সুলতান মনসুরের পথ বেয়ে ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে সিলেটের জাকির

004উপমহাদেশের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার কৃতি সন্তান সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। ১৯৮৯ সালে তিনি নির্বাচিত হন ডাকসুর ভিপি। তোফায়েল আহমদের পরে তিনিই একমাত্র ভাগ্যবান রাজনীতিবীদ যিনি ছাত্রলীগের সভাপতি ও ডাকসুর ভিপির পদ অলংকিত করেছিলেন।

সুলতান মনসুরের পর সিলেট বিভাগের আর কোন ছাত্রনেতা ছাত্রলীগের শীর্ষ পদ তথা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আসীন হতে পারেননি। সর্বোচ্চ বিভাগীয় কৌটায় সহ সভাপতি বা বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদ পর্যন্ত ছিল সিলেটী নেতাদের দৌঁড়।

প্রায় ২৯ বছর পর সুলতান মনসুরের পথ বেয়ে তার অনুজ জাকির হোসেন জায়গা করে নিয়েছেন ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে। ২৬ জুলাই গোপন ভোটের মাধ্যমে তিনি উপমহাদেশের প্রাচীন এই ছাত্র সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। জাকিরের বাড়িও সুলতান মনসুরের মৌলভীবাজার জেলার জুড়ি উপজেলায়।

সুলতান মনসুর ছিলেন ডাকসুর সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তুখোড় নেতা। জাকিরও একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র। ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হল ছাত্রলীগের সদস্য। সদ্যবিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সম্পাদকও ছিলেন তিনি।

জাকির উত্তর গোয়ালবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত, হাজী ইমজাদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণী, ৭ম ও ৮ম নারায়ণগঞ্জ ইব্রাহীম আলম চাঁন উচ্চ বিদ্যালয় এবং নরসিংদী থেকে বিজ্ঞান বিভাগে মাধ্যমিক পাস করেন। উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ থেকে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করেন। বর্তমানে রাষ্ট্রবিজ্ঞানেই এমফিল করছেন।

বাবা আবদুল জলিল স্কুল শিক্ষক, মা আমিনা বেগম গৃহিণী। ৫ ভাইয়ের চার ভাই প্রবাসী এবং বাকি চার বোন বিবাহিত। তিনি ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলন, ২০১৩ সালের হেফাজত বিরোধী আন্দোলন ও গণজাগরণ মঞ্চের যুদ্ধাপরাধীবিরোধী সংগ্রাম ও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন পূর্ববর্তী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।

Developed by: