কোম্পানিগঞ্জে দুই পাহারাদারকে গুলি করে হত্যা , জলমহাল দখল

02সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে দুই পাহারাদারকে গুলি করে হত্যা করে একটি জলমহাল দখল করে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ১২ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ১২নং সালদিঘারকান্দি মৌজার ১নং দাগ ও ১৩ নং উত্তর জাঙ্গাইল মৌজার ৭৮ ও ৭৪ দাগ সমন্বয়ে ১২৭.৫৪ একরের এ জলমহালটি এক সময় অতি মূল্যবান ও প্রতিষ্টিত জলমহাল ছিল। স্বল্পমেয়াদী ইজারাসহ কালের বিবর্তনে চারদিক থেকে ভরাট হয়ে প্রায় আস্তিত্বহীন হয়ে গিয়েছিল। জলমহালটির সংস্কার ও উন্নয়নের স্বার্থে ২০১০সালে ভুমি মন্ত্রনালয়ের অনুমোদনে সিলেটের জেলা প্রশাসন থেকে ৬বছর মেয়াদী উজারা গ্রহন করে উপজেলার শিমুলতলা নোয়াগাঁও অগ্রগামী মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি। গত ২০১২ সালে সিলেটের জেলা প্রশাসন ও বনবিভাগ সমন্বয়ে এক সভায় পূর্নাঙ্গ জলমহালটি জেলা প্রশাসনের বলে স্বীকৃতিও দেয়া হয়েছিল। সেই হিসেবে ইজারাদার সমিতি সন সন খাজনা ও নির্ধারিত ইজারামূল্য দিয়ে জলমহালটি ভোগদখল ও ব্যবহার করে আসছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিপত্তি সাজেন সিলেট বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (ডিএফও) দেলওয়ার হোসেন। প্রথমে তিনি উপরোক্ত ‘ছোট দুলাইন সিংগাইর’ এর আওতাধীন সকল দাগ ব্যতিত বনবিভাগের মালিকানা অন্য একটি মহাল ইজারা প্রদান করেন। ক্রমশঃ তিনি ইজারার আওতায় নিয়ে আসেন ‘ছোট দুলাইন সিংগাইর’ জলমহালস্থ একটি দাগ। বনবিভাগ থেকে ওই মহালের ইজারা গ্রহন করেন বিএনপি নেতা তোরাব আলী। ইজারাদার তোরাব আলী ওই দাগের দখল দাবি করলে এ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা হয়। মামলায় জেলা প্রশাসনের ইজারাদারের পক্ষে স্থিতাবস্থার আদেশ দেয়া হয়। এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে লীভ টু আপীল ( নং-২৬৯১/২০১৪) করে বনবিভাগ। আপীল বিভাগের ২৯.১০.২০১৪ তারিখের আদেশে হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা বহাল রাখেন সুপ্রীম কোর্ট। হাইকোর্ট ও সুপ্রীম কোর্টের আদেশ ও স্থিতাবস্থা লংঘন করে বনবিভাগের দেয়া ইজারাদার পক্ষের লোকজন জেলা প্রশাসনের ইজারা দেয়া জলমহালে প্রবেশের চেষ্টা অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় গত কয়েকদিন ধরে বিলটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল তোরাব আলী, তাজউদ্দিন গংরা। বিষয়টি বার বার কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি দেলোয়ার হোসেনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অবগত করার পরও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে শনিবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে তোরাব আলী পক্ষের খসরুর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী বিলে গিয়ে মুর্হমুর্হু গুলি ছুড়তে থাকে। এদের গুলিতে জেলা প্রশাসন পক্ষের ইজারাদার পক্ষের পাহারাদার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বতুমারা (শালদীঘা) গ্রামের মৃত আজিম আলীর পুত্র শেখ ফরিদ ও বতুমারা নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত করামত আলরি পুত্র আবদুল খালিক নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয় আরো ১২ জন। এর মধ্যে শেখ ফরিদ ঘটনাস্থলে নিহত হলে তোরাব আলী গংরা তার লাশ গুম করে ফেলে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার লাশ উদ্ধার হয়নি। আহতদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
শিমুলতলা নোয়াগাঁও অগ্রগামী মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি আবদুল হক সরকার জানান, তোরাব আলীর লাইসেন্স করা বন্দুকসহ আরো কয়েকটি অবৈধ অস্ত্র দিয়ে জলমহালে মুর্হুমুর্হ গুলি চালানো হয়েছে। গুলির শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

Developed by: