বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে ১০ অক্টোবর বিদেশ-ফেরত অভিবাসী ও সম্ভাব্য বিদেশগামীদের বিনামূল্যে মনোসামাজিক সেবা প্রদান করবে ব্র্যাক

indexবিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও ১০ অক্টোবর বুধবার বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালিত হবে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য “ণঙটঘএ চঊঙচখঊ অঘউ গঊঘঞঅখ ঐঊঅখঞঐ ওঘ অ ঈঐঅঘএওঘএ ডঙজখউ”। ১৯৯২ সাল থেকে প্রতিবছর ১০ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালিত হচ্ছে।
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষ্যে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম রিইন্টিগ্রেশন সার্ভিস সেন্টারের উপশহরস্থ অফিসে প্রশিক্ষিত কাউন্সেলরদের মাধ্যমে দিনব্যাপী মনোসামাজিক সেবা প্রদান করা হবে। এখানে বিদেশ-ফেরত অভিবাসী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা মনোসামাজিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ থেকে ২০১৮ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত এক কোটি ১৯ লাখ ৬৫ হাজার ২৯৯ জন কর্মী কাজের জন্য বিদেশে গমন করেছেন। এদের মধ্যে ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৫২ জন রয়েছেন নারী কর্মী। প্রতিবছর অনেক কর্মী নানা কারণে বিদেশ থেকে দেশে ফেরত আসছেন। এদের অনেকেরই মনোসামাজিক সেবা প্রয়োজন।
১৯৭২ সালে স্যার ফজলে হাসান আবেদের হাত ধরে ব্র্যাক যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে ব্র্যাক বিশ্বের সর্ববৃহৎ উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে বিশ্বদরবারে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। নানামুখী উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনার মাধ্যমে মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্র্যাক নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। ব্র্যাক পরপর তিনবার পৃথিবীর সেরা বেসরকারি সংস্থার মর্যাদা লাভ করেছে। ব্র্যাকের উল্লেখযোগ্য একটি কর্মসূচি মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।
২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশের অভিবাসনপ্রবণ জেলাসমূহে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত, মানবপাচার প্রতিরোধ, সচেতনতা সৃষ্টি এবং বিদেশ-ফেরতদের পুনরেকত্রীকরণে কাজ করে যাচ্ছে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। বিদেশ-ফেরতদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমরা দেখেছি, তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি একেবারে উপেক্ষিত থেকে যায়। অনেক সময়ই তারা বিষণœ দিন কাটান। নানা সংকটে পড়েন।

আমরা দেখেছি কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশে গিয়ে অভিবাসী কর্মীদের অনেকেই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফেরত আসছেন। যারা হতাশা, মানসিক যন্ত্রণা, বিষন্নতার মুখোমুখি হন তাদের অনেকে বয়সেও তরুণ। সমস্যা সমধানে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগাম জেলা পর্যায়ে অবস্থিত দশটি রিইন্টিগ্রেশন সার্ভিস সেন্টার অফিসে বিদেশ-ফেরত অভিবাসী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মনোসামাজিক সেবা প্রদান করে চলেছে। এর উদ্দেশ্য হল বিদেশ-ফেরত অভিবাসীদের মনোসামাজিক সেবা প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনধারায় ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করা।

Developed by: