বিভাগ: বই পত্র

দেয়াল ভেঙে ব্যাংকের কোটি টাকা চুরি

জয়পুরহাটে ব্র্যাক ব্যাংকের একটি শাখার দেয়াল ভেঙে ভল্টে থাকা প্রায় দুই কোটি টাকা চুরি হয়েছে।

শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশের ধারণা।

জয়পুরহাটের এএসপি (সার্কেল) দিমন চন্দ্র জানান, শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় শহরের সদর রাস্তা এলাকায় একটি ভবনের দুই তলায় থাকা ব্যাংকটিতে চুরি হয়। সকালে অফিস খুলে কর্মচারীরা দেয়াল ভাঙা পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।

পুলিশ কর্মকর্তা দিমন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দুপুর পর্যন্ত ব্যাংক কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী এক কোটি ৯৫ লাখ টাকা চুরি হয়েছে বলে তারা আমাদের জানিয়েছেন।”

ব্র্যাক ব্যাংকের হেড অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড সার্ভিস কোয়ালিটি জিশান কিংশুক হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, পাশের ভবন থেকে দেয়াল ছিদ্র করে ভেতরে প্রবেশ করে ভল্ট ভেঙে এককোটি ৯৫ লাখ টাকা চুরি হয়েছে।

ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক ফজলে রাব্বি চৌধুরী জানান, চুরির আগে ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ ও ভল্টরুমের সিসি (ক্লোজড সার্কিট) ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

র‌্যাব ৫ এর জয়পুরহাট ক্যাম্পের অধিনায়ক আব্দুর রহিম জানান, দোতলায় ব্যাং‌কের লাগোয়া কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকতো কেউ। তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

চুরির ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ব্যাংকের নিরাপত্তারক্ষী ফারুক হোসেন ও হেলাল উদ্দিনকে আটক করেছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা নেই: প্রধানমন্ত্রী

মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির সঙ্গে সংলাপের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী বাংলাদেশি এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “কিসের মধ্যবর্তী নির্বাচন? এমন কি সমস্যা হয়েছে যে মধ্যবর্তী নির্বাচন? কার জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচন? অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী জিয়াউর রহমানের দলকে ক্ষমতায় আনতেই মধ্যবর্তী নির্বাচন?”

নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে এই সংবাদ সম্মেলনে আরেক প্রবাসী সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির সঙ্গে সংলাপের সম্ভাবনা নাকচ করে তার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন রাখেন।

বিরোধী দলের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দল সংলাপে বসবে কি না- এই প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “সংলাপটা আবার কী? সংলাপ কার সাথে? বিরোধী দল? কে বিরোধী দল? সংসদীয় গণতন্ত্রে কারা বিরোধী দল? এর ডেফিনেশন কি?”

“যারা বাইরে আছে.. আমি কি করবো?”

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় জাতীয় পার্টি এখন বিরোধী দল হিসাবে রয়েছে।

বিএনপির মতো একটি রাজনৈতিক দলের সংসদের বাইরে থাকা নিয়ে প্রবাসী সাংবাদিকদের বক্তব্যের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “বাইরে আছে তো, বাইরে আছে। আমি কি করবো? নির্বাচন করে নাই- তো করে নাই। রাজনীতিতে কেউ ভুল সিদ্ধান্ত নিলে তার খেসারত তাকেই দিতে হবে।”

সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাজা কমে আমৃত্যু কারাদণ্ড হওয়ার পর সরকারি দলের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আঁতাতের যে অভিযোগ উঠেছে তাও উড়িয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

এই প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা পাল্টা প্রশ্ন করেন, “আঁতাত হলে বিচার হয়?

“মৃত্যুদণ্ড হবে কি না- সে সিদ্ধান্ত নেবে বিচার বিভাগ।আমাদের বিচার বিভাগ স্বাধীন।বিচার বিভাগে তো হস্তক্ষেপ করতে পারি না।”

“রায় কি আমি দিয়েছি?”-উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এ প্রশ্ন ছুড়ে শেখ হাসিনা বলেন, “বিচার করছে আমাদের সরকার। আওয়ামী লীগ সরকার। আর কি কেউ বিচার করেছে? বিচার তো করেনি। মন্ত্রী বানিয়েছে। পতাকা দিয়েছে। যারা পতাকা দিয়ে মন্ত্রী বানিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছে- আগে তাদের বিচার করেন।”

জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য অভিযুক্ত। ১৯৭১ সালে ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের পেছনে তার মুখ্য ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে তিনি কৃষি ও শিল্প মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গণহত্যা, লুটপাট, ধর্ষণে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহাযোগিতার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদ বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “আগে বিএনপিকে ধরেন। আগে তাদেরও যুদ্ধাপরাধীদের সমান বিচার হওয়া উচিত।”

সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক জনসভায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীকে পাসপোর্ট-ভিসা তৈরি রাখতে বলেছেন।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি ভিসা নিতে যাবো কেন? আমার জন্ম টুঙ্গীপাড়ার মাটিতে। উনার জন্ম তো ইন্ডিয়ার শিলিগুড়িতে। শিলিগুড়ির চা বাগানে উনার জন্ম। ভিসা করলে উনাকে করতে হবে।”

সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়কার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি তো পালাই নাই। সকল এয়ারলাইন্সকে মানা করেছিল। আমাকে কী আটকে রাখতে পেরেছিল?

“দুই ছেলেকে (তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান) অ্যালাউ করলেই উনি (খালেদা জিয়া) চলে যেতেন।”

টেলিভিশনের টক শোতে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপনকারীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দেশের অনেক লোকের মধ্যে একটা পতাকা পাবার সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা আছে। তারা একটা পতাকা পেতে পারে- অগণতান্ত্রিক কেউ এলে।

“ক্ষমতার খায়েশ থাকলে দল গঠন করুক। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আসুক।”

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদ বাতিল এবং ৩৮ অনুচ্ছেদের কিছু অংশ পরিবর্তন করে জিয়াউর রহমান জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।

“বাংলাদেশে সকল অপকর্মের মূল জিয়াউর রহমান। হাই কোর্টও জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা দখলকে অবৈধ ঘোষণা করেছে।”

আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার। দুর্নীতি হলে উন্নতি হতে পারে না।

“আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের দুর্নীতিবাজ বানানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। আমি চ্যালেঞ্জ নেই। তারা প্রমাণ করতে পারেনি। আমি পদ্মা সেতুর কথা বলছি।”

তিনি বলেন, “দুর্নীতি হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন তিন হাজার দুইশ মেগাওয়াট থেকে ১১ হাজার সাতশ মেগাওয়াট কিভাবে হয়?”

“আমরা ব্যবসা করতে আসিনি। আমরা ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়েছি।”

শনিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তার সৌজন্য সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে বলেও জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হোসেন তৌফিক ইমাম ও মশিউর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আব্দুল মোমেন উপস্থিতি ছিলেন।

ছায়ামন্ত্রীর পদ ছাড়লেন রুশনারা

ইরাকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ওপর চলমান বিমান হামলায় ব্রিটেনের যোগ দেওয়ার পক্ষে দলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে ছায়া প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়লেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশনারা আলী।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার কয়েক মিত্র দেশের সঙ্গে যোগ দিয়ে ইরাকে আইএসের ওপর হামলা চালানো হবে কি না তা নিয়ে শনিবার যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে ভোট হয়। প্রস্তাবের পক্ষে ৫২৪ ও বিপক্ষে ভোট পড়ে ২৩টি।
ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ ও লিব ডেমের পাশাপাশি বিরোধী দল লেবার পার্টিও ওই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়।

লেবার পার্টির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে ছায়া শিক্ষামন্ত্রীর পদ ছাড়েন রুশনারা আলী।

এক চিঠিতে লেবার পার্টির প্রধান এড মিলিব্যান্ডকে পদত্যাগের বিষয়ে রুশনারা আলী লিখেছেন, “আমার জন্য এটি একটি বিরাট সুযোগ ছিল, গত চারবছরে ছায়ামন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আমি একসঙ্গে দুটি ভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছি।

“তাই এটি দুঃখজনক আমাকে ইরাকে আইএসের ওপর সামরিক হামলা চালানোর বিষয়ে ভোট দেওয়ার আগেই পদত্যাগ করতে হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “পরিস্থিতি সম্পর্কে আমার ধারণা রয়েছে এবং সামরিক হামলার বিরুদ্ধে ভোট পড়বে না। কিন্তু আমার বিবেক এই সিদ্ধান্তে সায় দিচ্ছে না। তাই আমি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে সরে যাচ্ছি।”

সিলেটে জন্মগ্রহণকারী রুশনারা বলেছেন, আইএসের সদস্যদের ‘ভয়ঙ্কর ও বর্বরোচিত’ কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্যদের সঙ্গে একমত হলেও, তিনি মনে করেন সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত ইরাকের সাধারণ মানুষের জন্য আরও রক্তপাত নিয়ে আসবে।

রুশনারার চিঠির জবাবে মিলিব্যান্ড লিখেছেন, আমি মর্মাহত যে, আপনি এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করতে পারছেন না। আমার বিশ্বাস অনেক ভেবে চিন্তেই আপনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আপনার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করছি।

লেবার পার্টির নেতা মিলিব্যান্ডকে লেখা রুশনারা আলীর চিঠি এবং জবাব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের হাতে এসে পৌঁছেছে।

রুশনারার জন্ম ১৯৭৫ সালে সিলেটে। মাত্র সাত বছর বয়সে মা-বাবার সঙ্গে চলে যান লন্ডনে। বাংলাদেশে তার পৈতৃক নিবাস সিলেটের বিশ্বনাথের বুরকি গ্রামে। রুশনারা রাজনীতি, অর্থনীতি ও দর্শন পড়েছেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে।

১৭ বছর বয়স থেকে রুশনারা লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়। এই দীর্ঘ পথ চলায় তিনি দীক্ষা নিয়েছেন ১৯৫৪ সালে লেবার পার্টির মেনিফেস্টোর অন্যতম লেখক মাইকেল ইয়াংয়ের কাছে।
লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে ২০১০ সালে পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসন থেকে প্রথম বাঙালি হিসেবে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে যান রুশনারা। ছায়ামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পরও তিনি ওই দুই আসনের এমপি’র দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

রুশনারার আগে বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনে লেবার পার্টির সর্বশেষ এমপি ছিলেন ওনা কিং, যিনি ইরাক যুদ্ধের পক্ষে পার্লামেন্টে আনা প্রস্তাবে ভোট দিয়ে ২০০৩ সালের নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন।

২০১৫ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিটিশ নির্বাচনের মাত্র আট মাস আগে রুশনারা ছায়ামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন।

৪ মিনিট পরপর ১৮০০ যাত্রী নিয়ে ছুটবে মেট্রোরেল

প্রতি চার মিনিট পরপর ১ হাজার ৮০০ যাত্রী নিয়ে ছুটে চলবে মেট্রোরেল, ঘণ্টায় চলাচল করবে প্রায় ৬০ হাজার যাত্রী।
মোট ২৮ জোড়া মেট্রোরেল চলাচল করবে রাজধানীতে। রাস্তার মাঝ বরাবর উপর দিয়ে উত্তরা থেকে শুরু হয়ে মিরপুর-ফার্মগেইট হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত যাবে এই মেট্রো রেল। সময় লাগবে ৪০ মিনিটেরও কম।

নির্মাণ কাজে মোট ৬টি প্যাকেজে দেওয়া হবে আটটি দরপত্র।

এসব তথ্য জানিয়ে মেট্রোরেল প্রকল্প পরিচালক মো. মোফাজ্জেল হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, প্রতি মেট্রোরেলে ৬টি কোচ থাকবে। প্রতি স্কয়ার মিটারে ৮ জনের হিসাবে ব্যস্ততম সময়ে ১৮০০ যাত্রী চলাচল করতে পারবে।

মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা লাগবে, যার ১৬ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকাই দেবে জাইকা। বাকি ৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা জোগাবে সরকার।

আগামী জুলাই মাসে এ প্রকল্পের পরিপূর্ণ নকশা (ডিটেইলড ডিজাইন) চূড়ান্ত হবে বলেও জানান মোফাজ্জেল হোসেন।

তবে এ সুবিধা পেতে রাজধানীবাসীতে অপেক্ষা করতে হবে আরো ৪ বছর (২০১৯)।

নির্মাণে ৮টি দরপত্ট স্থাপনে ৬টি প্যাকেজে মোট ৮টি দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি নিচ্ছে মেট্রোরেল প্রকল্প।

মোফাজ্জেল বলেন, “প্রাথমিকভাবে আগামী ডিসেম্বরে উত্তরা ৩য় ফেইসে মেট্রোরেল ডিপো নির্মাণে দুইটি দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে।”

“আগামী বছরেরর শুরু থেকেই এ প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।”

“ধারাবাহিকভাবে মেট্রোরেল চলাচলের জন্য ব্রিজ (যার উপর দিয়ে চলবে) এবং স্টেশন নির্মাণে ৪টি দরপত্র, রেল কোচ কেনায় একটি এবং ইলেকট্রিক্যাল ম্যাকনিক্যাল ওযার্কের জন্য আরেকটি দরপত্র আহ্বান করা হবে।”

আগামী ২০১৭ সালের মধ্যে দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে হবে। ধাপে ধাপে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে হয় বলেই এ সময় প্রয়োজন হবে।

রাস্তার মাঝ বরাবর উপর দিয়ে চলবে মেট্রোরেল

রাজধানীর রাস্তার মাঝ বরাবর উপর দিয়ে চলবে মেট্রোরেল। মেট্রোরেল স্টেশন হবে প্রায় দোতলা সমান উঁচু।

মোফাজ্জেল হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রায় ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্রিজ তৈরির পর লাইন তৈরি করা হবে তার উপর, রাস্তার মাঝ বরাবর দিয়ে এই ব্রিজ তৈরি করা হবে।”

ইতোমধ্যে মেট্রোরেল নির্মাণে ‘এলাইনমেন্ট’ ও ১৬টি স্টেশনের নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, “দোতালা উচ্চতায় এ স্টেশন তৈরি করা হবে। নিচতলায় হবে টিকেট ক্রয় ও স্বয়ংক্রিয় প্রবেশ দ্বার। দুইপাশ থেকে যাত্রীরা আসা যাওয়া করতে পারবে এ স্টেশনে।”

মেট্রোরেলের প্রস্তাবিত নকশা মেট্রোরেলের প্রস্তাবিত নকশা প্রায় ১৮০ মিটার লম্বা হবে এ স্টেশন। তবে স্টেশনগুলো উন্নত দেশগুলোর মতো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে না বলেও জানান প্রকল্প পরিচালক।
মেট্রোরেল নির্মাণকালীন বিভিন্ন স্থানে ৫টি কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড তৈরি করা হবে এবং নির্মানকাজ রাত ১১ থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ভূমি অধিগ্রহণের বিশেষ বিধান রেখে গত ২৮ এপ্রিল মেট্রোরেল সংক্রান্ত আইনের খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

২০১২ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) এ প্রকল্প অনুমোদন পায়।

মেট্রোরেলের ১৬টি স্টেশন হবে- উত্তরা (উত্তর), উত্তরা (সেন্টার), উত্তরা (দক্ষিণ), পল্লবী, মিরপুর ১১, মিরপুর-১০ নম্বর, কাজীপাড়া, তালতলা, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেইট, সোনারগাঁও, জাতীয় জাদুঘর, দোয়েল চত্বর, জাতীয় স্টেডিয়াম এবং বাংলাদেশ ব্যাংক এলাকায়।

‘হুমকি’ বিষয়ে হাসিনাকে ‘তথ্য দেবেন’ মোদী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেসব ‘হুমকির মুখে’ রয়েছেন সেসব বিষয়ে নিউ ইয়র্কের বৈঠকে তাকে জানাবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর এই বৈঠক হবে। মোদী ভারত সরকারের দায়িত্ব নেয়ার পর এটাই তাদের প্রথম বৈঠক।

ভারতীয় গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, পশ্চিমা একটি গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর একটি অংশকে ব্যবহার করে হাসিনা সরকারকে উৎখাতের চেষ্টায় আছে বলে তাদের কাছে তথ্য আছে।

দিল্লির কয়েকজন শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, পশ্চিমা ওই গোয়েন্দা সংস্থাটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ে কিছু কর্মকর্তাকে এজন্য ‘তৈরি’ করছে এবং হাসিনাকে উৎখাতের পর একটি ‘জাতীয় ঐকমত্যের’ সরকার গঠনের পরিকল্পনাও তাদের রয়েছে।

আর এর পেছনে মূল ভূমিকা রাখছেন সেই পশ্চিমা দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা, যিনি কূটনীতিক পরিচয়ে ঢাকায় দায়িত্ব পালন করছেন।

আর ‘ঐকমত্যের’ যে সরকারের পরিকল্পনা তারা করেছে, তাতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কয়েকজন নেতার পাশাপাশি বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির কয়েকজনকে জড়ো করার কথা ভাবা হচ্ছে বলে ভারতীয় গোয়েন্দাদের তথ্য।

এ ধরনের পরিকল্পনার বিরোধিতা করায় এরইমধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকর্তাকে অগুরুত্বপূর্ণ পদে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। আর সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর তথাকথিত সেই ‘ঐকমত্যের সরকার’ গঠনে যাতে কোনো সশস্ত্র বাধা না আসে সেজন্য র‌্যাব ও বিজিবিকে নিস্ক্রিয় রাখারও পরিকল্পনা তাদের রয়েছে বলে ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি।
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পাওয়া এসব তথ্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও অবহিত করা হয়েছে। সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর দিল্লি সফরে তার সঙ্গে থাকা জ্যেষ্ঠ কয়েকজন বাংলাদেশি কর্মকর্তাকেও এসব গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একজন উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা বলেন, “শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয়ে বলবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সারদা গ্রুপের (জঙ্গি অর্থায়ন) বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দেয়ার পাশাপাশি তিনি এটা স্পষ্ট করবেন যে বাংলাদেশে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে ভারতে যারাই জড়িত থাক না কেন ভারত সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হবে।

“বাংলাদেশে সন্ত্রাসে অর্থ যোগানোর অভিযোগে সারদা গ্রুপের বিরুদ্ধে ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ব্যুরোর (সিবিআই) যে তদন্ত চলছে তাতে বাংলাদেশের দিক থেকেও সহযোগিতা চাইবেন মোদী।”

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে ২০১২-১৩ সালে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের পেছনে বিপুল পরিমাণ টাকা ঢালা হয়, যার যোগান আসে ভারতের সারদা গ্রুপ থেকে। পশ্চিমা সেই গোয়েন্দা সংস্থার পরিকল্পনার অংশ হিসাবেই এটা করা হয় বলে ভারত সরকার মনে করে।

ভারতের একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, “ওই গোয়েন্দা সংস্থাটি প্রথমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাম সরকারকে সরাতে কাজ করে। এখন তারা হাসিনাকে সরাতে চায়। তারা বঙ্গোপসাগরে একটি ঘাঁটি করতে চায়। কিন্তু শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সরকারে থাকলে তা সম্ভব না। আর ভারতে বামরা সরকারকে প্রভাবিত করার মতো পর্যায়ে থাকলেও তা সম্ভব হবে না।”

এ ধরনের ‘ষড়যন্ত্র রুখে দিতে’ ভারত সব সময় প্রতিবেশীদের পাশে থাকবে বলেও হাসিনাকে ‘আশ্বস্ত করবেন’ মোদী।

বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের তালিকায় কানাডা

1411444422বিশ্বের শীর্ষ দশ সুখী দেশের তালিকায় কানাডার স্থান পঞ্চম। অর্গানাইজেশন অব ইকোনোমিক কো-অপারেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট বা ওইসিডি বিশ্বের সবচেয়ে সুখী ১০টি দেশের তালিকা নির্ধারণ করেছে। এই তালিকার সর্ব শীর্ষে রয়েছে- অস্ট্রেলিয়া।

এ তালিকা নির্ধারণে পরিবেশগত গুণাগুণ, স্বাস্থ্যগত উন্নয়ন, বাসস্থানের সুযোগ-সুবিধা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্র, মাথাপিছু আয়-উপার্জন থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ১১টি ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যপূর্ণ দিক বিবেচনা করা হয়। পর্যায়ক্রমে সুখী দেশগুলো হচ্ছে- অস্ট্রেলিয়া, নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ড।

উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ায় মাথাপিছু একজন ব্যক্তির বাৎসরিক আয়ের পরিমাণ ৩১১৯৭ মার্কিন ডলার। সামাজিক নিরাপত্তা, পরিবেশের ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার রেটিং সবচেয়ে বেশি।

চলছে এরশাদপুত্রের অর্থের খোঁজও

রাজনীতিক, তাদের সন্তান, ব্যবসায়ীসহ ১৩ জনের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হয়েছে, এর মধ্যে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের ছেলেও রয়েছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে গত বৃহস্পতিবার সব ব্যাংকে চিঠি পাঠিয়ে এসব ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়।

বিএফআইইউ মুদ্রা পাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং সন্দেহজনক লেনদেন নিয়ে তদন্ত করে। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন সংস্থার (দুর্নীতি দমন কমিশন, সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্স সেল) তদন্তের জন্যও তথ্য নিয়ে থাকে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এরশাদ এবং বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের একমাত্র সন্তান রাহগীর আল মাহী এরশাদের (সাদ) সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ব্যাংক হিসাবের তথ্যও চেয়েছে বিএফআইইউ।

ব্যাংকগুলোর কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার ছেলে সাজেদুল হক চৌধুরীর (দীপু চৌধুরী) ব্যাংক হিসাবেরও।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর মায়া প্রতিমন্ত্রী থাকার সময় দীপু চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছিল। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের আসামি নূর হোসেনের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকার স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী সেলিম এবং ঢাকা মহানগর যুবলীগের সভাপতি (দক্ষিণ) ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের ব্যাংকের তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

যুবলীগ নেতা রিয়াজুল হক খান মিল্কি হত্যাকাণ্ডে সম্রাটের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে।

দলীয় নেতা একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের পর বিতর্কের মধ্যে থাকা ফেনী সদরে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর নামও এই তালিকায় রয়েছে।

বিএনপি নেতাদের মধ্যে সাবেক পরিবেশমন্ত্রী শাহজাহান সিরাজ এবং তার ছেলে রাজিব সিরাজ, সাবেক সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান (প্রয়াত এম সাইফুর রহমানের ছেলে), সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম (সিলভার সেলিম), চাঁদপুর জেলা সভাপতি শেখ ফরিদউদ্দিন মানিকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে বিএফআইইউ।

এছাড়া তথ্য চাওয়া হয়েছে রিকন্ডিশনড গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডার সভাপতি হাবিবুল্লাহ ডন, বিলুপ্ত ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহ মো. হারুনের ব্যাংক হিসাবের।

ব্যাংকগুলোর কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, “এসব ব্যক্তির নামে বা তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো হিসাব অতীতে ও বর্তমানে পরিচালিত হয়ে থাকলে উক্ত হিসাব সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্যাদি (হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি প্রোফাইল, টিপি, শুরু থেকে হালনাগাদ লেনদেনের বিবরণী) আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে পাঠাতে হবে।”
অন্য এক চিঠিতে বিএফআইইউ ইত্তিহাদ ক্রিস্টাল কার্গোর বাংলাদেশ এজেন্ট জিএসএ কার্গো লিমিটেড, ইত্তিহাদ ক্রিস্টাল কার্গোর শ্রীলংকার এজেন্ট ষ্পীড এয়ার কার্গো নেট (প্রাইভেট) লিমিটেড, অলপোর্ট ইউকে, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের বাংলাদেশি এজেন্ট ষ্পীড মার্ক ট্রান্সফোর্টেশন (বিডি)লিমিটেড, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের জিএসএ ইউনাইটেড এভিয়েশন এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে।

সিলেটে হরতালের মিছিলে ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া

সিলেটে ২০ দলের হরতালের মধ্যে ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পদবঞ্চিতদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর নয়াসড়ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিজেদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন নতুন কমিটিতে পদ পাওয়া ও পদ না পাওয়া দুটি অংশের নেতাকর্মীরাই।

নতুন কমিটিতে পদ না পাওয়া জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরী বলেন, “নবগঠিত সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটিকে সিলেটে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। তারা মিছিল করায় ধাওয়া দিয়ে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।”

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ না থাকলেও বিষয়টি জেনেছেন বলেন জানান সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রহমত উল্লাহ।
তিনি বলেন, “পুলিশ যাওয়ার আগেই দুই পক্ষের নেতা কর্মীরা দৌড়ে চলে যায়।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৮টায় নয়াসড়ক এলাকায় নবগঠিত সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নূরুল আলম সিদ্দিকী খালেদের নেতৃত্বে হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল বের হয়।

এ সময় পদবঞ্চিত পক্ষের মাহবুবুল হক চৌধুরী, সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক রেজাউল করিম নাচনসহ নেতাকর্মীরা ধাওয়া করে।

এ সময় কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

পদবঞ্চিত পক্ষের এক কর্মী মোটরসাইকেল থেকে পড়ে আহত হয়েছেন বলে জানা গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নতুন কমিটির সভাপতি নূরুল আলম সিদ্দিকী খালেদ বলেন, ‘‘ছাত্রদল মিছিল বের করলে পদবঞ্চিত একটি অংশ ধাওয়া করে। সংঘর্ষের আশঙ্কায় আমাদের নেতাকর্মীরা নিরাপদে সরে যায়।”

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাঈদ আহমদকে সভাপতি ও রাহাত চৌধুরী মুন্নাকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা এবং নূরুল আলম সিদ্দিকী খালেদকে সভাপতি ও আবু সালেহ মো. লোকমানকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

শুক্রবার দুপুরেও এ নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

‘ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়ে ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে ‘সুবিধাভোগী, নিষ্ক্রিয়, অযোগ্য ও অছাত্রদের’ রাখা হয়েছে দাবি করে এবং নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন পদবঞ্চিতরা।

পাল্টে গেল বিসিএস প্রিলিমিনারি

বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার নম্বর ১০০ বাড়িয়ে ২০০ করা হয়েছে, পরীক্ষার সময়ও বেড়েছে এক ঘণ্টা।
১৯৮২ সালের বিধিমালা সংশোধন করে ‘বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বয়স, যোগ্যতা ও সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা, ২০১৪’ এর গেজেট রোববার প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রিলিমিনারিতে নতুন নিয়ম রেখে দুই-এক দিনের মধ্যেই ৩৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) আ ই ম নেছারউদ্দিন জানিয়েছেন।

সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) ভবন। সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) ভবন। সংশোধিত বিধিমালায় মৌখিক পরীক্ষায় পাস নম্বর ৪০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর আগের মতোই ৫০ শতাংশ রয়েছে।
নতুন নিয়মে লিখিত পরীক্ষায় কোনো বিষয়ে ৩০ শতাংশের কম নম্বর পেলে প্রার্থী কোনো নম্বর পাননি বলে গণ্য হবে; আগে যা ছিল ২৫ শতাংশ নম্বর।

বিসিএসের আবেদন ফরমের দাম ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে।

এতোদিন এমসিকিউ পদ্ধতিতে এক ঘণ্টায় ১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হতো।

বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ৩০০ নম্বরের করাসহ কয়েকটি বিষয়ে নিয়োগ বিধি সংশোধন চেয়ে গত মে মাসে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায় পিএসসি।

মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করে গত ১১ মে প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে তুললে কমিটি প্রিলিতে ২০০ নম্বর রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর অনুমোদনের পরে নিয়ম অনুযায়ী গত ৩ জুন আবার তা পিএসসির মতামতের জন্য কমিশনে পাঠানো হয়।

পিএসসির মতামত পেয়ে বিধি সংশোধনের প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার (ভেটিং) জন্য পাঠানো হয়। ভেটিং শেষে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিধিমালাটি যায় প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কাছে। এদের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ায় এখন এসআরও জারি করা হল।

৩৫তম বিসিএসে বিভিন্ন ক্যাডারে এক হাজার ৭৪৯ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে বলে গত ৯ ফেব্রুয়রি সংসদে জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক।

বিচারপতি অপসারণ বিলে রাষ্ট্রপতির সই

বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা আইন প্রণেতাদের হাতে ফিরিয়ে দিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন বিলে সম্মতি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
এই বিলের বিরোধিতায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের হরতাল এবং পুনর্বিবেচনার জন্য সংসদে ফেরত পাঠানোর আহ্বানের মধ্যেই সোমবার রাষ্ট্রপতি এই বিলে সই করেন।

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়ায় এখন গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চলছে। গেজেট প্রকাশিত হলেই শেষ হবে ‘সংবিধান (ষোড়শ সংশোধন) বিল-২০১৪’ এর আইনে পরিণত হওয়ার আনুষ্ঠানিকতা।
এ আইনের ফলে ‘অসদাচরণ ও অসামর্থ্যের’ অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিচারপতিদের অপসারণ করতে পারবে সংসদ, যে ক্ষমতা স্বাধীনতার পর চার বছর পর্যন্ত আইন প্রণেতাদের হাতেই ছিল।
এর ফলে বিচারপতি অপসারণে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের বিষয়টি আর থাকছে না।

ষোড়শ সংশোধনী অনুযায়ী বিচারপতি অপসারণের ক্ষেত্রে তাদের ‘অসামর্থ্য ও অসদাচরণের’ তদন্ত ও প্রমাণের বিষয়ে আলাদা একটি আইন হবে, যা আগামী তিন মাসেই করা হবে বলে আইনমন্ত্রী ইতোমধ্যে জানিয়েছেন।
সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের বিরোধিতার মধ্যে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সংসদে সর্বসম্মত ভোটে বিলটি পাস হয়।

বিএনপি বলে আসছে, বিচার বিভাগের ওপর নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য আওয়ামী লীগ সংবিধান সংশোধন করেছে।
ক্ষমতায় ফিরলে আওয়ামী লীগ আমলে আনা সংশোধনীগুলো বাতিলের ঘোষণাও দিয়েছে দলটি।

অন্যদিকে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সন্দেহ, ভালোমতো যাচাই না করে এই মুহূর্তে প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও তড়িঘড়ি করে এ আইন পাসের ক্ষেত্রে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে।
তবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বারবার বলে আসছেন, বিএনপি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা না বুঝেই সমালোচনা করছেন।

“আমরা শুধু বাহাত্তরের অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপন করছি। বিচারপতিদের অভিসংশন নয়, বরং অপসারণও করবে না সংসদ। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংসদ তা অনুমোদন করবে।”
সংসদের কাছে ক্ষমতা ফিরে আসা

১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়নের সময় উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ছিল।
১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর (বাকশাল গঠন) মাধ্যমে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত হয়।
চতুর্থ সংশোধনী বাতিল হলে জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকারের আমলে এক সামরিক আদেশে বিচারপতিদের অভিশংসনের জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা হয়।

২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর সময়ে বিচারপতিদের সরানোর ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেয়া নিয়ে আলোচনা ওঠে, যদিও তখন তা করা হয়নি।
পরে ২০১২ সালে তৎকালীন স্পিকার ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের একটি রুলিংকে কেন্দ্র করে কয়েকজন সংসদ সদস্য হাই কোর্টের একজন বিচারপতিকে অপসারণের দাবি তোলেন।
মূলত সে সময়েই বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে আনার দাবি জোরালো হয়।

গত ৭ সেপ্টেম্বর ‘সংবিধান (ষোড়শ সংশোধন) বিল-২০১৪’ সংসদে উত্থাপনের পর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এক সপ্তাহ সময় দিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
দুটি বৈঠক করে সংসদীয় কমিটি বিলটি পরীক্ষা করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করেন।

সংসদীয় কমিটি বিলের ‘দীর্ঘ’ প্রস্তাবনা বাদ দেয় এবং উদ্দেশ্যে ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে কিছু পরিবর্তন আনে।
সংসদে উত্থাপিত প্রস্তাবে, কোনো বিচারপতির অসদাচরণ বা অসামর্থ্য সম্পর্কে ‘তদন্ত ও প্রমাণ’ আইন করে সংসদ নিয়ন্ত্রণ করার শর্ত রাখা হয়।
সংবিধান সংশোধন বিল পাসের আগে বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়।
এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর সংসদে বিভক্তি ভোটে সর্বসম্মতভাবে বিলটি পাস হয়।

Developed by: