বিভাগ: খেলাধুলা

ব্যাংককে আবারও লাল সবুজের পতাকা ওড়াবে সিলেটর দূরন্ত অপু

New Image1এবারের এশিয়ান জুনিয়র ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ানশিপে থাইল্যান্ডে ব্যাংককে লাল সবুজের পতাকা ওড়াবে সিলেটের খায়রুল ইসলামসহ দেশের চার তরুণ ব্যাডমিন্টন তারকা। কদিন পর জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে অনুর্ধ্ব-১৯ ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশীপ। এ আয়োজনে আবারও স্থান করে নিয়েছে সিলেটের তরুণ ব্যাডমিন্টন তারকা খায়রুল ইসলাম অপু, ঢাকার ওয়াহিদ, মিনহাজ ও তুষার।
খেলায় অংশ নিতে গতকাল সোমবার রাত ১১টার দিকে তারা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ব্যাংকক এয়ারওয়েজে থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।
অনুর্ধ্ব-১৯ ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ানশিপের টিম ম্যানেজার রাসেল কবির সুমন জানান, ‘চার জনের মধ্যে অপু সিলেটের ও বাকিরা ঢাকার বাসিন্দা। অপু এর আগের বছর অনুর্ধ্ব ১৭ চ্যাম্পিয়নশীপে বাংলাদেশের হয়ে একাই ব্যাংককের জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশীপে অংশ গ্রহণ করে। পাঁচদিনের আন্তর্জাতিক এ টুর্নামেন্টে আজ মঙ্গলবার তারা বাংলাদেশের হয়ে মাঠে খেলতে নামবেন। এ চার তরুণ ব্যাডমিন্টনে দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনবেন, এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন সুমন।’
এদিকে, সিলেটের খায়রুল ইসলাম অপুর প্রতি ব্যাপক প্রত্যাশা সিলেট ব্যাডমিন্টন অঙ্গনের খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকদের। তাঁরা জানান, অল্প বয়সী অপু সল্প সময়ে বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন অঙ্গনে সারা জাগিয়েছেন। ব্যাট হাতে দূর্দান্ত খেলে অপু। জুনিয়রদের মধ্যে এখন অনেকটাই অপ্রতিদ্বন্দ্বি সে। অপু গত বছর এশিয়ান জুনিয়র ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশীপ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ জাতীয় টিমের হয়ে খেলেছে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে। ১৮ বছর বয়সী অপু গত ৩ বছরে সিলেটে জেলার বিভিন্ন এলাকায় জুনিয়র ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহণ করে মাতিয়েছে দর্শক। একেরপর এক জয় লাভ তাকে এখন এনেছে সেরাদের তালিকায়।
সর্বশেষ কাউন্সিলর আজাদ কাপ ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট-২০১৫ প্রতিযোগিতায় অপু দ্বৈত ও এককভাবে জুনিয়রদের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফের আসে আলোচনায়। ওই টুর্নামেন্টের একক প্রতিযোগীতায় হানিফকে হারিয়ে বিজয়ী হয় সে। অনুর্ধ্ব ১৮ দ্বৈত প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন (ঢাকার) আইমান ইবনে জামান ও অহিদুলও হারমানতে হয় অপু জোটির কাছে।
অপু দণি সুরমার কুচাই গ্রামের গেদা মিয়ার ছেলে ও সবুজ সিলেটের স্টাফ রিপোর্টার নুরুল হক শিপুর ছোট ভাই।
গতকাল রাতে অপু জানান, বাংলাদেশের পতাকা হাতে ও জার্সি গায়ে ২য় বারের মতো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে যাচ্ছেন। এর জন্য তিনি পরিবারের সকল সদস্যদের সহযোগিতা তার ব্যাডমিন্টন কোচ সাবেক বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন এনাম এবং বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা রয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। অপু বলেন, শুধু সিলেট নয় আমি যেন বিজয়ী হয়ে পুরো বাংলাদেশের জন্য সুনাম বয়ে আনতে পারি তাই সকলের কাছে দোয়া চাই।’
অপুর কোচ এনাম বলেন, ‘অপু আসলেও একজন মেধাবী ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়। আমি তার জয় কামনা করি। তার খেলায় আলাদা একটা আর্ট রয়েছে। সে ভবিষ্যত ব্যাডমিন্টন অঙ্গনের এক নক্ষত্র। ’
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর, ক্রীড়া সংগঠক আজাদুর রহমান আজাদ বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় দলে মফস্বল থেকে খেলা একটা বড় বিষয়। অপু অল্প বয়সে তার প্রতিভা আর পরিশ্রমে জাতীয় দলে স্থান করেছে। সে শুধু সিলেট নয়, সারা বাংলাদেশের গর্ব। সে অল্প বয়সে বাংলাদেশের অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াদের হারিয়েছে। আমার বিশ্বাস সে বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকার মান রক্ষায় প্রাণান্তকর চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, ব্যাংককে অপুর জয় হবে, সিলেটের জয় হবে, বাংলাদেশের জয় হবে বলে আমি আশা করি।’

টাইব্রেকার নাটকীয়তায় নায়ক সেই তেভেজ

চার বছর আগের সেই দুঃস্বপ্নকে দারুণভাবেই মুছে দিলেন কার্লোস তেভেজ। ২০১১ সালের কোপায় এই তেভেজের টাইব্রেকার মিসই বিদায় করে দিয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। চার বছর পর সেই তেভেজই নায়ক। কলম্বিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে শুটআউট নাটকীয়তার পর এই তেভেজের লক্ষ্যভেদই শেষ চারের লড়াইয়ের টিকিট নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনার।
ছবি: এএফপিকলম্বিয়ার নেতিবাচক কৌশল আজ ভোরে (বাংলাদেশ সময়) কিন্তু ভালোই কাজে লেগেছিল। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার সীমানায় গোল হওয়ার মতো কোনো আক্রমণে ব্যর্থ কলম্বিয়া দ্বিতীয়ার্ধে মনোযোগ পুরোপুরি নিবিষ্ট করেছিল ঘর সামলানোর দিকে। আর্জেন্টাইন আক্রমণ সামলে যাওয়া কলম্বিয়া খেলাটিকে গোলশূন্য রেখে টাইব্রেকারে নিয়ে যায় বেশ সফলতার সঙ্গেই। টাইব্রেকারে গিয়েই উত্তেজনা আর নাটকীয়তার পরশ পায় দর্শকেরা। সেই নাটকের কাহিনি নিজেদের দিকে নিয়েই ম্যাচটায় শেষ অবধি বিজয়ী আর্জেন্টিনা।
ছবি: এএফপিপেনাল্টি শুটআউটে দুই দলই নিজেদের প্রথম তিনটি সুযোগেই লক্ষ্যভেদ করে। কলম্বিয়ার হয়ে গোল করেন হামেস রদ্রিগেজ, রাদামেল ফ্যালকাও ও হুয়ান কুয়াদরাদো। আর্জেন্টিনার হয়ে মেসি, গারাই আর বানেগা গোল করলে রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষা দীর্ঘায়িত হয়।
ছবি: এএফপিনাটকটা শুরু হয় ঠিক এই সময়ই। কলম্বিয়ার লুইস মুরিয়েল গোল করতে ব্যর্থ হন। কিন্তু ইজিকুয়েল লাভেজ্জি দলকে এগিয়ে নেন ৪-৩ গোলে। পরের শটে এডউইন কারদোনাকে ঠেকিয়ে দিতে পারলেই জয়ের আনন্দে ভাসতে পারত লিওনেল মেসির দল। কিন্তু আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরো তা পারেননি। এমনকি লুকাস বিলিয়াও ব্যর্থ হন গোল করতে।
ছবি: এএফপিএমন পরিস্থিতিতে কলম্বিয়ার হুয়ান জুনিগার শটটি ঠেকিয়ে দেন রোমেরো। মার্কোস রোহো গোল করলেই আর্জেন্টিনা জিতে যাবে এমন পরিস্থিতিতে মিস করেন রোহোও। পরের শটে কলম্বিয়াকে বাঁচাতে পারতেন জেইসন মুরিরো। কিন্তু মুরিরো শটটি মারেন বারের ওপর দিয়ে।

মঞ্চ যেন প্রস্তুতই হয়েছিল তেভেজের জন্য। চার বছর আগের দুঃস্বপ্নকে কবর দিতে। সেই পথে দারুণভাবেই হাঁটেন তেভেজ। দুর্দান্ত শটে লক্ষ্যভেদ করেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই।

ম্যাচ শেষে নিজের অভিব্যক্তিতেও তেভেজ প্রকাশ করেছেন চার বছর আগের দুঃস্বপ্নকে পেছনে ফেলার স্বস্তিকে, ‘এই অনুভূতি সত্যিই মধুর। ফুটবল আপনাকে দ্বিতীয় একটা সুযোগ দেবেই। আজ সেই সুযোগটিই আমি পেয়েছি। কিন্তু আজকের রাতটাকে আমি কেবলই আমার দলের জন্য উৎসর্গ করছি। আমি দলের সাফল্যে একটা ছোট্ট ভূমিকাই কেবল রেখেছি। একটি কথাই বলতে পারি, আমি কেবল একটি সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিলাম। সেই সুযোগটি পেয়েই আজ তা কাজে লাগালাম।

মাদক নিয়ে নিষিদ্ধ হলেন পাকিস্তানী ক্রিকেটার

মাদক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ায় শোয়েব আখতার ও মোহাম্মদ আসিফ নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। এবার তাদের দলে যোগ হলো আরেক পাকিস্তানী খেলোয়াড়। মাদক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারায় রাজা হাসান ২ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হলেন। এ বাঁহাতি স্পিনারের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এ বছর জানুয়ারিতে ঘরোয়া টুর্নামেন্টের আগে সব খেলোয়াড়ের মুত্র পরীক্ষা করে পিসিবি। রাজা হাসানের মুত্রের নমুনা পরক্ষার জন্য পিসিবি পাঠায় ভারতের বিশ্ব অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সির পরীক্ষাগারে। আর সেখানেই ধরা পড়েছেÑ রাজা হাসানের মাদক গ্রহণের বিষয়টি। তবে তিনি কী মাদন নেন তা জানায় নি পিসিবি। কিন্তু পাকিস্তানের একটি সংবাদপত্র জানিয়েছে, রাজা হাসান নিয়মিত দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলেরর জনপ্রিয় মাদক ‘কোকেন’ সেবন করেন। রাজা দেশের হয়ে একমাত্র ওয়ানডে খেলেছেন গত বছর অক্টোবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। একটি উইকেট নেন অভিষেক ম্যাচে। এছাড়া ১০টি-টোয়েন্টিতে তার দখলে রয়েছে ১০ উইকেট। আগামী ২ বছরের মধ্যে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কোন ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তো অনেক দূরের কথা।

নাটকীয় জয়ে সিরিজ পাকিস্তানের

সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতেও দারুণ উত্তেজনা ছড়িয়ে জয় তুলে নিল পাকিস্তান। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি জিতেছিল মাত্র ৩ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে। আর গতকাল সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি জিতলো আরও কাঠিন করে। ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২ বল হাতে রেখে জয় তুলে নেয় স্বাগতিক পাকিস্তান। এতে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিল তারা। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে গতকাল টস জিতে ৩ উইকেটে ১৭৫ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে। দুই ওপেনার ভিসু সিবান্দা ৪৬ বলে ৪৯ ও হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ৩২ বলে ৩৯ রান করেন। তবে ৩২ বলে সর্বোচ্চ ৫৮ রান আসে শন উইলিয়ামসের ব্যাট থেকে। এই টার্গেট তাড়া করতে নেমে দারুণ শুুর করে পাকিস্তান। টানা দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নেন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান মুখতার আহমেদ। আগের ম্যাচে তিনি করেন ৮৩ রান। আর গতকাল ৪০ বলে ৬২ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন। আহমেদ শেহজাদের (১৮) সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে তোলেন ৪৪ রান। শুরুটা ভাল করলেও মাঝে গিয়ে হোঁচট খায় পাকিস্তান। ১৬১ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। কিন্তু শেষ দিকে নায়করূপে আবির্ভূত হন বোলার বিলাওয়াল ভাট্টি। জয়ের জন্য শেষ ওভারে পাকিস্তানের দরকার ছিল ১২ রান। ব্রায়ান ভিটরির প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে চাপ অনেকটা কমান বিলাওয়াল। তৃতীয় বলে ২ রান নেয়ার পর চতুর্থ বলে চার হাঁকিয়ে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। এক চার ও এক ছক্কায় ৫ বলে ১৩ রানে পরাজিত থাকেন তিনি। ম্যাচ ও সিরিজ সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন মুখতার আহমেদ

চেন্নাইকে হারিয়ে শিরোপা জিতলো মুম্বই

ভারতীয় প্রিমিয়ার লীগের (আইপিএল) অষ্টম আসরের শিরোপা জিতলো মুম্বই ইন্ডিয়ানস। গতকালের ফাইনালে তারা চেন্নাই সুপার কিংসকে ৪১ রানে হারিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা জিতেছে। এর আগে ২০১৩ সালে তারা শিরোপা জিতেছিল। আইপিএলের এর আগে দু’বার ফাইনালে মুখোমুখি হয় মুম্বই ও চেন্নাই। ২০১০ সালে চেন্নাই জিতলেও ২০১৩ সালে জেতে মুম্বই। ফাইনালে তৃতীয়বারের মুখোমুখিতে এবার নিজেদের এগিয়ে নিল মুম্বই। এতে আট আসরে দুইবার করে শিরোপা জেতার তালিকায় চেন্নাই ও কলকাতার সঙ্গে যোগ হলো মুম্বই-এর নাম। কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে গতকাল টসে হেরে প্রথমে ব্যাটে গিয়ে মুম্বই করে ৫ উইকেটে ২০২ রান। ৪৫ বলে সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন লেন্ডল সিমন্স। আর ২৬ বলে ৫০ রান করেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা। জবাবে ৮ উইকেটে ১৬১ রান তুলতে পারে মহেন্দ্র সিং ধোনির চেন্নাই। ৪৮ বলে সর্বোচ্চ ৫৭ রান আসে ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান ডোয়াইন স্মিথের ব্যাট থেকে। ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন মুম্বইয়ের অধিনায়ক রোহিত শর্মা।

পাকিস্তানের আবেগময় জয়

ক্রিকেটীয় দৃষ্টিতে খুব সাধারণ একটা ম্যাচ, অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাকিস্তানের সাধারণ একটা জয়। কিন্তু আরেক দিক দিয়ে পাকিস্তানের জন্য এ জয়টা আবেগময়। একটা আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য ছয় বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। অপেক্ষার প্রহর শেষ হওয়াটা নিশ্চয় আনন্দের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এ প্রত্যাবর্তনটা স্মরণীয় করেই রাখল পাকিস্তান। জিম্বাবুয়েকে ৫ উইকেটে হারিয়ে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল আফ্রি​দির দল।

ম্যাচ শেষে শহীদ আফ্রিদি তাই বললেন, ‘এটা বিরাট এক উপলক্ষ্য। সে উপলক্ষ্যকে আরও বড় করে তুলেছে এ জয়।’ এমনিতে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে উৎ​সবের আবহ। তবে উৎ​সব হলো কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই। পথে পথে কড়া নিরাপত্তা, ক্রিকেটপাড়ার আশপাশে বন্ধ সব দোকানপাট আর হাজার হাজার পুলিশে ঘিরে থাকল স্টেডিয়াম।
জিম্বাবুয়ের দেওয়া ১৭৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ওপেনার আহমেদ শেহজাদ-মুখতার আহমেদ যেভাবে এগোচ্ছিলেন, তাতে জিম্বাবুয়ের সামনে বড় পরাজয়ই চোখ রাঙানি দিচ্ছিল। ৮০ বলে পাকিস্তানের ওপেনিং জুটি তুলল ১৪২ রান। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটিতে সর্বোচ্চ ১৪২ রান তুলেছিল কামরান আকমল-সালমান ​বাট, বাংলাদেশের বিপক্ষে ২০১০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। আজ আকমল-বাটের রেকর্ড ছুঁলেন শেহজাদ-মুখতার। ৫৫ রান করে শাহজাদ ফিরলে হঠাৎ​ ছন্দপতন। ২৭ রানে পড়ল পাকিস্তানের ৫ উইকেট। অবশ্য শেহজাদ-মুখতার যেভাবে ভিত গড়ে দিয়েছিলেন, তাতে সাময়িক বিপর্যয়ের পরও জয়ের দেখা পেতে খুব একটা সমস্যা হয়নি পাকিস্তানের। পাকিস্তানের ইনিংসের বড় দিক ছিল মুখতারের ৪৫ বলে ৮৩ রান। দারুণ ইনিংস খেলে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক টি​-টোয়েন্টিতে হলেন ম্যাচসেরা। ইনিংসটি সাজিয়েছিলেন ১২ চার ও ৩টি ছয়ে।
এর আগে ব্যাট করে জিম্বাবুয়ে পাকিস্তানের সামনে ছুড়ে দেয় ১৭২ রানের চ্যালেঞ্জ। হ্যামিল্টন মাসাকাদজা আর ভুসি সিবান্দার ৫৮ রানের উদ্বোধনী জুটি বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে জিম্বাবুয়েকে। ২৭ বলে ৩ রান করেন মাসাকাদজা। সপ্তম ওভারে মোহাম্মদ সামির পরপর দুই বলে মাসাকাদজা ও সিবান্দা আউট হয়ে গেলেও সেই ধাক্কার আঁচ লাগেনি জিম্বাবুয়ের ইনিংসে। দুই ওপেনারের গড়ে দেওয়া ভিতে দাঁড়িয়ে ৩৫ বলে ৫৪ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন অধিনায়ক এলটন চিগুম্বুরা। জিম্বাবুয়ের ইনিংস শেষ হয় ৬ উইকেটে ১৭২ রানে। ৪ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট পান মোহাম্মদ সামি। অবশ্য মুখতার-শেহজাদের নৈপুণ্যে জিম্বাবুয়ের চ্যালেঞ্জিং ইনিংসটা শেষ পর্যন্ত বৃথাই গেল। তথ্যসূত্র: টেন ক্রিকেট।

কোহলি–ধোনি আসছেন সবাই

বিশ্রাম পেলেন না ধোনি-কোহলির কেউই ছবি: এএফপিসব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটালেন ভারতীয় নির্বাচকেরা। বাংলাদেশ সফরের জন্য পূর্ণশক্তির দলই ঘোষণা করেছেন তারা। বিরাট কোহলির কাঁধে থাকছে টেস্ট দলের নেতৃত্ব, ওয়ানডে দলকে নেতৃত্ব দেবেন মহেন্দ্র সিং ধোনিই। বাংলাদেশ সফরের জন্য কোহলি-ধোনিসহ অন্যান্য সিনিয়র ক্রিকেটাররা বিশ্রাম চাইলেও তা ধোপে টেকেনি সন্দ্বীপ পাতিলের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটির কাছে। এমনকি বাংলাদেশ সফরে কোহলি কেবল টেস্ট খেলবেন—এমন কানাঘুষা থাকলেও তাঁকে রাখা হয়েছে দুই ফরম্যাটের দলেই।
বাংলাদেশ সফরের ভারতীয় দলে ‘নতুন মুখ’ বলতে তেমন কেউই নেই। টেস্ট দলে সুযোগ পাওয়া সবচেয়ে ‘নবীন’ দুই খেলোয়াড় লোকেশ রাহুল কিংবা কর্ন শর্মারও টেস্ট অভিষেক হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই। ওয়ানডে দলে অক্ষর প্যাটেল কিংবা ধাওয়াল কুলকার্নির মতো ক্রিকেটাররাও খেলে ফেলেছেন একাধিক ওয়ানডে।
বাংলাদেশ সফরেই দলে ফিরছেন দীর্ঘ দিন ভারতীয় দলে ব্রাত্য হরভজন সিং। তাঁকে অবশ্য কেবল টেস্ট স্কোয়াডে রাখা হয়েছে। হাঁটুর চোটের কারণে দলে জায়গা হয়নি বিশ্বকাপে দারুণ খেলা মোহাম্মদ শামির। টেস্ট থেকে ধোনির অবসরে নিয়মিত উইকেটরক্ষক হিসেবে কপাল খুলে গেছে বাংলার ঋদ্ধিমান সাহার।

টেস্ট দল: বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), মুরলি বিজয়, শিখর ধাওয়ান, চেতেশ্বর পূজারা, অজিঙ্কা রাহানে, হরভজন সিং, রোহিত শর্মা, ঋদ্ধিমান সাহা, লোকেশ রাহুল, কর্ন শর্মা, ভূবনেশ্বর কুমার, ইশান্ত শর্মা, বরুন অ্যারন, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, উমেশ যাদব।

ওয়ানডে দল: মহেন্দ্র সিং ধোনি (অধিনায়ক), বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, অজিঙ্কা রাহানে, শিখর ধাওয়ান, সুরেশ রায়না, আমবাতি রাইডু, রবীন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, অক্ষর প্যাটেল, ভূবনেশ্বর কুমার, উমেশ যাদব, মোহিত শর্মা, স্টুয়ার্ট বিনি, ধাওয়াল কুলকার্নি।

প্রেশারকুকারে’ ভারত

ব্যস্ত সূচি ভারতের সামনে। ফাইল ছবিভারতীয় ক্রিকেটারদের বউ আর প্রেমিকারা না ভেগে যায়! যুক্তরাজ্যের পরিসংখ্যান বিষয়ক জাতীয় সংস্থা ওএনএসের একটি হিসাবে দেখা গেছে, কর্মক্ষেত্রে বাড়তি চাপ সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার অন্যতম কারণ। আর ভারতীয় ক্রিকেটাররা তাদের ‘কর্মক্ষেত্রে’ যে চাপের মুখে পড়তে চলেছেন, এর চেয়ে প্রেশারকুকারে ঢুকে ঘাপটি মেরে বসে থাকা ভালো!
ব্যবসায়িক দিক দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে লাভজনক দল বলে এমনিতেই ভারত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে বেশি। সর্বশেষ তিন বছরে কেবল মাত্র ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর আর ২০১৪ সালের মে মাসে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল না। এ ছাড়া গত ৩৪ মাসের কোনো না কোনো দিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছে তারা। বিশ্বকাপের সময়টায় যেমন টানা প্রায় চার মাস অস্ট্রেলিয়াতেই ছিল দল।
২৬ মার্চ সেই লম্বা সফর শেষ হয়েছে সেমিফাইনালে বিদায় নিয়ে। দেশে ফিরতে না ফিরতেই ৮ এপ্রিল শুরু আইপিএল, যেটা শেষ হবে ২৪ মে। এর পর কিছুদিনের বিরতি দিয়ে ৭ জুন ভারত আসছে বাংলাদেশে। যে সফরে একটি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে খেলবে তারা।
ভারতের ভয়াবহ ব্যস্ত সূচি চলতেই থাকবে এর পর। জুনের পর জুলাইতে তারা যাবে জিম্বাবুয়েতে। সেখানে তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি খেলবে। আগস্টে ‘বেস্ট অব থ্রি’ টেস্ট সিরিজ খেলতে শ্রীলঙ্কায় যাবে ভারত। চারটি টেস্ট, পাঁচটি ওয়ানডে আর তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলতে সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা যাবে ভারতে। নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই সিরিজ। এর পর ডিসেম্বরে হওয়ার কথা বহুল আকাঙ্ক্ষিত ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ, যেটি অবশ্য এখনো আলোচনার পর্যায়ে আছে।
২০১৬ সালের জানুয়ারিতে আবার অস্ট্রেলিয়া সফর। এবার অবশ্য টেস্ট ​ম্যাচ নেই। পাঁচটি ওয়ানডে আর তিনটি টি-টোয়েন্টি। ফেব্রুয়ারিতে তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলতে শ্রীলঙ্কা আসবে ভারতে। এর পর ভারতে ‘এশিয়া কাপ’, যেটি এবার হবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। টি-টোয়েন্টি নিয়ে এত মনোযোগ দেওয়ার কারণ, মার্চের ১১ থেকে ভারতে বসবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর। সেই বিশ্বকাপ শেষ হবে ৩ এপ্রিল। এবং এর পর আবারও আইপিএল

চেন্নাইকে হারিয়ে ফাইনালে মুম্বই

ভারতীয় প্রিমিয়ার লীগের (আইপিএল) অষ্টম আসরে চেন্নাই সুপার কিংসকে ২৫ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠলো মুম্বই ইন্ডিয়ানস। ২০০৮ থেকে শুরু হওয়া এ টুর্নামেন্টে মুম্বইয়ের এটি তৃতীয় ফাইনাল। এর আগে ২০১০ ও ২০১৩ সালে ফাইনালে ওঠে তারা। দুইবারই তারা ফাইনালে খেলে চেন্নাইয়ের বিপক্ষে। ২০১০ সালে হেরে গেলেও ২০১৩ সালে শিরোপা জেতে তারা। অন্যদিকে ৫ বারের ফাইনালিস্ট ও দুইবারের শিরোপাজয়ী চেন্নাইয়ের এখনও ফাইনালের আশা শেষ হয়ে যায়নি। দ্বিতীয় কোয়ালিফাইয়ার ম্যাচে আজ রাতে মুখোমুখি হবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু ও রাজস্থান রয়্যালস। তাদের মধ্যের জয়ী দলের বিপক্ষে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ফের মাঠে নামবে চেন্নাই। এ হিসেবে এবারও ২০১০ ও ২০১৩ সালের মুম্বই-চেন্নাই ফাইনালের সম্ভাবনা এবার উড়িয়ে দেয়া যায় না।
মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে গতকাল টস জিতে আগে ব্যাটি গিয়ে স্বাগতিক মুম্বই সংগ্রহ করে ৬ উইকেটে ১৮৭ রান। জবাবে ১৬২ রানে অলআউট হয় মহেন্দ্রসিং ধোনির চেন্নাই। স্কোর বোর্ডের কোন রান যোগ না হতেই ডোয়াইন স্মিথকে ফেরান লাসিথ মালিঙ্গা। পরে ৩৪ বলে সর্বোচ্চ ৪৫ রান আসে ফ্যাফ ডু প্লেসিসের ব্যাট থেকে। অধিনায়ক ধোনি এক বল খেলে কোনো রান করেই ফেরেন। আর শেষের দিকে রবিচন্দ্রণ অশ্বিন ১২ বলে ২৩ রান করেন। কিন্তুৃ এটা জয়ের জন্য যথেষ্ঠ ছিল না। মুম্বইয়ের লঙ্কান পেসার মালিঙ্গা ২৩ রানে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন। এর আগে মুম্বইকে দারুণ সূচনা এনে দেন তাদের দুই ওপেনার লেন্ডল সিমন্স ও পাুির্থব প্যাটেল। ১০.৪ ওভারে তারা ৯০ রানের জুটি গড়েন। সিমন্স ৫ ছক্কা ও ৩ চারে ৫১ বলে ৬৫ ও প্যাটেল ১ ছক্কা ও ৪ চারে ২৫ বলে করেন ৩৫ রান। আর শেষের দিকে ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার ৫ ছক্কা ও ১ চারে মাত্র ১৭ বলে ৪১ রান করে দলের বড় সংগ্রহে অবদান রাখেন।

তিন বছর পর পাকিস্তান দলে সামি

প্রায় তিন বছর পর পাকিস্তান ক্রিকেট দলে ডাক পেলেন পেসার মোহাম্মদ সামি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য ১৫ সদস্যের দলে রাখা হয়েছে ৩৪ বছর বয়সী এ খেলোয়াড়কে। এছাড়া, বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়া ব্যাটসম্যান শোয়েব মালিকও টি-টোয়েন্টি দলে ডাক পেয়েছেন। তিনি সর্বশেষ পাকিস্তানের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলেন গত বছর এপ্রিলে। আর ওয়ানডে খেলেছেন ২০১৩ সালের জুনে। অন্যদিকে দেশের হয়ে ৩৬ টেস্ট ও ৮৫ ওয়ানডে খেলা মোহাম্মদ সামি দেশের হয়ে সর্বশেষ খেলেছেন ২০১২ সালের জুনে। বিশ্বকাপে নিয়ম ভাঙার অভিযোগে বাংলাদেশ সফর থেকে বাদ পড়া ব্যাটসম্যান উমর আকমলও দলে ফিরেছেন। নতুন মুখ হিসেবে রাখা হয়েছে ১৯ বছর বয়সী নুমান আনোয়ার ও ইমাদ ওয়াসিমকে। অন্যদিকে আনওয়ার আলী, বিলাওয়াল ভাট্টি ও হাম্মাদ আজম দলে ফিরলেও বাদ পড়েছেন সাদ নাসিম, ইমরান খান ও হারিস সোহাইল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাকিস্তান দুই টি-টোয়েন্টি ও তিন ওয়ানডে খেলবে। ২২শে মে প্রথম টি-টোয়েন্টি হবে লাহোরে।
পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি দল
শহিদ আফ্রিদি (অধি:), সরফরাজ আহমেদ, আহমেদ শেহজাদ, মোহাম্মদ হাফিজ, মুখতার আহমেদ, নুমান আনোয়ার, শোয়েব মালিক, উমর আকমল, মোহাম্মদ রিজওয়ান, আনোয়ার আলী, হাম্মাদ আজম, ইমাদ ওয়াসিম, বিলাওয়াল ভাট্টি, ওয়াহাব রিয়াজ ও মোহাম্মদ সামি

Developed by: