বিভাগ: খেলাধুলা

শাকিব-ফেরদৌসের সঙ্গে এবার সানি লিওন!

ঢাকাই সিনেমার কিং শাকিব খান ও জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ফেরদৌসের সঙ্গে এবার মঞ্চ কাঁপাতে আসছেন বলিউডের আলোচিত ও সমালোচিত অভিনেত্রী সানি লিওন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আয়োজনে আগামী ফেব্রুয়ারিতে তিন দেশের চলচিত্র তারকাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সেলেব্রিটি টোয়েন্টি- টোয়েন্টি ক্রিকেট লিগ। আর এ আসরেই দেখা যাবে শাকিব, ফেরদৌসের সঙ্গে সানি লিওনকে।

জানা গেছে, ভারত,পাকিস্তান এবং আয়োজক বাংলাদেশের জনপ্রিয় তারকা শিল্পীদের অংশগ্রহণে আগামী ৪ থেকে ৭ই ফেব্রুয়ারি মিরপুরে শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই মশালা টুর্নামেন্ট৷

সে লীগেই অংশ নিতে অনেক বলিউড তারকার সঙ্গে ঢাকায় আসছেন সানি লিওন। খেলা শেষে স্টেডিয়ামেই চলবে জমকালো অনুষ্ঠান। আর সে অনুষ্ঠানেই সানি লিওনের সঙ্গে নাচার সুযোগ পাবেন বাংলার দুই নায়ক।

চারদিনের প্রতিটি ম্যাচের শেষে অনুষ্ঠিত হবে তিন দেশের তারকাদের নিয়ে জমকালো অনুষ্ঠান। সানি লিওন ছাড়াও এ তারকাদের দলে আছেন অক্ষয় কুমার, সালমান খান, অজয় দেবগন ও সোনাক্ষী সিনহা।

যুক্তরাষ্ট্রে সিলেটের জিদানের অনন্য ফুটবল প্রতিভা

মাত্র সাত বছর বয়সেই স্বপ্নের তাড়া শুরু। বয়স এখন ১৪। পেশাদার ফুটবলার হিসেবে নাম লেখানোর স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে চলছে ক্লান্তিহীন খাটুনি। ভাবছেন, বিশ্বকাপ মাতানো ফ্রান্সের তারকা ফুটবলার জিনেদিন জিদানের ছোটবেলার গল্প বলছি? না, বলছি জিদান মিয়ার কথা। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাজ্যের এই কিশোর যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন একাডেমিভিত্তিক টুর্নামেন্টে খেলার পর গত তিন বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের এফসি ডালাস অনূর্ধ ১৫ দলে খেলছে। সেই সঙ্গে চলছে বিশ্বের অন্যতম নামী অ্যাথলেটিকস প্রশিক্ষণকেন্দ্র মাইকেল জনসন পারফরম্যান্স সেন্টারে নিজেকে ঝালিয়ে নেওয়ার কাজ।

বেশ কয়েক মাস আগেই জিদানের খবর কানে আসে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করায় তার সাক্ষাৎ পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে গত নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে এশিয়ান ফুটবল অ্যাওয়ার্ডস আসরে অংশ নিতে লন্ডনে আসে জিদান। ওই অনুষ্ঠানে ফুটবলের উদীয়মান তারকা হিসেবে জিদানের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘স্পেশাল রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ডস’। এই সুযোগে জিদানের কাছ থেকে জানা হয়, তার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন ও পেছনের গল্প।

জিদানের শুরু
লন্ডনের নিকটবর্তী শহর কেন্টের বাসিন্দা সুফিয়ান মিয়া ও শিপা মিয়া। তঁাদের একমাত্র ছেলে জিদান মিয়ার জন্মও এখানেই। এই পরিবারের বাংলাদেশের বাড়ি সিলেটের মৌলভীবাজার উপজেলার রাজনগরে। সুফিয়ান মিয়া লন্ডনে পাড়ি জমান সেই সত্তরের দশকে। সুফিয়ান মিয়া বেশ ফুটবল পাগল মানুষ। তরুণ বয়সে তিনি নিজেই নামি ফুটবলার হওয়ার জন্য নানা চেষ্টা চালিয়েছেন। সর্বশেষ ২০০৯ সালে মিডলসেক্স দলের হয়ে তিনি কাউন্টি লিগেও খেলেছিলেন।
সুফিয়ান মিয়া বলেন, ‘খুব ছোটবেলা থেকেই জিদানকে সঙ্গে নিয়ে ফুটবল প্রশিক্ষণে যেতাম। ওর বয়স যখন প্রায় সাত বছর, মাঠে বল নিয়ে তার দুরন্তপনা সবার দৃষ্টি কাড়ে’। খুব কম বয়সেই ছেলের ফুটবল প্রতিভা আর খেলার প্রতি টান আঁচ করতে পেরে তিনি জিদানকে ডেভিড বেকহাম সকার একাডেমিতে ভর্তি করিয়ে দেন। শুরু হয় জিদানের ফুটবলার হয়ে ওঠার অভিযান।

বাবার স্বপ্ন
বাবা যখন সন্তানের মাঝে নিজের অপূর্ণ স্বপ্নের জাগরণ দেখতে পান, তখন সন্তানের প্রতিভার ধার যে কয়েক গুণ বেড়ে যাবে, সেটাই তো স্বাভাবিক। জিদানেরও ঠিক হয়েছে তা-ই। শুরু থেকেই সে একাডেমি পর্যায়ের বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পায়। সে একে একে ইংল্যান্ডের ডালউইচ হ্যামলেটস এফসি, ক্রিসটাল প্যালেস এফসি, প্রোটাস সকার একাডেমি, এলিট সকার একাডেমির হয়ে মাঠে নামে। ১১ বছর বয়সে সুযোগ পায় আর্সেনাল এফসি ডেভেলপমেন্ট স্কোয়াডে। একাডেমি পর্যায়ের টুর্নামেন্টে খেলার পাশাপাশি বাবার আগ্রহে ডেনমার্ক, স্পেন, হংকং, থাইল্যান্ডে গিয়ে বিভিন্ন একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছে জিদান।

জিদান জানায়, সর্বশেষ ২০১২ সালের ডিসেম্বরে বাবা তাকে যুক্তরাষ্ট্রের জেনিভার স্পাইয়ার ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান প্রশিক্ষণের জন্য। সেখানে জিদান বিশ্বখ্যাত অ্যাথলেটিকস প্রশিক্ষণকেন্দ্র মাইকেল জনসন পারফরম্যান্স সেন্টারের (এমজেপিসি) কর্তাদের নজর কাড়ে। তাঁরা জিদানকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য বৃত্তি প্রদান করেন। প্রায় দেড় বছর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে সে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় কলাম্বাস ক্রু ক্লাবের হয়ে খেলত। ফুটবলে আরও ভালো সুযোগের কথা বিবেচনা করে ২০১৪ সালের আগস্টে সে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসের মাইকেল জনসন পারফরম্যান্স সেন্টারে (এমজেপিসি) বদলি হয়। এখানে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি জিদান খেলছে এফসি ডালাস অনূর্ধ্ব ১৫ দলে। ইতিমধ্যে সে ডালাস টেক্সাস ক্লাসিক লিগ, দ্য ডালাস মেমোরিয়াল টুর্নামেন্ট ও টেক্সাস ব্লু কাপ টুর্নামেন্টে নিয়মিত খেলোয়াড় হয়ে উঠেছে। জিদান বলছিল, ‘সেন্টার মিডফিল্ডার হিসেবে খেলতেই আমি বেশি পছন্দ করি। কিন্তু মাঝেমধ্যে লেফট উইং ও স্ট্রাইকার হিসেবেও খেলতে হয়। যে পজিশনেই খেলি না কেন, মাঠে নিজেকে উজাড় করে দিতে মোটেও কার্পণ্য করি না।’

মাঠের জিদান
ভালো ফুটবলার হয়ে উঠার অনুষঙ্গগুলো ছোটবেলা থেকেই জিদানের মধ্যে দৃশ্যমান ছিল। বল পায়ে তেজি ভঙ্গি আর দারুণ গতি জিদানকে এগিয়ে দিয়েছে বারবার। দৈহিক ক্ষিপ্রতা, শৃঙ্খলা আর ফুটবলার হয়ে উঠার প্রবল ইচ্ছাশক্তির কারণেই এফসি ডালাস নিজেদের দলে টেনে নেয় জুনিয়র এই ফুটবলারকে। মাঠেও নিয়মিত নিজের ইচ্ছাশক্তির প্রমাণ দিচ্ছে জিদান। গত বছর ডালাস কাপ টুর্নামেন্টে ম্যান অব দা টুর্নামেন্ট নির্বাচিত হয় জিদান। পুরো টুর্নামেন্টে জিদান গোল করেছিল মাত্র দুটি। কিন্তু জিদান আলোচিত হয় অন্য কারণে। কোয়ার্টার ফাইনালে একদম শেষ মুহূর্তে মোক্ষম গোলটি জিদানই করে। সেমিফাইনালে এফসি ডালাস প্রতিপক্ষের জালে চারটি গোল জড়ায়। যার সবগুলো জিদানের বানিয়ে দেওয়া। উদীয়মান এই ফুটবলার ডালাস ক্লাসিক্যাল জুনিয়র লীগে নিজের অবস্থান পোক্ত করে নিয়েছে।

জিদান পারবে তো?
পেশাদার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নের পিছে ছুটলেও জিদানের পড়াশোনায় কিন্তু কোনো ছাড় নেই। সে ডালাসের একটি বিশেষায়িত স্কুলে ইয়ার টেনে পড়ছে। জিদান জানায়, ওই স্কুলের প্রায় সবারই পড়াশোনার পাশাপাশি ফুটবলার, বাস্কেটবল খেলোয়াড়, অভিনয়শিল্পী কিংবা অন্য কিছু হওয়ার বিশেষ স্বপ্ন আছে। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলে স্কুল। প্রতি ছয় সপ্তাহ পরপর পরীক্ষা। ৮০ শতাংশের ওপরে নম্বর পেলেই কেবল পাস মেলে। জিদান জানায়, স্কুল শেষ করে সপ্তাহে পাঁচ দিন টানা তিন ঘণ্টা করে শারীরিক গঠনের প্রশিক্ষণ নিতে হয়। এর মধ্যে সপ্তাহে তিন দিন থাকে এএফসি ডালাস অনূর্ধ্ব ১৫ দলের সঙ্গে প্রশিক্ষণ। আর সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে বেশির ভাগই খেলতে হয় ফুটবল ম্যাচ।

জিদান জানায়, ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন তাড়া করতে গিয়ে ক্রীড়াঙ্গনের অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের সান্নিধ্য পাওয়ার সুযোগ হয়েছে তার। তবে তার কাছে সবচেয়ে উপভোগ্য বিষয় মনে হয়েছে গত নভেম্বরে মাইকেল জনসন পারফরম্যান্স সেন্টার নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র ‘চেইজিং পারফেকশন’-এ অংশগ্রহণ।

যুক্তরাজ্যের রাজনীতি, শিক্ষা, চিকিত্সা, প্রযুক্তি ও বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশিরা ইতিমধ্যে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিয়েছে। কিন্তু পুরো পশ্চিমা বিশ্ব যে ফুটবল নিয়ে পাগল, সেই ফুটবল অঙ্গনে বাংলাদেশিদের অর্জনের খাতাটি বলতে গেলে শূন্য। পশ্চিমা পেশাদার ফুটবলে নাম লিখিয়ে জিদান কি পারবে নতুন ইতিহাস গড়তে?
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই কিশোর ফুটবলারের খবর রাখতে চোখ রাখুন তার ওয়েবসাইটে : www.zidanmiah.com

যুব বিশ্বকাপের চার দল সিলেট আসছে আজ

আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশে শুরু হতে যাওয়া অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সিলেট পর্বে অংশগ্রহনকারী চারটি দল আফগানিস্তান, পাকিস্তান, শ্রীলংকা ও কানাডা সিলেটে আসছে আজ মঙ্গলবার।

এ চারটি দল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে এসে পৌছাবে বলে জানা গেছে। সিলেটে পৌছার পর উপশহরের রোজভিউ হোটেলে তাদেরকে রাখা হবে।

এদিকে, সকালে সিলেটে পৌছে বিকালে অনুশীলনে নামবে যুবরা। মঙ্গলবার বিকালে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে কানাডা ও শ্রীলংকা এবং বিভাগীয় স্টেডিয়ামে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান অনুশীলন করবে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাগেছে।

সিলেটের দুটি ভেন্যুতে প্রথম রাউন্ডের বি গ্রুপের ৫টি ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ২৮ ও ৩০ জানুয়ারি সিলেট জেলা স্টেডিয়াম ও বিভাগীয় স্টেডিয়ামে একটি করে এবং ১ ফেব্রুয়ারি সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামে একটি খেলাড় মধ্য দিয়ে সিলেট পর্ব শেষ হবে।

সিলেটে বিশ্বকাপ: থাকছে চার স্তরের নিরাপত্তা

জানুয়ারির ২৭ তারিখ থেকে বাংলাদেশে পর্দা ওঠছে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের। ১৬ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপের ভেন্যুর তালিকায় আছে সিলেটের দুই স্টেডিয়ামও। সিলেট বিভাগীয় আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ৩টি এবং সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে হবে বিশ্বকাপের ২টি ম্যাচ। ২৮, ৩০ ও ১ ফেব্র“য়ারি ম্যাচগুলো হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বকাপে সিলেটের এই ৫টি ম্যাচ নিয়ে নিরাপত্তার ছক আঁকছে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি। চার স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে তারা।

২৮ জানুয়ারি দুটি ম্যাচ দিয়ে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সিলেট পর্বের সূচনা হবে। সিলেট বিভাগীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে লড়াইয়ে নামবে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান এবং সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা ও কানাডা। ৩০ জানুয়ারি বিভাগীয় স্টেডিয়ামে খেলবে শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান এবং জেলা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে কানাডা ও পাকিস্তান। বিশ্বকাপের সিলেট পর্বের শেষদিন, ১ ফেব্রæয়ারি সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামে লড়াইয়ে নামবে আফগানিস্তান ও কানাডা।

বিশ্বকাপের এই ডামাঢোলের জন্য পুরোদমে প্রস্তত হয়ে আছে সিলেট। সিলেটের দুটি ভেন্যুর প্রস্তুতিই প্রায় চূড়ান্ত। টুকটাক কিছু কাজ ছাড়া আনুষাঙ্গিক অন্যান্য সংস্কার কাজ প্রায় শেষ করা হয়েছে। বর্তমানে নিরাপত্তার বিষয়টিতেই সর্বোচ্চ জোর দেয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়া অনুর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ বর্জন করায় নিরাপত্তার বিষয়ে কঠোরভাবে দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই নিরাপত্তা বিষয়ে ঢাকায় দুই দফা বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ওই দুই বৈঠকে সারাদেশের যেসব ভেন্যুতে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেসব ভেন্যু এলাকার উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কিভাবে বিদেশী দল, দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, সেই পরিকল্পনাও ওই দুই বৈঠকে প্রণয়ন করা হয় বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সিলেটে জঙ্গি হামলা হতে পারে বলে খোদ অর্থমন্ত্রী, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ও মহানগর পুলিশ কমিশনার সা¤প্রতিক সময়ে সতর্কবাণী দেয়ায় বিশ্বকাপকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সিলেটে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মিলে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। সম্ভাব্য নিরাপত্তা ত্র“টির বিষয়ে ওইসব সভায় আলোচনা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে সিলেটের দুই ভেন্যু, ক্রিকেটারদের হোটেল এবং বিমানবন্দর এলাকায় থাকবে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এজন্য মহানগর পুলিশের সাথে কাজ করার জন্য সিলেট জেলা পুলিশ থেকে অতিরিক্ত সহস্রাধিক পুলিশ সদস্য নিয়ে আসা হচ্ছে। বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালীন সময়ে পোশাকধারী ছাড়াও সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করবেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। বিশেষ করে গ্যালারিতে দর্শক সেজে গোয়েন্দা সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

এবার বিশ্বকাপ চলাকালে প্রযুক্তির ব্যবহারের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হবে বলেও জানা গেছে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ রহমত উল­াহ বলেন, অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের জন্য সিলেটে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে ঢাকায় দুটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সভায় আমিও ছিলাম।

তিনি বলেন, এবার সর্বাধুনিক কয়েকটি ইন্সট্রুমেন্ট আমরা ব্যবহার করবো। প্রযুক্তিগত সক্ষমতায়ও আমরা সমানভাবে এগিয়ে থাকতে চাই।

ক্রিকেট নিউ জিল্যান্ডে হার দিয়ে ওয়ানডে সিরিজ শুরু পাকিস্তানের

প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে সহজেই হারিয়েছে নিউ জিল্যান্ড। ৭০ রানের এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল কেন উইলিয়ামসনের দল।

সোমবার ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে এক সময়ে দিক হারানো নিউ জিল্যান্ডকে কক্ষপথে ফেরান হেনরি নিকোলস ও মিচেল স্যান্টনার। শেষের দিকে ম্যাট হেনরি ও মিচেল ম্যাকক্লেনাগানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৮ উইকেটে ২৮০ রান তোলে কিউইরা।

এরপর ট্রেন্ট বোল্ট ও গ্র্যান্ট এলিয়টের বোলিং নৈপুণ্যে চার ওভার বাকি থাকতে ২১০ রানে অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান।

প্রায় ১০ বছর পর এই প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ হল বেসিন রিজার্ভে।

৩৭ রানের মধ্যে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে হারায় পাকিস্তান। পর পর দুই ওভারে অধিনায়ক আজহার আলি ও আহমেদ শেহজাদকে ফিরিয়ে দেন এলিয়ট।

মোহাম্মদ হাফিজের সঙ্গে ৮১ রানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন বাবর আজম। হাফিজকে (৪২) ফিরিয়ে বিপজ্জনক হয়ে উঠা জুটি ভাঙেন উইলিয়ামসন। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত কোনোমতে দুইশ’ পার হয়।

নিজের শেষ ওভারে শোয়েব মাকসুদকে ফিরিয়ে দেন এলিয়ট। এই মিডিয়াম পেসার ৪৩ রানে নেন তিন উইকেট।

পাকিস্তানের আশা বাঁচিয়ে তখনও ক্রিজে ছিলেন বাবর (৬২)। তাকে ফিরিয়ে ম্যাচ অনেকটাই নিজেদের মুঠোয় নিয়ে আসেন কোরি অ্যান্ডারসন। পাকিস্তানের টেল এল্ডারদের তেমন কিছু করার সুযোগ দেননি আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ বোলার বোল্ট।

এই বাঁহাতি পেসার ৪৪তম ওভারে তিন বলের মধ্যে ফিরিয়ে দেন সরফরাজ আহমেদ ও আনোয়ার আলিকে। পরের ওভারে চার বলের মধ্যে মোহাম্মদ আমির ও মোহাম্মদ ইরফানের উইকেট নিয়ে অতিথিদের ইনিংস গুটিয়ে দেন বোল্ট।

৪০ রানে চার উইকেট নিয়ে নিউ জিল্যান্ডের সবচেয়ে সফল বোলার বোল্ট।

এর আগে পাকিস্তানের বোলারদের তোপে ২৩তম ওভারে ৯৯ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে নিউ জিল্যান্ড। আনোয়ারের বলে ব্যক্তিগত ১৫ রানে হাফিজের হাতে নিকোলস জীবন না পেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত।

সহজ ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যাওয়া নিকোলস খেলেন ৮২ রানের চমৎকার এক ইনিংস। আনোয়ারের বলে বোল্ড হয়ে শেষ হওয়া তার ১১১ বলের ইনিংসটি সাজানো ৭টি চারে।

নিকোলসের সঙ্গে ৭৯ রানের জুটি উপহার দেওয়া স্যান্টনার খেলেন ৪৮ রানের কার্যকর এক ইনিংস। শেষের দিকে ৩৩ বলে ৭৩ রানের জুটি গড়ে নিউ জিল্যান্ডকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন হেনরি ও ম্যাকেক্লনাগান।

৩০ বলে চারটি করে ছক্কা ও চারের সাহায্যে ৪৮ রানে অপরাজিত থাকেন হেনরি। ওয়াহাব রিয়াজের বাউন্সারে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়ার আগে ১৮ বলে ৩১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন ম্যাকক্লেনাগান।

৪৭তম ওভারের প্রথম বলটি করতে এসে চোট পান পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবার ওয়ানডে খেলতে নামা মোহাম্মদ আমির। তাই ১০ ওভারের কোটা পূরণ করতে পারেননি; ৮.১ ওভারে ২৮ রানে তিন উইকেট নেন এই বাঁহাতি পেসার। আনোয়ার তিন উইকেট নিতে খরচ করেন ৬৬ রান। আরেক পেসার ইরফান দুই উইকেট নেন ৪৩ রানে।

আগামী বৃহস্পতিবার নেপিয়ারে হবে দ্বিতীয় ওয়ানডে।

নেইমারের গোলে বার্সার জয়

আথলেতিক বিলবাওকে ২-১ গোলে হারিয়ে স্প্যানিশ কাপের সেমি-ফাইনালে ওঠার পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে বার্সেলোনা।

বুধবার রাতে আথলেতিকের মাঠ সান মামেসে কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রথম লেগে মুনির এল হাদ্দাদির গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর প্রথমার্ধেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নেইমার। ম্যাচের শেষের দিকে ব্যবধান কমান আরিৎজ আদুরিস।

চোটের কারণে দলে ছিলেন না লিওনেল মেসি, নিষেধাজ্ঞার জন্য সুয়ারেস; বার্সেলোনার আক্রমণের মূল দায়িত্ব ছিল তাই নেইমারের কাঁধে। দায়িত্বটা ভালোমতোই পালন করেন ব্রাজিল অধিনায়ক।

সাকিবের সাথে অন্তরঙ্গ ছবি নিয়ে মুখ খুললেন মিথিলা

টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে নিয়ে বিতর্ক যেন শেষই হতে চায় না। বিভিন্ন সময়ের বিতর্কের চেয়ে এবার যেন বিতর্কটা অন্যরকম। গত কিছুদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একজন নারীর সঙ্গে সাকিবের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কিছু ছবি জন্ম দিয়েছে নতুন বিতর্কের।

ছবিটির নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সাকিব ভক্তদের মধ্যেও তৈরি হয়েছিল মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সবার মনেই ঘুরপাক খেয়েছে কৌতুহল। অনেকেই জানতে চেয়েছেন, কে এই মেয়েটি?

যখন ছবিটি নিয়ে খোদ সাকিব আল হাসানই নিশ্চুপ ভূমিকায় রয়েছেন ঠিক অমন সময়ে ওই বিতর্কে নিজ থেকেই অংশ নিলেন ছবিতে থাকা মেয়ে হিসেবে নিজেকে দাবি করা তানজিয়া জামান মিথিলা।

নিজের ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গতকাল সোমবার ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমেই দাবি করেন, ‘হ্যাঁ, এটা আমি। কিন্তু বিষয়টি হলো, এটা কিশোরপ্রেম এবং এটি নিয়ে আমি অনুতপ্ত নই…।’

তবে লক্ষ্যণীয় বিষয়টি হলো স্ট্যাটাসে মিথিলার ক্ষোভ যেন সাকিবের স্ত্রীর ওপরই। মিথিলা বলতে চেয়েছেন, পরিশ্রম করে নিজের একটি পরিচয় তৈরি করতে পেরেছেন তিনি। এমনকী কারও ওপর নির্ভরশীল নন। অন্যদিকে সব ক্ষোভের তীর সাকিবের স্ত্রীর দিকে ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘আপনি সাকিব আল হাসানের স্ত্রী তাই আপনাকে মানুষ চেনে। এ ছাড়া আপনি কিছুই না। আপনি একজন সেলিব্রেটির স্ত্রী ছাড়া নিজের পরিচয় তৈরি করতে পারেননি।’

ফেসবুকে নানান বিতর্কের প্রতি ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে সবাইকে অনুরোধ করে উল্লেখ করেন, কাউকে নিয়ে কিছু বলতে হলে তার ব্যাপারে ভালোভাবে জেনে বলবেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই এই ছবিকে শুরুতে ফটোশপ এডিট বললেও এখন যেন আর সেটি বলার কোনও অবকাশ নেই।

অন্যদিকে সাকিব ভক্তরা মিথিলার বক্তব্য মানতে নারাজ। অনেকে এখনও ছবিটিকে মিথিলার জনপ্রিয় হওয়ার কৌশল হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকেই জানতে চাইছেন এ বিষয়ে সাকিবের বক্তব্য।

যতই বিতর্ক কিংবা কৌতুহলের সৃষ্টি হোক না কেন মিথিলা সাংবাদিকসহ সবার উদ্দেশে অনুরোধ করে বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে যেন নতুন কোনও ইস্যু তৈরি করা না হয়।

সিলেটে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ: প্রস্তুত দুই ভেন্যু

বাসিয়া ডেস্ক : জানুয়ারি ২৭ তারিখ থেকে বাংলাদেশে পর্দা ওঠছে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের। ১৬ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপের ভেন্যুর তালিকায় আছে সিলেটের দুই স্টেডিয়ামও। সিলেট বিভাগীয় আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ৩টি এবং সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে হবে বিশ্বকাপের ২টি ম্যাচ। ২৮, ৩০ ও ১ ফেব্রুয়ারি ম্যাচগুলো হওয়ার কথা রয়েছে।

২৮ জানুয়ারি দুটি ম্যাচ দিয়ে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সিলেট পর্বের সূচনা হবে। সিলেট বিভাগীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে লড়াইয়ে নামবে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান এবং সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা ও কানাডা। ৩০ জানুয়ারি বিভাগীয় স্টেডিয়ামে খেলবে শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান এবং জেলা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে কানাডা ও পাকিস্তান। বিশ্বকাপের সিলেট পর্বের শেষদিন, ১ ফেব্রুয়ারি সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামে লড়াইয়ে নামবে আফগানিস্তান ও কানাডা।

বিশ্বকাপের এই ডামাঢোলের জন্য পুরোদমে প্রস্তত হয়ে আছে সিলেট। সিলেটের দুটি ভেন্যুর প্রস্তুতিই প্রায় চূড়ান্ত। টুকটাক কিছু কাজ ছাড়া আনুষাঙ্গিক অন্যান্য সংস্কার কাজ প্রায় শেষ করা হয়েছে। গত মাসে আইসিসি’র টুর্নামেন্ট ম্যানেজার ক্রিস টেটলির নেতৃত্বে একটি দল সিলেট বিভাগীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও সিলেট জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শন করে। আইসিসি’র পরিদর্শক দল স্টেডিয়াম দুটির পিচ, গ্যালারি, আউটফিল্ডসহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিক বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করে। তারা উভয় স্টেডিয়ামের প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে বিসিবি সংশ্লিষ্টদের কিছু পরামর্শ প্রদান করে।

সিলেট বিভাগীয় আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে এর আগেও বড় ধরনের টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপের কয়েকটি ম্যাচ সফলভাবে সম্পন্ন হয় সেখানে। পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবারও চমকপ্রদ আয়োজেন প্রস্তুত বিভাগীয় স্টেডিয়াম। তার সাথে যুক্ত হয়েছে সিলেট স্টেডিয়াম।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আইসিসি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসক্রিপশন মেনেই সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়াম ও জেলা স্টেডিয়ামে সংস্কার কাজ করা হয়েছে। প্রায় বছরখানেক ধরে বিভাগীয় স্টেডিয়ামকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে প্রস্তুত করতে কাজ করেছেন গ্রাউন্ডস কর্মীরা। অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সিলেট বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নতুন ২টি পিচসহ ৭টি আন্তর্জাতিক মানের পিচ তৈরী করা হয়েছে। বৃষ্টি হলে অতিদ্রুত যাতে পানি নিষ্কাশন হয়, সেজন্য অত্যাধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে সরেজমিনে সিলেট জেলা স্টেডিয়াম ঘুরে দেখা যায়, স্টেডিয়ামে সাজ সাজ রব চলছে। পুরোদমে প্রস্তুত রয়েছে ম্যাচ পিচ, অনুশীলন পিচ, গ্রাউন্ডস। বিসিবি’র পিচ কিউরেটর গামিনি ডি সিলভার তত্ত্বাবধানে পিচ তৈরী করা হয়েছে। উন্নতির ছোঁয়া লাগছে প্রেসবক্সে। ঝকঝকে করে রাখা হয়েছে গ্যালারি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট বোর্ডও স্টেডিয়াম দুটির প্রস্তুতি কাজে অর্থায়ন করছে।

সিলেটের দুটি ভেন্যুর প্রস্তুতি বিষয়ে বিসিবি’র পরিচালক শফিউল আলম নাদেল চৌধুরী বলেন, ‘সিলেটের দুটি ভেন্যুই আইসিসি অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত। আনুষাঙ্গিক যে কাজগুলো বাকি রয়েছে, তা দ্রুত শেষ করা হচ্ছে।’

সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন সেলিম বলেন, ‘প্রথমবারের মতো জেলা স্টেডিয়াম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যুর মর্যাদা পাচ্ছে। এজন্য এই স্টেডিয়াম পুরোদমে প্রস্তুত হচ্ছে। ইতোমধ্যেই সিংহভাগ কাজ শেষ করা হয়েছে।’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান ও বিসিবি পরিচালক মোহাম্মদ হানিফ ভূঁইয়া বলেন, ‘অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের জন্য সিলেট প্রস্তুত রয়েছে। বিশেষ করে সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামের পিচগুলো অত্যন্ত ভালোমানের। ভবিষ্যতে সিলেটে আরো বড় ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে।’

‘সিআর সেভেন’ হওয়ার গল্প শোনালেন রোনালদো

বাসিয়া ডেস্ক : ফিফা ব্যালন ডি’অর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আগে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো শুনিয়েছেন ‘সিআর সেভেন’ হওয়ার গল্প।

সোমবার রাতে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন এবারের ফিফা ব্যালন ডি’অরের তিন জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা লিওনেল মেসি, নেইমার ও রোনালদো।

সেখানেই এক প্রশ্নের জবাবে জানালেন ৭ নম্বর জার্সি পাওয়ার ঘটনাটি।

ক্যারিয়ারের শুরুতে স্বদেশের ক্লাব স্পোর্তিংয়ে ২৮ নম্বর জার্সি পরে খেলতেন রোনালদো। এরপর ২০০৩-০৪ মৌসুমে পাড়ি জমালেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে; সেখানে এসেও ২৮ নম্বর জার্সিই চেয়েছিলেন। কিন্তু ওই সময়ের ইউনাইটেডের কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসন তাকে বলেন, “না, তুমি ৭ নম্বর জার্সি পরবে।”

কোচের এ কথায় নাকি একটু ভয়ই পেয়েছিলেন রোনালদো। কারণটাও বললেন, “আমি জানতাম যে, ডেভিড বেকহ্যাম এই জার্সি পরতো।”

৭ নম্বর জার্সিকে আরও পরিচিত করে তোলেন রোনালদো। এই জার্সিতেই তিনবার জেতেন বর্ষসেরার পুরস্কার। এখন ব্র্যান্ডেই পরিণত হয়েছে ‘সিআর সেভেন’।

পঞ্চমবারের মতো বর্ষসেরা ফুটবলারের খেতাব জিতলেন মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক : অসাধারণ একটি বছর শেষে আবারও বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কারটা উঁচিয়ে ধরলেন লিওনেল মেসি। নেইমার ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে হারিয়ে ২০১৫ সালের ফিফা ব্যালন ডি’অর জিতেছেন বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ড।

সোমবার সুইজারল্যান্ডের জুরিখে জাঁকজমকপূর্ণ এক অনুষ্ঠানে মেসির হাতে পুরস্কারটি তুলে দেওয়া হয়।

এবার দিয়ে পঞ্চমবারের মতো বর্ষসেরা ফুটবলারের খেতাব জিতলেন বার্সেলোনার এই তারকা। এর আগে ২০০৯ থেকে ২০১২ পর্যন্ত টানা চারবার পুরস্কারটি জিতেছিলেন।

পুরস্কার হাতে নিয়ে মেসি বলেন, “দর্শকের সারিতে বসে ক্রিস্তিয়ানোকে জিততে দেখার পর আবার আরেকটি ব্যালন ডি’অর জেতা, আবার এখানে এই মঞ্চে ফিরে আসাটা আমার জন্য খুবই বিশেষ একটা মুহূর্ত।”

আরাধ্য পুরস্কারটি নিজের করে নিতে মেসি পেয়েছেন মোট ৪১.৩৩ শতাংশ ভোট। রোনালদো ২৭.৭৬ শতাংশ আর নেইমার ৭.৮৬ শতাংশ ভোট পান।

২০০৯ সালে ফিফা বর্ষসেরা ও ব্যালন ডি’ অর পুরস্কার আলাদাভাবে জিতেছিলেন মেসি। পরে টানা তিন বছর একীভূত ফিফা ব্যালন ডি’অর জিতে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা চারবার বর্ষসেরা হওয়ার ইতিহাস গড়েন এই আর্জেন্টাইন তারকা।

পরের দুই বছর পুরস্কারটি নিজের করে নেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো।

জাতীয় দলের হয়ে অবশ্য ২০১৫ সালটাও হতাশার মাঝেই শেষ হয় মেসির। আগের বছর বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের পর এ বছর কোপা আমেরিকায়ও ফাইনালে হেরে দেশের হয়ে প্রথম শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভাঙে তার।

তবে ক্লাবের হয়ে সময়টা দুর্দান্ত কাটে ২৯ বছর বয়সী তারকার। গত মৌসুমে বার্সেলোনাকে ‘ট্রেবল’ জেতাতে অসাধারণ অবদান রাখা মেসি ক্লাবের হয়ে পরে আরও দুটি শিরোপা জেতেন। কোপা দেল রে, লা লিগা, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, উয়েফা সুপার কাপ ও সবশেষ গত ডিসেম্বরে বার্সেলোনা জেতে ক্লাব বিশ্বকাপ।

দুই মাস চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকলেও গেল বছরে সব মিলিয়ে ৬১ ম্যাচ খেলে ৫২ গোল করেন মেসি। সতীর্থদের দিয়ে ২৬টি গোল করানও তিনি।

গোল করার দিক থেকে অবশ্য গত বছরের মতো এবারও মেসির চেয়ে এগিয়ে ছিলেন রোনালদো, দেশ ও ক্লাবের হয়ে ৫৭ ম্যাচে ৫৭টি। এ সময়ে সতীর্থদের দিয়ে ১৭টি গোল করান ২০১৩, ২০১৪ সালের ফিফা বর্ষসেরা পুরস্কার জেতা এই তারকা।

মোট হিসেবের মতো লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও মেসির চেয়ে বেশি গোল রোনালদোর। গত বছর লিগে রোনালদোর গোল ৩৭টি, মেসির ৩৪টি। আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তাদের গোল যথাক্রমে ১৬ ও ৫।

গোল করার দিক থেকে পিছিয়ে থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ ও দলের প্রয়োজনীয় মুহূর্তে জ্বলে ওঠার বিচারে মেসি ছিলেন অনন্য। গত মৌসুমের শেষ দিকে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে তার জয়সূচক গোলেই লিগ শিরোপা নিশ্চিত হয় বার্সেলানার। কোপা দেল রের ফাইনালেও জোড়া গোল করেন তিনি, যার একটি ছিল অসাধারণ।

২০১৫ সালে সংখ্যায় মেসি:

# ৬১ ম্যাচে ৫২ গোল, সতীর্থদের দিয়ে করান ২৬ গোল।

# সব টুর্নামেন্ট মিলিয়ে প্রতি ১০১ মিনিটে একটি গোল করেন এবং প্রতি ২০২ মিনিটে একটি গোল করান।

# শুধু লা লিগায় প্রতি ৮০ মিনিটে গোল করেছেন একটি। এই হার ইউরোপের শীর্ষ পাঁচটি লিগে কমপক্ষে ১০টা গোল করেছেন এমন খেলোয়াড়দের মধ্যে সেরা।

# ২০১৫ সালে ইউরোপের ছয়টি ক্লাব টুর্নামেন্টের সবকটিতে গোল করেন, তার মধ্যে বার্সেলোনা জেতে পাঁচটি।

# লা লিগায় মোট ৪৯টি গোলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন মেসি; ৩৪টি করেন ও ১৫টি করান। যা ২০১৫ সালে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মধ্যে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে যুগ্মভাবে সর্বোচ্চ।

এ মৌসুমের শুরুতেও সেই বিধ্বংসী রূপ ধরে রাখেন আর্জেন্টাইন তারকা; গত অগাস্টে উয়েফা সুপার কাপে সেভিয়ার বিপক্ষেও জোড়া গোল করেন। আর কিছু দিন আগে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালেও রিভার প্লেটের জালে বল জড়ান তিনি।

গত বছরে বার্সেলোনার ‘ট্রেবল’ জয়ে অসাধারণ অবদান ছিল নেইমারেরও। এ সময়ে ক্লাবের হয়ে ৫৩ ম্যাচ খেলে মোট ৪১টি গোল করেন তিনি। সতীর্থদের দিয়ে ১৬টি গোল করান ২৩ বছর বয়সী এই তারকা। আর দেশের হয়ে ৯ ম্যাচে ৪ গোল করেন ব্রাজিল অধিনায়ক।

ফুটবল বিষয়ক সাময়িকী ফ্রান্স ফুটবল ১৯৫৬ সাল থেকে ইউরোপের সেরা ফুটবলারকে ব্যালন ডি’অর পুরস্কার দিত। ২০০৭ সাল থেকে পুরস্কারটি দেয়া হয় বিশ্বের সেরা ফুটবলারকে।

২০১০ সাল থেকে ফিফার বর্ষসেরা পুরস্কারের সঙ্গে একীভূত হয়ে এর নাম হয় ফিফা ব্যালন ডি’অর। বিজয়ীরা নির্বাচিত হন ফিফার ২০৭টি সদস্য দেশের জাতীয় দলগুলোর অধিনায়ক ও কোচ এবং ফিফা ও ফ্রান্স ফুটবল সামায়িকীর বাছাই করা ক্রীড়া সাংবাদিকের ভোটে।

মেয়েদের ফুটবলে বর্ষসেরার পুরস্কার জিতেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মিডফিল্ডার কার্লি লয়েড। দেশটির তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে এই পুরস্কার জিতলেন তিনি।

আগের ১০ বারের বিজয়ীরা:

সাল ফিফা বর্ষসেরা ব্যালন ডি’অর

২০০৫ রোনালদিনিয়ো রোনালদিনিয়ো

২০০৬ ফাবিও কান্নাভারো ফাবিও কান্নাভারো

২০০৭ কাকা কাকা

২০০৮ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো

২০০৯ লিওনেল মেসি লিওনেল মেসি

একীভূত ফিফা ব্যালন ডি’অর

২০১০ লিওনেল মেসি

২০১১ লিওনেল মেসি

২০১২ লিওনেল মেসি

২০১৩ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো

২০১৪ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো

Developed by: