সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর সিলেটে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় তিন জনের মৃত্যুদন্ড এবং দুই জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায় বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। হামলার প্রায় এক যুগ পর চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি এখন নিষ্পত্তির দিকে। ২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারে আনোয়ার চৌধুরীর উপর গ্রেনেড হামলা হয়েছিল। সেই হামলায় তিন জন নিহত এবং অর্ধশতাধিক আহত হয়েছিলেন।
সেদিন যা ঘটেছিল: ডেটলাইন ২১ মে, ২০০৪। শুক্রবার। দুপুর প্রায় ১২টা। দুই দিনের সিলেট সফরে থাকা তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী হযরত শাহজালার (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করতে আসেন। মাজার এলাকায় কড়া নিরাপত্তা। সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক আবুল হোসেন মাজার ফটকে আনোয়ার চৌধুরীকে স্বাগত জানান। আনোয়ার চৌধুরী মাজার জিয়ারত শেষে দরগাহ মসজিদেই জুমআ’র নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে মানুষের ভীড়ের মধ্যে বের হন ব্রিটিশ হাইকমিশনার। অনেকের সাথে করমর্দন করতে করতে এগুতে থাকেন আনোয়ার চৌধুরী, সাথে সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ অন্যরা। সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় গ্রামের বাড়ি যেতে চেয়েছিলেন আনোয়ার চৌধুরী।
কিন্তু তার সে ইচ্ছে পূর্ণ হয়নি। আচমকা গ্রেনেডের প্রচন্ড বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠলো মাজার প্রাঙ্গন। বিকট শব্দে কানের পর্দা ফেটে যাওয়ার উপক্রম। মানুষের চিৎকার-চেচামেচি। আতঙ্কিত মানুষের দিগবিদিগ দৌড়াদৌড়ি। চোখের পলকে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন অনেকেই। পুলিশ সদস্যসহ প্রাণ হারালেন তিন জন। আহত হলেন প্রায় ৭০ জন। চিরতরে পঙ্গুত্বের বোঝা বরণ করতে হল অনেককেই।
সেদিন হামলার মূল টার্গেট ছিলেন আনোয়ার চৌধুরী। তিনি যখন মাজার ফটকের কাছাকাছি পৌঁছান, তখনই গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। সরাসরি আনোয়ার চৌধুরীর বুকের উপর এসে পড়ে গ্রেনেড। তারপর গড়িয়ে গিয়ে পায়ের একটু দূরে বিস্ফোরিত হয়। ভাগ্যের জোরে বেঁচে যান তৎকালীন ব্রিটিশ এই হাইকমিশনার। তবে হামলায় আহত হন তিনি। সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক আবুল হোসেন, আনোয়ার চৌধুরীর আত্মীয় সিলেট জেলা বারের সাবেক সভাপতি আবদুল হাই আহত হন।
আহত আনোয়ার চৌধুরীকে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছুক্ষণ আগে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী আনোয়ার চৌধুরী নিজের পিতৃভূমি বাংলাদেশের স্বার্থের কথা ভুলে যাননি। ওসমানীতে চিকিৎসারত অবস্থাতেই উপস্থিত সাংবাদিকদের তার উপর সংঘটিত হামলা নিয়ে বেশি লেখালেখি না করতে নিষেধ করেন। ‘এতে দেশের ক্ষতি হবে’ এমনটাই ছিল আনোয়ার চৌধুরীর মনোভাব।
এনকে-পি/আরআই-কে/শাদি-আচৌ

