বিভাগ: খেলাধুলা

বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম টেস্ট ‘ড্র’

বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার প্রথম টেস্ট ড্র ঘোষণা করা হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে শনিবার ৫ম দিনের খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করায় টেস্ট ম্যাচটি ড্র হয়।

গতকাল শুক্রবার চতুর্থ দিনের খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণার পর আজ শনিবারও বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামের আউট ফিল্ড ভেজা থাকায় মাঠ খেলার অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। পরে ম্যাচ আম্পায়াররা আজকের খেলাও পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন।

ইতিহাস গড়লেন মুস্তাফিজ

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে টেস্টের প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত বোলিংয়ের কারণে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন অগ্নি বোলার মুস্তাফিজুর রহমান।

এর আগে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকেই পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন মুস্তাফিজুর। তার বোলিং নৈপুণ্যে ওই ম্যাচে ভারতকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। অভিষেকেই ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছিলেন বাংলাদেশের এই তরুণ তুর্কি।

আর এবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকেও ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে দারুণ এক ইতিহাস গড়েছেন মুস্তাফিজ। ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ওয়ানডে ও টেস্ট- দুই ফরম্যাটের অভিষেকেই ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতলেন বাংলাদেশের এই বিস্ময় বালক।

চট্টগ্রামে বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের প্রথম টেস্ট ড্র হয়েছে। প্রথম ইনিংসে ১৭.৪ ওভার বল করে ৩৭ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট নেন মুস্তাফিজ। ৪ বলে নেন ৩ উইকেট। বৃষ্টিবিঘ্নিত এই ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ ওভার বল করে কোনো উইকেট পাননি তিনি।

সেই বৃষ্টিই এখন ‘অভিশাপ’

প্রেসবক্সের বারান্দা থেকে দেখা যাচ্ছিল দৃশ্যটা। বৃষ্টির মধ্যেই কাদাপানিতে ফুটবল নিয়ে মেতে উঠেছে তিন কিশোর। মনে তাদের খেলার আনন্দ। শরীরী ভঙ্গে উচ্ছলতা। মলিন মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স মাঠ তাতেই কতটা প্রাণবন্ত!
প্রেসবক্সের আরেক পাশের মাঠ জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম। ঢিল ছোড়া দূরত্বে হলেও কৌলীন্যে মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স মাঠের চেয়ে প্রায় আলোকবর্ষ দূরত্ব এগিয়ে। তবু এ মাঠই কাল কতটা নিষ্প্রাণ! মাঝমাঠে জলপাই রঙের আচ্ছাদনের নিচে নিথর পড়ে থাকল উইকেটের ‘শব’। তাতে প্রাণ দিতে নেই ব্যাট-বলের দ্বৈরথ।
বৃষ্টি কাল কেড়ে নিল চতুর্থ দিনের পুরোটাই। তাতে এক দিন বাকি থাকতে চট্টগ্রাম টেস্ট দেখে ফেলেছে ফলাফলের দিগন্ত। ক্রিকেটের স্বাভাবিক অনিশ্চয়তা কয়েক লাখ গুণ বেড়ে না গেলে এই ম্যাচের ললাটে ড্র-ই লেখা আছে।
কিন্তু এই ড্র কতটা মেনে নিতে পারবে বাংলাদেশ দল? ওয়ানডের ধারাবাহিক সাফল্য যখন টেস্টেও প্রস্ফুটিত হচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল, তখনই বৃষ্টির ঝাপটায় সব সম্ভাবনা ভেসে যাওয়ার পথে। তৃতীয় দিন শেষের ম্যাচ পরিস্থিতি বাংলাদেশ দলের মানসে এঁকে দিচ্ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে বাস্তব করে তোলার সুযোগ আর কই! শেষ দিনে দক্ষিণ আফ্রিকার ১০ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশ ম্যাচও জিতে যাবে, এটা কল্পলোকের ক্রিকেটেও সম্ভব কি না, কে জানে।
চট্টগ্রামে বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা দুই দলেরই আবাস আভিজাত্যে মোড়া ২০ তলা র্যাডিসন ব্লু হোটেলে। বন্দরনগরের নতুন আকর্ষণ এটি, যার ওপর থেকে এক ঝলকে দেখে নেওয়া যায় পুরো চট্টলাই। হোটেলের প্রতিটি তলায়, প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে আয়েশ-আনন্দের কত না উপকরণ! এমন জায়গায় বৃষ্টির দিনেও নিজেকে বন্দী মনে হওয়ার উপায় নেই।
বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা অবশ্য পুরোই উল্টো। তাদের দেখে মনে হচ্ছে র্যাডিসন ছুটি কাটাতে আসাদেরই কেবল বৃষ্টি-বিলাসের আনন্দ দিতে পারে, ক্রিকেট খেলতে আসাদের নয়। কাল প্রায় সারা দিনই হোটেলে কাটালেও খেলোয়াড়দের মন পড়ে ছিল মাঠে। নাসির হোসেন, রুবেল হোসেন, সৌম্য সরকার আর লিটন দাস ছাড়া বাকিরা অবশ্য টিম ম্যানেজমেন্ট সদস্যদের সঙ্গে ঘণ্টা দুয়েকের জন্য স্টেডিয়াম ঘুরে গেলেন। দু-একজন ইনডোরে টুকটাক ব্যাটিং প্র্যাকটিস করেছেন। বাকিরা পাশের মসজিতে জুমার নামাজ পড়ে ফিরে গেছেন হোটেলে।
কিন্তু হোটেল মানে তো সেই বন্দীশালা! মুঠোফোনে এক ক্রিকেটারের কথাই মনে করিয়ে দিল শব্দটা, ‘যত ভালো হোটেলই হোক, খেলতে এসে কি হোটেলে শুয়ে-বসে থাকতে ভালো লাগে? খেলা হলেই বরং আমাদের জন্য লাভ হতো।’ দেশের অন্যতম বিলাসবহুল হোটেলে থেকেও এমন রোমাঞ্চহীন অনুভূতির কারণ ওই একটাই—শ্রাবণের বারিধারায় যে ভেসে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের হাতছানি! টেস্ট ক্রিকেটে বৃষ্টি এর আগে বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হয়েই আসত। ম্যাচের এক-দুই দিন বৃষ্টিতে ধুয়ে যাওয়া মানে ছিল টেস্ট ড্র করার সুযোগ উঁকি দেওয়া। অথচ কালকের বৃষ্টিটাকে মনে হচ্ছে ‘অভিশাপ’, জিততে দিচ্ছে না বাংলাদেশকে!
আশা, আফসোস জাতীয় অনুভূতিগুলোর সঙ্গে আবেগের যোগসূত্র থাকে। চট্টগ্রামে শেষ দুই দিন পুরো খেলা হলে বাংলাদেশ জিতত, এমন প্রত্যাশায়ও তা মেশানো। বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া দিন নিয়ে সাধারণের মতের সঙ্গে হয়তো সে জন্যই মিলছে না দল-সংশ্লিষ্টদের অনুভূতি। ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ যেমন শেষ দুই দিনে সম্ভাবনা দেখছিলেন ফিফটি-ফিফটি, ‘এমন নয় যে বৃষ্টিতে খেলা না হওয়ায় খেলোয়াড়েরা খুব হতাশ। আবার এটাও ঠিক, খেলা হলে আমাদের একটা সম্ভাবনা ছিল। তবে সে সম্ভাবনা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা দলেরও।’ ক্রিকেটারদেরও একই মত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যাটসম্যান বললেন, ‘সুযোগ যে শুধু আমাদেরই ছিল, তা নয়। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানেরাও নিশ্চয়ই চাইত বড় রান করতে। সে ক্ষেত্রে আমাদের চাপে পড়ারও সম্ভাবনা ছিল।’ তবে আফসোস একটু হলেও আছে এবং তা বোঝা গেল পরের কথায়ই, ‘এই টেস্টে আমরা ভালো খেলছিলাম। সবার মধ্যে বাড়তি আত্মবিশ্বাস আছে এখন। সেদিক দিয়ে মনে হয় আমাদেরই সুযোগ বেশি ছিল। এ রকম সুযোগ সব সময় আসে না।’
আগের দুই দিনে বৃষ্টির ঝাপটায় ভেসে গেছে টেস্টের প্রায় ৫০ ওভার। আর কাল সারা দিনে পিচ কাভারই উঠল না। শেষ দিনে কিছু যদি খেলা হয়ও, তা কেবল দক্ষিণ আফ্রিকানদের ব্যাটিং প্র্যাকটিসেরই উপলক্ষ হবে। আর না হলে র্যাডিসনের লবি কাল সন্ধ্যার মতো আজও হয়ে উঠতে পারে ভক্ত-সমর্থকদের মেলা।

‘ম্যাচের ৬০ ভাগ বাংলাদেশের পক্ষে’

Mahamudalla1437568504-300x176চট্টগ্রাম টেস্ট এখন বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। প্রথম দিন বোলারদের দাপটের পর দ্বিতীয় দিনে আলো ছড়িয়েছেন ব্যাটসম্যানরা।

২৪৮ রানে দক্ষিণ আফ্রিকাকে আউট করে বুধবার দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৩ উইকেটে ১৭৯। ৬ উইকেট হাতে রেখে ৬৯ রানে পিছিয়ে স্বাগতিক দল।

নির্দিধায় টেস্টের প্রথম দুই দিনের ফলে বাংলাদেশ এগিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং কোচ চার্ল ল্যাঙ্গাভেল্ট বলেছেন, চট্টগ্রাম টেস্টে ৬০ শতাংশ বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। বাকি ৪০ ভাগ দক্ষিণ আফ্রিকার।

ল্যাঙ্গাভেল্টের কথায় একমত হয়েছেন হাফসেঞ্চুরিয়ান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। বুধবার ৬৭ রান করা রিয়াদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘হ্যা, ম্যাচের ৬০ ভাগ আমাদের দিকে। আবার ৬৫-৩৫ ভাগও হতে পারে।’

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টে এবারই প্রথম দাপটের সঙ্গে লড়াই করছে বাংলাদেশ। এর আগে ৮ টেস্টে ৭টিতেই ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে টাইগাররা। এবার দুই বিভাগ একসঙ্গে জ্বলে ওঠায় বড় স্কোরের স্বপ্নও দেখছেন মাহমুদউল্লাহ।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের দলীয় সর্বোচ্চ রান ২৫৯। ২০০৮ সালে চট্টগ্রামের বিভাগীয় স্টেডিয়ামে এ রান করেছিল বাংলাদেশ। মুশফিকবাহিনীর বিশ্বাস এবারের ইনিংসটি আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।

ঈদ আনন্দে বিজয়ানন্দ

ঈদের ছুটি এবার একটু আফসোসের মধ্য দিয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছিল। ছুটির দুদিনই যে পড়ে গেছে সাপ্তাহিক সরকারি ছুটির মধ্যে! তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাশরাফি বিন মুর্তজার ইচ্ছা পূরণ করলে দেশবাসীর ঈদের আনন্দ বেড়েও যেতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের আনন্দ উদ্যাপন করতে কাল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে ঈদে সবার জন্য এক দিন বাড়তি ছুটির আবদার করেছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক।
মাশরাফির ইচ্ছাপূরণ প্রধানমন্ত্রীর হাতে। তবে ঈদের ছুটির আগেই যে বাংলাদেশের মানুষ ঈদ-আনন্দে উদ্বেল, সেটা এসেছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দলের হাত ধরেই। পাকিস্তান, ভারতের পর কাল দক্ষিণ আফ্রিকাকেও উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ।
গোটা দেশেই যখন উৎসবের রং, আনন্দের উৎসমূলের আবহটা একবার চিন্তা করুন। সিরিজ জয়ের পর কেমন ছিল কাল রাতের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম? ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বলছিলেন, ‘আমার চেহারা দেখে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন কতটা খুশি আমি। টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে ওরা। এটা অসাধারণ। আমি কোনোটাকেই কোনোটার চেয়ে এগিয়ে রাখব না। একটার চেয়ে আরেকটা অনন্য।’ শেষ ম্যাচে সৌম্যের ব্যাটিং চোখ জুড়িয়ে দিয়েছে শ্রীলঙ্কান কোচের। তবে আলাদা করে বললেন তামিম ইকবালের কথা, ‘তামিম যেভাবে ফর্মে ফিরল, এককথায় দুর্দান্ত।’
সেই তামিম মাঠ ছাড়ার সময় অনুমিতভাবেই আটকে গেলেন সেলফি-শিকারিদের জটলায়। তার ভেতর থেকে মাথা বের করে জানাচ্ছিলেন সিরিজ জয়ের প্রতিক্রিয়া, ‘দলের সাফল্য মূল্যায়নের আমি কেউ নই। আপনারাই দেখতে পাচ্ছেন এটা কত বড় সাফল্য।’ তামিমের বাকি কথাগুলো হারিয়ে গেল ভিড়ের মধ্যে। পরে মুঠোফোনে জানালেন ‘কাম ব্যাক ইনিংস’ কতটা তৃপ্তির, ‘কয়েকটা ম্যাচ খারাপ খেলে একটু চাপেই পড়ে গিয়েছিলাম। চারদিকে সমালোচনা শুরু হয়ে গিয়েছিল। এসবের মধ্যে এভাবে ফিরে আসা আসলে সব সময় সম্ভব নয়। তারপরও সেটা করতে পারায় খুব ভালো লাগছে।’
তামিমের মতোই অনুভূতি মাহমুদউল্লাহ আর সাব্বির রহমানের। ‘চোট থেকে ফিরেই এমন একটা অর্জন আমার জন্য অনেক বড়।’—বলছিলেন মাহমুদউল্লাহ। সবার শেষে ড্রেসিংরুমে ফিরতে পেরেছেন সাব্বির। কেমন লাগছে এমন গৌরবের অংশ হতে পেরে? সাব্বিরের উত্তর, ‘খুবই ভালো লাগছে। এই সিরিজেই আমরা চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলা নিশ্চিত করলাম। আনন্দটা তাতে আরও বেড়ে যাচ্ছে।’
খেলা শেষে প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদকে মনে হচ্ছিল সুখী মানুষদের প্রতিনিধি। সংবাদ সম্মেলনে যাওয়ার পথে সিরিজ জয়ের আনন্দের ভাগ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা দিয়ে যান জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের ১৮ জন মাঠকর্মীকেও। কিউরেটর জাহিদ রেজাকে বলে গেলেন দলের পক্ষ থেকে সব মাঠকর্মীর জন্য ঈদের বিশেষ বোনাস ঘোষণা করতে।
সিরিজ জয়ের বাইরে ওয়ানডেতে ২০০ উইকেট পাওয়ারও আনন্দ ছিল মাশরাফির, ‘ব্যক্তিগত কোনো অর্জনের দিনে ম্যাচ না জিতলে খারাপ লাগে। এখন খুব ভালো লাগছে, দুই শ উইকেট পেয়েছি। এটা যদিও বিশ্ব ক্রিকেটে খুব ছোট একটা ব্যাপার, কিন্তু আমার জন্য অনেক বড়। কারণ, আমার জীবন অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেছে।’ প্রথম ম্যাচে হেরেও ঘুরে দাঁড়াতে পারাটাই মাশরাফির কাছে বেশি তৃপ্তির। এর পুরো কৃতিত্ব দিলেন সতীর্থদের। বড় বড় দলকে নিয়মিত হারানোটা একসময় বাংলাদেশের জন্য স্বপ্নবৃত্তেই ঘুরপাক খেত। এখন সেটা অ্যাডিলেড, ঢাকা, চট্টগ্রাম—সবখানেই বাস্তব। তবে অন্য সব সময়ের চেয়ে সাফল্যে রঙিন এই সময়টাকেই বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। চ্যালেঞ্জ সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার।
ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকা দলে এবি ডি ভিলিয়ার্সের না খেলাটাকে আশীর্বাদ মনে হচ্ছে অধিনায়কের কাছে, ‘ডি ভিলিয়ার্স খেললে আমরা সিরিজটা হারতেও পারতাম। ওর না খেলা দক্ষিণ আফ্রিকার যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই স্বস্তির।’ সঙ্গে সঙ্গেই অবশ্য মনে করিয়ে দিয়েছেন, ডি ভিলিয়ার্স ছাড়াও প্রোটিয়া দলে তারকার অভাব নেই।
আসলেই তো! হাশিম আমলা, জে পি ডুমিনি, ডেভিড মিলারদের তুলনায় কোথায় বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা? তারকা দ্যুতিতে প্রোটিয়ারাই তো বেশি উজ্জ্বল! মাশরাফি অবশ্য একটু অন্য ধারণায় বিশ্বাসী, ‘আমাদের দলে বড় ক্রিকেটার নেই, এটা অন্তত আমরা মনে করি না। হয়তো অন্যরা এটা বলে না। সাকিব যে বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার, এটা অনেক খেলোয়াড়ই বলে না। তবে এ নিয়ে আমাদের কোনো দুঃখ নেই। আমরা জানি, আমাদের ভেতরে কী আছে।’
এখন বোধ হয় সেটা জেনে গেছে গোটা ক্রিকেট বিশ্বই।

র‍্যাঙ্কিংয়ে সাকিব-সৌম্যদের ‘লাফঝাঁপ’

খেলেছেনই মাত্র ১৬টি ওয়ানডে। তাতেই কিনা সৌম্য সরকার এখন বিশ্বের সেরা ১৫ ব্যাটসম্যানদের একজন! না, অবাক হওয়ার আসলে কিছুই নেই। একজন ব্যাটসম্যান যখন এক শর বেশি স্ট্রাইক রেটে প্রায় পঞ্চাশ গড়ে রান করতে থাকেন, তখন সেটার প্রতিফলন র‍্যাঙ্কিংয়ে তো পড়বেই। মাত্রই গত ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা সৌম্য খুব দ্রুতই র‍্যাঙ্কিংয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে উঠে এলেন ১৫ নম্বরে। র‍্যা​ঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যানও এখন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে ২০৫ রান করে সিরিজ সেরা হওয়া সৌম্য ব্যাটসম্যানদের র‍্যা​ঙ্কিংয়ে আগে ছিলেন ৫১তে। সংখ্যা দুই একই থাকল, শুধু পরেরটা আগে, আগেরটা পরে হয়ে এখন ১৫। ১৪১ পয়েন্ট বেড়ে তাঁর রেটিং এখন ৬৭১। বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে এর চেয়ে বেশি রেটিং ছিল শুধু সাকিবের। ২০১২ সালে এশিয়া কাপের পর সাকিবের ছিল ৬৮৩ রেটিং।
মাত্র এক ইনিংস ব্যাট করার সুযোগ পাওয়া মুশফিক আছেন আগের অবস্থানেই, ২১ নম্বরে। তবে ৩ পয়েন্ট কমে তাঁর রেটিং এখন ৬৪৯। তামিম এক ধাপ পিছিয়ে অবস্থান করছেন ২৯ নম্বরে। ৫ পয়েন্ট কমে তাঁর রেটিং এখন ৬১০। ব্যাটিংয়ে সাকিব আগের অবস্থানেই আছেন, ৩১ নম্বরে। তবে ৬ পয়েন্ট বেড়ে তাঁর রেটিং এখন ৬০৬। এক ধাপ এগিয়ে নাসির অবস্থান করছেন ৩৭ নম্বরে। এক পয়েন্ট বেড়ে তাঁর রেটিং এখন ৫৭০। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৫ ধাপ এগিয়ে অবস্থান করছেন ৫১ নম্বরে। ৪ পয়েন্ট বেড়ে তাঁর রেটিং এখন ৫৪১। সাব্বির ৩ ধাপ পিছিয়ে অবস্থান করছেন ৯১ নম্বরে। ১২ পয়েন্ট কমে তাঁর রেটিং এখন ৪২২। এ ছাড়াও সেরা এক শ জনের তালিকায় ৫১২ রেটিং নিয়ে ৬০ নম্বরে অবস্থান করছেন এনামুল হক।
দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে বাংলাদেশের বোলারদের উন্নতিটা চোখে পড়ার মতো। বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডে বোলার র‍্যা​ঙ্কিংয়ে সবার আগে সাকিব। সাতে অবস্থান করছেন। এই সিরিজের আগে ছিলেন আটে। ১০ পয়েন্ট বেড়ে তাঁর রেটিং এখন ৬৯০। বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি ২ ধাপ এগিয়ে অবস্থান করছেন ২৬-এ। ১৫ ধাপ লাফিয়ে ৪০-এ চলে এসেছেন রুবেল। তবে বোলারদের র‍্যা​ঙ্কিংয়ে সবচেয়ে বড় লাফটা মুস্তাফিজের। মুস্তাফিজ ১৯ ধাপ এগিয়ে অবস্থান করছেন ৮৮-তে। ৪৮ পয়েন্ট বেড়ে তাঁর রেটিং এখন ৪৫৬। বোলিংয়ে মাহমুদউল্লাহ ১৪ ধাপ এগিয়ে অবস্থান করছেন ৭৫-এ। বল হাতে ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করছেন নাসির হোসেন। প্রথমবারের মতো বোলারদের র‍্যা​ঙ্কিংয়ের সেরা ১০০-তে ঢুকে পড়েছেন। ১৮ ধাপ এগিয়ে অবস্থান করছেন ৯২ নম্বরে। ৬৭ পয়েন্ট বেড়ে তাঁর রেটিং এখন ৪০৬। এ ছাড়াও সেরা একশতে আছেন আবদুর রাজ্জাক (৩৯), আরাফাত সানি (৫৭), সোহাগ গাজী (৯৬) ও তাসকিন আহমেদ (৯৭)।
অলরাউন্ডার র‍্যা​ঙ্কিংয়ে আগেই একে ছিলেন সাকিব। এই সিরিজে অবস্থানটা আরও শক্তিশালী হলো। সিরিজের আগে তাঁর রেটিং ছিল ৪০৪ পয়েন্ট। এখন সেটি ৪১৮ পয়েন্ট। দুইয়ে থাকা তিলকারত্নে দিলশানের রেটিং ৪০১ পয়েন্ট। অলরাউন্ডার হিসেবে মাহমুদউল্লাহ এবং নাসিরের পারফরম্যান্সও দারুণ ছিল এই সিরিজে। তার পুরস্কার পেয়েছেন অলরাউন্ডার র‍্যাঙ্কিংয়েও। মাহমুদউল্লাহ ৫ ধাপ এগিয়ে অবস্থান করছেন ১৭-তে। সবচেয়ে বড় লাফটা নাসিরের। ৯ ধাপ এগিয়ে অবস্থান এখন ১৯-এ। খুবই ভালো সম্ভাবনা আছে এই দুজনের সেরা দশে চলে আসার। অবশ্য এ বছর আর কোনো ওয়ানডেই নেই বাংলাদেশের।

ঝড় তোলার অপেক্ষায় মিলার

ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ের প্রতিশব্দ তিনি। ‘কিলার মিলার’ নামটা তো আর এমনিই হয়নি। তবে বাংলাদেশ সফরে এখনো যেন ‘ঘুমিয়ে’ই আছেন ডেভিড মিলার।
তাতেও অবশ্য জিততে সমস্যা হচ্ছে না দক্ষিণ আফ্রিকার। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১ রান, দ্বিতীয়টিতে ২৮ বলে অপরাজিত ৩০। পরশু প্রথম ওয়ানডেতে তো মিলারকে ব্যাট হাতে নামতেই হয়নি।
মিলারের হাত অবশ্য নিশপিশ করছে ঝোড়ো একটা ইনিংস খেলার জন্য। দলের প্রতিনিধি হয়ে কাল সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন, বাংলাদেশ দলের জন্য তা ভয়ের কারণই, “অবশ্যই আমি চাই ‘কিলার’ মিলার হয়ে এই সফরে দেখা দিতে। একটু অপেক্ষা করুন।”
মিলারের কথার মধ্যে হুমকির সুর না থাকুক, ভেতরের আগুন কিন্তু বেরিয়ে আসতে চাইছে। এই সফরে দক্ষিণ আফ্রিকার ওপরের দিকের ব্যাটসম্যানরাই ম্যাচ শেষ করে দিচ্ছেন, তার ওপর মিলার খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এলে তো আরও বিপদ। আজই এসে যেতে পারে সেই সুযোগ। সিরিজ জয়ের জন্য তৃতীয় ম্যাচটি পর্যন্ত অপেক্ষা না করে আজই সেই আনুষ্ঠানিকতা সেরে ফেলতে চান মিলার, ‘আগামীকালই (আজ) আমরা সিরিজটা নিশ্চিত করে ফেলতে চাই।’
শুধু কথার কথা নয়, এখন পর্যন্ত এই সফরে দক্ষিণ আফ্রিকা খেলছে দৌর্দণ্ড প্রতাপেই। দুটি টি-টোয়েন্টি ও প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ দল দাঁড়াতেই পারেনি। হয়নি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাও। তবে বাইরে থেকে যা-ই মনে হোক, জয়টা সহজে আসছে না বলেই দাবি মিলারের, ‘কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলছে। আমরা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছি। আমাদের জন্য এটা কঠিন কন্ডিশন।’
উপমহাদেশের বিরুদ্ধ কন্ডিশন জয় দক্ষিণ আফ্রিকার তৃপ্তির বড় একটা জায়গাও। একটা সময় উপমহাদেশের কন্ডিশনই সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়ে যেত দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য। তা এখন অতীত। উপমহাদেশেও এখন দক্ষিণ আফ্রিকা স্বমহিমায় উজ্জ্বল। গত বছর শ্রীলঙ্কা থেকে ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজ জয়ই এর প্রমাণ। উপমহাদেশের দুই দল পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলা বাংলাদেশের বিপক্ষে টানা তিনটি জয়ও সেই ঘোষণাই দিচ্ছে। এ নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বাড়তি গর্বের কথাটাও ফুটে বেরোল মিলারের কথায়, ‘উপমহাদেশে খেলা ও ভালো করা একটা বড় চ্যালেঞ্জই। আমরা তা করতে পেরে গর্বিতই।’

ভুল শট ও ফিল্ডিং-সমস্যা

সংবাদ সম্মেলনে আসার পথে কয়েকজন দর্শকের অনুরোধে করমর্দন করতে হলো। দূর থেকে আরও কয়েকজন ‘মাশরাফি ভাই’, ‘মাশরাফি ভাই’ বলে আওয়াজ তুললেন। মাশরাফি বিন মুর্তজা সেভাবে ফিরেও তাকালেন না। টানা দুটি টি-টোয়েন্টিতে বিনা যুদ্ধে হার মানা অধিনায়কের মনে তখন পরাজয়ের কারণগুলোই ঘুরপাক খাচ্ছে।
সব ছাপিয়ে সবচেয়ে বড় আত্মজিজ্ঞাসা বোধ হয় এটাই যে ১০ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা বিনা উইকেটে ৯৫ করার পরও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল তাঁর দল। তামিম-সৌম্যর কল্যাণে নিজেদের ইনিংসের শুরুটাও হয়েছিল আশা জাগানিয়া। তারপরও ৩১ রানের বড় হারের কী ব্যাখ্যা হতে পারে?
এখানেই ব্যাটসম্যানদের ভুল শট নির্বাচনকে কাঠগড়ায় তুলছেন মাশরাফি। প্রথম ম্যাচের মতো বড় জুটি গড়তে না পারা নিয়েও আক্ষেপ করলেন। ব্যাটম্যানদের মনে শট খেলার দ্বিধাই দেখেছেন বেশি, ‘আমরা আসলে বড় জুটি করতে পারিনি, যেটা ওরা করেছে। আমরা শট নির্বাচনে হয়তো কিছু ভুল করে ফেলেছি। এ কারণেই আমাদের বেশি মূল্য দিতে হয়েছে।’ কথা শুনে মনে হলো, ভুল শট খেলার কারণটাও খুঁজে বেড়াচ্ছেন তিনি, ‘হয়তো উইকেটে টার্নের কারণে হতে পারে, হতে পারে আত্মবিশ্বাসটাই কম ছিল।’
বাংলাদেশ এই ম্যাচে নেমেছিল আট ব্যাটসম্যান নিয়ে। প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি তাতেও ঠেকানো যায়নি। মাশরাফি তাই আক্ষেপ করলেন, ‘গত ম্যাচে আমরা ব্যাটিংয়ে ভালো করিনি। তাই চেয়েছিলাম ব্যাটিংটা লম্বা করে ব্যাটসম্যানদের একটা সুযোগ দিতে। তামিম-সৌম্য ভালো শুরুও করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হলো না।’
এই না হওয়ার পেছনে কারণ আছে আরও। ব্যাটিং-বোলিংই শুধু নয়, ফিল্ডিংও গড়েছে বড় ব্যবধান। এমনিতে দক্ষিণ আফ্রিকা মানে দুর্দান্ত ফিল্ডিং, যা দিয়েই দলটা ব্যবধান গড়ার ক্ষমতা রাখে। মাশরাফিও এই টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুদলে বড় পার্থক্য দেখছেন ফিল্ডিংয়ে, ‘ওরা গত ম্যাচে দুর্দান্ত ফিল্ডিং করেছে, আমরাও খুব খারাপ করিনি। কিন্তু এই ম্যাচে আমরা বেশ কিছু দুই রান দিয়ে দিয়েছি, কিছু ওভার থ্রো-ও করেছি।’
পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে স্মরণীয় দুটি সিরিজ বাংলাদেশ দলের মনে যে দুর্জয় আত্মবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছিল, সেটিতে তো একটু ধাক্কা দিলই টানা দুটি পরাজয়। সামনে ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজ, দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফ্যাফ ডু প্লেসি স্বাভাবিকভাবেই এটিকে বড় করে দেখাতে চাইবেন। সংবাদ সম্মেলনে তা দেখালেনও, ‘ওরা পাকিস্তান ও ভারতের সঙ্গে দুর্দান্ত খেলেছে, তাদের আত্মবিশ্বাসও ছিল তুঙ্গে। আমাদের লক্ষ্যই ছিল সেই আত্মবিশ্বাসটা নাড়িয়ে দেওয়া। সেটি আমরা পেরেছি। ওয়ানডেতে যা কাজে আসবে।’

হঠাৎ​ কী হলো মুশফিকের!

ইদানীং তাঁকে দেখলেই মনে হয়, খুব চিন্তায় আছেন। মুখে সেই উঠোনে এসে পড়া এক চিলতে মিঠে রোদের মতো হাসিটার দেখা মেলে না। চোট, ফর্ম, টেস্টে অধিনায়কত্ব নিয়ে নানা প্রশ্ন। প্রশ্ন উইকেটের পেছনে থাকা নিয়েও। খুব একটা স্বস্তিতে নেই মুশফিকুর রহিম!
অথচ মাস চারেক আগেও দৃশ্যটা ছিল একেবারেই উল্টো। ব্যাট হেসে উঠছে নিয়মিত। পত্রপত্রিকায় তাঁর নামই দেওয়া হলো ‘রান মেশিন’। সেই মুশফিকের হঠাৎ কী যে হলো!
পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে দারুণ এক সেঞ্চুরি। ম্যাচ সেরাও হলেন। পরের ম্যাচে খেললেন ৬৫ রানের কার্যকরী ইনিংস। সিরিজের শেষ ম্যাচে অপরাজিত ৪৯। এর পরই ছন্দপতন।
বিপত্তির শুরু পাকিস্তানের বিপক্ষে খুলনা টেস্টে। দ্বিতীয় দিনে আঙুলে পেলেন চোট। এরপর ব্যাটও কথা বলা বন্ধ করে দিল। কখনো কখনো সামান্য একটা চোট, সামান্য একটা অস্বস্তিও ব্যাটসম্যানদের জন্য বড় মানসিক বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু মুশফিক কখনোই এই চোটকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাননি। বরং বাড়তি দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে উইকেটের পেছনেও দাঁড়াচ্ছেন। যদিও দেশের সেরা ব্যাটসম্যানটিকে যথাসম্ভব স্বস্তি দিতে অনেকেই মনে করেন, তাঁর কাঁধ থেকে কিপিংয়ের দায়িত্বটা সরানো উচিত। কিন্তু মুশফিক নিজেই নাকি তাতে রাজি নন।
অন্য সময় হলে এসব নিয়ে কোনো কথাই হতো না। কিন্তু প্রতিকূল সময় বড় নিষ্ঠুর। সেই সময়টাই চোখে আঙুল তুলে তাকিয়ে বলে দিচ্ছে, টেস্টে মুশফিকের সর্বশেষ পাঁচ ইনিংস—৩২, ০, ১২, ০ ও ২। ওয়ানডেতে যে মুশফিক ধারাবাহিকতার প্রতিচ্ছবি হয়ে গিয়েছিলেন, সেই তিনি এ সংস্করণেও হয়ে গেলেন নিষ্প্রভ। ভারত সিরিজে তিন ম্যাচে—১৪, ৩১ ও ২৪ রান। পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলা তিন টি-টোয়েন্টিতে মুশফিকের রান ১৯, ১৭ ও ১৯।
ক্রিকেটের তিন সংস্করণ হিসাব করলে সর্বশেষ ১২ ইনিংসে একটি ফিফটিও নেই মুশফিকের। ফর্মের বেহাল দশা বেশি করে চোখে পড়ছে সর্বশেষ ১১ ইনিংসে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের ভরাডুবি, যে সফর তাঁর কাছ থেকে ওয়ানডে অধিনায়কত্ব কেড়ে নিয়েছে, সেই সফরের তৃতীয় ওয়ানডে থেকে পাকিস্তান সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে পর্যন্ত সব ধরনের ক্রিকেটে মুশফিকের গড় ৫১.৮৬। সেটিও ২৫ ইনিংসের ব্যাপ্তিতে। সর্বশেষ ১১ ইনিংসে সেই মুশফিকের গড় নেমে এসেছে ১৫.৪৫-এ।
যে স্লগ সুইপ তাঁর সবচেয়ে প্রিয় শট, সেই শটেই প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ধরা পড়লেন। আত্মবিশ্বাসের ঘাটতির প্রতীকী ছবিও ভাবতে পারেন।

ব্যাটসম্যানটা মুশফিক বলেই ফর্মহীনতা চোখে পড়ছে বেশি করে। তা ছাড়া বাংলাদেশ দলে এখন একাদশের জায়গা নিয়ে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। বলতে পারেন, একাদশে জায়গা নিয়ে তাঁর জন্য এই মুহূর্তে ‘হুমকি’ তাঁরই ভায়রা ভাই মাহমুদউল্লাহও।
শুধু ব্যাট হাতেই নয়, উইকেটের পেছনে তাঁর পারফরম্যান্স নিয়েও কখনো কখনো উঠেছে প্রশ্ন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুটো টি-টোয়েন্টিতেও ঠিক ছন্দে আছেন বলে মনে হয়নি। না উইকেটের পেছনে, না সামনে। কিন্তু তাঁর পরিশ্রম নিয়ে, আন্তরিকতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। এখনো দলের সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করা ক্রিকেটারটির নাম মুশফিক। গত সোমবার ঐচ্ছিক অনুশীলনের দিনও নেটে ঘাম ঝরিয়েছেন দীর্ঘক্ষণ।
আর তাই পরীক্ষিত সেনানীকে আগলেই রাখছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক বলছেন, ‘মুশফিককে নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। একজন খেলোয়াড়ের পক্ষে যতটুকু করা সম্ভব, সর্বোচ্চটাই সে করছে। অবশ্যই আমরা চাই, সেরা ফর্ম নিয়েই সে খেলুক। তবে এটা সব সময়ই হবে না। আর মাত্র দুটো টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মানিয়ে নেওয়ার সময়ও খুব একটা পাওয়া যায় না। এটা মারাত্মক কোনো সমস্যা নয়। অবশ্যই মুশফিক ছন্দে ফিরবে। তার ছন্দে ফেরার দিনে আমরা ম্যাচও জিতব ইনশা আল্লাহ।’
কেবল মাশরাফি নন, একই প্রত্যাশা গোটা দেশেরই। জ্বলে উঠুক ‘মি. ডিপেন্ডবল’

আশা জাগিয়েও পারলো না টাইগাররা

বরিশাল নিউজ ।। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে হেরে গেল বাংলাদেশ। প্রোটিয়াদের বেঁধে দেয়া ১৪৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে সব উইকেট হারিয়ে টাইগাররা করেছে ৯৬ রান। এরফলে ৫২ রানে জয় পায় দক্ষিণ আফ্রিকা ।সফরকারী দ. আফ্রিকার কাইল অ্যাবোটের করা প্রথম ওভারের শেষ বলে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন ব্যক্তিগত ৫ রান করা তামিম। দলীয় রান তখন ৭/১
২য় ওভারে রাবাদার করা বাউন্সে পুল করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে ডুমিনির হাতে ধরা পড়েন সৌম্য সরকার (৭ রান)।দলীয় রান ১৩/২
অষ্টম ওভারে ডুমিনির বলে মিলারের তালুবন্দি হন মুশফিক ১৭ রান (১৯ বলে) । সাকিবের সঙ্গে ৩৭ রানের জুটি গড়েন মুশফিক। দলীয় রান ৫০/৩
১০ ওভারে সাব্বির মাত্র ৪ রান করে বিদায় নেন। দলীয় রান ৫৬/৪
নাসির হোসেন ১ রান করে ফেরেন। দলীয় রান ৫৭/৫
সাকিব বিদায় নেন ৩০ বলে ২৬ রান করে। দলীয় রান ৭১/৬। এরপর মাশরাফি ৫,সোহাগ গাজী ৩,লিটন দাস ২২,মুস্তাফিজ ১রান করে বিদায় নেন।

Developed by: