কমেছে আপলোড গতি, ক্ষুব্ধ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা

দেশে ইন্টারনেট যাত্রার নয় বছরে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ইন্টারনেটের মূল্য কমেছে ৮২ শতাংশ। কিন্তু ভোক্তা পর্যায়ে এই হার ৪২ শতাংশেরও কম। অর্থাৎ গ্রাহকপর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যয় সহনশীল পর্যায়ে আসেনি দীর্ঘদিনেও। বরং শুক্রবার থেকে হঠাৎ করেই আপলোড গতি কমে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা। অধিকাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীই এখন ক্ষুব্ধ ইন্টারনেট সেবা নিয়ে। কেননা এখন আপলোড গতি ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে। ফলে ইন্টারনেট সংশ্লিষ্টরা পড়ছেন বিপাকে।ওয়াইম্যাক্স অপারেটর কিউবি, বাংলালায়ন এবং বিটিসিএল ছাড়া গ্রাহক পর্যায়ে আর কোনো ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানই ব্যান্ডউইথ হিসেবে ইন্টারনেট ব্যবহারে মূল্য কমায়নি। এক্ষেত্রে নানা রকম প্যাকেজ আর অফারের পসরা সাজিয়ে কিংবা গতি বাড়ানোর দাবির মধ্যে কার্যত গা-ছাড়াভাবে চলছে দেশের সেলফোন অপারেটররা। তারপরও দফায় দফায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানসহ (আইএসপি) অন্যান্য উচ্চ ব্যান্ডউইথ গ্রাহকদের জন্য প্রতি এমবিপিএস ব্যান্ডউইথের দাম কমানো হয়। এখন এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে চার হাজার ৮০০ টাকা।ইন্টারনেট ব্যান্ডাউইথের নতুন মূল্য প্রসঙ্গে বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসওএম কলিম উল্লাহ  জানান, ব্যান্ডউইথের দাম কমানোর ক্ষেত্রে মূল মাসিক খরচ চার হাজার ৮০০ টাকার ওপর সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫ শতাংশ, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশিক্ষণ ও গবেষণাকেন্দ্র, সামরিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে ৫ শতাংশ এবং সরকারি অফিস এবং আধাসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে ৫ শতাংশ হারে ছাড় দেয়ারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

পাশাপাশি বিটিসিএলের অন্যান্য লিজড লাইন ও ইন্টারনেট সংযোগ খরচও পুনঃনির্ধারণ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যেকোনো ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় এডিএসএল ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট প্যাকেজ অধিক সাশ্রয়ী। তারপরও যেহেতু ব্যান্ডউইথের মূল্য কমানো হয়েছে তাই আবার এই মূল্য কিছুটা কমানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে।”

গ্রাহক আকর্ষণ করতে মূল্যসংবেদনশীলতার বিষয়ে সরকারের ৮২ শতাংশের বিপরীতে গ্রাহক পর্যায়ে ৪১ শতাংশ মূল্য কমিয়েছে ওয়াইম্যাক্স ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে এক্ষেত্রে তাদের আনলিমিটেড প্যাকেজগুলো সীমিত করে ফেয়ার ইউজেস পলিসি গ্রহণ করেছে। শুরুতে ৫১২ কেবিপিএস আনলিমিটেড সংযোগে গ্রাহকদের কাছ থেকে ২১৫০টাকা নিলেও এখন এটি প্রচ্ছন্নভাবে সীমিত করে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০১০ সালে বিটিসিএল’র বিকিউব এডিএসএল ব্রডব্যান্ড সংযোগের ক্ষেত্রে ৫১২ কেবিপিএস এর মূল্য ছিল ২০০০ টাকা। মূল্য ৪২ শতাংশ কমিয়ে এখন এই সংযোগ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৫০ টাকা। তবে সম্প্রতি ব্যান্ডউইথ মূল্য কমানো হলেও গ্রাহক পর্যায়ে নতুন করে এখনো মূল্য কমানো হয়নি বলে জানিয়েছেন বাংলালায়ন’র জিএম ফারুক। তিনি বলেন, “প্যাকেজমূল্য কেবল ব্যান্ডউইথ মূল্যের ওপর নির্ভর করে না। এর পেছনে ট্রান্সমিশন কস্ট, বিদ্যুত বিল, ভিটিএস স্থাপন ইত্যাদি অনেক বিষয় জড়িত।”

অপরদিকে একই হারে মূল্য কমানো কিউবি’র বর্তমান ৫১২ প্যাকেজ মূল্য ১২৫০ টাকা। ২০১২ সালে এই মূল্য ছিল ২১৫০ টাকা। মূল্য পুনর্বিন্যাস সম্পর্কে কিউবি’র শামীমা আক্তার বলেন, “দেশে ইন্টারনেট সেবা বাজারে কিন্তু মনোপলি কারবারের কোনো সুযোগ নেই। তীব্র প্রতিযোগিতা থাকার পরও সঙ্গত কারণেই কোনো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানই কিন্তু ব্যান্ডউইথ মূল্য কমাতে পারছে না। তারপরও আমার টেলকো ইকনোমি থেকে ইন্টারনেট ইকনোমি প্রতিষ্ঠায় জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

এদিকে ব্যান্ডউইথ মূল্য কমলেও গ্রাহক পর্যায়ে মূল্য কমানোর খুব একটা সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অব বাংলাদেশের নবনির্বাচিত কমিটির পরিচালক সুমন আহমেদ সাবির। তিনি বলেন, “ব্যান্ডউথের দাম শূন্য হয় তাহলেও প্রান্তিক পর্যায়ের দাম কমবে না।”

নিজের মন্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, “২০০৬ সালে ব্রডব্যান্ডের ক্ষেত্রে ৩২ কেবিপিএস সংযোগ মূল্য ছিল ১০০০ টাকা। এখন ১এমবিপিএস এর দাম চার হাজার ৫০০ টাকা। সেই হিসেবে ইতিমধ্যেই গ্রাহক পর্যায়ে ৩২ গুণ দাম কমিয়েছে। উপরন্তু সময়ের ব্যবধানে ১৫ শতাংশ-৮৫ শতাংশ বিদ্যুৎ, ভাড়া ও মেইনটেন্যান্স ব্যয় বেড়েছে। এর ওপর কভারেজ কম থাকায় ৩২ হাজার টাকার আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল স্থাপন করে সংযোগ দিয়ে ব্যবসা নেই বললেই চলে।”

অবশ্য সরকার যদি আগামী পাঁচ বছরের জন্য ট্যাক্স ফ্রি সুবিধা দেয়ার পাশপাশি, ফাইবার অপটিক স্থাপনে সহায়তা করে তবে ব্রডব্যান্ড সংযোগ বাড়ানো সম্ভব বলে মত দেন সুমন আহমেদ সাবির।

এ বিষয়ে ভালো সেবা দেয়া মূল লক্ষ্য উল্লেখ করে ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, আমাদের লক্ষ্য ভালো সেবা দেয়া। যত বেশি ভালো সেবা দেয়া সম্ভব, সেটাই আমরা চাই। তা ছাড়া সদস্যদের মধ্যে একধরনের প্রতিযোগিতাও আছে। ব্যান্ডউইথের পাশাপাশি ভ্যাটটাও কমাতে হবে।’ তিনি যোগ করেন, ‘শুধু ব্যান্ডউইথের দাম কমানোর বিষয়টিই মূল নয়, পাশাপাশি অন্য বিষয়গুলো মাথায় রাখলে গ্রাহকদের উন্নত সেবা দিতে আমাদের সমস্যা থাকার কথা নয়।’।

যদিও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের দাম কমানোর সঙ্গে ভোক্তাদের সেবা ব্যয়ও কমিয়ে আনা হচ্ছে, তারপরও মোবাইল ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে হিসাবটা একেবারেই ভিন্ন। ২০০৪ সাল থেকে সেলফোনে প্রথম ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন। ২০০৬ সালে এক হাজার টাকার আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ সংযোগে এখন ৮৫৪ টাকায় কমিয়ে আনা হলেও তা ৫ জিবিতে কমিয়ে আনা হয়েছে। আর এর গতি নিয়েও রয়েছে নানা বিতর্ক। সবচেয়ে বেশি গ্রাহক হলেও ইন্টারনেট সেবার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৩৬ কেবিপিএস পর্যন্ত সেবা পেয়ে থাকে জিপি মডেম ব্যবহারকারীরা।

এবিষয়ে গ্রামীণফোন মুখপাত্র তাহমিদ আজিজুল হক বলেন, “উচিত ছিল সন্দেহ নেই। ভয়েস নেটওয়ার্কের চেয়ে ডাটা নেটওয়ার্কে ব্যবহার কম হয়। ক্যাপাসিটির তুলনায় মূল্য আরো কমাতে পারলে ভালো হয়।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ব্যান্ডউইথ মূল্য কমানোর পর এখনো আমরা আমাদের মূল্য সংশোধন করিনি। কবে নাগাদ করা হবে তাও বলতে পারছি না। ব্যস্ত আছি। পরে জানাবো।”

সেলফোন অপারেটরদের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের দিক দিয়ে এগিয়ে থাকা সিটিসেল এই সেবা চালু করে ২০০৭ সালের ৩০ জানুয়ারি। তখন ২৩৬ কেবিপিএস সংযোগের ৬জিবি’র ইন্টারনেট প্যাকেজ ব্যবহারে গ্রাহককে ব্যয় করতে হতো সাত হাজার টাকা। ২০০৫ সালে জুম আল্ট্রা প্যাকেজ দিয়ে ৫জিবি সংযোগের মূল্য নির্ধারণ করা হয় তিন হাজার ৫০০ টাকা। এখনো এই মূল্যই বর্তমান রয়েছে। এ বিষয়ে সিটিসেলের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পিআর তাসলিম আহমেদ জানান, গত কয়েক বছরে যেভাবে ব্যান্ডউইডথের দাম কমানো হয়েছে, তা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। এ সেবা চালুর প্রথম দিকে প্যাকেজের যে দাম ছিল, তা এখন অনেকটাই কমে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে দাম না কমানো হলেও ইন্টারনেটের গতি বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিনা মূল্যে বিভিন্ন ধরনের অফার গ্রহণের সুযোগও রাখা হয়েছে গ্রাহকের জন্য। সব মিলিয়ে এ খাতে ব্যয়ের বিষয়গুলোকে সমন্বয়ের মাধ্যমে গ্রাহকের সেবা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট সিটিসেল।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা খুব শিগগিরই একটি মিনি প্যাক ছাড়ার কথা ভাবছি। এতে গ্রাহকরা অল্পমূল্যে সীমিত আকারে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। এটা সেলফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়াতে সক্ষম হবে।”

শুরুতে ১ হাজার টাকা দিয়ে ইন্টারনেট সেবা শুরু করা সেলফোন অপারেটর রবি একপর্যায়ে মাসে ৭৫০ টাকায় আনলিমিটেড ব্যবহারের একটি প্যাকেজ ছাড়ে। বর্তমানে এই প্যাকেজ ৫জিবিতে সীমিত করে ৬৫০ টাকা করা হয়েছে। এ বিষয়ে রবির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদুর রহমান বলেন, “সেলফোন অপারেটর হিসেবে তরঙ্গ বরাদ্দ ফি, সরকারকে দেয়া রাজস্বসহ আরো বিভিন্ন ব্যয় সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের মুনাফা নিশ্চিত করতে হয়। এ জন্য ব্যান্ডউইডথের ব্যয় কমানো হলেও অন্যান্য ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় করেই ইন্টারনেটসেবার মূল্য নির্ধারণ করতে হচ্ছে।”

একই অবস্থা বাংলালিংক ইন্টারনেট সংযোগের। সর্বোচ্চ ২৩৬ কেবিপিএস সংযোগমূল্য ৬৫০ টাকা। তবে এই প্যাকেজটি আনলিমিটেড। ব্যান্ডউইথ মূল্য না কমানোর বিষয়ে বাংলালিংক এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এয়ারটেল’র ইন্টারনেট ট্যারিফ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২৩৬ কেবিপিএস সংযোগমূল্য ৫জিবি ৬৫০ টাকা। ব্যান্ডউইথ মূল্য না কমানো এবং আগামীতে কমানের পরিকল্পনা আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে লিখিত প্রশ্ন পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন বাংলালিংক এর ফারাহ শারমীন।

অপরদিকে টেলিটক থ্রিজি ৫১২ কেবিপিএস এর মূল্য ১৫০০টাকা এবং টুজি’র মূল্য ৬০০ টাকা। এ বিষয়ে মজিবুর রহমান-কে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, ইন্টারনেট সেবার ক্ষেত্রে সিটিসেল ও টেলিটক ছাড়া কোনো অপারেটরের প্যাকেজেই গতির বিষয়টি উল্লেখ নেই। ফলে আপলোড বা ডাউনলোডের গতি সম্বন্ধে কোনো ধরনের ধারণা পাওয়া যায় না। আগে থেকে ব্যবহার করছেন, এমন কারো কাছ থেকে জেনে নিয়ে অথবা নিজে ব্যবহার করে এসব অপারেটরের ইন্টারনেটসেবার গতি ও মানের বিষয়ে ধারণা পেতে হয়। খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রে মতে, সেলফোন অপারেটরদের দেয়া ইন্টারনেটসেবার ক্ষেত্রে ডাটা লস ছাড়াও বেশ কিছু অপ্রকাশ্য ব্যয় রয়েছে। এটা গ্রাহকের কাছ থেকেই আদায় করা হয়।

এভাবেই গত ১ এপ্রিল থেকে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও গ্রাহক পর্যায়ে ব্যান্ডউইথ মূল্য কমানোর বিষয়ে কার্যত আগ্রহ দেখায়নি কেউই। এক্ষেত্রে বিগত সময়ে ইন্টারনেট মূল্য না কমানোর বিষয়ে বরাবরই সবচেয়ে অনড় দেখা গেছে মোবাইল অপারেটরদের। কিন্তু ভোক্তা পর্যায়ে এই মূল্য কমানোর এই সুবিধা না পেয়ে ক্ষুব্ধ ইন্টরনেট ব্যবহারকারীর। বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন এবং সর্বশেষ গত ২৭ জানুয়ারি দেশজুড়ে পালিত হয় ‘মিসডকল প্রতিবাদ’। ওইদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এবং সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত  দ্বিতীয় দফায় একে অপরের সেলফোনে ‘মিসডকল’ দিয়ে মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্ক ব্যস্ত রাখার মাধ্যমে গ্রাহকপর্যায়ে ইন্টারনেট এর মূল্য কমানোর দাবি জানায় ‘মিসড কল আমার প্রতিবাদের হাতিয়ার’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপ। কিন্তু তারপরও নিজেদের অবস্থান থেকে টলেনি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে আবারও নতুন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দুর্যোধন ও সিডাকসিন হিপনোটিজম নেতৃত্বাধীন এই গ্রুপটি।

এদিকে ইন্টারনেটের দাম সহনীয় মাত্রায় আনতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কয়েকমাস আগে নির্দেশনা জারির প্রক্রিয়া শুরু করলেও মাসাধিক কাল ধরে থেমে আছে। দফায় দফায় ব্যান্ডউইডথের দাম কমানো হলেও সেলফোন অপারেটরদের ইন্টারনেট সেবার মূল্য সে অনুযায়ী কেন কমানো হয়নি স্বীকার করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস বলেছেন, এর কারণ পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। একইসাথে নির্দেশনা জারির প্রক্রিয়া থেমে যাওয়ার কারণও অনুসন্ধান করে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তবে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব এবং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বেচ্ছাতারিতার কারণেই তৃণমূলের গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইন্টারনেট গ্রাহক ও বাজার বিশ্লেষকরা।

ইন্টারনেটে আয় করা ফ্রিল্যান্সার জাহিদ জীবন বলেন, “ইন্টারনেট ইউজেস এর মুল্য ৫/৬ বছর আগে যা ছিল এখন ও তাই আছে। আগে পার কিলো বাইট দুই পয়সা ছিল, এখনো তাই। এক জিবি ৩৫০ টাকা ছিল, এখনো তাই। ভাবা যায়।”

তিনি বলেন, “কিছু কিছু প্যাকেজের মুল্য কমেছে কিন্তু তা আশানুরূপ নয়। অতীতের কথা বাদ দিলাম। তখন ব্যান্ডউইথের মূল্য অনেক বেশি ছিল। কিন্তু এখন তো আগের অবস্থা নেই। সরকার দফায়-দফায় ব্যান্ডউইথের মুল্য কমিয়ে এনেছে। তারপরেও আমরা ভোক্তারা এর সুফল

Developed by: