এমন এক মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য বছরের পর বছর ধরে প্রতীক্ষায় ছিলেন সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা বিশ্বনাথ আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতাকর্মীরা। তাদের সেই প্রতীক্ষা গিয়ে ঠেকেছে দীর্ঘ এক দশকে! অবশেষে প্রতীক্ষার পালা শেষ করে আগামীকাল সোমবার বিশ্বনাথ উপজেলা আওযামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে রদবদল ঘটতে পারে বলে ধারণা নেতাকর্মীদের। সেজন্য এই সম্মেলনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনগুলোও চাঙ্গা হয়ে ওঠেছে।
সোমবার অনুষ্ঠিতব্য এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে বিশ্বনাথ আওয়ামা লীগের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। সম্মেলনে সভাপতি পদের জন্য লড়ছেন বর্তমান উপজেলা সভাপতি মজম্মিল আলী, বিশ্বনাথ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান পংকি এবং উপজেলার দেওকলস ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম মতছিন। এঁদের মধ্যে সভাপতি পদে ফিরোজ খান পংকি কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন বলে নেতাকর্মীদের ধারণা। তবে ‘ বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে আসা নেতা’ এই তকমা তাকে বেকায়দায় ফেলতে পারে।
এদিকে বর্তমান সভাপতি মজম্মিল আলী বয়সের ভারে অনেকটাই ন্যুব্জ। এ বিষয়টিই তার জন্য ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক, উভয় ফলই আনতে পারে! প্রবীণ রাজনীতিবিদ হিসেবে তাকেই হয়তো ফের সভাপতির আসনে বসাতে পারেন নেতাকর্মীরা। কিংবা তাকে ‘অবসর জীবন’ দিতে নেতাকর্মীরা তার বিপক্ষে অবস্থান নিতে পারে। এছাড়া সভাপতি পদে আরেক প্রতিদ্বন্ধী ফখরুল ইসলাম মতছিনও চমক দেখাতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে নারীঘটিত কেলেংকারিসহ নানা বিতর্ক তার পেছনে থাকায় তিনি শেষ হিসাবে পিছিয়ে পড়তে পারেন।
এদিকে সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে ফের চমক দেখাতে পারেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার। বিশ্বনাথে আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় নেতা হিসেবে তিনিই পেতে পারেন ভোটারদের রায়। এছাড়া বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমদ এবং দৌলতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামও সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে চান। তবে তাদের বিষয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে তেমন আলোচনা নেই।
জানা যায়- সর্বশেষ ২০০৪ সালের ৯ জুন বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত আবদুস সামাদ আজাদ উপস্থিত ছিলেন। পরে কাউন্সিল অধিবেশনের মাধ্যমে সম্মেলন শেষ হয়। সম্মেলনে মজম্মিল আলীকে সভাপতি ও বাবুল আখতারকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়ে ৬৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। এরপর দীর্ঘ এক দশক পেরিয়ে গেলেও অনুষ্ঠিত হয়নি উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সম্মেলনকে ঘিরে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। গত কয়েকদিন ধরেই পদ প্রত্যাশারী ব্যাপক তোড়জোড় চালিয়েছেন।
এদিকে এবার সম্মেলনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি সক্রিয় হয়ে ওঠছেন যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও। নতুন করে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে বিশ্বনাথ আওয়ামী লীগ।
বিশ্বনাথ উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহবায়ক মুহিবুর রহমান সুইট বলেন, ‘আমাদের অভিভাবক সংগঠনের সম্মেলনেক ঘিরে ছাত্রলীগও আগের চেয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠেছে।’ এই সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্বনাথ আওয়ামী লীগ ফিরোজ খান পংকি এবং বাবুল আখতারের নেতৃত্বে আরো গতিশীল হবে বলে তার মত।
সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন এবং এবারও সাধারণ সম্পাদক পদে পুনঃনির্বাচিত হবেন এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার বলেন, ‘বিশ্বনাথ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নেতৃত্ব নির্বাচন করতে ভুল করেনা, করবেও না।’
সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্ধীতাকারী ফখরুল ইসলাম মতছিন বলেন, ‘দীর্ঘ ১১ বছর পর সম্মেলন হচ্ছে, এটা অনেক খুশির খবর। আমি আশাবাদি, যদি ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়, তবে ভোটাররা আমাকেই বেছে নেবে। সর্বশেষ সম্মেলনে সভাপতি পদে আমি মাত্র ১ ভোটের মাধ্যমে পিছিয়ে ছিলাম।’

