প্রযুক্তির যুগে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা কম্পিউটার বা ট্যাবেই বই পড়তে বেশি ভালোবাসে। কিন্তু কাগজে ছাপানো বই পড়ার ঐতিহ্য ও আনন্দ একেবারেই ভিন্ন। সন্তানদের এই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে দেওয়া বাবা-মায়ের দায়িত্ব। ভারতের ‘প্রোগ্রাম ফর স্কুলস’ নামে স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ বাড়াতে একটি প্রজেক্ট চালু করা হয়েছে। এর প্রজেক্ট ম্যানেজার কার্তিকা গোপালকৃষ্ণা অভিভাবকদের কিছু টিপস দিয়েছেন।
ভারতের বিভিন্ন স্কুলে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের বইয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে প্রচেষ্টা চালিয়েযাচ্ছেন। কার্তিকা। বিশেষ করে গল্পের বই এ বয়সীদের আগ্রহ কাড়তে পারে বলে জানান তিনি। তাই শুধু স্কুলের বই নয়, গল্পের বই দিয়ে তাদের পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে তুলুন।
অনেক সচেতন বাবা-মা তাদের ছেলে-মেয়েদের বইয়ের প্রতি আকর্ষণ বাড়াতে নানা উপায় গ্রহণ করেন। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া আকিয়ুথের মা বইয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে প্রতি ছুটির দিনে নতুন নতুন বই এনে দেন। অথবা কোথাও যাওয়ার সময় গাড়িতে বা বাসে মজার কোনো বই ধরিয়ে দেন। সে যেতে যেতে দারুণ উপভোগ করা শুরু করেছে। প্রথমে বুঝতে হবে, সে কোন বই পড়তে বেশি পছন্দ করে। তার হাতে সেটিই তুলে দিতে হবে। এতে অন্তত পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠবে, জানানা মা।
বিভিন্ন বিষয়ের বিভিন্ন বইয়ের সন্ধান দিতে হবে তাকে। সেখান থেকে আগ্রহের বিষয় নিজেই তুলে নেবে ছেলে-মেয়েরা। আবার বইয়ে কি পড়লো তা নিয়ে আলোচনা চলতে পারে। এতে করে তার মাঝে আরো পড়ার আগ্রহ বাড়বে। যা পড়েছে সেখান থেকে কি কি তার ভালো লেগেছে তা জানতে চাইতে হবে। এতে করে বইয়ের বিষয় বোঝার প্রবণতা গড়ে উঠবে। এভাবে শিশুদের মনে বইকে পছন্দনীয় করে তুলতে হয় বলে জানান কার্তিকা।
যাদের মধ্যে বইয়ের প্রতি আগ্রহ নেই তাদের নামকরা জনপ্রিয় নানা বই তুলে দিতে পারেন। সাধারণত এসব গল্প বা উপন্যাস থেকে সিনেমা তৈরি হয়। সিনেমাটি দেখে থাকলে বইয়ের ঘটনা পড়তে কার না আগ্রহ হবে?
সবচেয়ে বড় কথা হলো, পরিবারে বই পড়ার অভ্যাস থাকলে সাধারণত ছেলে-মেয়েদের এমনিতেই আগ্রহ থাকে। তা ছাড়া সন্তানের জন্মদিনে বা বিশেষ উপলক্ষে বই উপহার দিন।

