বিভাগ: বই পত্র

খালেদাকে গ্রেপ্তার করা হলে পরিণতি হবে ভয়াবহ: রফিকুল ইসলাম মিয়া

সরকার খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে তার পরিণতি ‘ভয়াবহ’ হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া।

শুক্রবার সকালে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী দলীয় এক সভায় বলেছেন, কোনো বিশৃঙ্খলা হলে খালেদা জিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হবে। দলীয় সভা থেকে দেশের সর্বোচ্চ পদে থেকে তিনি যেভাবে গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়েছেন, এটা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতার ওপর হস্তক্ষেপ।”

রফিকুল বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যদি বিচার বিভাগের ক্ষমতা হাতে নিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের হুমকি দেন। তাহলে আমরা সরকারকে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, এর পরিণতি ভয়াবহ হবে।”

গত ২০ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের যৌথসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওই মন্তব্য নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে ২৩ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক জনসভায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা বলেন, “আমি কখনোই গ্রেপ্তারে ভয় পাই না। আমি সরকারকে বলব, আমাকে বন্দি করার আগে নিজের রাস্তা পরিষ্কার করে রাখুন। নিজেদের পাসপোর্টে ভিসা লাগিয়ে রাখুন।”

জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘ধানের শীষ সমর্থক ফোরাম’ আয়োজিত আলোচনা সভায় রফিকুল ইসলাম মিয়া অভিযোগ করেন, বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় থেকেই খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র’ শুরু হয়েছে।

“এখনো তা অব্যাহত রয়েছে। হাজার হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। সরকার মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপিকে দাবিয়ে রাখতে চায়।”

তত্ত্বাবধায়কের আমলে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৭ হাজার ১০৩টি মামলা শেখ হাসিনার সরকার তুলে নিলেও বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে নতুন তরে ‘মিথ্যা’ মামলা দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন রফিকুল।

২০ দলে ভাঙ্গন ধরিয়ে শেখ শওকত হোসেন নীলুর নেতৃত্বে ‘ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-এনডিএফ’ গঠনকেও ষড়যন্ত্র হিসাবে দেখছেন বিএনপির এই নেতা।

তিনি বলেন, “এরশাদের আমলেও দল ভাঙার নানারকম চক্রান্ত হয়েছিল। একটি দলের সভাপতি আরেকটি দলের সাধারণ সম্পাদক ভাগিয়ে গতকাল একটি জোট হয়েছে। কোনো লাভ নেই।

“আমরা বলতে চাই, দলছুটদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করে ২০ দলীয় জোটকে ভাঙা যাবে না। এই জোট অক্ষুণ্ন আছে।”

জাতিসংঘের সদস্যপদ পাওয়ার ৪০তম বার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত ক্রোড়পত্রে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুনের বাণী সরকার প্রকাশ করেনি বলেও অভিযোগ করেন রফিকুল।

তিনি বলেন, “ওই বাণীতে বান কি-মুন ৫ জানুয়ারির নির্বাচন পরবর্তী দেশের চলমান সঙ্কটজনক অবস্থা নিরসনে আলাপ-আলোচনার পরামর্শ দেন। ওই পরামর্শের কারণে তার বাণী ক্রোড়পত্রে দেয়া হয়নি বলে পত্রিকায় খবর এসেছে। এ থেকে বোঝা যায় সরকার কতো অসহিষ্ণু। এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না।’’

‘ধানের শীষ সমর্থক ফোরাম’ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বিএনপির প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, মাওলানা শোয়েব আহমেদ, ব্যারিস্টার পারভেজ আহমেদ, ব্যারিস্টার রুহিন ফারহানা বক্তব্য দেন।

সিলেটে ছাত্রদলের মিছিলে পুলিশের ধাওয়া

সিলেটে হাতবোমা বিস্ফোরণের পর পুলিশের ধাওয়ায় পণ্ড হয়ে গেছে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিতে স্থান না পাওয়াদের মিছিল।

শনিবার বেলা ৩টার দিকে নগরীর তালতলায় ছাত্রদলের নতুন কমিটি এবং সোয়া ৩টার দিকে জিন্দাবাজারে ‘পদবঞ্চিতরা’ আলাদা মিছিল বের করে।

কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম জানান, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর সন্ধান দাবিতে জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটি এবং খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ‘পদবঞ্চিতরা’ মিছিল বের করে। দুটো মিছিল থেকে হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হলে পুলিশ ধাওয়া করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রেজিস্টারি মাঠ এলাকা থেকে মহানগর ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে শান্তিপূর্ণ মিছিল করার কথা বললে পুলিশ মিছিল করার অনুমতি দেয়।। মিছিলটি তালতলা পয়েন্টে গেলে মিছিল থেকে একটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটালে পেছন থেকে ধাওয়া করে এবং কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এদিকে জিন্দাবাজারে ছাত্রদলের বিদ্রোহী পক্ষের নেতাকর্মীরা মোটর সাইকেল মহড়া দিয়ে কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।

পরে পুলিশের ফাঁকা গুলি ও ধাওয়ার মুখে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা জেলরোডের দিকে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা বারুতখানা পয়েন্টে আরো কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাঈদ আহমদকে সভাপতি ও রাহাত চৌধুরী মুন্নাকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা এবং নূরুল আলম সিদ্দিকী খালেদকে সভাপতি ও আবু সালেহ মো. লোকমানকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে এ নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষও হয়।

ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিতে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়ে সুবিধাভোগী, নিস্ক্রিয়, অযোগ্য ও অছাত্রদের ছাত্রদলের কমিটিতে রাখা হয়েছে দাবি করে এক পক্ষ কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে আসছে।

যৌনপল্লীর সন্তান থেকে শিল্পী

জন্ম যাদের আজন্ম পাপ – তারা আজ আদায় করে নিয়েছে স্বীকৃতি। এশিয়ার সবচেয়ে বড় যৌনপল্লীর একটি সোনাগাছিতে বেড়ে ওঠা শিশুরা আলোকিত হয়েছেন সংগীতের আলোয়। তারা গঠন করেছে ‘দুর্বার ইউথস’ নামের একটি ব্যান্ডদল। দশ সদস্যের ব্যান্ডটির প্রথম অ্যালবাম ‘নিঝুম রাতের তারা’ দুর্গা পূজায় প্রকাশিত হয়েছে।

সাতটি আধুনিক বাংলা গানের এই সংকলন নিয়ে যারপরনাই উচ্ছসিত ‘দুর্বার ইউথস’-এর সদস্যরা। ব্যান্ডটির অন্যতম সদস্য রতন বলেন, “এই ব্যান্ডের অধিকাংশ সদস্যই যৌনকর্মীর সন্তান। আবার কেউ কেউ আছে, যাদের যৌনবৃত্তির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই, কিন্তু তারা সোনাগাছিরই বাসিন্দা। সমাজে আমাদের আলাদা করে দেখা হয় বলে আমরা খুব বেশি প্রচারের আলো পাই না। আর তাই নিজেদের প্রতিভা দেখানোর সুযোগ পেয়ে আমরা দারুণ আনন্দিত।”

রতন নিজেও একজন যৌনকর্মীর সন্তান। ছোটবেলা থেকেই গান গাওয়ায় পারদর্শীতা থাকলেও কখনও আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ পাননি। তিনি আরও বলেন, “আমরা এর আগেও গানের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি। কিন্তু সবাই যখনই আমাদের পরিচয় জানতে পারে, তখনই মূলধারা থেকে আমাদের আলাদা করে ফেলা হয়।”

যৌনকর্মীদের সন্তানদের নিয়ে অ্যালবাম প্রকাশের এই উদ্যোগ নেয় পশ্চিমবঙ্গের ফোক ব্যান্ড কায়া। এ ব্যাপারে তাদের সহযোগিতা করে প্রদেশটিতে যৌনকর্মীদের সবচেয়ে বড় সংগঠন ‘দুর্বার মহিলা সমন্বয় সমিতি’।

‘দুর্বার ইউথস’-এর আরেক সদস্য মিতা বলেন, “বাড়িতে আমার বাবা আমাকে গান গাইতে দিতেন না। আমার মা নেই। পরে ১৬ বছর বয়সে আমি কাজের খোঁজে চলে আসি সোনাগাছিতে। তখন দুর্বার মহিলা সমন্বয় সমিতি আমাকে উদ্ধার করে। আমাকে যৌনকর্মী হওয়া থেকে নিবৃত্ত করে। তখন থেকে আমি কাজ করছি তাদের সঙ্গেই। অন্য মেয়েদের উৎসাহিত করছি এ পথে না আসার জন্য। পাশাপাশি যেটা করতে আমি সবচেয়ে ভালবাসি, সেই গান আর নাচ চালিয়ে যাচ্ছি পুরোদমে।”

কায়া ব্যান্ডের গীতিকার এবং বেইজিস্ট অরিন্দম জানালেন ব্যান্ডটির অ্যালবাম প্রকাশের শুরুর দিককার কথা।

“আমরা যখন এই শিশুদের ব্যাপারে জানতে পারলাম, তখন আমরা দেখলাম কি অসাধারণ প্রতিভাধর তারা! কিন্তু এতদিন তারা কেবল জনপ্রিয় ধারার গানগুলিই বারবার করে গাইতো। আমরা তাদেরকে বললাম, তোমরা নিজেদের গান গাইছো না কেন? এরপর তাদের জন্য গান তৈরি করে দিলাম আমরা, আর তারা কণ্ঠ দিল সেটাতে।”

অরিন্দমদের কাছেই এখন গিটারের তালিম নিচ্ছেন রতন। তিনি জানালেন, প্রতিবছরই এমনিভাবে একটি করে অ্যালবাম প্রকাশের ইচ্ছা আছে তাদের।

“সামনের বছরই হিন্দি আর বাংলা গানের একটি মিশ্র অ্যালবাম প্রকাশের কথা চিন্তা করছি আমরা। ইচ্ছা আছে, এভাবে দুর্গা পূজার আগ দিয়ে প্রতি বছর একটি করে অ্যালবাম বের করার।”

অ্যালবামটির দাম রাখা হয়েছে ১২৫ রুপি। রতন জানিয়েছেন অ্যালবাম বিক্রির অর্থ ব্যায় করা হবে যৌনকর্মীদের শিশুদের কল্যাণে।

বন্যাদুর্গতদের পাশে সালমান

ভারতের জম্মু এবং কাশ্মিরের বন্যা কবলিত মানুষদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন বলিউড তারকা সালমান খান। দুর্গতদের পুনর্বাসন এবং ত্রাণ বাবদ তিনি দান করেছেন ৫০ লাখ রুপি।

ভারতীয় সাময়িকী ইন্ডিয়া টুডে এক সূত্রের বরাত দিয়ে বলছে, সালমান বরাবরই দাতব্য কাজের জন্য পরিচিত। জাম্মু এবং কাশ্মিরে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়াকে নিজের দায়িত্ব মনে করেছেন তিনি।

অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় জাম্মু এবং কাশ্মির এলাকায় এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৪৩ জন। ভেসে গেছে শতাধিক ঘরবাড়ি।

অনেক তারকাই বন্যাদুর্গতদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। শচিন টেন্ডুলকার ১৫ লাখ রুপির ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহ করেছেন। এছাড়াও দিয়েছেন নগদ ২৫ লাখ রুপি।

দুর্গতদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন শাহিদ কাপুর এবং শ্রদ্ধা কাপুরও। সম্প্রতি তাদের নতুন সিনেমা ‘হায়দার’-এর প্রচারণার জন্য অমিতাভ বচ্চনের উপস্থাপনায় গেইম শো ‘কৌন বানেগা ক্রোড়পতি’ – তে অংশগ্রহণ করেন তারা। সেখানে তাদের জেতা সব অর্থ তারা দান করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে, যা কাজে লাগবে দুর্গতদের জন্য।

আলাদা অধিনায়ক নিয়ে সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার

ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে টেস্ট ও ওয়ানডেতে আলাদা নেতৃত্ব বেছে নিচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

মঙ্গলবার বোর্ড সভায় এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান।

“আমরা ওয়ানডে ও টেস্টের জন্যে পৃথক অধিনায়কের কথা চিন্তা করছি।”

মুশফিকুর রহিমের অনুপস্থিতিতে মাশরাফি বিন মুর্তজা এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দিবেন। মুশফিককে টেস্ট ও মাশরাফিকে ওয়ানডে দলের অধিনায়ক করা হতে পারে কী না সে ব্যাপারে বিসিবি সভাপতি বলেন, “আরো বিকল্প আছে। তামিম (ইকবাল) আছে, সাকিব (আল হাসান) আছে। ওরা সবাই হতে পারে। এখানে আমাদের কোনো বিশেষ পছন্দ নেই।”

ওয়ানডেতে সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি নেতৃত্বে আসতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন নাজমুল হাসান।

“মাশরাফি থাকবে। টেস্ট এবং ওয়ানডে যেহেতু আমরা ভাগ করে ফেলছি তাহলে একটা তো তার হাতে ছেড়ে দিতে হবে। তবে যেকোনো সময়ে সে চোটে পড়তে পারে বলে দীর্ঘ মেয়াদে ওকে ভাবা কঠিন।”

আপাতত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজে আলাদা অধিনায়ক রাখার পরিকল্পনা করছে বিসিবি। আর এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে।

এশিয়ান গেমস দিয়ে ক্রিকেটে ফিরছেন সাকিব। তার আচরণে পুরোপুরি সন্তুষ্ট বিসিবি সভাপতি। এখন তার মাঠের পারফরম্যান্স দেখে নিতে চান তিনি।

“আপনার জানেন আমি সবার সাথে বসেছিলাম। মাশরাফি, তামিম, সাকিব ছিল। ‘সিনিয়র’ অন্য সবার সাথেও বসবো। এই মুহূর্তে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না।”

প্রথমবারের মতো নারী উপাচার্য বুয়েটেও

প্রথমবারের মতো নারী উপাচার্য পেয়েছে বাংলাদেশে প্রকৌশল শিক্ষার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।

স্থাপত্য বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক খালেদা একরামকে চার বছরের জন্য প্রতিষ্ঠানটির উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে বৃহস্পতিবার আদেশ জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুবোধ চন্দ্র ঢালী সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এই তথ্য জানান।

বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলামের নিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ওই পদে খালেদা একরামকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে খালেদা একরাম দ্বিতীয় নারী উপাচার্য। এর আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম নিয়োগ পান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ উপাচার্যের দায়িত্বে রয়েছেন একজন নারী। তিনি হলেন অধ্যাপক নাসরিন আহমেদ।

ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা ত্রুটিপূর্ণ: শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তিতে মাত্র দুইজন যোগ্য শিক্ষার্থী পাওয়ার পর শিক্ষার মান নিয়ে সমালোচনার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দুষলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

রোববার সচিবালয়ে এক বিফ্রিংয়ে তিনি বলেন, “বাছাই প্রক্রিয়া (ঢাবির) ত্রুটিপূর্ণ ছিল, এজন্য (শিক্ষার্থীরা) ফেল করেছে। এটা আমাদের বিষয় নয়, এটা তারা (ঢাবি কর্তৃপক্ষ) দেখবে।”

এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের অধীনে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষার ফলে এই অনুষদভুক্ত ইংরেজি বিভাগে ভর্তির যোগ্যতাসম্পন্ন মাত্র দুজন শিক্ষার্থীকে পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ বলেন, “শিক্ষার্থীদের সর্বনাশ করার এই পদক্ষেপ তারা (ঢাবি কর্তৃপক্ষ) বিবেচনা করবেন। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা পরিপূর্ণ না, এটা কোনো পরীক্ষাই না। এটা পাস ফেলের না, এটা বাছাই পরীক্ষা।

“আমরা চাই তারা (ঢাবি কর্তৃপক্ষ) দায়িত্বশীল হবেন। ছেলে-মেয়েদের হেস্তনেস্ত করতে ফেল বলে প্রচার করেছেন? শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলার জন্য এটা করল?”
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

“তা না করলে প্রয়োজনে আইন পরিবর্তন করব, তবে এখনই এটা (আইন পরিবর্তন) করতে চাই না।”

ছেলে-মেয়েদের সর্বনাশ, হতাশাগ্রস্ত, নিরুৎসাহিত এবং বিদেশে তাদের অগ্রহণযোগ্য করার জন্য ওই ধরনের বাছাই পরীক্ষা নেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে তিনি বলেন, “ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করবেন না। হটকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবেন না।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে এবার প্রথম বর্ষে ১৫০ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হবে, যাদের ১২৫ জনই কলা অনুষদের অধীন ‘খ’ ইউনিট থেকে আসার কথা। শুক্রবার অনুষ্ঠিত ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে বাকিদের নেয়া হবে।

এবার ইংরেজি বিভাগে ভর্তির জন্য নতুন শর্ত আরোপ করায় ‘খ’ ইউনিটের পরীক্ষায় এই বিভাগে ভর্তির যোগ্যতা সম্পন্ন মাত্র দুজন শিক্ষার্থী পাওয়া গেছে।

এ পরিস্থিতিতে ভর্তির যোগ্যতা শিথিল করার আভাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সোনা হাতছাড়ায় হতাশ বাংলাদেশের মেয়েরা

গতবারের রূপা এবার সোনায় বদলে নিতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। সুযোগও এসেছিল সালমা খাতুনদের সামনে। কিন্তু ব্যাটিং ব্যর্থতায় এশিয়ান গেমসে এবারো রূপাই পেয়েছে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল।

এশিয়ার সেরা প্রতিযোগিতায় রূপাও কম প্রাপ্তি নয়। কিন্তু হাত ছোঁয়া দূরত্ব থেকে ফেরায় হতাশা কাটছে না অধিনায়ক সালমার।

“এবার শিরোপা জয়ের অনেক বড় সুযোগ ছিল। আগেরবার ফাইনালে অনেক বড় ব্যবধানে হারলেও কষ্ট পাইনি। কিন্তু এবার ফাইনালে ভাল অবস্থানে ছিলাম আমরা। সে জন্যই কষ্ট লাগছে।”

শুক্রবার ইনচনে মহিলা ক্রিকেটের ফাইনালে ৬ উইকেটে ৯৭ রান করে পাকিস্তান। বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৭ ওভারে ৪৩ রান।

৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২৯/২। শেষ ৩ ওভারে মাত্র ১৪ রান প্রয়োজন ছিল সালমাদের। কিন্তু এরপর মাত্র ৯ রানে ৭ উইকেট হারানোয় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মামুলি এই লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি বাংলাদেশ।

ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে মাত্র ৪ রানের এই হারের জন্য অভিজ্ঞতার অভাবকেই দায়ী করেন সালমা। বাংলাদেশের অধিনায়ক মনে করেন, শেষ দিকে মাথা ঠাণ্ডা রাখতে পারেননি সতীর্থরা।

“এক-দুই নিয়ে খেলতে হবে, এটাই ছিল নির্দেশনা। কিন্তু মেয়েরা বোলারদের মেরে খেলতে চাওয়ায় এরকম হয়েছে। এটা মোটেও কঠিন লক্ষ্য ছিল না”

এত কাছে গিয়েও না পারায় হতাশ কোচ জানাক চাম্পিকা গামাগও।

“৪২ বলে ৪৩ রান, এটা মোটেও কঠিন মনে হয়নি। অবশ্যই সোনা জয়ের সম্ভাবনা আমাদের ছিল; বলতে পারেন তা হাতছাড়া করেছি।”

শ্রীলঙ্কার এই কোচ সালমার আউটকেই ম্যাচের ‘টার্নিং পয়েন্ট’ মনে করেন। পাকিস্তানের মেয়েদের একশ’ রানের নিচে বেধে রাখায় বোলারদের প্রশংসাও করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে খুনের সাজা বাংলাদেশিকে

পঁচিশ বছর আগে সাবেক প্রেমিকার ছেলেবন্ধুকে খুনের দায়ে এক বাংলাদেশিকে ৪০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত।

ডেইলি মেইল ও হাফিংটন পোস্ট জানিয়েছে, দণ্ডিত মাহফুজ হক (৪৭) ১৯৮৯ সালের ৯ অগাস্ট সাবেক প্রেমিকার ছেলেবন্ধুকে হত্যায় অভিযুক্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন।

তবে ২০১১ সালে নয়া দিল্লিতে একটি টেনিস প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দিতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন মাহফুজ।

গত জুলাইয়ে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা রাজ্যে ফেরত পাঠানো হয়, যেখানে তিনি ছুরি মেরে হত্যা করেছিলেন ১৯ বছর বয়সী তরুণ টড কেলিকে।

এর আগে অবশ্য মাহফুজ বাংলাদেশে ফেরার জন্য জোর চেষ্টা চালান।

গত সোমবার স্টুবেন কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক উইলিয়াম ফি টড কেলিকে হত্যায় ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় মাহফুজকে সর্বোচ্চ সাজা দেন।

আদালতে মাহফুজ কান্নাজড়িত কণ্ঠে খুনের ঘটনা স্বীকার করে অনুতাপ প্রকাশ করেন।

ইন্ডিয়ানা রাজ্যের হ্যামিলটনে টড কেলিকে তার বাসায় হত্যার পর ওই বছরের নভেম্বরে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া মাহফুজকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এরপরই তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে বাংলাদেশে পাড়ি জমান।

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রায় ২৫ বছর তার কোনো হদিস করতে পারেনি।

খুন হওয়ার পর কেলির মৃতদেহ প্রথম আবিষ্কার করেন তার মেয়েবন্ধু ক্রিস্টিন মাটজফেল্ড, যার সঙ্গে মাহফুজের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
আদালতের নথি থেকে জানা গেছে, কেলির বাসার বাইরে পড়ে থাকা একটি সিগারেটের টুকরোর সূত্র ধরেই পুলিশ বুঝতে পেরেছিল মাহফুজ সেখানে কেলির জন্য অপেক্ষায় ছিলেন।

ঘটনার দুই সপ্তাহ পর সে সময়ের ২২ বছরের তরুণ মাহফুজের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনা হয়। সাবেক প্রেমিকা ক্রিস্টিনের সঙ্গে অন্য কারও সম্পর্ক হলে মাহফুজ তাকেও খুন করার হুমকি দিয়েছিলেন বলে সে সময় অভিযোগ ছিল।

২৫ বছর আগে খুনের ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশনেও বেশ আলোচিত হয়েছিল। ওই ঘটনা নিয়ে ‘আনসলভড মিস্টিরিস’ এবং ‘আমেরিকাস মোস্ট ওয়ান্টেড’ নামের দুটি অনুষ্ঠানেও জায়গা করে নিয়েছিল।

হুমায়ূন আহমেদের মা আয়েশা ফয়েজ আর নেই

প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মা আয়েশা ফয়েজ মারা গেছেন।

শনিবার সকালে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ৮৪ বছর বয়সী আয়েশা ফয়েজ বেশ কিছুদিন ধরেই কিডনিসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।
ল্যাব এইডের চিকিৎসক মোহাম্মদ ইমরান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন আয়েশা ফয়েজ। সকাল ৭টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

এ সময় প্রয়াতের ছেলে অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও আহসান হাবীব মায়ের পাশে ছিলেন।

গত ১১ সেপ্টেম্বর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে আয়েশা ফয়েজকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তখন হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক বরেণ চক্রবর্তী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আয়েশা ফয়েজের কিডনিতে ইনফেকশন দেখা দিয়েছে। ছয় মাস আগেও তার ডায়ালাইসিস করা হয়েছিল।”

প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ, লেখক ও অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল এবং কার্টুনিস্ট ও রম্য লেখক আহসান হাবীবের মা আয়েশা ফয়েজ। তার তিন মেয়ে রয়েছে।

জোহরের নামাজের পর দুপুর দেড়টার দিকে ছেলে আহসান হাবীবের পল্লবীর বাসার পাশের একটি মসজিদে আয়েশা ফয়েজের জানাজা হয়।

তার ছেলে আহসান হাবীব জানান, তার মরদেহ পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে নেয়া হবে। রোববার সকাল ১০টায় সেখানে জানাজার পর তার দাফন হবে।

আয়েশা ফয়েজের জন্ম ১৯৩০ সালের ২৩ মার্চ; নানাবাড়ি বারহাট্টার কৈলাটি গ্রামে। বাবা শেখ আবুল হোসেন এবং মা খায়রুন নেসা। ১৯৪৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ফয়জুর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন পুলিশ কর্মকর্তা ফয়জুর।

এক প্রজন্মে সবচেয়ে জনপ্রিয় দুই লেখক এবং জনপ্রিয় একজন কার্টুনিস্টকে গর্ভে ধারণ করার জন্য ‘রত্নগর্ভা’ পরিচিতি পান আয়েশা ফয়েজ।

‘জীবন যে রকম’ নামে একটি আত্মজীবনীমূলক বই রয়েছে আয়েশা ফয়েজের, যাতে নিজের বেড়ে ওঠা, বিয়ে, ছেলে-মেয়েদের জন্ম, মুক্তিযুদ্ধে স্বামীর নিহত হওয়া এবং পরবর্তী সময়ে ছয় সন্তানকে নিয়ে জীবনসংগ্রামের নানা দিক উঠে এসেছে।

মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ কর্মকর্তা স্বামী নিহত হওয়ার পর ছেলে-মেয়েদের নিয়ে সংসার চালাতে বেশ কষ্ট করতে হয় আয়েশা ফয়েজকে। স্বাধীনতার পরে শহীদ পরিবার হিসেবে মোহাম্মদপুরে একটি বাসা পেলেও সেখান থেকে পরে তাদের উচ্ছেদ করা হয়।

Developed by: