ওসি প্রদীপ ও স্ত্রীর সম্পদ থাকবে রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ হত্যা মামলার আসামি কক্সবাজারের টেকনাফ থানার আলোচিত সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকি কারনের স্থাবর অস্থাবর সম্পদ থাকবে রাষ্ট্রের তত্ত¡াবধানে। এ ব্যাপারে রিসিভার নিয়োগের জন্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ শেখ মোহাম্মদ আশফাকুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেয়।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় ৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ওসি প্রদীপ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। গত বছরের আগস্টে দায়ের করা এ মামলায় আসামি প্রদীপ ৪ কোটি ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৭৯ টাকার সম্পদ অর্জন করে তার স্ত্রীর নামে হস্তান্তর ও স্থানান্তর করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়। কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে থাকা স্থাবর অস্থাবর সম্পদের রিসিভার নিয়োগের জন্য আদালতে আবেদন করেছিলেন দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা। অবৈধ আয়ে অর্জন করা সম্পদের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম মহানগরীর পাথরঘাটায় একটি ভবন, পাঁচলাইশে জমি এবং দুটি গাড়ি। এছাড়া কক্সবাজারে রয়েছে ফ্ল্যাট। আদালতের আদেশ হওয়ায় এখন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্থাবর অস্থাবর এ সম্পদের দেখভাল করবেন দুই জেলা প্রশাসক।

দুদকের অভিযোগ, প্রদীপের মোট সম্পদের মধ্যে ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকা অর্জিত হয়েছে ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে। আরও ১৩ লাখ ১৩ হাজার ১৭৫ টাকার সম্পদের হিসাব তথ্য বিবরণীতে গোপন করেছেন আসামি। মামলায় প্রদীপ ও চুমকির হেফাজতে থাকা ৪০ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬০ টাকার স্থাবর সম্পদের উল্লেখ করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে ১৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা দামের একটি পুরনো মাইক্রোবাস, ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা দামের একটি পুরনো প্রাইভেটকার এবং বেসিক ব্যাংক আসাদগঞ্জ শাখায় রক্ষিত ১৭ লাখ ৭৩ হাজার ৬০৪ টাকা।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৩১ জুলাই কক্সবাজার টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের শামলাপুর এলাকার চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

Developed by: