি, দেশে যদি গণতান্ত্রিক অধিকার না থাকে, সমান অধিকার না থাকে, যদি সেখানে একদলীয় শাসনের বলয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হয়, সেখানে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের উত্থান অবধারিত।”
কৈশোরে পুরান ঢাকায় থাকাকালে হিন্দু সস্প্রদায়ের পূজা-পার্বনে নিজের অংশ নেওয়ার স্মৃতির কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন মওদুদ।
স্বামীবাগ আশ্রমের সেবায়েত যশোদানন্দন আচার্যের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নিতাই রায় চৌধুরী, জয়ন্ত কুণ্ডু, স্থানীয় কাউন্সিলর মকবুল ইসলাম টিপু, ইসকনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ কীর্তন দাশ ব্রহ্মচারী, স্বামীবাগ আশ্রমের সদস্য সুখী সুশীল দাস ব্রহ্মচারী, ইসকনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বিমল প্রসাদ দাশাধিকারী বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপির দেবাশীষ রায় মধু, রমেশ দত্ত, তরুণ দে, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবীর খান উপস্থিত ছিলেন।

