বিভাগ: বিনোদন

মেয়ের বিকিনি বিতর্কে মুখ খুললেন শাহরুখ

গত মার্চের দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিকিনি পরিহিত ছবি পোস্ট করেছিলেন শাহরুখ কন্যা সুহানা খান। তারপর ছবিটি ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে উঠেছিল। কিন্তু তখন এ বিষয়ে শাহরুখ কোনো মন্তব্য করেননি। এ ঘটনার দীর্ঘদিন পর এ বিষয়ে মুখ খুললেন এই অভিনেতা।

সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন এই বলিউড বাদশা। শাহরুখ খান বলেন, ‘এ ঘটনার বিষয়ে চুপ থেকে সুহানাকে (মেয়ে) সংবাদমাধ্যম থেকে নয়, নিজের কাছ থেকে রক্ষা করেছি।’

শাহরুখের এমন বক্তব্য শুনে অনেকেরই বেশ অবাক লেগেছিল। কারণ সবার মনেই প্রশ্ন জেগেছিল বাবার কাছ থেকে সুহানাকে কেন রক্ষা করতে হবে?

এ প্রসঙ্গে শাহরুখ বলেন, ‘মেয়ের বিকিনি পরা ছবি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর নিজেকে খুবই ছোট মনে হয়েছিল। যদিও আমরা পারিবারিকভাবে খুবই উদারমনস্ক। কিন্তু ১৬ বছরের মেয়ের ছবি নিয়ে যখন নানা কথা উঠছিল তখন মনের ভেতরে খুব ভালো বোধ করিনি। আসলে আমি সুপারস্টার না হলে সুহানা এবং তার বিকিনি কোনো কিছুই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠত না।’

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া পুরোদমে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বলিউড তারকাদের সন্তানেরা। বাবা-মায়ের পরিচয় ছেড়ে নিজেদেরকে মেলে ধরতেই তারা বেছে নিচ্ছেন এই ভার্চুয়াল জগৎ। এদের কেউ কেউ হয়তো স্বপ্ন দেখছেন বলিউডের রঙিন জগতে পা রাখার। আর সে কারণেই নিজেদের গ্ল্যামারাস সব ছবি পোস্ট করেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে।

অতিরিক্ত সৌন্দর্যের কারণেই ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়ে যায় যে নায়িকার

‘ভিরানা’। বি গ্রেড ভয়ের সিনেমার একেবারে কাল্ট বলা যায়। রামসে ব্রাদার্সের এই সিনেমাটায় এক নারী সবার নজর কাড়েন। তিনি হলেন সেই সিনেমার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেত্রী। নায়িকার নাম জ্যাসমিন। ১৯৮৮ সালে মুক্তি পেয়েছিল ভিরানা। সিনেমাটি রিলিজের পর জ্যাসমিনকে নিয়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল। সে সময় অনেকেই বলতে শুরু করেছিলেন ভিরানার জ্যাসমিন বলিউডের প্রথম সারির সিনেমায় সুযোগ পেলে অনেক নায়িকাকে ছাপিয়ে যাবেন। বি গ্রেড ছবিতে অভিনয় করে এর আগে কেউ এত প্রচার পাননি। কিন্তু শেষ অবধি জ্যাসমিনকে আর কোথাও কোনওদিন অভিনয় করতে দেখা যায়নি। শোনা যায় তিনি বিদেশে চলে যান। কিন্তু কেন?

শোনা যায় জ্যাসমিনকে আন্ডারওয়ার্ল্ড থেকে প্রচুর ফোন আসে। প্রস্তাব আসে দুবাইয়ে তাদের সঙ্গে থাকার। অনেক আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন নাকি জ্যাসমিনের সঙ্গে সেক্স করতে বহু টাকার প্রস্তাবও দেন। জ্যাসমিন পুলিশের দ্বারস্থ হন। কিন্তু সে সময় ভারতের মহারাষ্ট্র পুলিশের একটা বড় অংশ আন্ডারওয়ার্ল্ডের কাছে কার্যত বিক্রি হয়ে ছিল। অভিযোগ জানিয়েও কাজ না হওয়ায় জ্যাসমিন রাগে দেশ ছাড়েন। আমেরিকায় এক ব্যবসায়ীকে বিয়ে করে এখন ওখানেই থাকেন ভিরানা গার্ল। আর কোনো দিন ফেরেননি। তিনি নাকি নিজেকে আর ভারতীয় হিসেবে পরিচয়ও দেন না। বলিউড বঞ্চিত হয় এক সুন্দরী নায়িকা থেকে।

ওয়াসিম খান : এ সময়ের একজন ব্যস্ত কী-বোড বাদক ও সুরকার

01হৃদয় সজীব : বৃহত্তর সিলেটের সংগীত জগতে ওয়াসিম খান নাম উচ্চারণ করলে সবাই এক নামে চিনে একজন সফল কী-বোড বাদক হিসেবে। এ সুনাম অর্জন করেছেন ওয়াসিম খান দীর্ঘদিনে। শিশুকালেই ওয়াসিম খান সুরের ভুবনে যাত্রা শুরু করেন। বড় ভাই লাল মিয়া তখন গান গাইতেন। তাঁর হাত ধরে ওয়াসিম খান গানের প্রতি ঝুঁকে পড়েন এবং বড় ভাইয়ের সাথে কণ্ঠ মিলাতে থাকেন। কম বয়সেই আয়ত্ত করেন একটি অসাধারণ গুণ। এক সাথে পাঁচটি ডফকি বাজানোর দুর্লভ অর্জন। বড় ভাই লাল মিয়ার অনুষ্ঠানে বিশেষ আকর্ষণ ছিল ওয়াসিম খান ডফকি বাজানো। মানুষ মুগ্ধ হয়ে যেমন গান শুনতো তেমনি ওয়াসিম খানের ডফকি বাজানো দেখে তাক লেগে যেত এবং অনুষ্ঠানে শেষে গুণীজনরা তাকে আর্শিবাদ করে যেতেন।
ওয়াসিম খানের ১৯৬৪ খ্রি. বি-বাড়িয়ার হাবলা উচ্চ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম মো. শহিদুল ইসলাম ও মাতা মরহুমা মোছা. সাফিয়া খাতুন। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয়।
বড় ভাই লাল মিয়ার সাথে ওয়াসিম খান বি-বাড়িয়ার আঁনাচে কাঁনাচে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করতেন। এক পর্যায়ে গানের নেশায় ও যন্ত্রের ভালোবাসায় তারা ছাতকে চলে আসেন। ছাতক বাজারের গুণীজন ও কিছু মুরব্বিরা বাউলদল দেখে গান গাওয়ার অনুরোধ করেন। তখন তিনি বড় ভাইয়ের সাথে গান গাওয়া শুরু করেন এবং একসাথেপাঁচটি ডফকি বাজাতে থাকেন। মুরব্বিদের দৃষ্টি পড়ে শিশু ওয়াসিমের অসাধারণ ডফকি বাজানোর দিকে। এক পর্যায়ে দুর্বিণ শাহর জনপ্রিয় গান ‘যৌবনরে ডেকছি তরে লইয়া আমি অভাগীনি’ গানটিতে টান দিলেই উপস্থিত সবাই মুগ্ধ হয়ে যান। এই আসরে ছিলেন মুরব্বিদের সারিতে দুর্বিণশাহও। গান শেষ হওযার পরে উপস্থিত সুধীজন জানতে চাইলে যার গান গাইয়ের সেই পীর সাহেবের সাথে আপনাদের পরিচয় আছে কি? কিন্তু ইতোপূর্বে দূর্বিণ শাহর সাথে তাদের পরিচয় হয়নি। ওয়াসিম সান্বিধ্য পেলেন বাউল সম্রাট দুর্বিন শাহর। শুধু সান্বিধ্য নয় দুর্বিন শাহ মুগ্ধ হয়ে মাথায় হাত দিয়ে আর্শিবাদ করলেন।
এভাবে এগুতে থাকেন ওয়াসিম গানের জগতে। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৬ সালের শেষের দিকে বড় ভাইয়ের সাথে সিলেটের তালতলার দিকে যাচ্ছেন। তালতলার হোটেল ব্যবসায়ী কালা মিয়ার দৃষ্টিপরে তাদের দিকে। তিনি তাদেরকে নিয়ে যান তার নিজস্ব হোটলের অফিসে। সেখানে অনেক ভাবুকরা বসে আছেন। তখন বিকাল চারটা। বাংলাদেশ বেতারে অনুষ্ঠানপূর্ব সিলেটের বাউল পরিবেশিত হবে। সবাই শুনবেন। বেতারে শুরু হলো বাউল আবদুল হামিদের গান। সবাই মনোযোগ সহকারে শুনলেন। গান শেষে শুরু হলো ওয়াসিমদের পালা। ছাতকের মতো সিলেটেও সবাই মুগ্ধ হলেন ওয়াসিমের অসাধারণ ডফকি বাজানো দেখে। আসরের শেষ পর্যায়ে উপাস্থিত হলেন বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী আবদুল হামিদ। তিনি তাদেরকে নিয়ে লালদিঘির পারের হোটেল তাজ বোডিংয়ে যাপনের ব্যবস্থা করলেন। আবদুল হামিদ ওয়াসিমের প্রতিভায় মুক্ত হয়ে ছাড়তে চাইলেন না। শেষ পর্যন্ত আবদুল হামিদ ওয়াসিমকে তার বন্ধনে নিয়ে আসলেন। ওয়াসিম আবদুল আবদুল হামিদকে ধর্মীয় পিতা হিসেবে গ্রহণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে গানের তালিম নেয়া শুরু করেন এবং বিভিন্ন জায়গায় তার সাথে গানে কণ্ঠ মিলাতে থাকেন। বাউল আবদুল হামিদের সুযোগ্য শিষ্য হিসেবে ওয়াসিমের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে।
ওয়াসিম ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ বেতার সিলেট কেন্দ্রের আধুনিক ও পলীগীতি গানের একজন কণ্ঠশিল্পী হিসেবে তালিকাভূক্ত হন। ১৯৯৮ সালের (৭ পৃষ্ঠায় দেখুন) মিয়া (৬ পৃষ্ঠার পর) : পলীগীতি গানের একজন কণ্ঠশিল্পী হিসেবে তালিকাভূক্ত হন। ১৯৯৮ সালের যন্ত্রশিল্পী হিসেবে বাংলাদেশ বেতার সিলেট কেন্দ্র তাকে চাকরি প্রদান করে। তিনি কী-বোর্ড, দুতারা, মেন্ডোলিন, তবলা, হারমোনিয়াম বাজান বেতারে।
২০০৭ সালে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের কণ্ঠশিল্পী হিসেবে অনুমোদান লাভ করেন।
২০১৫ সালের শেষের দিকে বেতারের সুরকার হিসেবে তিনি গান সুরারোপ করতে থাকেন এবং বিশেষ বিশেষ প্রোগ্রামে তার সুরারোপিত গান পরিবেশিত হয়ে থাকে।
১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো ওয়াসিম শিল্পী হিসেবে লন্ডন সফর করেন। তার সাথে এ সফরে ছিলেন সৈয়দ আবদুর হাদী, বেবী নাজনীন, বাউল আবদুল হামিদ ও বাউল মুজিবুর সরকারসহ আরো অনেকে। এছাড়া তিনি বিভিন্ন সময় ভারতে বিভিন্ন অনুষ্টানে গান পরিবেশন করেন। সম্প্রতি তিনি সুফী শিতালংশাহ শিল্পী গোষ্ঠী প্রদত্ত সম্মাননা পদক ২০১৬ গ্রহণ করেন।
তার প্রিয় শিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদী, সুবীর নন্দী, সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, মাহমুদুন নবী, খুশিদ আলম। খুশিদ আলমের গান নিজের করতেন। প্রিয় সুরকার খান আতাউর রহামন, সত্য সাহা।
জীবনে গান বাজনায় মগ্ধ থাকার কারণে ব্যক্তিজীবন নিয়ে ভাবা সম্ভব হয়নি। প্রায় ৪০ বছর বয়সে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মোছা. সাবরীন ভূইয়া নিপার সহিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

নায়িকা মাহির ওয়ালিমা হবে সিলেটে

অনেকটা হুট করেই বিয়ে করেছেন এ সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরাতে মাহির নিজের বাসায় বিয়ে সম্পন্ন হয়। পাত্র সিলেটের কদমতলীর ব্যবসায়ী মাহমুদ পারভেজ অপু।

গত চার বছর যাবৎ তাদের মধ্যে পরিচয় থাকলেও উভয় পরিবারের সম্মতিতেই মাহি এবং অপুর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে নায়িকা মাহিয়া মাহি আরও জানান, আগামী ২৪ জুলাই সিলেটে তাদের ওয়ালিমা (বৌ-ভাত) সম্পন্ন হবে।60516

অবষেশে ফেসবুকে ছড়ানো সেক্স ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন মাহিয়া মাহি !

কিছু দিন আগে থেকে মাহিয়া মাহির ফেসবুকে স্ক্যান্ডাল ভিডিও নিয়ে তোলপার ইন্টারনেট জগত!অনলাইনে ছড়ানো স্ক্যান্ডাল ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাহিয়া মাহী। ভিডিওটি তার নয় দাবি করে মাহী বলেছেন, যে যা খুশি আপ করুক। আই ডোন্ট কেয়ার। আই হেভ নো প্রবলেম।

গত কয়েকদিন ধরেই ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার হচ্ছে। ভিডিও সরবরাহকারীরা দাবি করেছেন, এটি মাহিয়া মাহীর সেক্স ভিডিও। তবে ভিডিওটি সত্যি মাহীর কিনা, এমন কোন তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভিডিওটি ইন্টারনেটে আপলোড হবার কয়েক ঘন্টা পর সেটি ইউটিউব থেকে সরিয়ে ফেলা হলেও অন্তর্জালের দুনিয়ায় সেটি ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিও প্রসঙ্গে মাহী সাংবাদিকদের বলেন, সংবাদটা বেশ কিছু অনলাইন ও প্রিন্ট পত্রিকা করেছে। যদি কোন প্রতিষ্ঠিত অনলাইন বা প্রিন্ট পত্রিকা করত তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আমি মামলা করতাম।

মাহী বলেন, যদি নিশ্চিতভাবে কেউ প্রমাণ করতে পারে এটা আমার ভিডিও, তাহলে তা আমি ফেসবুক ওয়ালে নিজেই শেয়ার দেব। যদি না পারে তাহলে রিঅ্যাকশনে যাব।

সালমানের পথেই হাঁটলেন তারই এক সময়ের প্রেমিকা ক্যাটরিনা কাইফ!

মাত্র সপ্তাহ খানেক আগে সুপার স্টার অভিনেতা সালমান খান বলেছিলেন যে বিয়ে না করলেও তিনি অন্তত তিন চারটে সন্তান আশা করেন।

যদিও বিয়ে না করে কিভাবে সন্তান পেতে পারেন তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন খোদ সালমানই! আর এবার তার দেখানো পথেই হাঁটলেন তারই এক সময়ের প্রেমিকা ক্যাটরিনা কাইফ!

সদ্য বিচ্ছেদ হয়েছে বলিউডের রোমান্টিক অভিনেতা রনবীর কাপুরের সঙ্গে! বিয়ের কথাও পাকাপোক্ত ছিল তাদের। কিন্তু হঠাৎ করেই তাদের বিচ্ছেদে সব উলট পালট হয়ে গেল। তা না হলে ক্যাটরিনা কাইফের সন্তান নিয়ে বোধয় মিডিয়ার এত মাথা ব্যথা থাকতো না! কারণ স্বামী থাকলে সন্তান হওয়াটা কোনো অস্বাভাবিক নয়। যেহেতু এই মুহর্তে সমাজ স্বামী ছাড়া কোনো নারী থেকে সন্তান আশা করে না, তাই ক্যাটরিনার মুখে সন্তান প্রত্যাশার খবরটিও গুরুত্বপূর্ণ!

গত পরুশু রাতে গেল সালমান খানের ছোট বোন অর্পিতা খানের আগাম সন্তান হওয়ার খবরে এক বিশাল পার্টি। সেখানে বলিউডের অন্যান্য তারকা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মত নিমন্ত্রিত ছিলেন ক্যাটরিনা কাইফও। কিন্তু তার ছবি ‘ফিতুর’-এর প্রচার প্রচারণা নিয়ে তিনি গিয়েছিলেন মুম্বাইয়ের কালা গোডা ফিল্ম ফেস্টিভালে।

আর সেখানেই কথা প্রসঙ্গে সন্তান সন্তুতির বিষয়টি আলোচিত হওয়ার এক প্রসঙ্গে ক্যাটরিনা বলে বসেন, হ্যাঁ, আমরা ছয় ভাই-বোন ছিলাম। সবাই মিলে একসঙ্গে হৈ-হুল্লোড়ের মধ্যেই থাকতাম। আসলে ছোটদের সঙ্গ ব্যাপারটায় আলাদা। মুগ্ধ করে দেয়ার মত। আমি তেমনি এমন সন্তান চাই। যারা সব সময় ঘরময় হই হুল্লোড় করে বেড়াবে।

সালমানকে হত্যার হুমকি

সালমান খানকে টেলিফোনে হত্যার হুমকি দিয়েছে অজ্ঞাত ব্যক্তি। মুম্বাই পুলিশ হুমকিদাতা ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

ফেব্রুয়ারি ১৬ তারিখে প্রথম হুমকির ফোনটি রিসিভ করে পুলিশ কন্ট্রোল রুম।এর ঠিক পরের দিন আরেকটি হুমকির ফোন আসে। এ ঘটনার সঙ্গে একজন নাকি একাধিক ব্যক্তি জড়িত তা নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

কোন স্থান থেকে ফোন করা হয়েছিল সেটি বের করতে পেরেছে পুলিশ। মুম্বাই মেরিন লাইনস এবং সুবারবন মালাদ এলাকার পিসিও লাইন থেকে ফোন দুইটি এসেছে বলে পুলিশ শনাক্ত করেছে।

পুলিশ এখন পর্যন্ত অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে অধিকতর তদন্তের জন্য তারা ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধী শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।

যে ছবি দেখে অঝোরে কাঁদলেন হৃতিক রোশন-আমির খান

সালটা ১৯৮৬, তারিখ ৫ই সেপ্টেম্বর। পাকিস্তানের করাচি বিমানবন্দরে মুম্বাই থেকে সবে এসে নেমেছে প্যান অ্যামের ফ্লাইট ৭৩, একটু বাদেই তা রওনা দেবে ফ্রাঙ্কফুর্ট হয়ে নিউ ইয়র্কের পথে।

ঠিক সেই সময়ই ৩৬১ জন যাত্রী আর ১৯ জন ক্রু সদস্যকে নিয়ে সেই বিমানটিকে হাইজ্যাক করে চারজন সশস্ত্র জঙ্গী।

লিবিয়ার মদতপুষ্ট আবু নিদাল অর্গানাইজেশনের সদস্য সেই জঙ্গীরা চেয়েছিল সেটিকে ইসরায়েলে উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে কোনও উঁচু ভবনের সঙ্গে ধাক্কা মেরে বিরাট এক আঘাত হানতে।

ওই বিমানের ফ্লাইট পার্সার, অর্থাৎ প্রধান ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ছিলেন নীরজা ভানোত – যার ওপর ছিল বিমানের সব আরোহীর দেখাশোনা আর তাদের যাত্রাকে আরামদায়ক করে তোলার প্রধান দায়িত্ব।

ভারতের চন্ডীগড়ে জন্মানো নীরজা তখন তার তেইশতম জন্মদিন থেকে মাত্র কয়েক ঘন্টা দূরে – মডেলিং আর প্যান অ্যাম এয়ারলাইন্সের চাকরি সামলে কেরিয়ারে তরতর করে উন্নতি করছেন।

ছিনতাই হওয়া বিমানটিতে জঙ্গীদের প্রথম নিশানা ছিলেন মার্কিন নাগরিকরা। মোট ৪১ জন মার্কিন নাগরিক ছিলেন সেই বিমানে।

কিন্তু নীরজা ও তার সঙ্গী অ্যাটেনডেন্টরা মিলে প্রথমেই কৌশলে সেই মার্কিন নাগরিকদের পাসপোর্টগুলো লুকিয়ে ফেলেন – যাতে জঙ্গীরা তাদের আলাদা করতে না পারে।

করাচি এয়ারপোর্টে ১৭ ঘন্টা ধরে হাইজ্যাক করে রাখার পর বিমানের ভেতর জঙ্গীরা গুলি চালাতে ও বিস্ফোরক প্রয়োগ করতে শুরু করে – তখনই মরিয়া নীরজা ভানোত বিমানের ইমার্জেন্সি ডোর খুলে একে একে যাত্রীদের বাইরে বের করতে থাকেন।

ইমার্জেন্সি ডোর খোলার পর নীরজা নিজেই প্রথমে বাইরে বেরোতে পারতেন, কিন্তু তা না-করে তিনি আগে সব যাত্রীকে বেরোতে সাহায্য করেন।

কিন্তু তিনটি বাচ্চাকে অসম সাহসিকতায় জঙ্গীদের বুলেটবৃষ্টি থেকে রক্ষা করতে গিয়ে নীরজা নিজের প্রাণ আর বাঁচাতে পারেননি, বিমানের ভেতরই গুলিতে লুটিয়ে পড়ে তার নিথর দেহ।

শেষ পর্যন্ত ৪১জন মার্কিন যাত্রীর মধ্যে মারা যান মাত্র দুজন। ভারত, পাকিস্তান, আমেরিকা ছাড়াও ইউরোপ ও এশিয়ার নানা দেশের যাত্রীরা ছিলেন ওই বিমানে – নিজের প্রাণ দিয়ে তাদের এক রকম জীবন উপহার দিয়ে যান নীরজা ভানোত।

আজ থেকে প্রায় তিরিশ বছর আগে নীরজার সেই অসম সাহসিকতা আর মানবিকতা আজ প্রায় রূপকথার মতো শোনাতে পারে – তবে ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশই কিন্তু তাকে অসীম শ্রদ্ধায় কুর্নিশ জানিয়েছিল।

নীরজা ভানোতকে ভারত সরকার মরণোত্তরভাবে সর্বোচ্চ বেসামরিক সাহসিকতা সম্মান অশোক চক্রে ভূষিত করেছিল। ২০০৪ সালে ভারতের পোস্টাল সার্ভিস তার সম্মানে একটি ডাকটিকিটও প্রকাশ করে।

যে দেশের মাটিতে নীরজা ভানোত অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন, সেই পাকিস্তান সরকারও তাকে ‘তামঘা-ই-ইনসানিয়াত’ খেতাবে ভূষিত করেছিল, যা সে দেশে মানবিকতার শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

একজন মানুষ ভারত ও পাকিস্তান, উভয় দেশেই তার সাহস ও মানবিকতার জন্য সেরা সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন – নীরজা ভানোত ছাড়া এমন দৃষ্টান্ত বোধহয় আর একটিও নেই।

নীরজা ভানোতের জীবনের এই অসাধারণ কাহিনি নিয়েই শুক্রবার ভারতে মুক্তি পাচ্ছে একটি সিনেমা – নীরজা নামে যে ছবিটির পরিচালক হলেন রাম মাধবানি।

এই জীবনী-ভিত্তিক ছবি বা বায়োপিকে নীরজার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন বলিউড অভিনেত্রী সোনম কাপুর।

ভারতের চলচ্চিত্র জগতের দিকপালরা প্রায় সবাই মুক্তির আগে এই ছবিটির প্রিভিউ প্রিমিয়ার দেখে উচ্ছ্বসিত – তাদের প্রত্যেকে টুইটারে বা সোশ্যাল মিডিয়াতে নীরজা ছবির প্রশংসায় ফেটে পড়েছেন।

বলিউড তারকা হৃতিক রোশন টুইট করেছেন ‘অবিশ্বাস্য একটা পারফরম্যান্স! কোন্ ছবি দেখে শেষবার এত কেঁদেছি, মনে করতে পারলাম না!’

আর এক তারকা আমির খানও নীরজা দেখে একই রকম উচ্ছ্বসিত ও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন। তিনিও বলেছেন সকলের এই ছবিটা দেখা উচিত।

মুম্বাইয়ে সিনেমা-জগতের ছোটবড় প্রায় সব অভিনেতাই নীরজা নিয়ে একই রকম ভাললাগা ব্যক্ত করেছেন।

নীরজার জীবনের এই গল্প বলার জন্য তার পরিবার এই ছবির নির্মাতাদের কাছে একটি পয়সাও রয়্যালটি দাবি করেননি।

অর্জুন-কারিনার চুমু, রেগে আগুন সাইফ

কি অ্যান্ড কা ছবির নতুন পোস্টার এখন ভাইরাল। পোস্টারে কারিনা কাপুর খান আর অর্জুন কাপুরকে ঠোঁটে ঠোঁট রেখে চুমু খেতে দেখা গেছে। আর সেই দেখেই কি গোঁসা হয়েছে সাইফ আলি খানের?

অসম্ভব নয়। কারিনা প্রথমে ঠিক করেছিলেন বিয়ের পর তিনি গুডগার্ল হয়ে যাবেন। চুমুটুমু একেবারেই খাবেন না। কিন্তু কোথায় কী। পেশার খাতিরে সে সব জলাঞ্জলি দিয়ে দিয়লেন তিনি। প্রমিজ যে করা হয় ভাঙার জন্যই। তাই তো কি অ্যান্ড কা-তে অর্জুন কাপুরকে রোম্যান্টিকভাবে চুমু খেলেন বেবো বেগম। একেবারে ঠোঁটে ঠোঁট রেখে। আর পরিচালক বাল্কিও এবং প্রযোজক ছবির এই লুকটি প্রকাশ করার জন্য কিনা বেছে নিলেন ভ্যালেন্টাইনস ডে-কেই। নবাবের গোঁসা হবে না?

অবশ্য সত্যিই গোঁসা হয়েছে তাই বা কে জানে। সইফ ইন্ডাস্ট্রির কাজ কারবার সম্পর্কে অবহিত। ফলে রাগ তিনি করবেন না বলেই মনে হয়। এ সবই নিন্দুকদের রটনা। কিন্তু ছবির যে লুকটি প্রকাশ পেয়েছে, তা নবাব খানের মনে ছ্যাঁকা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

কি অ্যান্ড কা রিলিজ় করছে ১ এপ্রিল। ছবিটি প্রযোজনা করছে এরোজ় ইন্টারমন্যাশনাল। পরিচালনা করছেন আর বাল্কি। করিনা কাপুর ছবিতে ওয়ার্কিং লেডির ভূমিকায় অভিনয় করছেন। আর অর্জুন কাপুরের চরিত্রটি এক হাউজ় হাজব্যান্ডের। তাঁরা ছাড়াও ছবিতে আছেন অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চন।

বলিউডে যৌনতার পরাজয়

খুব সহজে নিশ্চিত মুনাফা তুলে আনতে বলিউড ক্রমশঃ ঝুঁকছিল যৌনতা আশ্রিত সিনেমার দিকে। একের পর এক তৈরি হতে শুরু করে অ্যাডাল্ট কমেডি। কমতে থাকে নায়িকার শরীরের কাপড়, বদলাতে থাকে ডায়লগের ধরণ। দৃশ্যায়নে ভরে উঠতে শুরু করে আদিম খেলার ইঙ্গিতময় উপস্থিতি। কিন্তু কতদিন? রোজ একই খাবার আর কার ভাল লাগে? প্রত্যেকদিন কি আর ডাল-ভাতে মন ভেজে? মাঝেমধ্যে বিরিয়ানি-কাবাবও তো চাই! সেটা না পেলে অনেকেই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর চেষ্টা করেন। বলিউডে এখন সেই অবস্থাই দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি জানাচ্ছে, যৌন সুড়সুড়ি দেওয়া সিনেমা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে দর্শক। ফের প্রেম, অ্যাকশন আর ভাল গল্পের ছবির দিকে আগ্রহ বাড়ছে সিনেমাপ্রেমীদের।

আসলে কথা হচ্ছে অ্যাডাল্ট কমেডি ছবির। ছবিগুলো বক্স অফিসে পোক্ত জায়গা করে নিয়েছিল। সেই সঙ্গে প্রযোজকেরাও মুনাফা লুটছিলেন ভালই। স্বাভাবিকভাবেই প্রযোজকদের এই ধরনের ছবি তৈরিতে উত্সাহের খামতি ছিল না। বেশ ভালই চলছিল। বাধ্য হয়ে প্রথম সারির অনেক তারকাও নাম লেখাতে শুরু করেন এসব ছবিতে। কিন্তু হঠাৎ কী হল? অশ্লীলতায় ভরপুর চলতি বছরের ‘মাস্তিজাদে’ এবং ‘কেয়া কুল হ্যায় হাম থ্রি’ একেবারেই সাড়া ফেলল না দর্শকের মধ্যে। তাহলে কি দর্শক আগ্রহ হারাচ্ছেন সেক্স কমেডির উপর?

বলিউডের মূলস্রোতের বাণিজ্যিক ছবির মধ্যে সেক্স কমেডি বা একটু পরিশীলিত ভঙ্গিতে বললে অ্যাডাল্ট কমেডি একটা গুরুত্বপূর্ণ ধারা। কোনওভাবেই এগুলোকে বলিউডের ‘সেকেন্ড ক্লাস’ ছবি বলা যাবে না। কারণ, এতে ইন্ডাস্ট্রির প্রথমসারির অনেক অভিনেতাই কাজ করেছেন। ১০ বছর আগের অ্যাডাল্ট কমেডি এবং ২০১৫-১৬’র কমেডির মধ্যে বিস্তর ফারাক। যেমন ‘নো এন্ট্রি’ আর ‘মাস্তিজাদে’। ‘নো এন্ট্রি’ সেক্স কমেডি। চটুল সংলাপ আর গানে ভরপুর। সেখানেও মোটামুটি একটা গল্পের টান ছিল। কিন্তু হালফিলে তৈরি সেক্স কমেডিগুলোতে গল্প বলতে আর কিছুই থাকছে না। থাকছে শুধু শরীরনির্ভর আদিম খেলার ইঙ্গিতময় উপস্থিতি। বলা হচ্ছে, কোনও প্লট পয়েন্ট না থাকায় আগ্রহ হারাচ্ছেন দর্শক।

প্রশ্ন উঠছে নারী-চরিত্রের অবমাননা নিয়েও। অনেক জায়গাতেই ‘মাস্তিজাদে’র প্রদর্শন নিষিদ্ধ করার দাবি তোলা হয়েছে। সেক্স কমেডিতে বরাবারই নারীদেরকে ‘সেক্স অবজেক্ট’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হালফিলের ছবিতে সেই মাত্রা আরও বেড়েছে। এ ধরনের ছবি নিয়ে বিভিন্ন সমাজসেবী সংগঠনও এখন আপত্তি তুলছে।

সানি লিওনের ছবি মানেই বক্স অফিসে নিশ্চিত সাফল্য। ‘মাস্তিজাদে’ই সানির প্রথম ছবি যেটা কাঙ্ক্ষিত ব্যবসা করতে পারেনি। ‘মাস্তিজাদে’ প্রথম দিনে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার ব্যবসা করেছিল, যেখানে সানির প্রায় প্রতিটি ছবি প্রথম দিনে সাত কোটির ওপরে ব্যবসা করেছে।

একই দিনে মুক্তি পেয়েছিল ‘এয়ারলিফ্‌ট’ আর ‘কেয়া কুল হ্যায় হাম থ্রি’। অক্ষয় কুমারের ‘এয়ারলিফ্‌ট’ ১০০ কোটির ক্লাবে ঢুকে পড়েছে। মাল্টিপ্লেক্সে এখনও ব্যবসা করছে এ ছবি। অন্যদিকে একই দিনে মুক্তি পাওয়া ‘কেয়া কুল হ্যায় হাম থ্রি’ আর এক সপ্তাহ পরে মুক্তি পাওয়া ‘মাস্তিজাদে’ মাল্টিপ্লেক্স থেকে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে ফেলেছে। ‘এয়ারলিফ্‌ট’ যেখানে প্রথম দিনে প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকার ব্যবসা করেছিল, সেখানে ‘কেয়া কুল হ্যায় হাম থ্রি’ আট কোটি টাকার ব্যবসা করে। তবে দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই ছবির ব্যবসা নিম্নমুখী। পরিসংখ্যানই স্পষ্ট করে দিচ্ছে, সাধারণ মানুষ আগ্রহ হারাচ্ছে গল্পহীন যৌনতানির্ভর ছবি থেকে। আবার বক্স অফিস বিশেষজ্ঞেরা ভাবেননি, ‘সনম রে’ ভাল ব্যবসা করবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে নতুন মুখদের বাজি রেখে তৈরি এই ছবিও প্রথম দিনে ৬.৪৫ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। দেখা যাচ্ছে, সানি লিওনকে হারিয়ে দিয়েছেন সানি দেওলও! ‘ঘায়েল ওয়ান্স এগেন’কে কেউ ধর্তব্যের মধ্যেই রাখেনি। কিন্তু সে ছবিও ৭ কোটি টাকার বেশি ব্যবসা করেছে। এ থেকে কি এটাই স্পষ্ট যে, বলিউডে যৌনতার পরাজয় হচ্ছে?

Developed by: