বিভাগ: প্রবাস

হোসেন আহমদ

31-16ব্রিটেনে সফল ক্যাটারিং ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী আলহাজ হোসেন আহমদ দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের রায়খাইল গ্রামে ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা হাজি আছাব আলী ও মাতা সূর্যবান বিবি।
আত্মপ্রচারবিমুখ এবং সহজসরল সাদামাটা জীবনযাপনের অধিকারী হোসেন আহমদ ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটেনে গমন করেন। তিনি ব্রিটেনে ব্যবসার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক নানা কর্মকাণ্ডেও নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন। তাঁর মাতৃভূমির
প্রতি অগাধ ভালোবাসা লক্ষ করা যায়। সুযোগ পেলেই তিনি চলে আসেন। মাতৃভূমিতে কাজ করতে চান সমাজের কল্যাণে। তাঁর গ্রামের বাড়িতে নিজস্ব ভূমিতে প্রতিষ্ঠা করেছেন রায়খাইল প্রাথমিক বিদ্যালয়। পিতার নামে হাজি আছাব আলী বৃত্তি,  যা মেধাবী ছাত্রছাত্রীদেরকে প্রতিভা বিকাশে সাহায্য করে। জালালপুর কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য একটি গাড়ি কিনে দিয়েছেন। এছাড়া বড়বাঘা সেতু নির্মাণ কাজে বিরাট অঙ্কের অর্থ সাহায্যসহ মসজিদ মাদ্রাসায় দান করে যাচ্ছেন। তিনি জালালপুর ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান। উপদেষ্টা দক্ষিণ সুরমা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে নিয়োজিত বেসরকারি সংস্থা ‘হেলিক্স’ এর অন্যতম উপদেষ্টা।
তিনি সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারস্থ সিলেট মিলেনিয়াম এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর। ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন এই মার্কেটটি ২০০২ খ্রিস্টাব্দে উদ্বোধন করা হয়। তাঁর সহধর্মিণী ফাতেমা খানম।

এ. বারী

31-18অদম্য ইচ্ছা আর প্রবল আত্মশক্তিতে বলীয়ান এ. বারী ব্যক্তিমালিকানায় ম্যানর পার্কের পাশে গড়ে তোলেন ‘দি রয়েল রিগানন্সি’ নামক সুবিশাল কমিউনিটি সেন্টার। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এ হলে রাতে ৭৫০ জন অতিথি ও বিকেলে ১১শ অতিথি আপ্যায়নের আসন রয়েছে। এছাড়া আলাদা অডিটরিয়ামে ৩৫০ জন অতিথির আসন আছে। গাড়ি পাকিং এর সুযোগ সুবিধাসহ এ বিশাল হলগুলোতে প্রবাসীরা তাদের সামাজিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নির্দ্বিধায়
পালন করতে পারেন। দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের অধিবাসী হাজি মন্তাজ আলীর একমাত্র পুত্র এ. বারী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পূর্বেই পাড়ি জমান বিলাত মুল্লুকে। বিলাতে গিয়ে লেখাপড়াসহ রেস্টুরেন্টে কাজ শুরু করেন। রেস্টুরেন্টে কাজ করে বড় কিছু করার স্বপ্ন বুনেন যার প্রতিফলন ঘটে ‘দি রয়েল রিগানন্সি’ নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। এখন তিনি একজন সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। ব্যবসার পাশাপাশি রয়েছে সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততা।

আইরিন খান

indexমানবাধিকার সংস্থা এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর সপ্তদশ মহাসচিব আইরিন খান। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকিত এই সফল নারী হচ্ছেন এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রথম এশীয় মুসলিম নারী। সর্বোপরি প্রথম বাংলাদেশি মহাসচিব। আইরিন খানের জন্ম ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায়। তাঁর গ্রামের বাড়ি দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়নের বিরাহিমপুর গ্রামে। পিতার নাম সিকান্দর আলী খান। দক্ষিণ সুরমার উজ্জ্বল নক্ষত্র আইরিন খান ম্যানচেস্টার
বিশ্ববিদ্যালয় ও হার্ভার্ড ল স্কুল থেকে পাবলিক ইন্টারন্যাশনাল ল অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস বিষয়ে পড়াশোনা করেন। তিনি দীর্ঘদিন বিভিন্ন মানবাধিকার বিষয়ক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে তিনি জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনে যোগদান করেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার সাদাকো ওগাটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে কসোভো সংকটের সময় যুগোশ্লোভিয়ায়ও একই দায়িত্ব পালন করেন এবং ওই বছরের শেষের দিকে তিনি এই.এন.এইচ.সি.আর এর উপপরিচালক নিযুক্ত হন। তিনি এ পর্যন্ত বিভিন্ন একাডেমিক পুরস্কার লাভ করেছেন। ফোর্ড ফাউন্ডেশন ফেলোশিপ পেয়েছেন। ২০০২ খ্রিস্টাব্দে তিনি ওম্যান অব দ্যা ইয়ার পুরস্কারে ভূষিত হন। তিনি ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে সিডনি শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন। আমাদের গর্ব আমাদের অহংকার আইরিন খান বাঙালি জাতির জন্য অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব।

Developed by: