ওয়ানডে অভিষেকে ম্যান অব দ্য ম্যাচ। ম্যাচসেরা টেস্ট অভিষেকেও। ক্রিকেটের দুই সংস্করণেই শুরুর লগ্নটাকে স্মরণীয় করে মুস্তাফিজুর রহমান ঢুকে গেছেন ইতিহাসে। টেস্ট ও ওয়ানডে দুই ক্রিকেটেই অভিষেকে ম্যাচসেরার একমাত্র কীর্তি বাংলাদেশের এই বাঁহাতি পেসারের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণের দুটিতেই অভিষেকে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার জেতা খেলোয়াড় আছেন আর মাত্র একজন। তিনিও বাংলাদেশের—ইলিয়াস সানি। এই বাঁহাতি স্পিনার অবশ্য ম্যাচসেরা তাঁর অভিষেক টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে। এক দিনের ক্রিকেটের শুরু ১৯৭১ সালের ৫ জানুয়ারি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ম্যান অব দ্য ম্যাচের প্রচলনও ওই দিন থেকে। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ার কাছে দল হারলেও ৮২ রান করে ম্যাচসেরা ইংলিশ ওপেনার জন এডরিচ। টেস্ট ক্রিকেটে ম্যান অব দ্য ম্যাচের প্রবর্তন আরও চার বছর পরে। ১৯৭৫ সালে ব্রিসবেন টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরি করে টেস্টের প্রথম ম্যান অব দ্য ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেল। টেস্টে অবশ্য নিয়মিত ম্যাচসেরা পুরস্কার দেওয়ার শুরু ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে। ২০০৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির সূচনা ম্যাচের ম্যান অব দ্য ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং। ১৯৭১ থেকে এ পর্যন্ত ৯৪৭ জন খেলোয়াড় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ম্যাচসেরা হয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ম্যাচসেরাদের নিয়েই এই আয়োজন।
.অভিষেকেই ম্যাচসেরা
১৩০
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকেই ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন ১৩০ ক্রিকেটার। টেস্ট অভিষেকে ৪০, ওয়ানডে অভিষেকে ৬১ ও টি-টোয়েন্টি অভিষেকে ৩১ জন।
ইলিয়াস সানি: একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট ও টি–টোয়েন্টি অভিষেকে ম্যাচসেরা
মুস্তাফিজুর রহমান: একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডে ও টেস্ট অভিষেকে ম্যাচসেরা
৯
টেস্টে জাভেদ ওমর, মোহাম্মদ আশরাফুল, ইলিয়াস সানি ও মুস্তাফিজুর রহমান, ওয়ানডেতে সোহাগ গাজী, তাইজুল ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান, টি-টোয়েন্টিতে মাশরাফি বিন মুর্তজা, নাজিমউদ্দিন, জুনায়েদ সিদ্দিক ও ইলিয়াস সানি—অভিষেকে ম্যাচসেরা বাংলাদেশের এই নয় ক্রিকেটার।
২০
অভিষেকে সবচেয়ে বেশি ২০ বার ম্যাচসেরা হয়েছে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা। টেস্টে ৬ বার, ওয়ানডেতে ১৩ বার ও টি-টোয়েন্টিতে ১ বার।
২১
বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২১ বার ম্যাচসেরা সাকিব আল হাসান
কম বয়সে–বেশি বয়সে
১৬ বছর ২১৭ দিন
সবচেয়ে কম বয়সী ম্যান অব দ্য ম্যাচ শহীদ আফ্রিদি। ১৯৯৬ সালে নাইরোবিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডেতে ৩৭ বলে সেঞ্চুরি করার দিন পাকিস্তানি অলরাউন্ডারের বয়স ছিল ১৬ বছর ২১৭ দিন।
৪৩ বছর ১৬২ দিন
সবচেয়ে বেশি বয়সে ম্যাচসেরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের খুররম খান। ২০১৪ সালে দুবাইয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে অপরাজিত ১৩২ রান করে ম্যাচসেরা খুররম
৭৬
ক্রিকেটের তিন সংস্করণের মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি ৭৬ বার ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন ভারতের শচীন টেন্ডুলকার।
ম্যাচসেরা : কে কতবার
টেস্ট
ম্যাচ ম্যাচসেরা
জ্যাক ক্যালিস ১৬৬ ২৩
মুত্তিয়া মুরালিধরন ১৩৩ ১৯
ওয়াসিম আকরাম ১০৪ ১৭
শেন ওয়ার্ন ১৪৫ ১৭
কুমার সাঙ্গাকারা ১৩২ ১৬
রিকি পন্টিং ১৬৮ ১৬
ওয়ানডে
ম্যাচ ম্যাচসেরা
শচীন টেন্ডুলকার ৪৬৩ ৬২
সনাৎ জয়াসুরিয়া ৪৪৫ ৪৮
জ্যাক ক্যালিস ৩২৮ ৩২
রিকি পন্টিং ৩৭৫ ৩২
শহীদ আফ্রিদি ৩৯৮ ৩২
টি-টোয়েন্টি
ম্যাচ ম্যাচসেরা
শহীদ আফ্রিদি ৮০ ৯
ক্রিস গেইল ৪৫ ৮
শেন ওয়াটসন ৪৮ ৮
মোহাম্মদ হাফিজ ৬২ ৮
মোহাম্মদ শেহজাদ ৩১ ৭

