বিভাগ: প্রবাস

বিচারক শাহিনা রহমান

27-7-6সিলেট জেলার প্রথম মহিলা জজ হিসেবে কৃতিত্ব অর্জন করেন শাহিনা রহমান। শাহিনা রহমানের জন্ম ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দের ১৫ অক্টোবর। দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কুচাই ইউনিয়নের পশ্চিমভাগ গ্রামের (মরহুম) হাবিবুর রহমান ও (মরহুমা) রোকেয়া খানমের গর্বিত সন্তান শাহিনা রহমান সিলেট গভর্নমেন্ট হাইস্কুল থেকে ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে কৃতিত্বের সঙ্গে এস.এস.সি, সিলেট মহিলা কলেজ থেকে ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে এইচ.এস.সি পাস করেন। তিনি ১৯৭৮ থেকে ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে এল.এল.বি অনার্স সম্পন্ন করেন এবং ১৯৮১ থেকে ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এল.এল.এম পাস করেন। শাহিনা রহমান ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে বি.সি.এস পাস করে বিচার বিভাগে সহকারী জজ হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। তিনি ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে এসোসিয়েট ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৯৫ থেকে ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনেন্স কর্পোরেশন ঢাকার ল অফিসার এবং প্রিন্সিপাল অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সিলেট জেলার প্রথম মহিলা জজ। বর্তমানে তিনি নিউইয়র্ক সিটির বোর্ড অব এডুকেশনে কর্মরত আছেন। তিনি শীঘ্রই বাংলাদেশে ফিরে ল প্র্যাকটিস করতে চান। শাহিনা রহমান দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন সামাজিক ও সমাজসেবা মূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।

ইঞ্জিনিয়ার এম.এ. হামিদ

31-17মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তরুণ প্রজন্মের এক গর্বিত উত্তরাধিকারীর নাম। ইংল্যান্ড প্রবাসী এম.এ হামিদ অক্লান্ত পরিশ্রম ও সাধনার ফলে স্থান করে নিয়েছেন সাউথঅ্যান্ড এয়ারপোর্ট প্রসপেক্ট এভিয়েশন সেন্টারে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপক পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজেকে।
লালাবাজার ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের বাসিন্দা এম.এ হামিদ ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দের ৮ জুন জন্মগ্রহণ করেন। পিতা (মরহুম) আব্দুন নূর মাস্টার ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ। শিক্ষার প্রতি ছিল অসাধারণ দুর্বলতা। তাই মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শিক্ষার প্রসারে কাজ করে গেছেন। তাঁর গর্ভধারিণী মাতা রাবেয়া খাতুন।
এম.এ হামিদ ইংল্যান্ডের ৫৪ হারকোট এভিনিউ সাউথঅ্যান্ড অন-সি-তে বসবাস করেন। তিনি সাসেক্স এর ব্রাইটন কলেজ অব টেকনোলজি থেকে ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দের জুন মাসে সিটি অ্যান্ড গিল্ডস ইন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ইঞঊঈ ভরৎংঃ পবৎঃরভরপধঃব রহ ঊহমরহববৎরহম লাভ করেন। সাসেক্স সোরহাম এয়ারপোর্টের নথব্রোক কলেজ  থেকে নভেম্বর ১১৯৭ খ্রিস্টাব্দে অবৎড়ঢ়ষধহব অ১ ্ ঢ়রংঃড়হ ঊহমরহব ঈঅঅ ‘অ্ঈ (খরপবহংবফ ঊহমরহববৎ) উরঢ়ষড়সধ রহ অরৎপৎধভঃ গধরহঃবহধহপব কোর্স সম্পন্ন করেন। লন্ডনের সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে ২০০৩ খ্রিস্টাব্দের জুন মাসে ই ঊহম (যড়হ’ং) অরৎ ঞৎধহংঢ়ড়ৎঃ ঊহমরহববৎরহম কোর্স সম্পন্ন করেন। ফার্নব্ররো কলেজ অব টেকনোলজি হতে সেপ্টেম্বর ২০১০ থেকে ডিসেম্বর ২০১২ খ্রিস্টাব্দে চএ ঈবৎঃরভরপধঃব রহ ঊফঁপধঃরড়হ সার্টিফিকেট অর্জন করেন।  কেন্টের বিগিন হিল এয়ারপোর্টের ফলকন ফ্লাইয়িং সার্ভিস হতে ডিসেম্বর ১৯৯৭ থেকে জুলাই ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দে অরৎপৎধভঃ সধরহঃবহধহপব ঃবপযহরপরধহ কোর্স সম্পন্ন করেন।
সাসেক্স সোরহাম এয়ারপোর্টের কে.বি এভিয়েশন হতে আগস্ট ১৯৯৮ থেকে মে ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত গধরহঃবহধহপব ঊহমরহববৎ (রিঃয পড়সঢ়ধহু ধঢ়ঢ়ৎড়াধষ)
জুলাই ২০০৪ থেকে সেপ্টেম্বর ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি টিউটর ইন প্রথম এবং দ্বিতীয় বর্ষ এরোনটিকেল সাবজেক্টে সিটি ইউনিভার্সিটি লন্ডন থেকে এবং একজন এয়ারক্রাফট মেনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০০৮ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর থেকে ২০০৯ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর বাংলাদেশের এরোনেটিক্যাল কলেজে উচ্চতর শিক্ষা ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ঢাকায় সৌদিআরব এয়ারলাইন স্টেশনে ২০০৮ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর থেকে ২০১০ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি পর্যন্ত লাইন মেনটেইনেন্স ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পার্টটাইম কাজ করেন। তিনি হ্যামশায়ার শহরের ফার্মবরো কলেজ অব টেকনোলজিতে লেকচারার হিসেবে ২০১০ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল হতে ২০১২ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি সাউথঅ্যান্ড এয়ারপোর্ট প্রসপেক্ট এভিয়েশন সেন্টারে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপক পদে নিয়োজিত আছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত। তাঁর স্ত্রী নাজিয়া মান্নান। একমাত্র কন্যা মাইমুনা হামিদের জনক তিনি।

হোসেন আহমদ

31-16ব্রিটেনে সফল ক্যাটারিং ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী আলহাজ হোসেন আহমদ দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের রায়খাইল গ্রামে ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা হাজি আছাব আলী ও মাতা সূর্যবান বিবি।
আত্মপ্রচারবিমুখ এবং সহজসরল সাদামাটা জীবনযাপনের অধিকারী হোসেন আহমদ ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটেনে গমন করেন। তিনি ব্রিটেনে ব্যবসার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক নানা কর্মকাণ্ডেও নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন। তাঁর মাতৃভূমির
প্রতি অগাধ ভালোবাসা লক্ষ করা যায়। সুযোগ পেলেই তিনি চলে আসেন। মাতৃভূমিতে কাজ করতে চান সমাজের কল্যাণে। তাঁর গ্রামের বাড়িতে নিজস্ব ভূমিতে প্রতিষ্ঠা করেছেন রায়খাইল প্রাথমিক বিদ্যালয়। পিতার নামে হাজি আছাব আলী বৃত্তি,  যা মেধাবী ছাত্রছাত্রীদেরকে প্রতিভা বিকাশে সাহায্য করে। জালালপুর কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য একটি গাড়ি কিনে দিয়েছেন। এছাড়া বড়বাঘা সেতু নির্মাণ কাজে বিরাট অঙ্কের অর্থ সাহায্যসহ মসজিদ মাদ্রাসায় দান করে যাচ্ছেন। তিনি জালালপুর ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান। উপদেষ্টা দক্ষিণ সুরমা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে নিয়োজিত বেসরকারি সংস্থা ‘হেলিক্স’ এর অন্যতম উপদেষ্টা।
তিনি সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারস্থ সিলেট মিলেনিয়াম এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর। ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন এই মার্কেটটি ২০০২ খ্রিস্টাব্দে উদ্বোধন করা হয়। তাঁর সহধর্মিণী ফাতেমা খানম।

এ. বারী

31-18অদম্য ইচ্ছা আর প্রবল আত্মশক্তিতে বলীয়ান এ. বারী ব্যক্তিমালিকানায় ম্যানর পার্কের পাশে গড়ে তোলেন ‘দি রয়েল রিগানন্সি’ নামক সুবিশাল কমিউনিটি সেন্টার। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এ হলে রাতে ৭৫০ জন অতিথি ও বিকেলে ১১শ অতিথি আপ্যায়নের আসন রয়েছে। এছাড়া আলাদা অডিটরিয়ামে ৩৫০ জন অতিথির আসন আছে। গাড়ি পাকিং এর সুযোগ সুবিধাসহ এ বিশাল হলগুলোতে প্রবাসীরা তাদের সামাজিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নির্দ্বিধায়
পালন করতে পারেন। দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের অধিবাসী হাজি মন্তাজ আলীর একমাত্র পুত্র এ. বারী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পূর্বেই পাড়ি জমান বিলাত মুল্লুকে। বিলাতে গিয়ে লেখাপড়াসহ রেস্টুরেন্টে কাজ শুরু করেন। রেস্টুরেন্টে কাজ করে বড় কিছু করার স্বপ্ন বুনেন যার প্রতিফলন ঘটে ‘দি রয়েল রিগানন্সি’ নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। এখন তিনি একজন সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। ব্যবসার পাশাপাশি রয়েছে সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততা।

আইরিন খান

indexমানবাধিকার সংস্থা এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর সপ্তদশ মহাসচিব আইরিন খান। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকিত এই সফল নারী হচ্ছেন এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রথম এশীয় মুসলিম নারী। সর্বোপরি প্রথম বাংলাদেশি মহাসচিব। আইরিন খানের জন্ম ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায়। তাঁর গ্রামের বাড়ি দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়নের বিরাহিমপুর গ্রামে। পিতার নাম সিকান্দর আলী খান। দক্ষিণ সুরমার উজ্জ্বল নক্ষত্র আইরিন খান ম্যানচেস্টার
বিশ্ববিদ্যালয় ও হার্ভার্ড ল স্কুল থেকে পাবলিক ইন্টারন্যাশনাল ল অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস বিষয়ে পড়াশোনা করেন। তিনি দীর্ঘদিন বিভিন্ন মানবাধিকার বিষয়ক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে তিনি জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনে যোগদান করেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার সাদাকো ওগাটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে কসোভো সংকটের সময় যুগোশ্লোভিয়ায়ও একই দায়িত্ব পালন করেন এবং ওই বছরের শেষের দিকে তিনি এই.এন.এইচ.সি.আর এর উপপরিচালক নিযুক্ত হন। তিনি এ পর্যন্ত বিভিন্ন একাডেমিক পুরস্কার লাভ করেছেন। ফোর্ড ফাউন্ডেশন ফেলোশিপ পেয়েছেন। ২০০২ খ্রিস্টাব্দে তিনি ওম্যান অব দ্যা ইয়ার পুরস্কারে ভূষিত হন। তিনি ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে সিডনি শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন। আমাদের গর্ব আমাদের অহংকার আইরিন খান বাঙালি জাতির জন্য অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব।

Developed by: