- ৬ দিন সড়কে ট্রাক-লরি চলাচল বন্ধ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনে যাত্রা শুরু হলো ঘরমুখো মানুষের। বুধবার ঈদ উপলক্ষে অগ্রিম বিক্রি হওয়া টিকেটের যাত্রীরা সকাল থেকেই কমলাপুর রেল স্টেশন এসে বিভিন্ন গন্তব্যে রওনা দেন। তবে প্রথম দিনে খুব বেশি যাত্রীর চাপ ছিল না। উত্তরাঞ্চলের অগ্রিম টিকেট নেয়া বাস যাত্রীরাও ছুটছেন নাড়ির টানে। এদিকে সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘœ করতে ঈদের আগে-পরে ছয় দিন জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে ট্রাক-লরি চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার অতিরিক্ত গাড়ির চাপে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দিনভর ছিল যানজট। টঙ্গীতে মহাসড়ক অবরোধের ঘটনায় দিনভর যানজটের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে বৃহত্তর ময়মনসিংহের সড়কপথের যাত্রীদের। এখনও পুরোপুরি সচল হয়নি পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও মাওয়া ঘাট। ফলে নদীর দু’পাড়ে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট।
সকালে কমলাপুর রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, এখনও পুরোদমে ভিড় শুরু হয়নি। তবে স্বাভাবিকের তুলনায় যাত্রী বেড়েছে। সবাই নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন। এবারের ঈদ-উল আযহায় রেলের আকর্ষণ- নতুন লাল সবুজ কোচ। এসব নতুন কোচ পেয়ে সিলেট রুটের পারাবত এক্সপ্রেস, দেওয়ানগঞ্জ রুটের তিস্তা এক্সপ্রেস এবং দিনাজপুর রুটের ব্রডগেজ কোচসহ একতা ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস নতুন রুপে চলছে।
বুধবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে রেলপথে ঈদের বাড়িযাত্রা। সকালে রংপুর এক্সপ্রেস ছাড়া অগ্নিবীনা ও একতাসহ অন্য সব ট্রেন যথাসময়ে যাত্রী নিয়ে স্টেশন ছেড়েছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সবচেয়ে বেশি ভিড় হবে বলে মনে করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
যাত্রীরা জানিয়েছেন, নিরাপদে একটু স্বাচ্ছন্দ্যে যেতেই তাদের আগে-ভাগে বাড়িযাত্রা। রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক জানিয়েছেন, এবার দৈনিক ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে আনা-নেয়া করবে রেল। শুধু কমলাপুর রেলস্টেশন থেকেই ৩১টি আন্তঃনগরসহ ৬৯টি ট্রেনে দিনে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বাড়ি ফিরবেন। রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন জানান, ১০ দিন আগে থেকে অগ্রিম টিকেট দিয়েছে কমলাপুর রেলস্টেশন। এখান থেকে দিনে ৩১টি আন্তঃনগর ট্রেনের ২২ হাজার টিকেট দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ মোবাইল ও অনলাইন, ৫ শতাংশ ভিআইপি ও ৫ শতাংশ রেলওয়ে কমকর্মকতা-কর্মচারীদের জন্য দেয়া হয়েছে।
আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পবিত্র ঈদ-উল আযহা উদ্যাপিত হবে। এবার নয় থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা ছয় দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এদিকে, সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ঈদের আগে-পরে ছয় দিন জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে ট্রাক-লরি চলাচল বন্ধ রাখা হবে। বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় মন্ত্রণালয়।
কমিটির সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক বলেন, ঈদের সময় সাধারণ মানুষের বাড়ি যাওয়া নিরাপদ করতে মন্ত্রণালয় তাদের পদক্ষেপগুলো কমিটিকে জানিয়েছে। বৈঠক শেষে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এম এ এন ছিদ্দিক বলেন, আমাদের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তগুলো কমিটিকে জানানো হয়েছে। গত রোজার ঈদেও যেসব সিদ্ধান্ত ছিল, এবারও তাই। ঈদের আগে তিন দিন এবং পরে তিন দিন মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে ট্রাক-লরি বন্ধ থাকবে বলে জানান তিনি।
সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জনস্বার্থ বিবেচনায় যানজট নিরাসনে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে ট্রাক ও লরি চলাচল বন্ধ রাখা হবে। খাদ্য ও পচনশীল দ্রব্য, ওষুধ, জ্বলানি বহনকারী যানবাহন, কাঁচা চামড়া এর আওতামুক্ত থাকবে।
বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ভাড়া নেয়া, অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহন না করা, মোবাইল কোর্টেও মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা, ভিজিলেন্স টিম গঠন, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা এবং সড়ক মহাসড়কের ১৬টি পয়েন্টে পুলিশ প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য ১ হাজার রোভার স্কাউট নিয়োজিত করা হবে।
কমিটি ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত এবং মহসড়কগুলো যানজটমুক্ত রাখার ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করে। এছাড়া মহাসড়কের পাশে যাতে কোনোভাবেই পশুর হাট বসতে না পারে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।
কমিটির সভাপতি মো. একাব্বর হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য রেজওয়ান আহম্মদ তৌফিক, নাজমুল হক প্রধান, লুৎফুন নেছা ও নাজিম উদ্দিন আহমেদ অংশ নেন। এছাড়াও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ঈদ যাত্রার শুরুতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজটের কারণে ভোগান্তি শুরু হয়েছে। গেল এক মাসের বেশি সময় প্রায় প্রতিদিনই এই রুটে যানজট হচ্ছে নিয়মিত। উত্তরাঞ্চলের ২১টির বেশি জেলার যাত্রীরা এই রুটে যাতায়াত করে। ঈদ উপলক্ষে বেড়েছে পশুবাড়ি ট্রাকের বাড়তি চাপ।