সিলেটের তিনটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে চূড়ান্ত নোটিশ

জমিতে স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা ও আইন অনুযায়ী যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য এক বছরের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে সরকার সিলেটের তিনটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে চূড়ান্ত নোটিশ করেছে। এমন নোটিশ দেওয়া হয়েছে দেশের আরো ৩৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই কঠোর হুঁশিয়ারি সংবলিত পত্র পাঠানো শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রেজিস্ট্রার বরাবর চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সংবলিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) লায়লা আরজুমান্দ বানু স্বাক্ষরিত পত্র পাঠানো হচ্ছে।

এ নিয়ে নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা না-করা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে চতুর্থবারের মতো সময় দেওয়া হলো। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকদের মতে, ‘এবার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলো। এরপর আর কোনোক্রমেই সময় বাড়ানো হবে না।’

এক বছরের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে সময় পাচ্ছে সিলেটের সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, লিডিং ইউনিভার্সিটি এবং সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

নোটিশে যা বলা হয়েছে: সরকারি সিদ্ধান্ত সংবলিত নোটিশে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ১৯ জানুয়ারির মধ্যে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে পারবে না, তাদের কোনো বর্ধিত, অতিরিক্ত ক্যাম্পাস এবং ইনস্টিটিউট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে না। এ ছাড়া নতুন কোনো অনুষদ, বিভাগ এবং প্রোগ্রাম চালুরও অনুমোদন দেওয়া হবে না। তাদের বর্তমান সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই নির্ধারিত সময় পর্যন্ত কার্যক্রম চালাতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য: এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৯২ (সংশোধিত ২০১০)-এর আওতায় প্রত্যেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পাঁচ বছরের মধ্যে পাঁচ একর জমিতে নিজস্ব অবকাঠামো নির্মাণ করে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার শর্তেই সাময়িক অনুমতি পেয়েছিল। কিন্তু ১৫, ১৬, ১৮ বছরেও অনেকেই এ শর্ত পূরণ করেনি। তাই তাদের নিজস্ব ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য গ্রহণযোগ্য একটি সময়সীমা বেঁেধ দেওয়া হলো। এরপর আর কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য ও যুক্তিযুক্ত হবে না।’

ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার জন্য এসব বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমান সময় থেকে অতিরিক্ত আরও এক বছর সময় পাবে বলে তিনি জানান। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকার সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না; কিন্তু আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা যেন সুষ্ঠু শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে। তাই এসব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শর্ত পূরণ করতেই হবে।’

Developed by: