যেভাবে চলছে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগ

a1ঢাকা, ১৮ আগষ্ট- অনেকটা জোড়াতালি দিয়েই চলছে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগটি। মাত্র সাত থেকে আটজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে বাংলাদেশের পুরো বনাঞ্চলের বন্য প্রাণীর সুস্থ রাখার কার্যক্রম। অভাব রয়েছে যে কোনো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় লোকবল এবং উদ্ধার উপকরণ ও যন্ত্রাংশের।

জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়াও নির্বিচারে বন্য প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস, তাদের খাদ্যাভাব ও বন্য প্রাণী হত্যার কারণে আশংকাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে বন্যপ্রাণীর সংখ্যা। তবে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় সরকার বেশ কয়েকটি অভয়ারণ্য ও বিশেষ জৈববৈচিত্র সংরক্ষণ এলাকা করলেও সম্প্রতি বন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ‘হালনাগাদ প্রজাতির লাল তালিকা- ২০১৫’তে বলা হয়, বাংলাদেশে বর্তমানে ১৩৮ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৫৬৬ প্রজাতির পাখি, ১৬৭ প্রজাতির সরীসৃপ, ৪৯ প্রজাতির উভচর প্রাণী রয়েছে। এরই মধ্যে বিলুপ্ত হয়েছে ১৩ প্রজাতির বন্যপ্রাণী, হুমকিতে রয়েছে ২৪ শতাংশ প্রজাতির প্রাণীর অস্তিত্ব।

এসব বন্য প্রাণী রক্ষা করতে তাদের সংরক্ষণ ও প্রজনন কার্যক্রম ছাড়াও লোকালয় থেকে নিরাপদ দূরত্বে রুখে দেয়া ও দুর্যোগকালে উদ্ধারে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এসব কাজে বন বিভাগের প্রাণী সংরক্ষণ বিভাগে আছেন ৭ থেকে ৮ জন ফিজিশিয়ান। প্রয়োজনীয় লোকবল ও যন্ত্রাংশেরও রয়েছে তীব্র অভাব। এছাড়া বন্যপ্রাণী উদ্ধারে প্রশিক্ষণ ও জ্ঞানের যে অভাব রয়েছে তা ধরা পড়ে ভারত থেকে বানের জলে ভেসে আসা হাতিটির মৃত্যুতে।

বন বিভাগের, বন্য প্রাণী ও নেচার কনজারভেশনের কর্মকর্তা বলছেন, যেকোনো দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে বন্য প্রাণীদের উদ্ধার ও তাদের রক্ষায় দক্ষতা অর্জনে এখনো পিছিয়ে বাংলাদেশ। অভাব রয়েছে কাঠামোগত ব্যবস্থাপনারও।

বন বিভাগের (বন্যপ্রাণী ও নেচার কনজারভেশন) বন সংরক্ষক অসিত রঞ্জন পল বলেন, যতটুকু দক্ষতা থাকার দরকার ততটুকু দক্ষতা আমাদের নেই। জনবলের অভাব রয়েছে। অবকাঠামোগত অভাব রয়েছে। সুন্দরবনে কোনো বাঘ আক্রান্ত হলে তাকে চিকিৎসা দেয়ার মতো সুযোগ আমাদের নেই।

Developed by: