ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ থেকে এই তো কিছু দিন আগেই মুক্তি পেয়েছেন ভারতীয় পেসার শান্তাকুমারন শ্রীশান্ত। যথোপযুক্ত প্রমাণ না মেলায় আদালত তাঁকে মুক্তি দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু ব্যাপারটা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। শ্রীশান্তের ব্যাপারটা অন্য, যেভাবেই হোক অভিযোগ থেকে মুক্তি মিলেছে, তিনি এখন ফিরতে চান মাঠে। কিন্তু দু’বছর আগের স্পট ফিক্সিং কাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়ার সময়টা মন থেকে মুছে ফেলতে পারছেন না কিছুতেই। গ্রেপ্তার হয়ে তিহার জেলে থাকার দুঃস্বপ্নমাখা সেই অনুভূতি নাকি তাঁকে অনেকবারই আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছিল।
আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলার সময় ২০১৩ সালে তাঁর বিরুদ্ধে স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠে। গ্রেপ্তার হয়ে ক্রিকেট দুনিয়ায় আলোড়ন তুলেছিলেন তখন। তিহার জেলের সেই দুঃসহ মুহূর্তগুলো এতটাই গুমোট আর সম্মানহীন ছিল যে ওই সময়টা তিনি নিজেকে শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন। ভারতীয় একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি জানিয়েছেন সেই অনুভূতির কথা, ‘ওই সময় আমি কয়েকবারই আত্মহত্যার কথা ভেবেছি। কিন্তু পরিবারের সমর্থন আর আমার প্রভু “এতুমানুরাপনে”র প্রতি ভক্তিই আমার মাথা থেকে ওই চিন্তা দূর করেছিল।’
শ্রীশান্ত অবশ্য জীবনের এই অধ্যায়কে পার করে এসেছেন। ক্রিকেটেও ফিরতে চাচ্ছেন খুব শিগগিরই। কিন্তু তাঁর ক্রিকেটে ফেরার পথে বাঁধা হয়ে আছে ভারতীয় বোর্ডের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা। আদালতের রায়ে মুক্ত হলেও শ্রীশান্তের ওপর আরোপিত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে। বিসিসিআই সচিব অনুরাগ ঠাকুরের কাছে এই ব্যাপারে আবেদন করতে যাচ্ছেন তিনি। তবে এই ব্যাপারে আদালতের দ্বারস্থ হবেন না বলেই জানিয়েছেন, ‘আমি অপেক্ষা করতে রাজি। আমি শুধু ক্রিকেট খেলতেই চাই, কারও সঙ্গে ঝামেলায় যাওয়ার ইচ্ছে নেই।’
আদালতের হ্যাপা আর নেওয়ার ইচ্ছা নেই। তবে তাঁর অনুরোধ ভারতীয় বোর্ড রাখবে বলেই বিশ্বাস করেন তিনি, ‘আদালতের এই রায়ের পর বিসিসিআই আমার অনুরোধ রাখবে বলেই বিশ্বাস আমার। আমি এখন অনুরাগ ঠাকুরের ফোনের অপেক্ষায় আছি। আশা করি এ ব্যাপারে সিদ্ধান্তটা দ্রুতই নিয়ে নেবে বোর্ড।’ সূত্র:অনলাইন।

