বিভাগ: বই পত্র

সর্বাধিক ভোট পেয়েও মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরেছিলেন যারা!

73364যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চলছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। প্রত্যেকটি দেশেই আলোচনার শীর্ষে থাকে এই নির্বাচন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চলে নাটকীয়ভাবে তুমুল লড়াই চলছে। এ নির্বাচন জানিয়ে দেবে পরবর্তী চার বছরের জন্য কে হচ্ছেন বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রধান।

নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে ‘গাধা’ প্রতীকধারী ডেমোক্রেটিক পার্টির হিলারি ক্লিনটন ও ‘হাতি’ প্রতীকধারী রিপাবলিকান পার্টির ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে।

অনেক হিসাব-নিকাশের এ নির্বাচনে কেবল সরাসরি প্রাপ্ত ভোট (জনপ্রিয়তার ভোট) জিতলেই হবে না, জিততে হবে নির্ধারিতসংখ্যক ইলেক্টোরাল ভোটও। এই ইলেক্টোরাল ভোট ভোটাররা দিচ্ছেন প্রার্থীকে সরাসরি দেওয়া ভোটের সঙ্গে সঙ্গেই।

ইলেক্টোরাল ভোট দেওয়ার পদ্ধতি হলো, ব্যালটে প্রার্থীর পাশাপাশি পার্টি মনোনীত ইলেক্টরের (নির্বাচক) ব্যালটেও সিল মারতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ অঙ্গরাজ্য ও একটি ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট মিলিয়ে মোট ৫৩৮ ইলেক্টোরাল ভোট রয়েছে, এরমধ্যে প্রার্থীকে জিততে হবে ২৭০ ইলেক্টোরাল ভোট। কেউ জনপ্রিয়তার ভোট অনেক বেশি জিতলেও তার পার্টি থেকে মনোনীত ইলেক্টর যদি নির্ধারিতসংখ্যক বিজয় ছিনিয়ে আনতে না পারে তবে তাকে পরাজয় বরণ করতে হবে। অর্থাৎ যার ইলেক্টোরাল ভোট বেশি হবে, তিনিই হবেন প্রেসিডেন্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জনপ্রিয়তার ভোট অনেক বেশি পেয়েও ইলেক্টোরাল ভোট কম পাওয়ায় হারার নজির রয়েছে। সেই নজিরগুলোই জেনে নেওয়া যাক।

২০০০- সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়েছিলেন রিপাবলিকান প্রার্থী জর্জ ডব্লিউ বুশ ও ডেমোক্রেট প্রার্থী আল গোর। সে নির্বাচনে ৫ লাখ ৪০ হাজার বেশি জনপ্রিয় ভোট পেয়েও হেরে গিয়েছিলেন আল গোর। জনপ্রিয় ভোট কম পেয়েও ২৭১ ইলেক্টোরাল ভোট পেয়ে হোয়াইট হাউসে উঠে গিয়েছিলেন বুশ।

১৮৮৮- সালের নির্বাচনে মূল লড়াই হয়েছিল রিপাবলিকান প্রার্থী বেঞ্জামিন হ্যারিসন ও ডেমোক্রেট প্রার্থী গ্রোভার ক্লেভল্যান্ডের মধ্যে। সেবার ১ লাখ ৪৫৬ ভোট বেশি পেয়েও ইলেক্টোরাল ভোট কম পাওয়ায় হেরে গিয়েছিলেন ক্লেভল্যান্ড। জনপ্রিয়তার ভোট কম পেয়েও ২৩৩ ইলেক্টোরাল ভোট (সেসময় নির্ধারিত) জিতে প্রেসিডেন্ট হয়ে যান হ্যারিসন।

১৮৭৬- রিপাবলিকান প্রার্থী রাদারফোর্ড হায়েস ও ডেমোক্রেট প্রার্থী স্যামুয়েল টিলডেনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল ১৮৭৬ সালের নির্বাচনে। সেবার ২ লাখ ৬৪ হাজার ২৯২ জনপ্রিয় ভোট পেয়েও হেরেছিলেন টিলডেন, আর ১৮৫ ইলেক্টোরাল ভোট (সেসময় নির্ধারিত) পেয়ে হোয়াইট হাউসে উঠে গিয়েছিলেন হায়েস।

১৮২৪- সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল জন কুইন্সি অ্যাডামস ও অ্যান্ড্রু জ্যাকসনের মধ্যে। সেবার অনেক বেশি জনপ্রিয় ভোট পেয়েও হেরে গিয়েছিলেন ডেমোক্রেটিক পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জ্যাকসন, আর ইলেক্টোরাল ভোট বেশি জিতে প্রেসিডেন্ট আসনে আরোহণ করেন অ্যাডামস।

কেন হারলেন হিলারি?

73355যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে শেষ মুহূর্তে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং হিলারির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। অথচ মার্কিন গণমাধ্যম এবং জনমত জরিপে এগিয়ে ছিলেন হিলারি। তার ভক্ত এবং সমর্থকদের সংখ্যাও বেশি ছিল। সে হিসেবে হিলারি জয়ী হবেন এমন সম্ভাবনাই বেশি ছিল।

কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর পুরো প্রেক্ষাপটই উল্টে গেছে। ৪৫তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে জয়ী হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস যেন স্বপ্নেই রয়ে গেল হিলারির।

কিন্তু কি কারণে হেরে গেলেন হিলারি? ঘুরে ফিরে এমন প্রশ্নই আসছে সবার মনে। এর আগে ২০০৮ সালে ওবামার কাছে হেরে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে আবারো প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে তার মনোনয়নকে ঘিরে নতুন সূচনার আশা জেগেছিল। বিশ্ব তাকিয়ে ছিল নতুন এক ইতিহাসের দিকে।

এবার হিলারি জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কোনো নারী প্রেসিডেন্টকে পেতো হোয়াইট হাউস। কিন্তু ব্যতিক্রমী সেই ইতিহাস রচনা করতে ব্যর্থ হলেন হিলারি। বাস্তবতা বড় নিষ্ঠুর সেটাই আরো একবার প্রমাণ হলো।

হিলারির পতনের পেছনে বেশ কিছু কারণ তুলে ধরেছেন রাজনীতিবিদরা। তাদের মতে, মার্কিন রাজনীতির ইতিহাসে তেমন গুরুত্বপূর্ণ এবং সতর্কতামূলক পরিকল্পণা করতে পারেননি হিলারি।

শুধু তাই নয়, অন্য প্রার্থীরা যেখানে একজন প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে ঘায়েল হয়েছেন সেখানে হিলারিকে ঘায়েল করেছে দুজন প্রার্থী। একজন হলেন তারই দলের প্রার্থী বার্নি স্যান্ডার্স অন্যজন রিপাবলিকান দলের ডোনাল্ড ট্রাম্প। বার্নি স্যান্ডার্স যখন তাকে বাম দিক থেকে ঘায়েল করেছেন ঠিক তখনি আবার ডান দিক থেকে তাকে ট্রাম্পের আঘাত সহ্য করতে হয়েছে।

ই-মেইল বিতর্ক নিয়েও বেশ ভুগতে হয়েছে হিলারিকে। এফবিআই নতুন করে হিলারির ইমেইল তদন্তের ঘোষণা দেয়ার পর হিলরির জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ে। ট্রাম্প জরিপের ব্যবধান কমিয়ে হিলারির কাছাকাছি চলে আসতে সক্ষম হন।

সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হয়েছে আইএস প্রসঙ্গে। নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে উইকিলিকস জানিয়েছে, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবং প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আইএসের প্রতিষ্ঠাতা। আইএসের জন্য যাদের কাছ থেকে হিলারি অর্থ সংগ্রহ করেছেন সেসব দেশের নামসহ পুরো তালিকা প্রকাশ করেছিল উইকিলিকস।

সে সময় উইকিলিকিস দাবি করেছিল, হিলারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি করেছিলেন। ওইসব দেশ হিলারিকে তার সংগঠনের জন্য বড় ধরনের অর্থসহায়তা দিয়েছিল। হিলারির কারণেই এসব অস্ত্র সৌদি, কাতার এবং লিবিয়া হয়ে জঙ্গিদের হাতে পৌঁছেছে। আর এভাবেই জন্ম হয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের।

এমন তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ঘুরে যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কেননা সারাবিশ্বেই জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট একটি আতঙ্ক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ হামলা চালিয়ে খিলাফত রাষ্ট্রের ঘোষণা দিয়েছে তারা। আইএসের তাণ্ডবে ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেন লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এসব দেশ ছাড়াও আরো বেশ কিছু দেশে ভয়াবহ হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস। এমন একটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে হিলারির সম্পৃক্ততায় ভোটাররা তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন এটাই তো স্বাভাবিক।

ট্রাম্পের জয়ে বিপদে পড়বে বাংলাদেশিরা

73366১৮ মাসের প্রচারণা শেষে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র পেলো তাদের নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট। নানা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মার্কিন আমেরিকার জনগণের ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পেলেন রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তবে নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ে বাংলাদেশে মার্কিন নীতিতে কোনও পরিবর্তন আসবে না। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ও কূটনীতিকদের বিশ্লেষণে এ পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী বাংলাদেশিদের হিস্প্যানিক জনগোষ্ঠীর প্রতি ট্রাম্পের যে অবস্থান সেই একই ভাগ্য বরণ করতে হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন কূটনীতিকরা।

রাজনৈতিক ময়দানে কিছুটা অপরিচিত কিন্তু সফল ব্যবসায়ী হিসেবে প্রথম সুযোগেই হোয়াইট হাউজে যাওয়ার টিকেট পেয়ে গেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনি প্রচারণার সময় তার বিভিন্ন মন্তব্য এবং অতীত কার্যকলাপ বিরূপ সমালোচনার জন্ম দিলেও শেষ পর্যন্ত আমেরিকানদের মন জয় করে জিতেছেন তিনি।

ট্রাম্পের এই বিপুল জয়ে জনমনে এখন বড় প্রশ্ন, নীতি নির্ধারণী মহলে পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতেও পরিবর্তন আসবে?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত লিয়াকত আলী চৌধুরী বলেন, ‘আমার মনে হয় না নীতির ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানিক কনস্ট্যান্ট যেগুলি আছে সেগুলির কোনও পরিবর্তন হবে না। ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন কিছু করবেন না যার ফলে বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের যে অবস্থান সেটির ওপর কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।’

ট্রাম্পের নির্বাচন প্রচারণার দিকে তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, প্রথমদিকে তার নির্বাচনি ভাষার সঙ্গে শেষদিকের প্রচারণার পার্থক্য অনেক এবং শেষদিকে তিনি অনেক বেশি সংযত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, অভিবাসন এবং কিছু ক্ষেত্রে তার কিছু চাহিদা আছে এবং সেগুলি তিনি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত টি কে হায়দারও এ বিষয়ে একমত পোষণ করে বলেন, বড় ধরনের কোনও পরিবর্তন হবে না।

অভিবাসন ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান বাংলাদেশিদের কোনও অসুবিধা সৃষ্টি করবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তার (ট্রাম্প) নজর হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর দিকে এবং সে ক্ষেত্রে অবৈধ অভিবাসীদের ভাগ্যে যা ঘটবে, বাংলাদেশিদেরও একই ভাগ্য বরণ করতে হবে।

বাংলাদেশ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কোনও পরিবর্তন আসবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিক্যাট মঙ্গলবারও বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কোনও পরিবর্তন হবে না। তাই ধরেই নেওয়া যায় বিষয়টি একই রকম থাকবে।

তিনি এটাও বলেন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের গভীরতা বা ব্যাপ্তি বা গুরুত্ব এত বেশি না যার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশের নীতির প্রতি নিজেকেই নজর দিতে হবে।

জিতে গেলেন ট্রাম্প

73306উইসকনসিসে জয় নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হলেন রিপাবলিকান পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের পাওয়া ইলেক্টোরাল ভোটের সংখ্যা এখন ২৬৬। বিপরীতে হিলারির পাওয়া ইলেক্টোরাল ভোটের সংখ্যা এখন ২১৮।   সমস্ত নির্বাচনী জরিপ, বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা আর প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন সত্ত্বেও, এই রিপাবলিকান প্রার্থীকেই যেন বেছে নিলেন মার্কিনিরা।

সর্বশেষ উইসকনসিনে জয়ের আগে প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী  গুরুত্বপূর্ণ দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্য ফ্লোরিডা, ওহাইয়ো এবং নর্থ ক্যারোলিনাতে হেরে যাওয়ার পর হিলারি শিবিরে অস্বস্তি তৈরি হয়। হিলারি প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন ব্যক্ত করা প্রভাবশালী ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়,  বিপাকে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। পরে বলা হয়, জয়ের কাছাকাছি রয়েছেন ট্রাম্প। এরপর পেনসিলভ্যানিয়ায় জয় নিশ্চিত করে ট্রাম্প নিশ্চিত করে ফেলেছেন নিজের বিজয়। বাকী কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার। উইসকনসিনে ট্রাম্পের বিজয়ের পর সেই ঘোষণাও এলো। এবার বিজয় ভাষণ দেবেন ৫৮ তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিজয়ী প্রার্থীঅ।

মার্কিন নির্বাচনে অর্থের ভূমিকা খুবই বড়। সেখানকার নির্বাচনে বড় ধরনের ভূমিকা থাকে মিডিয়ারও। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন বলেছিল, যে এবারের নির্বাচনে অর্থের চেয়ে প্রযুক্তির ভূমিকা বড়।

ট্রাম্পের উত্থানের পর প্রযুক্তির ভূমিকার কথা আবারও আসছে আলোচনায়। আলোচনায় আসছে সাড়া জাগানো বিকল্প সংবাদমাধ্যম উইকিলিকস। অনেকেই মনে করছেন, হিলারি সংক্রান্ত নথি ফাঁসের মধ্য দিয়ে উইকিলিকস-ই কি তবে হিলারির হারে মুখ্য ভূমিকা পালন করলো?

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ইলেক্টোরাল কলেজ আনুষ্ঠানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে ভূমিকা পালন করে। কোন প্রার্থী কত বেশি ভোট পেলেন তার চেয়ে জরুরি হলো কে কতটা ইলেক্টোরাল ভোট পেলেন তা। ৫৩৮ জন ইলেক্টোরের সমন্বয়ে ইলেক্টোরাল কলেজ গঠিত। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে প্রার্থীকে এর মধ্যে অন্তত ২৭০টি ইলেক্টোরাল ভোট পেতে হয়। এক এক স্টেটে ইলেক্টোরের সংখ্যা এক এক রকম। নির্বাচনের দিন মার্কিনিরা যখন ভোট দেন তখন তারা মূলত প্রার্থীদের ইলেক্টোরদেরকে বাছাই করেন। দুটি ছাড়া বাকি ৪৮টি অঙ্গরাজ্যে ‘উইনার-টেক-অল’ সিস্টেম চালু রয়েছে। এর আওতায় জয়ী প্রার্থীকে ওই অঙ্গরাজ্যের সব ইলেক্টোরাল ভোট দিয়ে দেওয়া হয়। তবে নেবরাস্কা ও মেইন অঙ্গরাজ্য দুটি এক্ষেত্রে আলাদা। এ দুটি অঙ্গরাজ্যের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের পাওয়া ভোটের সংখ্যানুপাতে ইলেক্টোরাল ভোট ভাগ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে এবং পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে সকাল ৭টা থেকে শুরু হয় ঐতিহাসিক মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ভোটগ্রহণ। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও ওভারসিজ ভোটারদের আগাম ভোট এবং ১শ ভোটারের কম জনসংখ্যার ৩টি কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার পর মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে সব অঙ্গরাজ্যে এ ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এদিন ১০০ আসনবিশিষ্ট সিনেট ও ৪৩৫ আসনবিশিষ্ট হাউজ অব রিপ্রেজেন্টিটিভেরও ভোটগ্রহণ হয়েছে। হাউজ অব রিপ্রেজেন্টিটিভে রিপাবলিকানরা আবারও সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

নাসিরনগরে দুই মামলায় গ্রেফতার আরো ৩৩

73088ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, মন্দিরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের দুই মামলায় আরো ৩৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে মোট ৪৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৪ নভেম্বর) দিবাগত রাতে নাসিরনগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। অভিযান পরিচালনা করেন নাসিরনগর থানার নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর।

সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

‘অর্ধনগ্ন না হলে ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে’

73075‘জুপিটার অ্যাসেন্ডিং’খ্যাত মার্কিন অভিনেত্রী মিলা কিউনিস অভিযোগ করেছেন, এক প্রযোজক তার ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।

কারণ তিনি অর্ধ নগ্ন হয়ে পোজ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

সম্প্রতি এই মার্কিন অভিনেত্রী এপ্লাস ডটকমকে জানান, “একটি ম্যাগাজিনে অর্ধ নগ্ন পোজ না দেয়ায় তার উপর বেজায় চটেছিলেন একটি সিনেমার প্রযোজক। আমি তার সিনেমার প্রচারের জন্য একটি ম্যাগাজিনে অর্ধ নগ্ন হয়ে পোজ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলাম। আমি তখন কোনোভাবেই এসব করার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না।”

৩৩ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী জানান, “আমি খুব রেগে গিয়েছিলাম। নিজের ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো না বলেছিলাম। এরপর কি হলো? পৃথিবী তো শেষ হয়ে যায়নি সেদিনের পর। সিনেমাটি অনেক আয় করেছিল, আমিও পরবর্তীতে বারবার কাজ করেছি ওই শহরে।”

তিনি বলেন, “আমরা এরকম একটা পরিবেশে বাস করি যেখানে মুখ খুললেই আপনার জীবনের ওপর হুমকি চলে আসবে। আমার ক্যারিয়ারে এরকম বহু মুহূর্ত এসেছে যখন আমি অপমানিত হয়েছি, পারিশ্রমিক কম পেয়েছি, আমাকে পাত্তা দেয়া হয়নি, লিঙ্গ বৈষম্য করা হয়েছে। সবসময়ই আমি মানুষকে সুযোগ দিয়েছি। ভেবেছি তাদের বেশি অভিজ্ঞতা আছে, হয়ত আমারই কোনো কমতি আছে! তবে আমি সমঝোতা করতে করতে হাপিয়ে গিয়েছি। আর নয়, এখন থেকে আমি সরাসরি সব কথা বলব।”

বাসর রাতেই লাশ হলেন তরুণী

49166সম্পর্কটা প্রেমের। পালিয়ে বিয়ের সাত মাস পর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় পারিবারিকভাবে। এরপর একদিন না যেতেই অঘটন। বাসর রাতেই লাশ হলেন কনে। ঘটনাটি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামের।  শনিবার ভোররাতে স্বামীর ঘরে ওই তরুণীর গলায় ওড়না পেঁচানো লাশ পাওয়া যায়। সকালে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

ওই তরুণীর নাম রিংকু আক্তার (১৯)। তাঁর স্বামী নাহিদ বেপারী (২২)। দুজনের বাড়িই দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোরশেদ আহমেদ জানান, ৭ মাস আগে দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামের আলাউদ্দিন শেখের মেয়ে রিংকুর সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করেন আমির হোসেন বেপারীর ছেলে নাহিদ বেপারী। গতকাল শুক্রবার দুই পক্ষের আনুষ্ঠানিকতা হয়। এরপর রিংকু স্বামীর বাড়িতে উঠেন। গভীর রাত পর্যন্ত স্বামী-স্ত্রীর আলাপচারিতা হয়। শনিবার ভোররাত ৫টার দিকে রিংকু আকস্মিক আত্মহত্যা করেন। সকালে তাঁর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

এসআই আরো জানান, এই ঘটনায় রিংকুর বাবা আলাউদ্দিন শেখ বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করছেন।

রিংকুর বাবা আলাউদ্দিন শেখ জানান, মেয়েকে আনুষ্ঠানিকতা শেষে হাসিমুখে স্বামীর ঘরে পাঠানো হয়। কিন্তু কেন আত্মহত্যা করল, সেটা তিনি জানেন না।

আজ সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে রিংকুর স্বামী নাহিদকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি আশপাশেই আছেন।

নাহিদের পরিবারের কয়েকজন দাবি করেন, রিংকু আত্মহত্যা করেছেন।

৩ লাখ অভিবাসী নেবে কানাডা

73078আগামী বছর তিন লাখ অভিবাসন প্রত্যাশীকে আশ্রয় দেবে কানাডা। সোমবার দেশটির অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী জন ম্যাকালাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

কানাডা সরকার জানিয়েছে, স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে তিন লাখ অভিবাসন প্রত্যাশীকে অনুমোদন দেওয়া হবে। অভিবাসীদের আশ্রয়ের বিষয়ে এই সংখ্যা নতুন ভিত্তিমূল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে যেসব অভিবাসন প্রত্যাশীকে আশ্রয় দেওয়া হবে তাদের অধিকাংশই হবে অর্থনৈতিক অভিবাসী। ২০১৬ সালে যে সংখ্যক অভিবাসন প্রত্যাশীর আবেদন মঞ্জুর করা হবে তা অপরিবর্তিত রয়েছে।

অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী জন ম্যাকালাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, অভিবাসীদের ভবিষ্যৎ সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য তিন লাখ লোককে স্থায়ী বাসিন্দা করার বিষয়টি ভিত্তিমূল হিসেবে কাজ করবে।

তিনি বলেন, ‘ আমি বিশ্বাস করি, ভৌগোলিক কারনে বেশি অভিবাসী গ্রহণ কানাডার জন্য একটি উত্তম নীতি হিসেবে বিবেচিত হবে।’

প্রসঙ্গত, অনেক উন্নত দেশের মতো, কানাডায় প্রবীনদের সংখ্যা বাড়ছে। জন্ম হার কম হওয়ায় দেশটির ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হুমকির মুখে পড়েছে। ৩৮ লাখ ৫৪ হাজার বর্গ মাইলের এ দেশটির জনসংখ্যা মাত্র তিন কোটি ৫০ লাখ।

প্রবাসী কবি শাহ শামীম আহমেদকে নিয়ে মাসিক বাসিয়া পত্রিকার অন্তরঙ্গ আড্ডা

samimপ্রবাসে সাহিত্য চর্চা খুবই কষ্টসাধ্য। রুটি রোজির পর সাহিত্য কিংবা সামাজিক কর্মকান্ডে ঠিকে থাকা খুবই দুরুহ তারপরও যারা সৃজনশীল কর্মকান্ডে জড়িত আছেন তাদেরকে আমরা অভিনন্দন জানাই। কবি শাহ শামীম আহমেদ প্রবাসে সাহিত্য, সামাজিক কর্মকান্ড, রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।
গত ৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় সিলেটের স্টেশন রোডস্থ বাসিয়া প্রকাশনীর কার্যালয়ে মাসিক বাসিয়া ও বাসিয়া টুয়ান্টিফোর ডটকম কর্তৃত আয়োজিত প্রবাসী কবি শাহ শামীম আহমেদকে নিয়ে অন্তরঙ্গ আড্ডায় বক্তারা উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
মাসিক বাসিয়া পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক গীতিকার মোহাম্মদ নওয়াব আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আড্ডায় অংশ নেন বিশিষ্ট শিশু সাহিত্যিক ও সংগঠক জামান মাহবুব, কবি লায়েক আহমদ নোমান, কবি আবদুল বাসিত মোহাম্মদ, শিশু সংগঠক ও ছড়াকার তাজুল ইসলাম বাঙালি, কবি শিউল মনজুর, সাবেক কাউন্সিলর ও কবি নাজনীন আক্তার কনা, চিত্রশিল্পী ও ছড়াকার বাইস কাদির, কবি তোবারক আলী, ছড়াকার মতিউল ইসলাম মতিন, ছড়াকার বদরুল আলম খান, গীতিকার হরিপদ চন্দ, গল্পকার রেনুফা রাখী, গল্পকার হাবিব আহমদ এহসান, কবি লুৎফা বেগম লিলি, উপন্যাসিক ও শিক্ষক কাজী মোতাহার হোসেন শাহীন, কবি কামাল আহমদ, নিলুফা ইসলাম নিলু, কবি আনোয়ার হোসেন মিছবাহ, কবি দেওয়ান মতিউর রহমান খান, ছড়াকার সুব্রত দাশ, কবি ওবায়দুল হক মুন্সী, উপন্যাসিক গনেন্দ্র চন্দ্র দাস, নাট্যকমী মো. আবদুস শহীদ দুলাল, কবি আবু জাফর মো. তারেক, কবি ফখরুল আল হাদী, কণ্ঠশিল্পী এন এম নূরুল, কবি নূর আলম বেগ, সজিব আহমদ বিজয়, কয়েস আহমদ মাহদী প্রমুখ।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জে শ্বশুর বাড়িতে নতুন বর খুন

47411বিয়ের তিন দিনের মধ্যে শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নির্মমভাবে খুন হলেন এক বর।
মালয়েশিয়া প্রবাসী ঐ বরের নাম সুহেল আহমদ উরফে ছৈল মিয়া (৩০)। তিনি দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের হাসনাবাজ গ্রামের আব্দুল মানিকের পুত্র।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের ১৪ অক্টোবর শুক্রবার দিরাই বাগানবাড়ি কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলার গাজীনগর গ্রামের সমসুল আলমের মেয়ে জহুরা বেগমের (২০) সাথে মালয়েশিয়া প্রবাসী সুহেল আহমদ উরফে ছৈল মিয়ার বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের তৃতীয় দিন গত রোরবার বর শ্বশুর বাড়িতে স্ত্রী ও আত্মীয় স্বজনকে সাথে নিয়ে বেড়াতে যান।
গত রোববার সন্ধ্যার পর নিজ বাড়িতে ফেরার আগ মুহূর্তে জহুরার ফুফাত ভাই, পাথারিয়া গ্রামের আসকর আলীর ছেলে শাহীন মিয়া (২৮) হঠাৎ করে ঘরে ঢুকে বৈদ্যুতিক লাইনের মেইন সুইচ বন্ধ করে সুহেল মিয়াকে বটি দা দিয়ে মাথায় এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ঘরের পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই সুহেল মিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সঙ্গে থাকা আত্মীয় স্বজন তাকে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে বর ছৈল মিয়াকে সিলেট এম এ জি ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাত সাড়ে ১০টায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
মর্মান্তিক এই মৃত্যুর সংবাদ স্বজনদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে স্ত্রীসহ পরিবারের লোকজন কান্নায় ভেঙে পড়েন।
গতকাল সোমবার বিকেলে ময়না তদন্ত শেষে তাকে হাসনাবাজ গ্রামের পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়েছে। রাত ১০টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মূল খুনিকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে, হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে হামলাকারী শাহীনের ভাই শাহনুর আলম (৩২) কে আটক করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল আমীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

Developed by: