বিভাগ: বই পত্র

গণজাগরণ মঞ্চের আবেদন ফুরিয়েছে: মেনন

গণজাগরণ মঞ্চের মধ্যে বিভেদের মধ্যে শনিবার বিবিসির সংলাপে যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর চূড়ান্ত রায়ের পর শাহবাগে বিক্ষোভে পুলিশি হামলার প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী মেনন বলেন, “গণজাগরণ মঞ্চ এখন তিন ভাগে বিভক্ত। মানুষের মধ্যে গণজাগরণ মঞ্চের সেই অ্যাপিল আর নেই।”

গত বছর গড়ে ওঠা শাহবাগ আন্দোলনের সমর্থক মেননের দল ওয়ার্কার্স পার্টির সহযোগী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী গণজাগরণ মঞ্চে সক্রিয় ছিল।

তবে সাঈদীর চূড়ান্ত রায়ের পর শুক্রবার শাহবাগে গণজাগরণমঞ্চের যে তিনটি অংশ আলাদা সমাবেশ করেছিল, তার একটি অংশের নেতৃত্বে ছিলেন ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু।

প্রতিষ্ঠাকালীন মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার নেতৃত্বাধীন গণজাগরণ মঞ্চের অভিযোগ, সরকারের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আঁতাতের ফল হিসেবে সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমে আমৃত্যু কারাদণ্ড হয়েছে।

আপিল বিভাগের রায়ে ‘বিস্মিত’ হননি জানিয়ে মেনন বলেন, “কোর্ট এর আগেও এ ধরনের আচরণ করেছে। গোলাম আযমের নাগরিকত্ব নিয়ে যখন সারাদেশে আন্দোলন চলছে, তখন জন্মসূত্রে নাগরিক এই প্রশ্নে কোর্ট নাগরিকত্ব দিয়েছে।

“সুপ্রিম কোর্টের উচিত ছিল, মানুষের প্রত্যাশা বিবেচনা করা। যে কোনো আদালতেরই উচিত বাস্তবতা বিবেচনা করা।”

প্রত্যাশা, না কি আইন দেখে রায় দেয়া উচিত-এই প্রশ্নে সংসদ সদস্য মেনন বলেন, “আইনের বইতে যেভাবে বলা আছে, সেভাবে দেখতে গেলে অনেক রায়ই দেওয়া যাবে না।”

আওয়ামী লীগ-জামায়াত ‘আঁতাতের’ অভিযোগ প্রসঙ্গে সংলাপে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, “এই সন্দেহ করাটা যৌক্তিক, যদিও আমাদের কাছে কোনো প্রমাণ নেই। অতীতে জামাতের সঙ্গে আওয়ামী লীগ যুগপৎ কর্মসূচি দিয়েছিল।

“বিএনপি-জামাত সমঝোতা যতটা প্রকাশ্য, আওয়ামী লীগের সঙ্গে ততটা নয়। আওয়ামী লীগ দূরত্ব বজায় রেখেই সমঝোতা করে। আর রাজনৈতিক বিবেচনায় যে সাঈদীর রায় হয়েছে, সেটা মানুষ বিশ্বাস করে।”

“জাহানারা ইমামের আন্দোলনের সঙ্গে আওয়ামী লীগ বেঈমানি করেছে। আওয়ামী লীগ বিএনপির চেয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বেশি ধারণ করলেও ক্ষমতার লোভে যে কোনো কিছু করতে পারে।”

এরশাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা মেনন এসময় আসিফ নজরুলের ওই সময়ের অবস্থান এবং এখনকার অবস্থানের তুলনা করে বলেন, “আসিফ নজরুল এখন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। টকশো দেখে সেটাই মনে হয়।”

আসিফ নজরুল সঙ্গে সঙ্গে এর প্রতিবাদ করে বলেন, “কে বলে ভিন্নতা আছে। বিচারের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললেই বলা হয় ভিন্নমত। আমি প্রথম আলোতে চারটি লেখা লিখেছি।”

সংলাপে অংশ নেওয়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, আদালতের রায়ের প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল।

“তবে বিচার বিভাগ যেরকম স্বাধীন থাকার কথা সেরকম স্বাধীন নেই। রায় নিয়ে আপস হয়েছে, রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা হয়েছে। এর প্রতিবাদ আমরা জানাব।”

শহীদ বুদ্ধিজীবী আলিম চৌধুরীর মেয়ে নুজহাত চৌধুরী বলেন, “আঁতাতের কারণে এমন রায় হয়েছে সেটা বলব না। মানুষের মধ্যে আশঙ্কা থাকতেই পারে। তবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধী শিবির বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেষ্টা চালাচ্ছে।”

সম্প্রতি প্রশাসনের সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তদের মুক্তিযুদ্ধের সনদ জালিয়াতি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খান মেনন বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, এদের চাকরিচ্যুত করা উচিত। দুদক এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছে, আশা করি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে।”

আসিফ নজরুল এ প্রসঙ্গে বলেন, “৭১ সাল থেকেই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিষয়টি শুরু হয়েছে। মুজিব বাহিনীর অনেকে মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর আক্রমণ করেছে বলে অভিযোগ আছে। অনেক নেতাও যুদ্ধ করেনি। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে চেতনা নিয়ে ব্যবসা হচ্ছে বলেই জালিয়াতি হয়েছে।”

সোমবার ২০ দল হরতাল ডেকেছে

সংসদকে উচ্চ আদালতের বিচারকদের সরানোর ক্ষমতা দিয়ে সংবিধান সংশোধনের প্রতিবাদে সোমবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দল।

শনিবার গুলশানে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে জোটের এক বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

২০ দলের কর্মসূচির আগের দিন রোববার জোটভুক্ত দল জামায়াতে ইসলামীর হরতাল রয়েছে। যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তি দাবিতে দলটি গত বৃহস্পতিবারের সঙ্গে রোববারও একই কর্মসূচি দেয়।

জামায়াতে ইসলামীর আগে এই সরকার আমলে প্রথম হরতাল ডেকেছিল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত। জামায়াতবিরোধী সংগঠনটি তাদের নেতা নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গত মাসে একদিন হরতাল ডাকে।

তবে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের এটাই প্রথম হরতাল কর্মসূচি।

হজযাত্রী পরিবহনের গাড়ি, খাবার হোটেল, ওষুধের দোকান, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, লাশবাহী গাড়ি ও সংবাদপত্রের গাড়ি হরতালের আওতামুক্ত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

নির্বাচন বর্জন করে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি বিচারপতিদের সরানোর ক্ষমতা আইনপ্রণেতাদের হাতে নেওয়ার বিরোধিতা করে আসছিল।

ফখরুল বলেন, “আমরা অবৈধ ও অনৈতিক সংসদের কাছে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা দেওয়ার বিরোধিতা আগে থেকে করে আসছি। কিন্তু সরকার কোনো কিছুতে কর্ণপাত করেনি।”

উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা ’৭২ এর সংবিধানে সংসদের কাছে থাকলেও তা ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনের (বাকশাল গঠন) পর রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত হয়।

চতুর্থ সংশোধনী বাতিলের পর জিয়াউর রহমান এক সামরিক ফরমান বলে বিচারপতি অপসারণের জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করেন।

আওয়ামী লীগ আবার আগের পদ্ধতি ফিরিয়ে আনতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সংসদে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস করে।

ফখরুল বলেন, “দেশের জনগণ এই সংশোধন মানে না।

“গণবিচ্ছিন্ন আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে নিজেদের অবৈধ ও অনৈতিক ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার হীন উদ্দেশ্য সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন পাস করেছে। এর মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণ ও অভিশংসন ক্ষমতাকে একটি দলের অর্থাৎ আওয়ামী লীগের অধীনে চলে গেল।”

বিএনপি মনে করে, এখন বিচারপতিদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করা হল, এতে জনগণ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে।

বিএনপির এই আশঙ্কার প্রতিক্রিয়ায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছিলেন, রায়ের জন্য কোনো বিচারককে অপসারণের সম্মুখীন হতে হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে ফখরুলের সঙ্গে ছিলেন এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মূর্তজা, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম, জাগপার মহাসচিব খোন্দকার লুৎফর রহমান, ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান, জমিয়তে উলামা ইসলামের মহাসচিব মহিউদ্দিন ইকরাম,সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ, পিপলস লীগের সৈয়দ মাহবুব হোসেন, এনপিপির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, বিজেপির সালাহউদ্দিন মতিন প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনের আগে বিকালে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক হয়। ফখরুলের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য রিদওয়ান উল্লাহ শাহিদী, লেবার পার্টির শামসুদ্দিন পারভেজ, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, খেলাফত মজলিশের আলী আজগর, ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতি মুহাম্মদ তৈয়ব উপস্থিত ছিলেন।

জোট নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর দলীয় কার্যালয়ে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, যুগ্ম মহাসচিব ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ফখরুল।

ওই বৈঠকে ছিলেন শামসুজ্জামান দুদু, আমানউল্লাহ আমান, মোহাম্মদ শাহজাহান, ফজলুল হক মিলন, আবদুস সালাম, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, আবদুল লতিফ জনি, আবুদুস সালাম আজাদ, মীর সরফত আলী সপু, সুলতানা আহমেদ, হাফেজ আবদুল মালেক, আবুদল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, হাবিবুর রশীদ হাবিব।

ওই বৈঠকের পরই হরতালের কর্মসূচি নিয়ে দলীয় প্রধানের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে আসেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

সদলবলে ইসলাম গ্রহণ করল ক্যামেরুনের ফুটবল টিম

islam1দুবাই: আফ্রিকার দেশ ক্যামেরুনের একটি তরুণ ফুটবল দলের প্রায় সব সদস্যই ইসলাম গ্রহণ করেছেন। ইসলামে ‘শান্তি ও প্রশান্তি’ খুঁজে পেয়ে তারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন।ক্যামেরুনের ২৩ সদস্য বিশিষ্ট ওই টিমটি দু’মাস ধরে  সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফুটবল প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। দুবাইয়ের একটি ফুটবল একাডেমি দরিদ্র, গৃহহীন ও অনাথ তরুণদের ফুটলব প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। তারাই এসব তরুণ ফুটবলারদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল।দুবাইয়ের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড চেরিট্যাবল অ্যাকটিভিটিজ বিভাগ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যেই তারা ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন।
সংস্থার সিনিয়র ধর্মীয় উপদেষ্টা জাভেদ খতিব বলেন, ‘এটা বিস্ময়কর ব্যাপার যে যখন এই বয়সে বেশিরভাগ লোকই খেলাধূলা আর আমোদফূর্তিতে মেতে থাকে তখন এসব তরুণরা ঈমান ও আলোর সন্ধান করছে।’

জানা গেছে, ইসলাম ধর্মে শান্তি এবং দুবাইয়ে অবস্থানকালে সেখানকার মুসলমানদের মহানুভবতাসহ নানা কারণে টিমের কোচ ও খেলোয়াড়রা ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।
খতিব বলেন, ‘মুসলমানদের আচরণে তারা দারুণভাবে মুগ্ধ হয়েছেন, বিশেষ করে তাদের প্রতি যে মহানুভবতা এবং সম্মান দেখানো হয়েছে। এসব তরুণরা অত্যন্ত দরিদ্র কিন্তু তাদেরকে ভাইয়ের মত গ্রহণ করা হয়েছে।’

খতিব জানান, দুদিনব্যাপী পৃথক দুটি অধিবেশনে ইসলাম সম্পর্কে তাদের সব প্রশ্ন এবং সন্দেহের জবাব দেয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ইসলাম সম্পর্কে যেন তারা সম্যক অবিহত হতে পারেন সেটা নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের অনেকে হালাল ও হারাম, মদপান এবং  ঈসা আ. সম্পর্কে মুসলমানদের ধারণা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল।
খতিব জানান, সফররত  এসব খেলোয়াড়দের দুজন বাদে সবাই বৃহস্পতিবার ইসলাম গ্রহণ করেছেন। শনিবার তারা ক্যামেরুন ফিরে যাবেন।
বাকি দুজন জানিয়েছে, তারা আরো ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নেবেন।

সূত্র; দা ন্যাশনাল, ওয়ার্ল্ড বুলেটিন

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের রায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড সাঈদীর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড হলেও স্বাধীনতা যুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের রায়ে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।

প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ বুধবার সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে এই রায় ঘোষণা করে।

বেঞ্চের বাকি চার সদস্য বিচারপতি এস কে সিনহা, বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী এ সময় এজলাসে উপস্থিত ছিলেন।

এই মামলায় সাঈদী ও রাষ্ট্রপক্ষের দুটি আপিল ছিল। আদালত উভয়টির আংশিক মঞ্জুর করে।

রায়ে ১০, ১৬, ১৯ নম্বর অভিযোগে জামায়াতের এই নায়েবে আমিরকে আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

আর ৮ নম্বর অভিযোগের একাংশের জন্য সাঈদীকে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৭ নম্বরের জন্য ১০ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেয় আপিল বিভাগ।

৮ নম্বর অভিযোগের অপর অংশসহ ৬, ১১ ও ১৪ নম্বর অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ৮ ও ১০ নম্বর অভিযোগে ইব্রাহিম কুট্টি ও বিসাবালীকে হত্যা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি ঘরে আগুন দেয়ার দুটি অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল একাত্তরের রাজাকার সাঈদীর ফাঁসির রায় দিয়েছিল।

একাত্তরে ভূমিকার কারণে দেইল্যা রাজাকার নামে খ্যাত এই জামায়াত নেতার সাজা কমানোর রায় আসায় তাৎক্ষণিকভাবে আদালতের বাইরে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল ও শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা  বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।

শাহবাগে শ্লোগান ওঠে – ‘আঁতাতের এই রায় মানি না, প্রহসনের এই রায় মানি না’।

রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা ছিল মৃত্যুদণ্ড। ট্রাইব্যুনাল যে রায় দিয়েছিল তা বহাল থাকবে এটাই ছিল প্রত্যাশা। সেটা থাকেনি। আমার খুব খারাপ লাগছে।”

তবে আপিল বিভাগের রায়ের পর ‘ধর্মীয় নেতা’ হিসাবে সাঈদীর মুখোশ খুলে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ বলেন, “আমরা পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাইনি। হাতে পেলে বুঝতে পারব কোন কোন জায়গায় আরো তথ্য প্রমাণ প্রয়োজন ছিল।”

তিনি বলেন, “সর্বোচ্চ শাস্তি আমাদের প্রত্যাশিত ছিল। তবে আমরা আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।”

সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম বলেন, “আমরা এ রায়ের সঙ্গে একমত হতে পারিনি। খালাস আশা করেছিলাম।”

এই জামায়াত নেতার ছেলে মাসুদ সাঈদী রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “ফাঁসি কমে আমৃত্যু কারাদণ্ড হয়েছে। তারপরও আমরা বলব যে ন্যায়বিচার পাইনি। আমাদের প্রত্যাশা ছিল নির্দোষ প্রমাণ হয়ে বেকসুর খালাস পাব। আমরা পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর রিভিউ আবেদন করব।”

এই রায়ের মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিতদের মধ্যে দ্বিতীয় আসামির মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হলো।

এর আগে তার দলেরই নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার আপিল নিষ্পত্তির পর গত বছরের ডিসেম্বর মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়।

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রথম অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসাবে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাঈদীর বিচার শুরু হয় ২০১১ সালের ৩ অক্টোবর।

হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, নির্যাতন ও ধর্মান্তরে বাধ্য করার মতো অপরাধে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল।

ওই রায়ের পর সারা দেশে সহিংস বিক্ষোভে নামে জামায়াতকর্মীরা। তাদের তাণ্ডবে প্রথম তিন দিনেই নিহত হন পুলিশসহ অন্তত ৭০জন। অর্ধশতাধিক। পুড়িয়ে দেওয়া গাড়ি, বাড়ি এমনকি বিদ্যুৎ কেন্দ্রও।

রায়ের বিরুদ্ধে সাঈদী আপিল করলে শুনানি শেষে গত ১৬ এপ্রিল তা রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখে আপিল বিভাগ। তার পাঁচ মাস পর এই রায় এলো।

মঙ্গলবার রায়ের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

রাজধানীসহ সারা দেশে আদালত, সরকারি দপ্তর, পেট্রোল পাম্পসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনায় মঙ্গলবার থেকেই নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়।

রায় ঘিরে সুপ্রিম কোর্ট এলাকাতেও নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা। আর্চওয়ের মাধ্যমে পরীক্ষা করে আইনজীবী-সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্টদের আদালতে ঢুকতে দেয়া হয়।

৭৪ বছর বয়সী সাঈদী বর্তমানে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন। ২০১০ সালের ২৯ জুন থেকে কারাবন্দি তিনি।

তবে এর মধ্যে মা ও ছেলের মৃত্যুর পর দুই দফায় কয়েক ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন পিরোজপুর থেকে দুই বার নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরুর পর একে একে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। এরপর গ্রেপ্তার করা হয় তাদের, চলতে থাকে বিচার।

মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম রায়ে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি জামায়াতের সাবেক রুকন আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির আদেশ আসে। পলাতক থাকায় তিনি এর বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেননি।

এর পরের মাসের ৫ তারিখে দ্বিতীয় রায়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। আপিল শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত রায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ১২ ডিসেম্বর ওই দণ্ড কার্যকর হয়।

ট্রাইব্যুনালের তৃতীয় রায়ে সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের আজীবন কারাদণ্ড হয়। মৃত্যুদণ্ড হয় দলটির নেতা আলী আহসান মো. মুজাহিদ, মো. কামারুজ্জামানের।

মানবদেহ সম্পর্কে তিনটি প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা

article-2182380-096D2117000005DC-148_468x312অনেক ধরনের কুসংস্কারই আমাদের মাঝে চালু রয়েছে যা আমরা বহু যুগ ধরে শুনে আসছি এবং মেনে আসছি। মানবদেহের স্বাস্থ্য, খাবার, ক্ষমতা ইত্যাদি সম্পর্কে এমন কিছু ব্যাখ্যাকেও আমরা এতদিন পর্যন্ত সত্য বলে জেনে আসছি যার আসলে কোনো ভিত্তিই নেই বা আমরা আসলে এ সম্পর্কে ভুল জেনে এসেছি। এমনই কিছু ভিত্তিহীন ব্যাখ্যা সম্পর্কে জানুন।

১.    খুব কাছে থেকে টিভি দেখলে চোখ নষ্ট হয়ে যায় :
প্রায় সময় দেখা যায় যে ছোট বাচ্চারা খুব কাছ থেকে টিভি দেখে থাকে। বাবা মায়েরা নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা এই কাজটি করতে বেশ ভালোবাসে। প্রচলিত ধারণা হল খুব কাছ থেকে টিভি দেখলে বাচ্চাদের চোখের জ্যোতি কমে যায় এবং খুব তাড়াতাড়ি চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। কেননা দৃশ্যগুলো খুব কাছাকাছি হলে চোখের উপরে প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা থাকে।

আসল বিষয়টি হল টিভির কাছাকাছি বসে টিভি দেখলে চোখের কোনো সমস্যাই হয় না। কেননা টিভির গ্লাসে আলাদা একটি প্রটেক্টর দেয়াই থাকে যা আমাদের চোখকে রক্ষা করে থাকে। চোখের সমস্যা হয় একটানা অনেক সময় টিভি দেখা, বা কম আলোতে টিভি দেখার কারণে। এবং এটা শুধু টিভি নয়, কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকলেও হতে পারে।

২.    সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে চাইলে চাই ঝকঝকে দাঁত :
ঝকঝকে দাঁত মুখের গ্ল্যামারকে বেশ প্রাঞ্জলভাবে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম। আর বাজারের প্রায় প্রতিটি টুথপেস্টেরই দুটি শর্ত থাকে তা হল প্রাণবন্ত নিশ্বাস এবং ঝকঝকে দাঁত। বলা হয়ে থাকে যে হলুদ দাঁত অস্বাস্থ্যের প্রতীক। কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্য যে মানুষের দাঁতের প্রাকৃতিক রঙই হল হলুদ। যদিও বিভিন্ন আজেবাজে খাবার যেমন কফি, সিগারেট এবং অ্যালকোহল জাতীয় খাবার দাঁতে কালো দাগ ফেলে। তবে ঝকঝকে দাঁত হলেই যে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবেই তার নিশ্চয়তা ডেন্টিস্টরা দিতে পারেন না কারণ ঝকঝকে দাঁতের মাঝেও লুকিয়ে থাকতে পারে বিভিন্ন জীবাণু যা আপনার জন্য অস্বাস্থ্যকর।

৩.    একেবারে তলা সমান পায়ের অধিকারী দুর্ভাগ্যের দাবীদার :
এই কুসংস্কারটি গ্রামাঞ্চলে বেশি মানা হয়ে থাকে। দেখা যায় ছেলের জন্য বউ দেখতে গেলে সবকিছু খুঁতিয়ে দেখার একটি রেওয়াজ রয়েছে। হবু বউয়ের পা যদি একেবারে সমান তলার হয়ে থাকে তবে তাকে অলক্ষ্মী হিসেবে অভিহিত করা হয়। কিন্তু এটি ছাড়াও মিলিটারী বাহিনীতে এর একটি আলাদা ব্যাখ্যা রয়েছে। কোনো আর্মি বা পুলিশের পরীক্ষার সময়ে দেখা হয়ে থাকে এই বিষয়টি। তাদের যুক্ত হল ফ্ল্যাট পা দৌড়ানোর সুবিধার্থে উপযোগী নয়। এজন্যই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হাজার হাজার সৈনিকদের চাকরিচ্যুত করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালে ৩০০ সৈন্যের একটি গবেষণা দল তাদের গবেষণার মাধ্যমে একে ভিত্তিহীন বলে ঘোষণা করেন।

জেনে নিন চুম্বন সম্পর্কে অজানা যত মজার তথ্য

মধুর চুম্বন ছাড়া একটি সম্পর্ক যেন কল্পনা করা যায় না। শারীরিক মিলনের প্রথম ধাপ হল এই চুম্বন। চুম্বনে দুটি দেহের উত্তেজনা বেড়ে যায়, একপর্যায়ে তারা যেন দুই দেহ এক আত্মায় বিলীন হয়ে যায়। কিন্তু চুম্বন সম্পর্কে মজার কিছু তথ্য আপনি হয়ত জানেন না। আর এর জন্য আমাদের এই আয়োজন।

চুম্বনের উৎপত্তি :
ইংরেজি “kiss” শব্দটি এসেছে প্রাচীন ইংরেজি শব্দ cyssan থেকে যার অর্থ চুমু খাওয়া। তবে এটি সম্পর্কে কেউ নিশ্চিত নন যে cyssan শব্দটির সঠিক উৎপত্তিস্থল কোথায়। তবে ধারণা করা হয় যে চুমু খাওয়ার সময়ের আওয়াজ থেকেই এর উৎপত্তি।

রোমানরা চুমু খাওয়াকে বিভিন্ন নামে সম্বোধন করে থাকে। যেমন হাতে বা গালে চুম্বন করাকে বলে basium, ঠোঁটে চুম্বন করাকে বলে osculum এবং প্রগাঢ়ভাবে চুম্বন করাকে বলে saviolum।

তবে গ্রিকরা চুম্বনের জন্য কোনো নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করতো না কিন্তু ভালাবাসা প্রকাশের জন্য কিছু শব্দ ব্যবহার করত। বিশ্বস্ত ভালোবাসা যেমন পরিবার এবং বন্ধুবান্ধবদের ক্ষেত্রে Philia, কামনাপূর্ণ ভালোবাসার জন্য eros শব্দগুলো ব্যবহার করা হত। তবে প্লেটো এক সময় ঘোষণা দেন যে কারও সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে থাকলেও eros শব্দটি ব্যবহার করতে পারবে। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন যে সত্যিকারের ভালোবাসার ক্ষেত্রে শারীরিক মিলনের কোনো বাঁধাই থাকা উচিৎ না।

শেষ পর্যন্ত গ্রিকরা সবচেয়ে আবেগঘন আর শক্তিশালী ভালোবাসার জন্য agape শব্দটি ব্যবহার করে যা থেকে মূলত চুম্বন বা শব্দটির উৎপত্তি বলে ধারণা করা হয়।

চুম্বন পদ্ধতিটি যেভাবে ছড়িয়ে পড়ে :
চুম্বন পদ্ধতিটি আসলে কীভাবে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে তার সঠিক তথ্য বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করতে পারেন নি। তবে ধারণা করা হয় যে আদিমকালে মা তার শিশু সন্তানকে মুখে করে খাবার খাওয়াতেন ঠিক যেভাবে পাখি তার শাবক বাচ্চাটিকে খাইয়ে থাকে। এখান থেকে চুম্বনের দৃশ্যগত সূত্রপাত। এরপরে রোমান ও গ্রিক বিভিন্ন ভাস্কর্যে দুটি মূর্তির মুখে মুখ লাগানো বিষয়টি ফুটে ওঠে। এভাবে আস্তে আস্তে এক সময়ে আলেকজান্ডার দি গ্রেট এর সময়কালে চুম্বন পদ্ধতিটি সর্বাধিক ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হয়।

চুম্বনের কেমিস্ট্রি :
একটি সুষ্ঠু এবং আনন্দঘন যৌন মিলনের জন্য চুম্বন একটি অতিপ্রয়োজনীয় উপাদান। গবেষণায় দেখা গেছে যে চুম্বনের সময়ে ডোপামিন নামক এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয়। এটি একটি শক্তিশালী হরমোন যা কোকেনের ন্যায় মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে এবং যৌন মিলনের ইচ্ছায় শরীরে এক আনন্দময় অনুভূতির সঞ্চার করে। এটি ঘুম ঘুম ভাব, অতিরিক্ত ক্ষুধা এবং প্রচুর এনার্জী উৎপাদন করে।

এছাড়া চুম্বনের ফলে শরীরে দীর্ঘ সময় ধরে অক্সিটসিন নিঃসারিত হয় যা শক্তিশালী এক অনুভূতির সৃষ্টি করে। বিজ্ঞানীরা শারীরিক মিলনের সময়ে বেশি করে চুম্বনের অভ্যাস গড়ে তোলার নির্দেশ দেন যার ফলে একটি সুখী ও আনন্দময় দাম্পত্যসম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে।

চুম্বনের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা :
বেশ কয়েকটি গবেষণায় উঠে এসেছে যে আনন্দদায়ক এই চুম্বনের কিছু স্বাস্থ্যগত উপকারিতা রয়েছে। প্রতিটি চুম্বনের ফলে সৃষ্ট লালার সাথে থাকা ব্যাকটেরিয়া মানবদেহের ইমিউন পদ্ধতিকে চালিয়ে নিতে সহায়তা করে। এছাড়া চুম্বন করলে দাঁত পরিষ্কার থাকে কেননা এর ফলে লালায় থাকা বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে মুখ পরিষ্কার রাখে। চুম্বনে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রিত হয়, হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক থাকে এবং রক্তনালী প্রসারিত হয় যা অত্যন্ত স্বাস্থ্যপোযোগী। অবশ্য অসুস্থ কারও সাথে চুম্বনে জড়িয়ে পড়লে হিতে বিপরীতও হতে পারে।

চুম্বনের বিজ্ঞান :
চুম্বন বিষয়ক পড়াশোনার নাম হল ফিলেমেটোলজি। যারা এই বিষয়ে পড়াশোনা করেন তারা শুধু এর বাহ্যিক বিষয়টি নিয়েই গবেষণা করেন না এর অভ্যন্তরীণ খুঁটিনাটি বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন। অনেকেই বলে থাকেন যে প্রথম চুম্বনের মোহ অন্যরকম, যা কখনই ভোলা যায় না। কিন্তু বিজ্ঞান কিছুটা ভিন্ন কথাই বলে। চুম্বনে মূলত স্বাদ, শব্দ এবং গন্ধ এই ৩ টি বিষয়ই কাজ করে। তবে চুম্বনটি স্পর্শকাতর নাও হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রায় ৫৯ শতাংশ পুরুষ এবং প্রায় ৬৬ শতাংশ নারী প্রথম চুম্বনের প্রতি একেবারেই আসক্ত নন বা প্রথম চুম্বন তাদের ততটা ভালো লাগে না। আরেকটি গবেষণায় দেখা যায় যে পুরুষের তুলনায় নারীরাই চুম্বনে বেশি আনন্দ পেয়ে থাকেন।

বিশ্বের শতকরা ১০ শতাংশ মানুষই চুম্বন করেন না :
সারা বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষই চুম্বন করেন কিন্তু প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ চুম্বন ছাড়াই সরাসরি যৌন মিলনে মিলিত হন। বিভিন্ন কারণে এরা এটি করে থাকেন। তার মধ্যে একটি অদ্ভুত কারণ হল সুদানদের একটি বিশ্বাস। সুদানরা চুম্বন থেকে বিরত থাকেন কেননা তারা বিশ্বাস করেন যে মুখ হল মানুষের আত্মার জানালা সরূপ। চুম্বনের সময়ে কেউ তার আত্মাটি এই মুখ রূপ জানালা দিয়ে চুরি করে নিয়ে যেতে পারে।

আবার এস্কিমোরা বিশ্বাস করেন যে অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে চুম্বন করার সময়ে তাদের মুখ দুটি একসাথে আটকে যেতে পারে। এই ভয়ে তারা শারীরিক মিলনের পূর্বে চুম্বন থেকে বিরত থাকেন।

তবে বাংলাদেশেও একটা বড় সংখ্যক মানিশ এই চুম্বনে ততটা অভ্যস্ত নন। কেননা তাদের কাছে শারীরিক মিলন কোনো শৈল্পিক বা ভালোলাগার চাহিদা নয়, এক ধরনের অতি প্রয়োজনীয় জৈবিক চাহিদা যা চুম্বন ছাড়াও সম্ভব।

চুম্বনের বিশ্ব রেকর্ড :
দীর্ঘ চুম্বনের বিশ্ব রেকর্ড করেন থাইল্যান্ডের ইকাচাই এবং লাকসানা তিরানারাত নামক দম্পতিটি। তারা ২০১৩ সালে ৫৮ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড এর একটি দীর্ঘ চুম্বন করে রেকর্ডটি গড়েন।

চুম্বন পরিপন্থি দেশ :
বিশ্বে এমনও দেশ রয়েছে যেখানে চুম্বন করা একটি দন্ডনীয় অপরাধ। মেক্সিকোতে মেনুয়েল বেরুমেন নামক একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জনসম্মুখে তার স্ত্রীকে চুম্বন করায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। কিছু দেশে এর শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে অনেকটা পাশবিকভাবে।

যেসব কারনে বিতর্কের ঝড় নিয়ে আসছে ওকে!

a0796291ee61e56d6216dc6358b07268‘পিকে’ ছবির পোস্টারে ভূত এখনও সবার মাথা থেকে যায়নি। কারন ওকে ছবির পোস্টার দেখলে আপনার অন্তত সেটাই মনে হবে।

পিকের ঐ বিতর্কিত পোস্টারে আমিরের মতোই ‘ওকে’র পোস্টারে পুনম রাই নামের এক অভিনেত্রী রেলপথে দাঁড়িয়ে আছেন খোলামেলা হয়ে। রেডিওর বদলে লজ্জা ঢেকেছেন ক্যামেরা দিয়ে। এই ছবিটি পরিচালনা করেছেন কান্তি শাহ।

‘ওকে’ ছবির গল্প এরকম, প্রতিবেশী এক দম্পতির মেলামেশা দেখার পর কিশোর কিশোরীর মানসিকতায় পরিবর্তন আসে। এছাড়া ছেলেমেয়ের প্রেমের পাশাপাশি মেয়ে সমকামিতার কথাও আছে এখানে।

পরিচালক কান্তি শাহ বলেন, বালিকা থেকে একটি মেয়ের নারী হয়ে ওঠার চিত্র দর্শকরা উপভোগ করবে আশা করি। দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা মেয়েটি অর্থের লোভে ধীরে ধীরে যৌনকর্মী হয়ে ওঠে। পোস্টার বিষয়ে বলেন, আইন ও সাধারণ মানুষের সব প্রশ্নের উত্তর দিতে আমি প্রস্তুত।

পরিচালক কান্তি শাহ এর আগে ‘এমএমএস কান্ড’, ‘ফ্রি এন্ট্রি’, ‘আঙ্গুর’, ‘ফুলো হাসিনা রামকালী’, ‘জল্লাদ নাম্বার ওয়ান’, ‘মেরি জাং কা এলান’ প্রভৃতি ছবি নির্মাণ করেছেন।

যৌন অত্যাচারে স্বামীর মৃত্যু: পাঁচ স্ত্রী পলাতক

71ed260fffd97cbf7be7a2765a642610পাঁচ বউয়েরে যৌন নির্যাতনে এক স্বামীর মৃত্যু ঘটেছে। নাইজেরিয়ার রাজধানী আবুজায় এ ঘটনা ঘটেছে।

ওয়েবসাইটের এক খবরে বলা হয়েছে, স্ত্রীরা তাকে যৌন নির্যাতন শুরু করলে তিনি স্ট্রোক করে মারা যান। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। চরম শারীরিক নির্যাতনের ফলে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে তাকে।

খবরে বলা হয়, নাইজেরিয়ার ওই ব্যবসায়ীকে তার পাঁচ বউ গণধর্ষণ করলে তিনি মারা যান। মৃত ব্যক্তির নাম ইউরোকো ওনোজো। তার মোট ছয় স্ত্রী। সারারাত পার্টিতে ব্যস্ত থাকার পর ভোর রাতে বাড়ি ফিরেছিলেন ওনোজো।

অন্যদিকে সারারাত তার স্ত্রীরা তার সঙ্গ পেতে প্রহর গুণছিলেন। ভোররাতে বাড়ি ফিরে ছোট স্ত্রীর ঘরেই যান ওনোজো। এই কারণেই অপর পাঁচ স্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়ে চড়াও হয় ওনোজোর ওপর। এরপর পর পর চার স্ত্রীর সঙ্গে যৌন মিলনে বাধ্য হয় ওনোজো।

পঞ্চম স্ত্রীয়ের সঙ্গে সহবাসের সময় হঠাৎ স্ট্রোক করে মারা যান ওনোজো।

ঘটনার পর পাঁচ স্ত্রী পালিয়ে যায়। তবে তাদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

অভিযুক্ত পাঁচ স্ত্রীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার মামলা হয়েছে।

সুন্দরী প্রতিযোগিতার আসল ইতিহাস

2d2003bcdfc3e2936f5a024af0775a54বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে সুন্দরী প্রতিযোগিতা। এই সুন্দরী প্রতিযোগিতারও রয়েছে একটি সুন্দর ইতিহাস। এমটিনিউজের২৪ডটকম-এর পাঠকদের জন্যে আজ থাকলো সব ধরনের সুন্দরী প্রতিযোগিতার আসল ইতহিাস-

প্রথম সুন্দরী প্রতিযোগিতা
ইতিহাসের প্রথম সুন্দরী প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয় খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে। প্রাচীন গ্রিসে করিন্থের জনগণের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফসল নতুন শহর ব্যাসিলিসের উদ্বোধন উপলক্ষে করিন্থের শাসক কিপসেলাস এই সুন্দরী প্রতিযোগিতার প্রবর্তন করেন। সে সময় এই প্রতিযোগিতাটি যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল।

করিন্থের জনগণের কাছে প্রতিযোগিতাটি জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও ১ম সুন্দরী প্রতিযোগিতার ফলাফল ছিল যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ সে প্রতিযোগিতায় করিন্থের শাসক কিপসেলাসের স্ত্রীও প্রতিযোগী ছিলেন। বিচারকরা পক্ষপাতমূলক বিচার করে কিপসেলাসের স্ত্রীকেই সেরা সুন্দরী নির্বাচিত করেন।

এরপরের ইতিহাস
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুন্দরী প্রতিযোগিতা শুরু হয় ১৮৫৪ সালে। কিন্তু সে সময়ের সরকারের রক্ষণশীল মনোভাবের কারণে তখন খুব বেশি সুবিধা করতে পারে নি প্রতিযোগিতাটি। বাঁধার মুখে প্রতিযোগিতাটি একসময় বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কতৃপক্ষ। এরপর প্রতিযোগিতাটির ধরন একটু পরিবর্তন করে ‘ফটো সুন্দরী প্রতিযোগিতা’ নামে নতুন এক প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এভাবে কিছুদিন চলার পর ১৯২১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একেবারে খোলনলচে পাল্টে গিয়ে আধুনিক সুন্দরী প্রতিযোগিতার শুরু হয়। তবে প্রথম দিকে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে ব্যর্থ হয় প্রতিযোগিতাটি। এরপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে কর্মরত সুন্দরী নারী নির্বাচন করার জন্য প্রতিযোগিতার আরম্ভ হয়। এরপর আয়োজকরা বর্তমান ‘মিস ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতার মতো করে সংক্ষিপ্ত ভাবে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ১৯৫১ সালে। এবারও রক্ষণশীল সমাজের বাঁধা। এই প্রতিযোগিতায় যিনি বিজয়ী হন, রক্ষণশীল সমাজ তাকে প্রত্যাখান করেন। তাই বলে থেমে থাকে নি সুন্দরী প্রতিযোগিতার পথচলা।

এরপর ১৯৫২ সালে আয়োজন করা হয় ‘মিস ইউনিভার্স’ ও ‘মিস ইউএসএ’ প্রতিযোগিতার। ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রথম ‘মিস ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতার সেরা সুন্দরীর মুকুট জয় করেন ফিনল্যান্ডের ‘আরসি কুন্সিলা’। ১৯৫৫ সালে এসে ‘মিস ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতাটি টেলিভিশনে প্রচার করা শুরু হয়। ১৯৫২ সাল থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত ‘প্যাসিফিক মিলস’ নামে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ক্লথিং কোম্পানি এই প্রতিযোগিতা পরিচালনা করতো। ১৯৯৬ সাল থেকে ‘ডোনাল্ড ট্র‌াম্প’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান এই সুন্দরী প্রতিযোগিতা আয়োজনের দায়িত্ব গ্রহণ করে। ২০০১ সাল পর্যন্ত তারা এই প্রতিযোগিতা পরিচালনা করে। বর্তমানে ‘মিস ইউনিভার্স অর্গানাইজেশন’ এই প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে আসছে। প্রথমদিকে এই সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজন আমেরিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯৭১ সালের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আয়োজন করা হয় এই প্রতিযোগিতাটি।

মিস ইউনিভার্স মানেই সুন্দরের প্রাধান্য নয়
অনেক সময় দেখা যায় কৃষ্ণবর্ণের কোনো নারী ‘মিস ইউনিভার্স’ নির্বাচিত হলে অনেকেই ভ্রু-কুচকে ওঠেন। তাদের ধারণা এই নারী কিভাবে ‘মিস ইউনিভার্স’ হয়। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি ‘মিস ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতাটিতে শুধুমাত্র সুন্দরের বিচার করা হয় না। এখানে শারীরিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি নারীর ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিমত্তা, সাহস, চতুরতা, মানসিকতা, সাধারণ জ্ঞান ইত্যাদি মূল্যায়ন করা হয়।

অংশগ্রহণ করার নিয়ম
যে কেউ চাইলেই ব্যক্তিগতভাবে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারে না। নিজ দেশে আয়োজিত সুন্দরী প্রতিযোগিতার বিজয়ীরাই শুধুমাত্র এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারে। প্রতিবছর ‘মিস ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতাটি আরম্ভ হওয়ার আগে বিভিন্ন দেশের কাছে নির্বাচিত সুন্দরীর তালিকা চাওয়া হয়। তবে যদি কোনো দেশ জাতীয়ভাবে কোনো সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজন না করে তবে ‘মিস ইউনিভার্স’ কর্তৃপক্ষ নিজস্ব এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে সেই দেশ থেকে প্রার্থী নির্বাচন করে। ‘মিস ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীদের বয়স সর্বনিম্ন ১৮ বছর হতে হয়। বিভিন্ন রাউন্ড শেষে সেরা ৫ জন প্রতিযোগীকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় সেমিফাইনাল রাউন্ড। এখান থেকে সেরা তিনজন প্রতিযোগীকে নির্বাচন করা হয়।

‘মিস ইউনিভার্স’ নির্বাচিত হওয়ার পর
যিনি ‘মিস ইউনিভার্স’ নির্বাচিত হন তাকে একটি কোম্পানির হয়ে কাজ করার জন্য চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করতে হয়। চুক্তিপত্র অনুযায়ী নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কাজে অংশগ্রহণ করতে হয়। যদি চুক্তিপত্র অনুযায়ী কাজ না করে তাহলে ‘মিস ইউনিভার্স’ মুকুটটি কেড়ে নেওয়া হয়। যেমন – ২০০২ সালে রাশিয়ার ‘আক্সানা সানজুয়ান’ এর মুকুটটি কেড়ে নেওয়া হয় চুক্তি অনুযায়ী কাজ না করার জন্য।
মিস ইউনিভার্স ও মিস ওয়ার্ল্ড এক প্রতিযোগিতা নয়
মিস ইউনিভার্স ও মিস ওয়ার্ল্ড এই প্রতিযোগিতা দুটিকে নিয়ে অনেকের মধ্যে মিশ্র ধারণা রয়েছে। তারা ভাবেন এই প্রতিযোগিতা দুটো একই। কিন্তু না। দুটো প্রতিযোগিতার বাংলা অর্থ ‘বিশ্বসুন্দরী’ হলেও প্রতিযোগিতা দুটো ভিন্ন ভিন্ন। দুটো প্রতিযোগিতা আয়োজন করে ভিন্ন ভিন্ন দুটি দেশের ভিন্ন ভিন্ন দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। ‘মিস ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে ‘মিস ইউনিভার্স অর্গানাইজেশন’, এটি যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এবং ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে ‘মিস ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন, এটি যুক্তরাজ্য ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। সম্মানের দিক থেকে মিস ওয়ার্ল্ডের চেয়ে অনেকাংশেই এগিয়ে মিস ইউনিভার্স। প্রতিযোগিতা ও সম্মান ভিন্ন হলেও ধরনের দিক থেকে দুটো প্রায় একই।
মিস মুসলিম ওয়ার্ল্ড
জাকার্তায় ২০১৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় ‘মিস মুসলিম ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতা৷ ১৯ জন ফাইনালিস্টের দেহ গলা পর্যন্ত পোশাকে আবৃত ছিল আর মাথায় ছিল স্কার্ফ৷ ইসলাম ও কোরান সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হয়েছিল প্রতিযোগীদের৷ নাইজেরিয়ার ২১ বছর বয়সি ওবাবিয়ি আয়েশা আজিবোলা তাতে প্রথম হন৷
মিস বিগ এরাবিয়ান বিউটি
বিভিন্ন আরব দেশের সুন্দরীদের অংশগ্রহণে এই প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করা হয়। স্থূল শরীরের আরব তরুণীরাই কেবল এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। কয়েকটি ক্যাটাগরিতে ভোটের ভিত্তিতে সেরা প্রতিযোগী নির্বাচিত করা হয়। পোশাকের ওপর, স্যুইমসুটসহ হাঁটার ওপর, সান্ধ্যকালীন পোশাক—এ তিনটি ক্যাটাগরিতে ২০ ভাগ করে মোট ৬০ ভাগ ভোট নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া ৪০ ভাগ ভোট নেওয়া হয় বিচারক প্যানেল থেকে। লেবাননের লেবানিজ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের (এলবিসি) উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

মিস ল্যান্ডমাইন
নরওয়ের মোর্টেন ট্রাভিকের উদ্যোগে ল্যান্ডমাইনের আঘাতের শিকারদের নিয়ে ‘মিস ল্যান্ডমাইন’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল৷ কম্বোডিয়া আর  অ্যাঙ্গেলা অঅ্যযাঙ্গোলা থেকে প্রতিযোগীরা তাতে অংশ নিয়েছিল৷ কিন্তু ২০০৯ সালে কম্বোডিয়া এ ধরণের প্রতিযোগিতার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে৷ কারণ সে দেশের সরকার মনে করে এটা আহতদের অসম্মান করা শামিল৷

মিস অ্যাটম
পরমাণু কেন্দ্র নিয়ে সাধারণ মানুষের মনের ভয় দূর করতে ২০০৪ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত রাশিয়াতে ‘মিস অ্যাটম’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়৷ পরমাণু কেন্দ্রে কর্তব্যরত কর্মী ও পরমাণু বিষয় নিয়ে পড়ুয়ারা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন৷

মিস হোমলেস
গৃহহীনদের সমস্যা সম্পর্কে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে দাতব্য সংস্থা আর্টেফিক্সের উদ্যোগে ‘মিস হোমলেস’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা শুরু হয় ২০০৯ সাল থেকে৷ এতে যিনি বিজয়ী হতেন তাঁকে এক বছর  বিনা ভাড়ায় কোথাও থাকতে দেয়া হতো৷

মিস জাম্বো কুইন
হাতি রক্ষায় থাইল্যান্ডে আয়োজন করা হয় এই প্রতিযোগিতা৷ এতে অংশগ্রহণের জন্য আগ্রহীদের ওজন হতে হয় কমপক্ষে ৮০ কেজি।

ডাইনীদের সুন্দরী প্রতিযোগিতা
অবাক হওয়ার মতোই নাম। তবে ডাইনি বলতে যা বোঝায় এ প্রতিযোগিতায় এটি সেই অর্থে ব্যবহ্নত হয়নি। এ প্রতিযোগিতা হলো ত্রিশোর্ধ নারীদের সুন্দরী প্রতিযোগিতা। গাছে চেরি ব্লসম ফুটলেই, বসন্তের শুরুতে জাপানে শুরু হয় বিশেষ এক সুন্দরী প্রতিযোগিতা যার নাম ‘ন্যাশনাল বিউটিফুল উইচ’। এই প্রতিযোগিতায় মঞ্চে দেখা যায় সেসব নারীদের যারা স্রেফ গৃহবধূ। কিন্তু চ্যালেঞ্জটা থাকে অন্য জায়গায়। তাদেরকে মডেলদের সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে মঞ্চে হাঁটতে হয়। প্রতিযোগিতার প্রতিপাদ্য হলো ‘দেখ কেমন লাগে’।

মাদকসেবী ও দাগী আসামিদের সুন্দরী প্রতিযোগিতা
কলম্বিয়ার করা কর্তৃপক্ষ এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সবাই অপরাধী। কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী, চোর আর হত্যাকারীর আবাসস্থল বলে পরিচিত কলম্বিয়ার এল বুয়েন প্যাস্টর উইমেন’স প্রিজন প্রতি বছরই সেখানকার কারাবন্দিদের জন্য এ ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজন করে থাকে। বন্দিদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই প্রতি বছর এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

ছাগলের সুন্দরী প্রতিযোগিতা
২০১১ সালের ৫ জুলাই লিথুনিয়ার রামিগালা শহরে আয়োজন করা হয়েছিল ‘ছাগল সুন্দরী প্রতিযোগিতা’। যে প্রতিযোগিতার প্রতিযোগী ছিল এক পাল ছাগল। যাদের মোট সংখ্যা ছিল ১৩টি। রামিগালা শহর কর্তৃপক্ষ এই ছাগল সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। প্রতিযোগিতায় ছাগলদের সৌন্দর্য, বুদ্ধিমত্তা ও শারীরিক অবয়বকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, লিথুনিয়ার রামিগালা শহরটি ছাগলের জন্য বিখ্যাত। মানুষের সুন্দরী প্রতিযোগিতায় তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব নাম থাকে। কিন্তু ছাগলদের প্রতিযোগিতায় তাদের কি বলে ডাকা হবে! তাই প্রত্যেক ছাগলের মালিক তার প্রতিযোগীর জন্য রেখেছিলেন সুন্দর একটি নাম। প্রত্যেক মালিক তাদের ছাগলকে প্রতিযোগিতার স্থলে নিয়ে এসেছিলেন সুন্দর পরিপাটি করে সাজিয়ে। কেউ কেউ আবার তাদের ছাগলের মাথায় জড়িয়ে এনেছিলেন বিভিন্ন ধরনের কাপড়ের মুকুট।

উটের সুন্দরী প্রতিযোগিতা
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ব্যতিক্রমধর্মী এই সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এই প্রতিযোগিতার নাম `বেইনুনাহ`। বেইনুনাহ উৎসব মূলত সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিযোগীদের জন্য। উটের সুন্দরী প্রতিযোগিতার সব চেয়ে বড় উৎসব হল ‌‌`আল দাফরা` উৎসব। দাফরা উৎসবে প্রায় ২৫০০০ প্রতিযোগী অংশগ্রহন করে থাকে। বেইনুনাহ প্রতিযোগিতাই ৪ মিলিয়ন দিরহামেরও বেশি মূল্যমানের পুরস্কার থাকে। গবাদি পশুদের নিয়ে আয়োজিত প্রতিযোগিতাগুলোর মধ্যে এটা সব চেয়ে মজার ও উপভোগের। এই প্রতিযোগিতা আকারে ছোট হওয়াটা প্রতিযোগীদের জন্য একটি বাড়তি সুবিধা। প্রতিযোগীদের তাদের সন্তান উৎপাদনের ক্ষমতা ও বয়স বিবেচনায় বিজয়ী করা হয়। আর এভাবেই মালিকরা সব চেয়ে উন্নত উট বাছাই করে কিনেন এবং ভাল মানের একটি পাল তৈরি করেন। এখানে দুইটি বিশেষ প্রজাতির উট প্রতিযোগিতা করে; মধু রঙের আসায়েল প্রজাতি এবং ঘন কালো দুধেল রঙের মাজাহিম প্রজাতি। যেগুলো আল ঘারবিয়া ও সউদি আরবের মরুভুমিতে পাওয়া যায়। উটের এই সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অসুস্থ কিংবা ড্রাগ নেওয়া উট নামানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

বান্ধবীকে ২১,৮০৭ বার ফোন করে শ্রীঘরে

43534f8466f3cec3ec0be864a615353fসাবেক বান্ধবীকে ২১ হাজার ৮০৭ বার ফোনোকল ও টেক্সট মেসেজ করায় এক ফরাসি তরুণকে কারাগারে পাঠিয়েছে দেশটির একটি আদালত।

বান্ধবীকে ফ্ল্যাট ঠিক করে দেওয়ার পর এ জন্য ধন্যবাদ চেয়ে তার ফোনে এতোগুলো ফোনোকল ও মেসেজ করায় বৃহস্পতিবার লিওনের আদালত ৩৩ বছর বয়সী ওই তরুণকে শ্রীঘরে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো জানায়, প্রথমে ১০ মাস কারাদণ্ড পেলেও হাজার ইউরো মুচলেকায় দণ্ড ছয় মাস কমিয়ে নেন আসামি।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আদালত ওই তরুণকে মানসিক চিকিৎসা করার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে ওই তরুণের ওপর তরুণীর সঙ্গে সবরকমের যোগাযোগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।

সংবাদ মাধ্যমগুলো আরও জানায়, ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলের হ্রোন অঞ্চলের ওই তরুণ আগে থেকেই মানসিক অবসাদের জন্য চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। উপরুন্ত ২০১১ সালে বান্ধবীর সঙ্গে সম্পর্ক ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে একেবারে বিপর্যস্ত ও ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন।

ওই তরুণ আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেন, আমি মনে করেছি, সে যতক্ষণ না আমার টাকা ফেরত দিচ্ছে অথবা ধন্যবাদ না দিচ্ছে, ততক্ষণ আমি তাকে ফোন করে যাবো।

সংশ্লিষ্ট টেলিকম সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মতে, প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৭৩ বার কল করেছেন ওই তরুণ।

আইনজীবী ম্যানুয়েলা স্পি বলেন, হয়রানির শিকার ওই তরুণী আসামির ফোন-সংযোগ ব্লকও করে দিয়েছিলেন। কিন্তু আসামি তরুণীর মা-বাবার ফোনে, এমনকি কর্মস্থলেও ফোন করতে থাকেন।

পরে অবশ্য স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় তরুণী আসামিকে ধন্যবাদ দিয়ে হয়রানির হাত থেকে রেহাই পান, তরুণও তারপর থেকে আর কখনো ‍সাবেক বান্ধবীর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।

ওই মীমাংসার ক’দিন পরই আদালতে মামলা দায়ের করেন তরুণী ও তার পরিবার।

Developed by: