সংবাদ সম্মেলনে আসার পথে কয়েকজন দর্শকের অনুরোধে করমর্দন করতে হলো। দূর থেকে আরও কয়েকজন ‘মাশরাফি ভাই’, ‘মাশরাফি ভাই’ বলে আওয়াজ তুললেন। মাশরাফি বিন মুর্তজা সেভাবে ফিরেও তাকালেন না। টানা দুটি টি-টোয়েন্টিতে বিনা যুদ্ধে হার মানা অধিনায়কের মনে তখন পরাজয়ের কারণগুলোই ঘুরপাক খাচ্ছে।
সব ছাপিয়ে সবচেয়ে বড় আত্মজিজ্ঞাসা বোধ হয় এটাই যে ১০ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা বিনা উইকেটে ৯৫ করার পরও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল তাঁর দল। তামিম-সৌম্যর কল্যাণে নিজেদের ইনিংসের শুরুটাও হয়েছিল আশা জাগানিয়া। তারপরও ৩১ রানের বড় হারের কী ব্যাখ্যা হতে পারে?
এখানেই ব্যাটসম্যানদের ভুল শট নির্বাচনকে কাঠগড়ায় তুলছেন মাশরাফি। প্রথম ম্যাচের মতো বড় জুটি গড়তে না পারা নিয়েও আক্ষেপ করলেন। ব্যাটম্যানদের মনে শট খেলার দ্বিধাই দেখেছেন বেশি, ‘আমরা আসলে বড় জুটি করতে পারিনি, যেটা ওরা করেছে। আমরা শট নির্বাচনে হয়তো কিছু ভুল করে ফেলেছি। এ কারণেই আমাদের বেশি মূল্য দিতে হয়েছে।’ কথা শুনে মনে হলো, ভুল শট খেলার কারণটাও খুঁজে বেড়াচ্ছেন তিনি, ‘হয়তো উইকেটে টার্নের কারণে হতে পারে, হতে পারে আত্মবিশ্বাসটাই কম ছিল।’
বাংলাদেশ এই ম্যাচে নেমেছিল আট ব্যাটসম্যান নিয়ে। প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি তাতেও ঠেকানো যায়নি। মাশরাফি তাই আক্ষেপ করলেন, ‘গত ম্যাচে আমরা ব্যাটিংয়ে ভালো করিনি। তাই চেয়েছিলাম ব্যাটিংটা লম্বা করে ব্যাটসম্যানদের একটা সুযোগ দিতে। তামিম-সৌম্য ভালো শুরুও করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হলো না।’
এই না হওয়ার পেছনে কারণ আছে আরও। ব্যাটিং-বোলিংই শুধু নয়, ফিল্ডিংও গড়েছে বড় ব্যবধান। এমনিতে দক্ষিণ আফ্রিকা মানে দুর্দান্ত ফিল্ডিং, যা দিয়েই দলটা ব্যবধান গড়ার ক্ষমতা রাখে। মাশরাফিও এই টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুদলে বড় পার্থক্য দেখছেন ফিল্ডিংয়ে, ‘ওরা গত ম্যাচে দুর্দান্ত ফিল্ডিং করেছে, আমরাও খুব খারাপ করিনি। কিন্তু এই ম্যাচে আমরা বেশ কিছু দুই রান দিয়ে দিয়েছি, কিছু ওভার থ্রো-ও করেছি।’
পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে স্মরণীয় দুটি সিরিজ বাংলাদেশ দলের মনে যে দুর্জয় আত্মবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছিল, সেটিতে তো একটু ধাক্কা দিলই টানা দুটি পরাজয়। সামনে ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজ, দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফ্যাফ ডু প্লেসি স্বাভাবিকভাবেই এটিকে বড় করে দেখাতে চাইবেন। সংবাদ সম্মেলনে তা দেখালেনও, ‘ওরা পাকিস্তান ও ভারতের সঙ্গে দুর্দান্ত খেলেছে, তাদের আত্মবিশ্বাসও ছিল তুঙ্গে। আমাদের লক্ষ্যই ছিল সেই আত্মবিশ্বাসটা নাড়িয়ে দেওয়া। সেটি আমরা পেরেছি। ওয়ানডেতে যা কাজে আসবে।’

