বিভাগ: বই পত্র

নিখোঁজ প্রবাসী বিএনপি নেতা মুজিব উদ্ধার

19-2অবশেষে নিখোঁজ যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমান মুজিব উদ্ধার হয়েছেন। আজ সোমবার সকাল আমুমানিক ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে কে কারা তাকে গাজীপুরের টঙ্গী ব্রীজের নিকট ফেলে চলে যায়। পরে সেখান থেকে তার পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে। মুজিবকে উদ্ধারের বিষয়টি তার শ্যালক ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান, খবর পেয়ে টঙ্গী থেকে মুজিবকে প্রথমে গুলশানে তার বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ার তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মুজিবের সাথে নিখোঁজ ড্রাইভার রেজাউল করিম সোহেলও জীবিত আছে বলে জানান তিনি।

এদিকে সিলেটে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে নানা কৌতুহল দেখা দেয়। এ ঘটনায় অনেকেই বলাবলি করছেন, ‘হয়তো হঠাত্ একদিন শুনা যাবে নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়স আলীরও সন্ধান পাওয়া গেছে।’

এদিকে সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি শাখাওয়াত হোসেন, আজ রাত ১০ টার দিকে ইত্তেফককে জানান, মুজিব ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আছেন। তারা পুরো বিষয়টির তত্ত্বাবধান করছেন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্য বিএনপির উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য প্রবাসী মুজিবুর রহমান ও তার গাড়ি চালক মো. রেজাউল করিম সোহেল গত ৪ মে সুনামগঞ্জ থেকে সিলেট ফেরার পথে নিখোঁজ হন।

মুজিব যুক্তরাজ্য যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সমপাদক।

নৌকাবাইচ ঘিরে সুরমার তীরে প্রাণের স্পন্দন গানের মাতলো সুরমা পারের কয়েক হাজার মানুষ

18-1:বৃষ্টি উপেক্ষা করেও সিলেট বিভাগীয় নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় ছিল মানুষের উপচেপড়া ভিড়।

ক্বীনব্রীজের নিচে সুরমা নদীতে ৭ম বারের মতো এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে বাংলা লিংক।
এ উপলক্ষে রোববার দুপুর থেকে চাদঁনীঘাট এলাকায় ভিড় জমাতে থাকেন উৎসুক মানুষ।
বৃষ্টিতে ভিজেও দুপুর আড়াইটায় নৌকা বাইচ উপভোগ করতে মঞ্চে উপস্থিত হন-অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য নৌকা বাইচ এক সময় হারিয়ে যেতে বসেছিল। এ ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে। এজন্য প্রতিবছর নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতার মাধ্যমে সিলেটের ক্বীন ব্রীজ এলাকা মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। মানুষের এ উচ্ছ্বাস ধরে রাখতে হবে।

বাংলাদেশ রোইং ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় ও সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার তত্ত্বাবধানে বাংলালিংক ৭ম সিলেট বিভাগীয় নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতায় আয়োজন করে।

নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতায় তিনটি গ্রুপে ১২টি নৌকা অংশ গ্রহণ করে। এ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হন কোম্পানীগঞ্জ পুটামারার এখলাছুর রহমান। বি গ্রুপে সাইদুর রহমান ও সি গ্রুপে আতাউর রহমান চ্যাম্পিয়ন হোন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি সাজ্জাদুল হাসান।

প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন আনোয়ার হোসেন সাজু, মোবারক হোসেন, নাহিদুর রহমান রায়হান, ইমরানুর রহমান প্রমুখ।

প্রতিযোগীতায় উপস্থিত থেকে নৌকা বাইচ উপভোগ করেন সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার মিজানুর রহমান, জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবদুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান, সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, বাংলালিংকের আশিক ইকবাল, সৈয়দা জেবুন্নেসা হক, বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ।

– See more at:

ফেসবুকে ঢাকার ছেলে ও আইরিশ মেয়ের প্রেম, অতঃপর…

17-3 ডু ইউ লাভ মি? কয়েক হাজার মাইল দূরের দেশ থেকে এমন আহ্বান পেয়ে ভাবনায় পড়েন মিশেল লুইস নলিন। ইয়েস নো কিছুই জানাননি তিনি। মাহমুদ কিছুটা চিন্তিত। দু’দিন পর নলিন জানান, আই এ্যাম ইন্টারেস্টেড। আই লাভ ইউ…। সেই থেকেই শুরু আইরিশ মেয়ে নলিন ও বাংলাদেশী ছেলে মাহমুদের ভালবাসার গল্প।সত্যি ভালোবাসা সীমানা চেনে না। মানে না কোন বাধা। পাসপোর্ট-ভিসার জটিলতা ডিঙিয়ে ভালোবাসাই পারে যুগল মিলন ঘটাতে। মিশেল লুইস নলিন ও  রফিক মাহমুদ তাই প্রমাণ করেছেন।সম্পর্কের শুরু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে। অতঃপর ভালোবাসার টানে সুদূর আয়ারল্যান্ড থেকে নলিন ছুটে এসেছেন বাংলাদেশে। বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন প্রেমিকের সঙ্গে।

শুক্রবার বিকালে রফিক মাহমুদের রাজধানীর আহমদবাগের বাসায় কথা বলেন নবদম্পতি।

গল্পচ্ছলে তারা প্রকাশ করেন তাদের ভালবাসা-ভাললাগার কথা। গত বছরের ভালোবাসা দিবসে নলিনকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান মাহমুদ। নলিন তা গ্রহণ করেন।

ওইদিন থেকেই মাহমুদের অল্পসংখ্যক বন্ধু তালিকায় স্থান করে নেন নলিন। কথা হয় নানা বিষয়ে। চ্যাট করতে গিয়ে পরস্পরকে জেনে নেন তারা।

অবশ্য ফেসবুকের বন্ধু তালিকায় যোগ হওয়ার আগেই নলিনের গল্প শুনেছেন মাহমুদ। উত্তর আয়ারল্যান্ডের বাসিন্দা নলিন কাজ করেন একটি রেস্টুরেন্টে। সেলস এসিসট্যান্ট। তার পাশের একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করতেন মাহমুদের বন্ধু সঞ্জু আলম।

সঞ্জুর কাছেই নলিনের গল্প শুনেছেন মাহমুদ। নলিন খুব ভালো মেয়ে। উদার মানসিকতার। অন্য আট-দশটা মেয়ের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

আকাশচুম্বী চাহিদা নেই তার। সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত এ মেয়েটা আপাদমস্তক একজন ভালোমানুষ। বউ হিসেবে এরকম মেয়ে পাওয়া সৌভাগ্যের ব্যাপার বটে। এরকম নানা কথা।

বন্ধুর মুখে প্রশংসা শুনেই নলিনকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান মাহমুদ। ‘সঞ্জুকে চিনেন’ চ্যাট শুরুর প্রথমেই জানতে চেয়েছিলেন তিনি। নলিন বলেছিলেন ‘কেন চিনব না, সে আমার বন্ধু।’

এভাবেই প্রথম কথোপকোথন হয়েছিল তাদের। চ্যাটের কোন নির্ধারিত সময় ছিল না। কাজের ফাঁকে, অবসরে, ঘুমানোর আগে চ্যাট হতো দু’জনের। কথা হতো নানা বিষয়ে। ফ্রেন্ডলিস্টে যোগ হওয়ার সাতদিন পরেই মাহমুদ জানতে চেয়েছিলেন, ডু ইউ ইন্টারেস্টেড টু মেইক ফ্রেন্ডশিপ উইথ মি?

নলিন স্বভাবিকভাবেই জানিয়েছিলেন, ইয়েস আই এ্যাম ইন্টারেস্টেড। কিন্তু তখনও বাংলাদেশ সম্পর্কে ভালো জানতেন না মিশেল লুইস নলিন। মাহমুদ জানতে চেয়েছিলেন, ডু ইউ হ্যাভ আইডিয়া এব্যাউট বাংলাদেশ? নলিন জানিয়েছিলেন, আই ডোন্ট নো আইডিয়া। বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানালে নলিন জানিয়েছিলেন, এ বিষয়েও তার কোন আগ্রহ নেই।

তবে বাংলাদেশী যুবকের বন্ধুত্বে নলিন ক্রমাগত মুগ্ধ হন। তাদের বন্ধুত্বের পালে তখন অন্যরকম হাওয়া। শিহরিত হচ্ছেন দু’জনেই। পরস্পরের সুখ-দুঃখগুলো যেন ভাগ করে নেন তারা। কোন সুসংবাদ মাহমুদকে না জানালে ঘুম হারাম নলিনের।

সবার আগে মাহমুদকে জানানো চাই। অভিন্ন অবস্থা মাহমুদের। অতঃপর এক শুভক্ষণে মাহমুদ প্রকাশ করলেন না বলা কথাটি। জানতে চাইলেন, ডু ইউ লাভ মি? কিন্তু হতাশায় পড়ে গেলেন মাহমুদ।

ওই প্রান্ত থেকে ইয়েস নো কিছুই জানাননি নলিন। মাহমুদ চিন্তিত। অনেক ভাবনার পর সিদ্ধান্ত নেন নলিন। দু’দিন পর তিনি বলেন, আই এ্যাম ইন্টারেস্টেড। আই লাভ ইউ মাহমুদ।

তারপর থেকে ম্যাসেঞ্জার হোয়াটসঅ্যাপে ও স্কাইপে কথা হতো দুজনের। স্কাইপে সম্পর্কে ধারণা ছিল না নলিনের। অনলাইনে মাহমুদ তাকে শিখিয়ে দেন তা কিভাবে ব্যবহার করতে হয়।

গত বছরের মে মাস থেকেই স্কাইপে কথা শুরু দুজনের। এরই মধ্যে মাহমুদের সঙ্গে কথা হয়েছে নলিনের বড় ভাই নিল মাসালের। মাসাল এবং মাহমুদ দু’জনের জন্ম তারিখ অভিন্ন। ১১ই এপ্রিল। এ নিয়েই কথা। নলিনের দুই ভাই। দুই ভাইয়ের একমাত্র ছোট বোন তিনি।

শুক্রবার মাহমুদের সঙ্গে কথা বলার সময় নলিন নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, রিয়েলি ইট’স এ নাইস কান্ট্রি। আই এনজয় ইট।

তিনি তার বর মাহমুদ সম্পর্কে বলেন, মাহমুদ ইজ এ গুড বয়। নট কমপেয়ার। মিশেল লুইস নলিনের বাংলাদেশে আসার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে মাহমুদ জানান, বিদেশে যাওয়ার কোন ইচ্ছে মাহমুদের কখনও ছিলো না। এমনকি নলিনের সঙ্গে প্রেম করার পেছনেও এরকম কোন উদ্দেশ্য ছিল না। নলিনের প্রতি অল্প সময়েই মুগ্ধ হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা পরস্পরকে ভালোবেসেছি। এ থেকেই নলিন আমাকে বৃটেন যেতে উৎসাহিত করে। আমার খুব ইচ্ছে হয় তার কাছে ছুটে যাই। হৃদয়ের এই টান থেকেই বৃটেনের ভিসার জন্য আবেদন করেন মাহমুদ। স্পন্সর নলিন।

কিন্তু নিয়ম-নীতির কারণ দেখিয়ে ভিসা দেয়নি বৃটেন কর্তৃপক্ষ।

ভিসা না হওয়া প্রসঙ্গে মাহমুদ জানান, ভিসা না দেয়ার পেছনে একটি কারণ ছিল যে, অনলাইন মাধ্যম ছাড়া বাস্তবে নলিনের সঙ্গে তার দেখা হয়নি। এছাড়া ব্যাংকে লেনদেন পর্যাপ্ত না দেখাতে পারাও একটি কারণ।

মাহমুদ ভিসা পাননি-জেনে কান্নাকাটি করেন নলিন। প্রিয় মানুষের সঙ্গে দেখা হবে এ প্রত্যাশায় ছিলেন তিনি। তবে হতাশায় ভেঙে পড়ার মতো মেয়ে তিনি নন।

মাহমুদের মতে, নলিন সবসময় সব বিষয়কে পজিটিভ দেখেন। চিন্তা করেন। এমনকি তার কাজও থাকে পজিটিভ।

নলিন ওই সময়েই জানিয়ে দিলেন, মাহমুদকে যেতে হবে না। তিনি আসবেন মাহমুদের কাছে। বাংলাদেশে এসেই বিয়ে করবেন তিনি। যেই কথা সেই কাজ।

গত ৩ আগস্ট বাংলাদেশে আসেন নলিন। বিমানবন্দরেই তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন মাহমুদ। উঠেন মাহমুদের বাসায়।

৫ আগস্ট আদালতের মাধমে বিয়ে করেন তারা। গত বৃহস্পতিবার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হয়েছে রাজধানীর মগবাজারের একটি রেস্টুরেন্টে।

ভিন্ন দেশের, ভিন্ন সংস্কৃতিতে বেড়ে উঠা এ যুগলের মিলনে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা ছিল মাহমুদের ভগ্নিপতি জাহাঙ্গীর হায়দার নিপুর।

মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান রফিক মাহমুদ গুলশানের এমকে ইলেকট্রনিক্সের কর্মকর্তা। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি বড়।

মাহমুদের পিতা জানান, তাদের বাসায় এসি নেই। আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে নলিনের শরীরে ফোসকা পড়েছে। তবু মেয়েটি মানিয়ে নিয়েছে।

মাহমুদের মা-বাবার সঙ্গে ইশারা-ইঙ্গিতেই কথা হয় নলিনের। অবশ্য দোভাষীর কাজ করে দেন মাহমুদ।

নলিন জানান, তিনি এ দেশে এসে অবাক হয়েছেন। প্রথমেই রাস্তায় কুকুর দেখেছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, হোয়াই ডগস আর অন দ্যা রোড? কুকুরতো থাকবে বাসায়। এখানেই শেষ না।

নলিনের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়েছে যখন খিলগাঁও এলাকায় তিনি দেখেছেন, রাস্তায় থাকছে মানুষ।

নলিন বলেন, আমি ভাবতে পারিনি। এখানে মানুষ এতো কষ্টে আছে। তবে এ দেশের মানুষ অনেক ভালো বলেই মনে করেন তিনি।

নলিন জানান, ২৩ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে থাকবেন তিনি। পরে বৃটেন গিয়ে মাহমুদকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ শুরু করবেন। তার বিশ্বাস তারা একসঙ্গেই থাকবেন আজীবন।

বস্তির ছেলে যেভাবে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট

Joko Widodo A.K.A Jokowi, Jakarta Governorতার শৈশব কেটেছে প্রচণ্ড আর্থিক সঙ্কটে। প্রাইমারি স্কুলে পড়ার সময় বই-খাতা কেনার টাকা ছিল না তার। কলম-পেনসিল কিনতে পারতেন না টাকার অভাবে। অন্য সহপাঠীরা যখন স্কুলে গিয়ে এটা-ওটা কিনতেন তখন অশ্রুভরা চোখে তাকিয়ে থাকতেন। পকেটে কোন টাকা ছিল না। বই-খাতা কিনতে, নিজের পকেটে দু’টো টাকা রাখতে তিনি এক সময় উপার্জনে নামলেন। পড়াশোনার খরচ  যোগাড় করতে থাকেন নিজেই। পিতামাতা ছিলেন অনেক গরিব। তারা বসবাস করতেন এক নদীর পাড়ে সস্তা ভাড়ার এক বস্তিতে। সেখানেও রক্ষা পেলেন না। তিনবার উৎখাত করা হলো তাদের। বয়স যখন ১২ বছর এই বালকের, তখন তিনি পিতার ফার্নিচারের দোকানে বসা শুরু করলেন। সেখানেই কাজ করতে থাকেন। এক সময় পিতার ব্যবসা যাতে সফল হয়, সে জন্য তিনি ফেলে দেয়া কাঠ কুড়ানো শুরু করেন। এভাবেই এগিয়ে চলতে থাকে তার জীবন। কোন বাধাকে বাধা বলে মানেন নি। জীবনে প্রতিষ্ঠা পাওয়াই ছিল তার লক্ষ্য। তাই তো কঠিন দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে তিনি এখন ইন্দোনেশিয়ার মতো বৃহৎ মুসলিম দেশের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। তিনি জোকো উইডোডো। বয়স ৫৩ বছর। তাকে নিয়ে বিশ্ব মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা। আলোচনা হচ্ছে কিভাবে তিনি এমন এক অসম্ভবকে সম্ভব করলেন! বস্তির ছেলে প্রেসিডেন্ট! ইন্দোনেশিয়া গত ৭০ বছর শাসন করেছেন পেশাদার রাজনীতিক, না হয় কোন জেনারেল। কিন্তু জোকো উইডোডো কোন অভিজাত রাজনীতিকও নন, নন কোন জেনারেল। তার নেই অর্থের দেমাগ। তিনি সারল্যকে পুঁজি করে এগিয়ে গিয়েছেন। তার মুখাবয়বে ফুটে ওঠে সেই সারল্য। তাকে দেখে মনে হয় গ্রামের একজন সাধারণ মানুষ। না আছে কোন আভিজাত্যের আভা, না আছে গরিমার কোন ছাপ। তিনি দামি পোশাক পরেন না। পায়ে দেন না দামি জুতা। এ সব কারণে তাকে নিয়ে বিরোধী শিবিরে তীব্র সমালোচনা। কিন্তু তিনিই ক্ষমতাসীনদের তখ্‌ত নাড়িয়ে দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট সুহার্তোর জামাতা প্রবোয়ো সুবিয়ানতো। তিনি সেনাবাহিনীর সাবেক এক জেনারেল। কিন্তু শহুরে বস্তির এক সাধারণ জোকোর কাছে তিনি ধরাশায়ী হলেন। জোকো গড়লেন এক নতুন ইতিহাস। জোকো উইডোডো ইন্দোনেশিয়ায় জোকোয়ি নামেই বেশি পরিচিত। দ্বীপ রাষ্ট্রের দিক দিয়ে ইন্দোনেশিয়া সবচেয়ে বড় দেশ। ইতিহাসে অন্য যে কোন সময়ের তুলনায় এক দিনে সেখানকার ভোটে সবচেয়ে বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন। গণতন্ত্রে ভারত বিশ্বে সবচেয়ে বড় দেশ। সেখানে পার্লামেন্ট নির্বাচন হয় ৫ সপ্তাহ ধরে। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বেশি বৈধ ভোটার আছেন। কিন্তু গত নির্বাচনে তাদের প্রায় ৫৭ ভাগ ভোট দিয়েছেন। কিন্তু গত ৯ই জুলাই ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দেশটির ১৯ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি বৈধ ভোটারের শতকরা ৭০ ভাগেরও বেশি ভোট দিয়েছেন একদিনে। এ জন্য বসানো হয়েছিল প্রায় আড়াই লাখ পোলিং স্টেশন। সেখানেই তারা  প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সরাসরি অধিকার প্রয়োগ করেন। এ নির্বাচনে যখন জোকোয়ির বিজয় সুনিশ্চিত তখন হতাশায় ভেঙে পড়েন প্রবায়ো সুবিয়ানতো। তিনি নির্বাচনের ফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান। অভিযোগ করেন, ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। তবে যে সব তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে তাতে দেখা গেছে, নির্বাচন ছিল স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু। ২২শে জুলাই ইন্দোনেশিয়ার নির্বাচন কমিশন জোকোয়িকে নতুন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে। আগামী ২০শে অক্টোবর তিনি প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নেবেন। এর মাধ্যমে তার যাত্রা শুরু হবে একটি বিশাল অর্থনীতির দেশকে নিয়ে। কারণ, সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক ইন্দোনেশিয়াকে বিশ্বের ১০ বৃহৎ অর্থনীতির দেশ ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ অর্থনীতিতে এ দেশটি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের পিছনে আছে। কিন্তু ইতালি, স্পেন, কানাডা ও দক্ষিণ কোরিয়ার থেকে অগ্রগামী। আর অস্ট্রেলিয়া তো রয়েছে ১৯তম বৃহৎ অবস্থানে। বিশ্ব অর্থনীতি যখন কঠিন প্রতিকূলতা মোকাবিলা করছে, ঠিক সেই সময় এত বড় অর্থনীতির দেশটির দায়িত্ব নিচ্ছেন জোকোয়ি। ফলে তাকে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। তবে আশার কথা, দেশটির শতকরা ৯৭ ভাগ মানুষ চাকরি করে ক্ষুদ্র উদ্যোগের খাতগুলোতে। জোকোয়ি একজন সফল আসবাবপত্র ব্যবসায়ী হলেও তিনি জানেন কিভাবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগের খাতকে সংস্কার করা যায়। এই সংস্কারের ক্ষেত্রে তিনি সরিয়ে ফেলতে চান বিদেশী ও স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের সামনে থেকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। জোকোয়ির শারীরিক গড়ন লিকলিকে। দেখতে সাদাসিধে। অনর্গল বলতে পারেন ইংরেজি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কিভাবে কাজ করতে হয় তা জানেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও এক সময় যখন মেয়র নির্বাচিত হন সে সময় কাজের ফাঁকে তিনি এসব রপ্ত করেন। তবে তার উচ্চারণে রয়েছে জন্মস্থান জাভার টান। সাবেক প্রেসিডেন্ট মেগাবতী সুকর্ণপুত্রীর দল পিডিআইপি এবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মনোনয়ন দেয় জোকোয়িকে। কিন্তু তাদের কাছে কোন ঋণ নেই জোকোয়ির। কারণ, নির্বাচনকে সামনে রেখে উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছিলেন সুকর্ণপুত্রীর কন্যা পুয়ান। তিনি চেয়েছিলেন নির্বাচন করতে। দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে পুয়ান ও তার মা সুকর্ণপুত্রী সহ দলের শীর্ষ নেতারা নির্বাচনী প্রচারণার সময় জোকোয়ির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়েছেন। তবে ভাগ্য ছিল জোকোয়ির পক্ষে। তাকে ভালবাসে ইন্দোনেশিয়ার সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ, শিক্ষিত মানুষ- সবাই। তাই এক ব্যক্তি সুলভ প্রচারণায় তিনি তাদের ভালবাসায় সিক্ত হলেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার পর তিনি গঠন করবেন একটি জোটভিত্তিক মন্ত্রিসভা। এতে থাকবে সাবেক প্রেসিডেন্ট সুহার্তোর গোলকার ও প্রেসিডেন্ট ইয়োধোয়েনুর ডেমোক্রেটিক পার্টির কিছু মুখ, যদিও এসব দলের কোনটাই তাকে নির্বাচনে সমর্থন করে নি। ইন্দোনেশিয়া কখনও দেখেনি এমন একটি মন্ত্রিসভা গঠন করতে চান জোকোয়ি। তার মন্ত্রিসভা হবে রাজনৈতিক বিচারের চেয়ে মেধা ও অসাধারণ টেকনোক্র্যাটদের নিয়ে। কারা থাকবে তার মন্ত্রিসভায় এ বিষয়ে তিনি একনায়কের মতো সিদ্ধান্ত নিতে চান না। এ ক্ষেত্রেও জনমতকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তাই একগুচ্ছ নাম অনলাইনে ছেড়ে দিয়েছেন জনগণের সাড়া পাওয়ার জন্য। জনগণকে আহ্বান জানিয়েছেন ই-পোল ব্যবস্থায় তাদের সিদ্ধান্ত জানাতে। তিনি শুধুই রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন নি। তিনি সংগীতের ভীষণ ভক্ত। গিটার হাতে তার অনেক ছবি প্রকাশিত হয়েছে। তিনি মেটাল গ্রুপ ল্যাম্ব অব গড, মেগাদেথ অ্যান্ড মেটালিকার ভক্ত। তার এসব গুণের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয় যে, তিনি শতভাগ ইন্দোনেশিয়ান। কিন্তু তারপরেও তিনি একটি বৈশ্বিক ফিগার। দেশের যুব সমাজের সামনে এক তরুণ নেতা। এক নজরে তার অতীত জীবনের দিকে তাকালে বেরিয়ে আসে অনেক তথ্য। যেমন, তার জন্ম ১৯৬১ সালের ২১শে জুন। বর্তমানে তিনি জাকার্তার মেয়র। নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। মেয়রের দায়িত্ব শেষ হবে ২০শে অক্টোবর। এ জন্য ওই দিনই তার শপথ নেয়ার কথা রয়েছে। তিনি জন্মেছেন জাভায় এক দরিদ্র পরিবারে। পিতার নাম নোতো মিহারদজো। মা সুদজিয়াতমি নোতোমিহারদজো। তাদের সবচেয়ে বড় সন্তান জোকো উইডোডো। তার রয়েছে ছোট তিন বোন। তাদের নাম ইইত শ্রীয়ান্তিনি, ইদা ইয়াতি ও তিতিক রেলাবতী। প্রথমে তার নাম ছিল মুলইয়োনো। এ নাম পাল্টে নতুন নাম ধারণ করেন জোকো উইডোডো। তার পিতা, দাদারা ছিলেন বোয়ালালি গ্রামের বাসিন্দা। সেখান থেকেই সয়ে সয়ে তারা শহরমুখী হয়েছেন। তার গ্রামেই গরিব নাগরিকদের সন্তানদের জন্য বিদ্যালয় ছিল। এর নাম স্টেট প্রাইমারি স্কুল ১১১, তিরতোয়োসো। সেখানেই শুরু হয় তার জটিলতা। তিনি বই, খাতা, কলম কিনতে পারছিলেন না। পিতামাতা পকেটে কোন বাড়তি পয়সা দিতে পারতেন না। স্কুলে গিয়ে অন্য শিক্ষার্থীদের দেখতেন- তাদের অভাব আছে। কিন্তু তার মধ্যেও তাদের চাহিদার মোটামুটি যোগান আছে। এক্ষেত্রে তিনি রিক্তহস্ত। ক্ষুধায় কাতরালেও তিনি কোন খাবার কিনে মুখে দিতে পারেন নি। তখনই তার মাথায় আসে এক বুদ্ধি। তিনি পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে শুরু করেন উপার্জন। বিভিন্ন রকম বৈধ কাজ করে উপার্জন করতে শুরু করেন। তা দিয়ে তিনি বই, খাতা, কলম কেনেন। এভাবেই চলতে থাকে তার জীবন। প্রাইমারি স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে তিনি এসএমপি নেগেরি ১ সুরাকারতা স্কুলে পড়াশোনা করেন। এখানে তিনি উচ্চ বিদ্যালয়ের অধীনে পড়াশোনা করতে চাইলেন। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষায় হলেন অকৃতকার্য। ফলে এখানে পড়ার পরিবর্তে তিনি গেলেন এসএমএ নেগেরি ৬ সুরাকারতায় পড়তে। তারপর তিনি গাডজাহ মাদা ইউনিভার্সিটিতে ফরেস্ট্রি ফ্যাকাল্টিতে পড়াশোনা চালিয়ে যান। এ সুযোগকে ব্যবহার করে তিনি কাঠের গঠন, এর ব্যবহার ও প্রযুক্তি শিখে নেন। তিনি ‘স্টাডি অন প্লাইউড কনজামশন ইন ফাইনাল কনজামশন ইন সুরাকারতা মিউনিসিপ্যালিটি’ নামে থিসিস সম্পন্ন করে অর্জন করেন ডিগ্রি। ১৯৮৫ সালে অর্জন করেন গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি। এরপর তিনি যোগ দেন বিইউএমএন পিটি কেরতাস ক্রাফট আচেহ’তে। তিনি এক নিকট-আত্মীয়ের কাঠের ব্যবসায় ‘সিভি রোডা জাতি’তে কাজ করার বিষয়ে ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ১৯৮৮ সালে নিজেই শুরু করেন ব্যবসা। নাম দেন সি.ভি রাকাবু। প্রথম সন্তান রাকাবুমিং-এর নামে এ নাম রাখেন। এ ব্যবসা সফলতা পায়। কিন্তু এক পর্যায়ে তা বন্ধ করে দেন। এরপর ১৯৯০ সালে মায়ের কাছ থেকে প্রায় ১৬ হাজার ডলার নিয়ে ফের শুরু করেন। জোকোয়ি সুরাকারতায় মেয়র হিসেবে প্রথম যখন তিনি দায়িত্ব শুরু করেন, তখন অনেকেই তার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মুখ বাঁকিয়ে বলতে থাকেন একজন কাঠ ব্যবসায়ীর কি এমন সক্ষমতা আছে মেয়রের দায়িত্ব পালনের। কিন্তু তাদের মুখে ছাই দিয়ে তিনি টানা ৭ বছর ওই এলাকার মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। এরপরে তিনি রাজধানী জাকার্তার গভর্নর নির্বাচিত হন। সেখানেই সফলতা তার হাতে ধরা দেয়।
রাজনৈতিক জীবন: তিনি প্রথমে সুরাকারতার মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর তিনি ২০১২ সালে জাকার্তার প্রাদেশিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই বছরে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে উপনির্বাচনে ২০শে সেপ্টেম্বর তিনি জাকার্তার গভর্নর নির্বাচিত হন। পরাজিত হন তখনকার গভর্নর ফাউজি বোয়োকে। এ নির্বাচনে জোকোয়ির বিজয়কে দেখা হয় নতুন, নির্ভেজাল এক নেতার উত্থান হিসেবে। ইন্দোনেশিয়াতে দীর্ঘদিন ধরে যে ধারার রাজনীতি প্রচলিত তিনি তাতে পরিবর্তন আনছেন বলে  মন্তব্য করেন অনেকে। ফলে বেশির ভাগ মানুষ তার পক্ষ অবলম্বন করে।  ২০১২ সালে তিনি জাকার্তার মেয়র নির্বাচনে জয়ের পর তার জনপ্রিয়তা দ্রুততার সঙ্গে বাড়তে থাকে। ২০১৩ ও এ বছরের শুরুর দিকে তার জনপ্রিয়তা এতটাই বেড়ে যায় যে, তাকে এ বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে চাপ বাড়তে থাকে। অবশেষে এ বছরের ১৪ই মার্চ প্রেসিডেন্ট পদে তার প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন হয়। এর ফল প্রত্যাখ্যান করেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রবোয়ো সুবিয়ানতো। তাকে নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ দিয়েছিল সংবিধান। কিন্তু তিনি সেই সুযোগ ব্যবহার করেন নি। নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করার সময় এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে। ফলে জোকোয়ির সামনে এখন আর কোন বাধা রইলো না।

দৈনিক কতটুকু লবণ খাওয়া উচিত ডা. মোড়ল নজরুল ইসলাম

17-1লবণ শরীরের এক অপরিহার্য উপাদান। প্রতিদিন আমরা দৈনন্দিন খাবারের মাধ্যমে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় লবণ পেয়ে থাকি। সাধারণত দৈনিক ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার মিলিগ্রাম লবণ আমরা খেয়ে থাকি।

যুক্তরাষ্ট্রের ফুড এন্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) লবণ খাওয়ার নতুন গাইড লাইন প্রকাশ করেছে। আর এই নতুন গাইড লাইন অনুসারে একজন সুস্থ মানুষ দৈনিক ১৫ শত থেকে ২ হাজার ৩ শত মিলিগ্রাম লবণ খেতে পারবে। তবে আমেরিকান হার্ট এসোসিয়েশনের মতে একজন সুস্থ ব্যক্তির দৈনিক দেড় হাজার মিলিগ্রামের বেশি লবণ খাওয়া উচিত নয়।

তবে সম্প্রতি নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে বলা হয়েছে, যাদের উচ্চ রক্তচাপ নেই এবং যাদের বয়স ৬০ বছরের নিচে তারা বর্তমানের গাইড লাইনের চেয়ে দ্বিগুণ লবণ খেতে পারেন। এতে হূদরোগ ও হূদরোগজনিত মৃত্যু অনেকাংশে হরাস পাবে। রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়, লবণের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের তেমন কোন সংশ্রব পাওয়া যায়নি।

লেখক : চুলপড়া, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ

শান্তিতে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

01-4আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইকনোমিকস অ্যান্ড পিসের ‘বৈশ্বিক শান্তি সূচক’ অনুযায়ী প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

অষ্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক এ সংস্থার ২০১৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক শান্তি সূচকে ১৬২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৮তম।

বাংলাদেশের এ অবস্থান ‘মধ্যম’ পর্যায়ের বলে তাদের মূল্যায়নে বলা হয়েছে।

তবে সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশের চেয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশ নেপাল ও ভুটান এগিয়ে রয়েছে।

সূচকে ১৪৩তম অবস্থানে রয়েছে ভারত। আর ১৫৪তম অবস্থানে থাকা পাকিস্তান শান্তি ও স্থিতিশীলতার দিক থেকে খুবই খারাপ অবস্থায় বলে এতে বলা হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি আফগানিস্তানে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির অবস্থান ১৬১তম, যার পরেই রয়েছে সূচক অনুযায়ী সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির দেশ সিরিয়া।

মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে তিন বছরের গৃহযুদ্ধে লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু ও কয়েক মিলিয়ন মানুষ গৃহহারা হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শরণার্থীও বর্তমানে সিরিয়ার।

বৈশ্বিক শান্তি সূচক নির্ণয়ে ২০১৩ সালের উপাত্ত ব্যবহার করা হয় বলে ইনস্টিটিউট ফর ইকনোমিকস অ্যান্ড পিস (আইইপি) জানিয়েছে।

সমাজে বিদ্যমান সহিংসতা, হত্যা, বেসামরিক নাগরিকের হাতে অস্ত্র, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ ২২টি বিষয় মূল্যায়ন করে ওই সূচক নির্ণয় করা হয়।

এক্ষেত্রে সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের দ্বন্দ্বের সঙ্গে সম্পৃক্তি এবং সন্ত্রাসী তৎপরতাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

সহিংসতা দেশগুলোর অর্থনীতির উপর কী প্রভাব ফেলেছে তাও বিবেচনায় আনা হয়েছে এক্ষেত্রে।

সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। সেখানে ভুটান ও নেপাল যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তালিকায় ভুটানের  অবস্থান ১৬তম, আর নেপাল ৭৬তম।

বৈশ্বিক শান্তিতে আইসল্যান্ড প্রথম। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে ডেনমার্ক ও অস্ট্রিয়া।

সূচক অনুযায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতায় প্রথম দিকের অন্য দেশগুলো হলো- নিউ জিল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, কানাডা, জাপান, বেলজিয়াম ও নরওয়ে।

এশিয়ার মধ্যে জাপানই সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল দেশ হিসেবে ইনস্টিটিউট ফর ইকনোমিকস অ্যান্ড পিসের তৈরি করা তালিকায় স্থান পেয়েছে।

শান্তি সূচকে সবচেয়ে নিচের দিকে রয়েছে সিরিয়া। তার উপরের দেশগুলো যথাক্রমে আফগানিস্তান, দক্ষিণ সুদান, ইরাক, সোমালিয়া, সুদান, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়া (১৫৩তম)।

বিশ্বব্যাপী মানব উন্নয়ন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে গবেষণাধর্মী কাজ করে ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক অ্যান্ড পিস।  সিডনির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক ও যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড শহরে এর আঞ্চলিক দপ্তর রয়েছে।

সঙ্গীত শিল্পী ন্যান্সির আত্মহত্যার চেষ্টা

01-3জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী ন্যান্সি আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন। অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে নেত্রকোনা সরকারি মেডিকেল থেকে এখন ময়মনসিংহ সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে।উল্লেখ্য, আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর থেকে রহস্যজনকভাবে তার আউটডোর কনসার্টের সংখ্যা কমতে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন টেলিভিশনে তার উপস্থিতির হারও ছিল হাতে গোনা। কনসার্টের সংখ্যা কমার ফলে তিনি আর্থিকভাবে অনটনে পড়েন। এরপর থেকে তিনি হতাশ হয়ে পড়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

সারিকার প্রেমের সফল পরিনতি

14-05বিয়ে করেছেন জনপ্রিয় টিভি অভিনেত্রী সারিকা। তার বর মাহিম করিম। পেশায় ব্যবসায়ী। বেশ ঘরোয়া আয়োজনেই ১২ই আগস্ট দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে সারিকা-মাহিমের বিয়ে সম্পন্ন হয়। তবে সারিকা বিষয়টি সবাইকে জানালেন পরের দিন। বরকে মিডিয়া কর্মীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য বুধবার বিকালে গুলশানের একটি রেস্টুরেন্টে একটি অনানুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় তার পক্ষ থেকে। আয়োজনের শুরুতেই সারিকা বলেন, বিয়ের সুখবরটি ভাগাভাগি করে নেয়ার জন্যই আজকের এই আয়োজন। আমি ও মাহিম পারিবারিকভাবে গতকাল বিয়ে করেছি। মাহিমের সঙ্গে আমার পরিচয় ৭ বছরের। প্রেম গত বছর থেকে। বিয়ের বিষয়টি কিন্তু চলতি বছরের মার্চেই আমরা সবাইকে জানিয়েছিলাম। বিভিন্ন কারণে একটু দেরি হয়ে গেল শুভ কাজটা সারতে। সারিকার স্বামী মাহিম করিম তার অনুভূূতি জানাতে গিয়ে বলেন, ঘরোয়াভাবে বিয়ে করেছি আমরা। তবে খুব শিগগিরই বড় আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাটা সারবো। আমি মনে করি সারিকার মতো তারকা স্ত্রী পাওয়াটা আমার জন্য সৌভাগ্যের ব্যাপার। দোয়া করবেন আমাদের জন্য। নিজেদের পরিচয় ও প্রণয়ের কথা জানাতে গিয়ে সারিকা অতীতে ফিরে গিয়ে বলেন, ২০০৭ সালে কোন এক ঈদের দিন আমাদের প্রথম পরিচয়। সেদিন আমার একটি র‌্যাম্প শো ছিল। তখন প্রথম দেখা হয় আমাদের। এরপর আমরা বেশ ভাল বন্ধু ছিলাম। গত বছর আমরা প্রেমের সম্পর্কে জড়াই। বিয়ের মাধ্যমে আমাদের প্রেমের জয় হয়েছে বলেই আমি মনে করি। এদিকে খুব শিগগিরই হানিমুনে যাচ্ছেন এই নব দম্পতি। আর সেটা হচ্ছে চলতি মাসেই। তবে এক্ষেত্রে দু’জনের দু’টি পছন্দ। সারিকার পছন্দ মালদ্বীপ আর মাহিমের মালয়েশিয়া। হানিমুনের স্থানটি ঠিক করে সবাইকে ঘোষণা দেবেন বলেও জানালেন মাহিম। সারিকা বেশ দীর্ঘ সময় ধরে অভিনয় থেকে দূরে রয়েছেন। বিয়ের পর কি তাহলে একদমই ছেড়ে দেবেন অভিনয়? সারিকার ভাষ্য, না। তবে আপাতত সংসার নিয়েই থাকতে চাই। সংসারের সুখটা আমি শতভাগ উপভোগ করতে আগ্রহী। মাত্র তো বিয়েটা হলো। বিয়ের পরবর্তী সময়টা উপভোগের অপেক্ষায় আছি। তবে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির তরফ থেকে আমাকে পুরোপুরি স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে এক্ষেত্রে। শাশুড়ি আমার অভিনয় খুব পছন্দ করেন। তাই সংসারে কিছুটা সময় দিয়ে হয়তো অভিনয়ে ফিরবো। আড্ডার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন কথা বলার পর এই নবদম্পতি অংশ নেন জমকালো ফটোসেশনে।

গোল্ডেন এ+ প্রাপ্ত মাজেদুর রহমান শিপন ডাক্তার হতে চায়

5R=5Copy.,জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ সিলেট থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে অংশ গ্রহণ করে কৃতিত্বের সাথে গোল্ডেন এ+ পেয়েছেন মাজেদুর রহমান শিপন। সে এসএসসি পরীক্ষাতেও জিপিএ- ৫ পেয়েছিল। শিপন তার এ সাফল্যের জন্য প্রতিদিন গড়ে ৪-৫ ঘন্টা লেখাপড়া করেছে। শিপন ভবিষ্যতে ডাক্তার হয়ে মানবসেবা করতে চায়। মাজেদুর রহমান শিপন দক্ষিণ সুরমার কামালবাজারের গুপ্তরগাঁও গ্রামের ছোয়াব আলীর ৩য় ছেলে। ছোয়াব আলী পূর্ব স্টেশন রোডস্থ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও নিউ আলী ট্রাভেলস এর স্বত্বাধিকারী। শিপন মাসিক বাসিয়া পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ নওয়াব আলীর মেঝো ভাইয়ের ছেলে। শিপন তার এই সাফল্যের জন্য কলেজের শিক্ষকবৃন্দ ও তার অভিভাবকদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। আগামীতে আরো ভালো ফলাফলের জন্য সে সকলের দোয়া প্রার্থী।

প্রেমের ভারে ব্রিজে ধস!

13-3জার্মানির কোলন, অস্ট্রিয়ার সালৎসবুর্গ অথবা ফ্রান্সের প্যারিস – এ সব শহরে নদীর ওপর যে বড় বড় ব্রিজ আছে, তার দিকে একটু নজর দিলেই দেখবেন অসংখ্য তালা চোখে পড়ছে। এগুলোকে বলে ‘প্যাডলক’৷ সহজ করে বললে ‘প্রেম তালা’৷

এই তালার উদ্দেশ্য হলো সম্পর্কের অটুট বন্ধন। প্রেমিক বা প্রেমিকা তাঁর সঙ্গীর সঙ্গে নিজের নামটা লিখে ঐ তালা ব্রিজে আটকে চাবিটা নদীতে ফেলে দেন। তাঁদের বিশ্বাস, এর ফলে সম্পর্ক ঐ তালার মতো দীর্ঘ সময় জোড়া লেগে থাকবে৷ প্যারিসকে বলা হয় প্রেমের নগরী৷ তাই স্বাভাবিকভাবেই সেখানে প্রেমিক-প্রেমিকাদের বিচরণ চোখে পড়ার মতো। এ কারণে ব্রিজে তালার সংখ্যাটাও তুলনামূলকভাবে অন্যান্য শহরের চেয়ে বেশি।

গত জুন মাসে সেখানকার একটি ব্রিজ নাকি এ সমস্ত তালার ভারে ধসে পড়েছে৷ হেলে পড়েছে একপাশের রেলিং৷ তাই তাৎক্ষণিকভাবে পর্যটকদের জরুরিভিত্তিতে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে সেই ব্রিজের আশপাশ থেকে।

তাই কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনা করছেন। পর্যটক যুগলদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে যাতে তাঁরা হুজুগে মেতে আর তালা না লাগান৷ গত সোমবার প্যারিসের সিটি হলে কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে একটি আবেদন জানিয়েছেন৷ শুধু তাই নয়, বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও শুরু হয়েছে প্রচার৷ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে #lovewithoutlocks লিখে তা পোস্ট করা শুরু হয়েছে ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি মাধ্যমে৷

এই প্রচারের মাধ্যমে পর্যটকদের তাঁরা বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, এভাবে একটি করে তালা লাগানোর ফলাফলটা কতটা ভয়াবহ৷ এর পেছনে একটি সার্বিয়ান কাহিনি আছে৷ এক নববধূ তাঁর বিয়ের দিন এক ব্রিজে গিয়ে তালা লাগিয়ে দেন৷ কেননা বিয়ের আগে ঐ ব্রিজের ওপরই প্রেমিকের সাথে প্রতিদিন দেখা করতেন তিনি৷ এরপর থেকে এর প্রচলন শুরু হয়৷ যদিও ইটালির লেখক ফেডেরিকো মচা এই প্রচলন তাঁর লেখা উপন্যাস থেকে হয়েছে বলে দাবি করেছেন৷ বইটির নাম ‘আই ওয়ান্ট ইউ’৷ সেখানে এমন একটি দৃশ্য আছে বলে জানিয়েছেন তিনি৷

প্যারিসে অবশ্য সেই ২০০৮ সাল থেকে ব্রিজে যুগলদের তালা লাগানোর এই হুজুগ শুরু হয়৷ এরপর থেকে পুরো বিশ্বের সব ব্রিজেই এখন দেখা মেলে এ ধরনের তালার৷ পরিবেশবিদরা অবশ্য মূলত শঙ্কিত তালা লাগিয়ে যে চাবিগুলো নদীতে ছোড়া হচ্ছে, তা নিয়ে৷

Developed by: