বিভাগ: খেলাধুলা

মেসির গোলে লিগ জিতল বার্সা

ঠিক যেন গতবারের নাটক। চরিত্রগুলোও প্রায় একই। দল দুটোও। শুধু নাটকের শেষটা হলো অন্যভাবে। গতবার বার্সেলোনার মাঠে এসে লিগ শিরোপা জিতেছিল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। এবার অ্যাটলেটিকোর মাঠে এসে তাদের হারিয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধার করল বার্সেলোনা। লিওনেল মেসির একমাত্র গোলে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ২৩তম লা লিগার মুকুট পরল কাতালান ক্লাবটি।
ক্রসবারে লেগেছে, নতুন কর্তোয়া হয়ে দেখা দেওয়া ওব্লাক দুর্দান্ত কিছু সেভও করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৬৫ মিনিটে মেসিকে আর কেউ রুখতে পারেনি। বক্সের ভেতর জটলায় সামান্য জায়গাতেই নেইমারের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে মাপা শট। আর মেসির সেই গোলটাই ব্যবধান গড়ে দিল। এর চেয়ে ভালো সমাপ্তি আর হয় না। আজ লুইস সুয়ারেজকে বিশ্রামে রেখেছিলেন লুইস এনরিকে। লিগের শেষ ম্যাচটায় বিশ্রাম দিতে পারেন দলের সব তারকাকেই। বার্সার সামনেই যে ট্রেবল জেতার হাতছানি। ৩০ মে কোপা ডেল রের ফাইনাল। ৬ জুন সবচেয়ে বড় ট্রফি চ্যাম্পিয়নস লিগের জন্য লড়বে বার্সা।
মেসির গোলটা না হলে বার্সাকে লিগের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। সমালোচনা-জর্জর রিয়াল মাদ্রিদ আজ একেবারে মরণকামড় বসিয়েছিল। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর হ্যাটট্রিকে এসপানিয়লকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াল। কিন্তু তাতে রোনালদোর গোল্ডেন বুট জেতাটাই কেবল নিশ্চিত হলো। গত দশ বছরে সপ্তম লিগ শিরোপা যে ততক্ষণে বার্সার ঘরে! নিশ্চিত হয়ে গেল, কোনো ট্রফি ছাড়াই মৌসুমটা শেষ করতে হচ্ছে রিয়ালকে। যে যন্ত্রণায় গতবার পুড়েছিল বার্সা।
একই সময়ে শুরু হওয়া দুটো ম্যাচের স্কোর লাইন ৫৮ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য ছিল। হিসাবটা ছিল এমন, রিয়া​ল আজ যা করবে, বার্সাকেও তা-ই করতে হবে। এমনকি রিয়াল হেরে গেলে বার্সা হারলেও জিতত শিরোপা। কিন্তু ৫৯ মিনিটে রিয়ালকে প্রথমে এগিয়ে দেন রোনালদো। ৭৩ মিনিটে সমতায় ফেরে এসপানিয়ল। ওদিকে ততক্ষণে গোল করেছেন মেসিও। মেসির গোলের খবর রোনালদোর কানে পৌঁছেছিল কি না কে জানে, রীতিমতো বাঘের মতো জ্বলে উঠলেন রোনালদো। করলেন লা লিগার ২৬তম হ্যাটট্রিক। এবারের আসরে তাঁর গোল ৪৫টি, মেসির ৪১।
পিচিচি ট্রফি আর ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুট হাতছাড়া করায় মেসি নিশ্চয়ই এতটুকু মন খারাপ করবেন না। বরং তাঁর সামনে হাতছানি দিচ্ছে ক্যারিয়ারের চতুর্থ চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা, যেখানে ইউরোপ সেরার এই ট্রফি রোনালদো জিতেছেন দুবার। তা ছাড়া ইউরোপ সেরার এই টুর্নামেন্টের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় দুজনে এখন সমান-সমান (৭৭)। মেসি সুযোগ পাচ্ছেন রোনালদোকে টপকে যাওয়ার। পঞ্চম ব্যালন ডি’অরের দিকেও অনেকটাই এগিয়ে গেলেন মেসি।
তবে এনরিকে এরই মধ্যে সতর্ক করছেন, কাজ এখনো শেষ হয়নি। শিষ্যদের উদযাপনে গিয়ে বেশিক্ষণ মাতামাতিও করেননি। বরং ক্ষুধাটা জাগিয়ে রেখেছেন। বার্সার হয়ে প্রথম মৌসুমেই শিরোপাত্রয়ী জিতেছিলেন পেপ গার্দিওলা। মৌসুমের শুরু থেকে গত জানুয়ারি পর্যন্ত সমালোচনায় জর্জর এনরিকের সামনে এখন সেই কীর্তি পুনরাবৃত্তির হাতছানি!

সাকিবের অভাব পূরণ করতে পারেনি কেকেআর

মুম্বই-হায়দরাবাদ ম্যাচে কমেন্ট্রি করার ফাঁকে কেকেআর নিয়ে লিখতে বসেও আমার বিশ্বাস হচ্ছে না যে, টিমটা প্লে অফ খেলবে না। ভাবাটা কঠিন হচ্ছে এই কারণে যে, কেকেআর আইপিএল আটের অন্যতম সেরা টিম ছিল। ওপেনাররা ভাল খেলছিল, মিডল অর্ডারে আন্দ্রে রাসেলের মতো বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান ছিল। ইউসুফ পাঠান— ভেবে দেখুন তো গত তিন বছরে এর চেয়ে ভাল ফর্মে দেখেছেন কি? ব্র্যাড হগ, পীযূষ চাওলারাও দুর্দান্ত বল করেছে। তার পরেও পারল না কেকেআর, ভেবে আশ্চর্য লাগছে।
গোটা পাঁচ-ছয় কারণে কেকেআরকে এ ভাবে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেতে হল। কোথাও না কোথাও যে ফ্যাক্টরগুলো কাজ করে টিমটাকে আর একটা পয়েন্ট পাওয়া থেকে আটকে দিল, যেটা পেলেই ওরা প্লে অফে চলে যেতে পারত।
নারিন-জট: ওর অ্যাকশন নিয়ে একটার পর একটা সমস্যা কোথাও গিয়ে মনে হয় ওর সঙ্গে টিমেও প্রভাব ফেলেছিল। একে তো নারিন কেকেআরের এক নম্বর বোলার। অ্যাকশন নিয়ে পরের পর বিতর্কে ওর বোলিং আগের মতো আর থাকল না। প্রথম দিকে উইকেট পায়নি, রানও দিয়েছে। ইডেনে আরসিবি ম্যাচে তো নারিনকে অতি গুরুত্বপ্র্ণূ সময়ে একটা ছয়ও মেরে দেয় হর্ষল পটেল। আবার সানরাইজার্সের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে ৪ ওভারে ৩৮ দেয়। তার পর নারিনকে নিয়ে ক্রমাগত টেনশন টিমটারও ফোকাস বোধহয় কিছুটা নড়িয়ে দিয়েছিল। আসলে আপনার সেরা বোলারকে নিয়ে যদি রোজ-রোজ ঝামেলা হয়, ড্রেসিংরুমে সেটা নিয়ে আলোচনা সাধারণত চলে। যেমন, আবার কবে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে নারিন? রিপোর্টটা কবে আসবে? এ ধরনের কিছু প্রশ্ন। কিন্তু এই প্রশ্নগুলো একটা টিমে নেগেটিভ ব্যাপার ঢুকিয়ে দিতে পারে।
সাকিবের অভাব: আইপিএল সেভেনে কেকেআর যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তার পিছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা কিন্তু বাংলাদেশ অলরাউন্ডারের ছিল। ও থাকা মানে মিডল অর্ডার ব্যাটিংটা শক্তিশালী হবে। আবার বোলিংয়েও চারটে ওভার করিয়ে দেওয়া যাবে। আর সেই সাকিবকেই এ বার সাত-আটটা ম্যাচ পেল না কেকেআর। মাঝের এই সময়টায় নাইটরা কয়েকটা ম্যাচ হেরে গেল। কখনও কখনও দেখলাম, জোহান বোথাকে নামানো হল ওর বদলি হিসেবে। কিন্তু লাভ হল না। ধাক্কাটা যেমন ছিল, তেমনই থেকে গেল।
ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে অতিরিক্ত পরীক্ষা: একটা উদাহরণ দেব। সূর্যকুমার যাদবকে একটা সময় টানা চারে খেলিয়ে যাওয়া। সূর্যকে আমি বেশ কয়েক বছর ধরে চিনি। ও পরে এসে ১০ বলে ২০ দেবে। কিন্তু তিরিশ বলে পঞ্চাশ করতে গেলে মুশকিলে পড়বে। সিএসকে-র সঙ্গে যেমন চারে নেমে ২৬ বলে ১৬ করে। চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে দু’রানে ওই হার নাইটরা ভুলতে পারবে না।
ক্লোজ ম্যাচ হারা: যে ক’টা ম্যাচ কেকেআর এ বার হেরেছে, একটাও কিন্তু বড় ব্যবধানে নয়। কখনও দু’রান, কখনও চার, কখনও নয়। মানে, একটা শটের ব্যাপার ছিল। বলতে চাইছি, কেকেআরকে কেউ দাপট দেখিয়ে হারাতে পারেনি। কোনও রকমে হারিয়েছে। যে ম্যাচগুলো কেকেআরও জিততে পারত। আইপিএলের মতো লম্বা টুর্নামেন্টে ক্লোজ ম্যাচ খুব বেশি হারলে পরে মুশকিল হয়ে যায়। কেকেআরেও সেটা হয়েছে।
ভুল স্ট্র্যাটেজি: একটা ম্যাচেই হল, সেটাও আসল ম্যাচে। রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে। জানি না, কোন যুক্তিতে শনিবার হগ বা নারিনকে নামায়নি কেকেআর। আরে, কত দিত ওরা? চার ওভারে পঁয়ত্রিশ? কিন্তু দু’টো উইকেটও থাকত। আজহার মেহমুদকে এত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নামানোর মানে ছিল না। সেটাও যখন আবার মেহমুদের প্রথম ম্যাচ। পরিষ্কার ট্যাকটিকাল ভুল। নারিন বল করতে এলে দু’টো ওভার লোকে দেখে খেলবে। বারোটা বল যাবে। সেখানে মেহমুদ খেলায় তো উইকেটই ফেলতে পারল না কেকেআর।
ভাগ্য: বলা উচিত দুর্ভাগ্য। বৃষ্টিতে তিনটে ম্যাচ গেল কেকেআরের। দু’টো হারল হায়দরাবাদ এবং আরসিবির কাছে। আর ইডেনে রাজস্থান ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে গেল। অথচ ওই সময় ভাল খেলছিল না রাজস্থান। ইডেনের উইকেটে ওদের জেতার চেয়ে হারার সম্ভাবনাই বেশি ছিল। ওখানে কেকেআরের একটা পয়েন্ট হারানো খুব মারাত্মক হয়ে গেল শেষে।
লেখার শুরুতেই বললাম না, ক্রিকেটীয় যুক্তি জড়ো করেও বিশ্বাস করে উঠতে পারছি না যে কেকেআর সত্যিই টুর্নামেন্টে আর নেই!

গাভাস্কার চান টেস্টে খেলুন কোহলি

বিরাট কোহলিকে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে চান গাভাস্কার ছবি: এএফপিআসছে বাংলাদেশ সফরে বিরাট কোহলি থাকছেন কিনা, এ নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। খবরে প্রকাশিত, টানা ক্রিকেট থেকে কোহলি নাকি একটু বিরতি চান, আর সেটা বাংলাদেশ সফরেই। প্রথমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ এরপর বিশ্বকাপ, সবশেষে আইপিএল—কোহলির ক্লান্তির ব্যাপারটা বোধগম্যই, কিন্তু তাঁকে পুরো সিরিজেই বিশ্রাম দেওয়া হবে নাকি কেবল টেস্ট অথবা ওয়ানডেতে বিশ্রাম দেওয়া হবে—সে বিষয়টা পরিষ্কার না হলেও সাবেক ভারতীয় ‘গ্রেট’ সুনীল গাভাস্কার মনে করেন, বাংলাদেশ সফরে কোহলির অন্তত টেস্ট ম্যাচটা খেলা উচিত।
ভারতের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গাভাস্কার বলেছেন, ‘আমি চাই কোহলি বাংলাদেশ সফরে টেস্ট ম্যাচে মাঠে নামুক। নতুন অধিনায়ক হিসেবে এটা তাঁর দায়িত্ব। এরপর ওয়ানডে সিরিজে সে ছুটি নিক, কোনো অসুবিধা নেই। শুধু কোহলিই নয়, ওয়ানডে সিরিজে রবিচন্দ্রন অশ্বিন, উমেশ যাদবদের মতো ক্রিকেটারদের বিশ্রাম দেওয়া উচিত। গত সাড়ে চার মাস তাঁরা অসম্ভব পরিশ্রম করেছে। একজন ক্রিকেটার হিসেবে এই বিশ্রামটা তাদের প্রাপ্য।’
ক্রিকেটারদের অনেককেই বিশ্রাম দেওয়ার কথা বললেও গাভাস্কার মনে করেন বাংলাদেশ সফরে একটি শক্তিশালী দলই পাঠানো উচিত ভারতের, ‘এটা ঠিক যে গত বছর রীতিমতো “এ” দল খেলিয়ে ভারত বাংলাদেশকে সহজে হারিয়েছিল। কিন্তু ওটা এক বছর আগের কথা। গত এক বছরে দল হিসেবে বাংলাদেশ অনেক বদলে গেছে। পাকিস্তানকে তারা ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে। ভারতীয় নির্বাচকদের উচিত বিষয়টা মাথায় রাখা।’
বাংলাদেশ সফরের জন্য ভারতীয় দল ঘোষণা করার কথা আগামী ২০ মে। একটি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে খেলতে আগামী ৭ জুন বাংলাদেশে পা রাখার কথা ভারতের। ১০ জুন ঢাকার অদূরে ফতুল্লায় শুরু হবে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি। তিনটি ওয়ানডে ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে।

বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মাঠে নামছে সাকিবের কলকাতা

ভারতীয় প্রিমিয়ার লীগে (আইপিএল) বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আজ মাঠে নামছে সাকিব আল হাসানের কলকাতা নাইট রাইডার্স। শেষ চার নিশ্চিত করতে রাত সাড়ে আটটায় শুরু হতে যাওয়া রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষের ম্যাচটি তাদের জিততেই হবে। ১৩ ম্যাচে ১৬ ও ১৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষ দুই দল চেন্নাই সুপার কিংস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। সমান সংখ্যক ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে কলকাতা। আজ কলকাতা হারলে পয়েন্ট টেবিলের পরের তিন দলের যে কেউ সেমিফাইনাল উঠে যাবে। এক্ষেত্রে গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়তে হবে কলকাতাকে। পরের তিন দলÑ সানরাইজার্স হায়দারাবাদ, মুম্বই ইন্ডিয়ানস ও রাজস্থান রয়্যালসের পয়েন্ট সমান ১৪ করে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আজ জিতলে কলকাতা শেষ চার নিশ্চিত করবে। কিন্তু রাজস্থান জিতলেও নিশ্চিত থাকবে না। কারণ, রান রেটে এগিয়ে থেকে শেষ ম্যাচ জিতে তাদের টপকে যেতে পারে মুম্বই ও হায়বারাবাদ। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশর সিরিজ শেষে কলকাতায় যোগ দিয়ে প্রথম ম্যাচে সাকিব ২২ রানে ২ উইকেট ও ১৫ বলে ২৩ রান করেন।

কাঙ্ক্ষিত জয় পায়নি বায়ার্ন, ফাইনালে বার্সা

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে বার্সেলোনাকে হারিয়েও কাঙ্খিত জয় না পাওয়ায় বিদায় নিতে হলো বায়ার্ন মিউনিখকে। অন্যদিকে ফাইনালের টিকেট পেল মেসির বার্সেলোনা। আগামী ৬ জুন বার্লিনে ফাইনালে পঞ্চম শিরোপা জেতার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হবে রিয়াল মাদ্রিদ আর জুভেন্টাসের মধ্যে জয়ী দল।

দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৩ গোলে জিতে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠে গেছে লুইস এনরিকের দল। সেমি-ফাইনালের প্রথম পর্বে বার্সেলোনার মাঠ থেকে ৩-০ গোলে হেরে আসা জার্মান চ্যাম্পিয়নদের প্রয়োজন ছিল চার গোলের ব্যবধানে জয়। প্রাণপণ খেলে ম্যাচটি ৩-২ গোলে জিতলেও তাই হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় পেপ গার্দিওলার দলকে।
মঙ্গলবার বায়ার্নের ঘরের মাঠে জোড়া গোল করে বার্সেলোনাকে ফাইনালে নেয়ার কাজটা ভালোভাবেই করেছেন ব্রাজিলের তারকা স্ট্রাইকার নেইমার। তবে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। সপ্তম মিনিটে জাভি আলনসোর ক্রসে হেড করে গোলরক্ষক মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেনকে পরাস্ত করে বায়ার্নকে এগিয়ে দেন মেহদি বেনাতিয়া। তবে পঞ্চদশ মিনিটেই মেসি, সুয়ারেস ও নেইমারের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সমতায় ফেরে বার্সেলোনা। মেসির ডিফেন্স চেরা পাস ধরে লুইস সুয়ারেস বল পাঠিয়েছিলেন নেইমারকে। এগিয়ে আসা নয়ারকে ফাঁকি দিতে কোনো সমস্যা হয়নি ব্রাজিল তারকার। গোল খেয়ে একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে বায়ার্ন। তবে ফিলিপ লামের ক্রসে টমাস মুলারের হেড ঠেকিয়ে দেন টের স্টেগেন। ২৭তম মিনিটে গোলে প্রথম শটটি নেন মেসি। তবে নয়ারের তা ঠেকাতে তেমন কষ্ট করতে হয়নি। তবে ২৯তম মিনিটে আলিয়াঞ্জ আরেনাকে নিশ্চুপ করে দেন নেইমার। নিঃস্বার্থ সুয়ারেসের ক্রস বুক দিয়ে নামিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি।

বিরতির পর ম্যাচের ৬০তম মিনিটে বায়ার্নকে সমতায় ফেরান লেভানদোভস্কি। ডি-বক্সের ঠিক ভেতরে হাভিয়ের মাসচেরানোকে ফাঁকি দিয়ে বাঁকানো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন পোল্যান্ডের এই স্ট্রাইকার। বায়ার্ন এগিয়ে যাওয়া গোলটি পায় ৭৪তম মিনিটে। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে দারুণ শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন টমাস মুলার।
আগামী ৬ জুন বার্লিনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পঞ্চম শিরোপা জেতার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হবে রিয়াল মাদ্রিদ আর জুভেন্টাসের মধ্যে জয়ী দল।

ব্রাজিল দলে কাকা

কোপা আমেরিকার জন্য ঘোষণা করা ব্রাজিলের প্রাথমিক দলে ডাক পেয়েছেন দলটির এক সময়ের তারকা খেলোয়াড় কাকা। প্রথম সপ্তাহে ঘোষণা করা ২৩ সদস্যের দলে ছিলেন না তিনি। তবে ৩০ সদস্যের দলে তাকেও ডেকেছেন কোচ কার্লোস দুঙ্গা। আগামী ১১ জুনে চিলিতে শুরু হবে কোপা আমেরিকার এবারের আসর।

কোপা আমেরিকার ব্রাজিল দল:

গোলরক্ষক: দিয়েগো আলভেস, মার্সেলো গ্রোহে, জেফারসন, নেতো।

ডিফেন্ডার: দানিলিও, দাভিদ লুইস, ফাবিয়ানো, ফিলিপে লুইস, মার্সেলো, মারকুইনিয়োস, মিরান্দা, চিয়াগো সিলভা, জিল।
মিডফিল্ডার: ফিলিপে আন্দারসন, কাসেমিরো, ফিলিপে কৌতিনিয়ো, এলিয়াস, ফের্নানদিনিয়ো, ফ্রেদ, লুইস গুস্তাভো, রাফিনিয়া, এভারতন রিবেইরো, উইলিয়ান।
ফরোয়ার্ড: দগলাস কস্তা, লিয়েনদ্রো দামিয়াও, রবের্তো ফিরমিনো, কাকা, নেইমার, রবিনিয়ো, দিয়েগো তারদেল্লি।

চিকিৎসার জন্য অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন শাহাদাত

ঢাকা, ১২ মে- বাংলাদেশের পেসার শাহাদাত হোসেন প্রায় ছয় মাস পর জাতীয় দলে ডাক পেয়েই প্রথম ম্যাচের প্রথম ওভারেই বল করতে গিয়ে ইনজুরিতে পড়েন । উন্নত চিকিৎসার জন্যে শাহাদাতকে অস্ট্রেলিয়া পাঠাতে যাচ্ছে বিসিবি। বিসিবির প্রধান চিকিৎসক এমনটাই জানান।

ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনেই বল করার সময় পায়ের ইনজুরিতে পড়েন শাহাদাত। মাশরাফির চিকিৎসা করানো চিকিৎসক ডেভিড ইয়াংয়ের কাছেই হয়ত চিকিৎসা নিতে পারেন এই শাহাদাত এমনটাই শোনা যাচ্ছে।

প্রথমে বল করে ইনজুরি পাওয়ার পরে অনুশীলনের সময় আবার পায়ে মারাত্মকভাবে আঘাত পান শাহাদাত।

তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসা করালেও বড় ধরনের ইনজুরি হয় শাহাদাতের পায়ে। তাই বিসিবি এবার চিকিৎসার জন্য অস্ট্রেলিয়া পাঠাচ্ছে শাহাদাতকে। এজন্য মেলবোর্নের অর্থোপেডিক সেন্টারের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডেভিড ইয়াংয়ের অ্যাপোয়েমেন্ট নেয়ার চেষ্টা করছে বিসিবি।

ক্রিকেটকে বিদায় জনাথন ট্রটের

শেষ অবধি ক্রিকেটকেই বিদায় জানালেন জোনাথন ট্রট ছবি: রয়টার্সওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেই ইংল্যান্ড দলে ফিরেছিলেন দীর্ঘ বিরতির পর। ২০১৩-১৪ অ্যাশেজ সফরের পরপরই ক্রিকেট থেকে নির্বাসন নিয়েছিলেন মানসিক চাপ-সংক্রান্ত অসুস্থতার কারণে। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে ফিরে ভেবেছিলেন নিজের আগের ফর্মটা ফিরে পাবেন। কিন্তু ফেরার সফরে চরম বাজে পারফরম্যান্স ক্রিকেট থেকেই মনটা তুলে নিল জোনাথন ট্রটের। সব ধরনের ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী এই ইংলিশ ব্যাটসম্যান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের তিনটি টেস্টে সাকল্যে তাঁর সংগ্রহ ৭২। মেরেছেন তিনটি ডাক। গড় ১২। দীর্ঘ বিরতির পর দলে ফিরে এমন পারফরম্যান্সকে অগ্রহণযোগ্যই মনে হয়েছে ট্রটের কাছে। নিজেই জানিয়েছেন, ‘আমার পারফরম্যান্সটা ঠিক জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করার উপযোগী নয়।’
২০০৯ সালে অভিষেকেই টেস্ট সেঞ্চুরি করেছিলেন ট্রট। ইংল্যান্ডের হয়ে ৫২টি টেস্ট খেলে রান করেছেন ৩৮৩৫। গড়টাও যথেষ্ট সমীহ-জাগানিয়া-৪৪.০৮। ২০১১ সালের ‘ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার’ ট্রট ২০১৩-১৪ অ্যাশেজ সফরের পরপরই ক্রিকেটে সাময়িকভাবে ইংল্যান্ড দল থেকে সরে দাঁড়ান। বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপে জর্জরিত হয়েই সেবার ক্রিকেট থেকে সাময়িক নির্বাসনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দলে ফিরেও নিজেকে প্রমাণ করতে পারলেন না তিনি। ট্রট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাঁর এই অবসরের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে এই মুহূর্ত থেকেই।

গৌরবের ড্র খুলনায়

সাকিব আল হাসান ও ওয়াহাব রিয়াজের বচসার এই মুহূর্তটি যেন খুলনা টেস্টের প্রতী​কী চিত্র হয়েই রইল। ছবি: শামসুল হকসফরে আরও একটি ম্যাচে জয়শূন্য পাকিস্তান। সেই প্রস্তুতি ম্যাচ থেকে শুরু। এরপর পেরিয়ে গেছে তিনটি ওয়ানডে, একটি টি-টোয়েন্টি। ওয়ানডে সিরিজে ধবলধোলাই হওয়ার পর পাকিস্তানিদের কণ্ঠে ঝরেছিল টি-টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়। ব্যর্থ তারা সেখানেও। বড় জয়েই রঙিন পোশাকের শ্রেষ্ঠত্বে এতটুকু আঁচড় ফেলতে দেয়নি বাংলাদেশ দল। সাদা পোশাকের লড়াইয়ে পাকিস্তানের ভাবভঙ্গিই ছিল অন্যরকম। মিসবাহ-উল-হক ও ইউনিস খানের অন্তর্ভুক্তিতে ছোট ফরম্যাটের ঝাল তোলারই যেন প্রস্তুতি ছিল তাদের। খুলনা টেস্টের প্রথম তিন দিন ছিল তারই ইঙ্গিত। কিন্তু চতুর্থ আর পঞ্চম দিনে এসে বাংলাদেশ প্রমাণ করে ছাড়ল, সেই দিন আর নেই। এই বাংলাদেশ এখন অনেক বেশি পরিণত। নিশ্চিত পরাজয়ের মুখেও ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি, সামর্থ্য সবই আছে বাংলাদেশের।
নতুন দিনের নতুন বাংলাদেশ গত কিছু দিন ধরে পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের রেকর্ড নতুন করে লিখছে। প্রথম ওয়ানডে জয়, প্রথম সিরিজ জয়, প্রথম ধবল ধোলাই, প্রথম টি-টোয়েন্টি জয়…। সেই তালিকায় যুক্ত হলো পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে প্রথম ড্র। প্রথম জয়টাও হয়তো খুব বেশি দূরে নেই!
পরিণত বাংলাদেশের বিরাট বিজ্ঞাপন হয়ে রইলের তামিম ইকবাল আর ইমরুল কায়েস। ২৯৬ রানের ঘাটতি নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ক্রিকেট দুনিয়াকে দেখিয়ে দিলেন নিজেদের বীরত্বগাথা। ৩১২ রানের অনন্য এক জুটি গড়ে নিজেদের নিয়ে গেলেন রেকর্ড বইয়ের অনেকগুলো পৃষ্ঠায়। উদ্বোধনী জুটিতেই পাকিস্তানিদের টেস্ট জয়ের আশা শেষ। তামিম ইকবাল টানা তিন টেস্টে সেঞ্চুরির পাশাপাশি তুলে নিলেন তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি (২০৬)। ইমরুল কায়েস ডাবল সেঞ্চুরি পাননি। ১৫০ রানের তাঁর অনবদ্য ইনিংস খেলে তিনিও এই ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইয়ে শামিল আরেক বীর সেনানী হিসেবেই।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৫৫৫। এটাও নতুন দিনের পরিণত বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। এর আগে আর কখনোই দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ শতাধিক রানের রেকর্ড ছিল না বাংলাদেশের। শুধু রান কিংবা নিরেট পরিসংখ্যানে মজে থাকার কিছু নেই। পরিণত হওয়ার প্রমাণ সেশন-বাই সেশন ব্যাটিংয়েও। দুদিন ধরে প্রায় পাঁচ সেশন ধরে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ দেখিয়ে দিয়েছে টেস্ট ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুরোপুরিই প্রস্তুত আজকের এই বাংলাদেশ। সেটিও পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে প্রায় ১৬৯ ওভার বোলিং-ফিল্ডিং করার ক্লান্তি আর ধকল সামলেই।
অনবদ্য ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা তামিম। ছবি: শামসুল হকচতুর্থ দিন শেষে স্কোরবোর্ডে বাংলাদেশের বিনা উইকেটে ২৭৩ রান দেখে নাকি খুব অবাক হয়েছিলেন পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা। গতকাল দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনে এসে আসাদ শফিক সেটা স্বীকারও করেছেন। নিজেদের বোলিংয়ের ভুল-ত্রুটি বিশ্লেষণ করার চেষ্টা না করে সোজা সাপটাই কৃতিত্বটা তিনি দিয়েছিলেন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের। কিন্তু টীকা হিসেবে প্রত্যয় জানিয়ে এসেছিলেন আজ পঞ্চম দিনে নতুন করে শুরু করার। বলেছিলেন পঞ্চম দিনে একটি-দুটি উইকেটই খেলার লাগাম নিয়ে আসবে পাকিস্তানের হাতে।
পাকিস্তানের সেই আশার গুড়ে বালি মিশিয়েই আজ বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল গতকালকেরই বর্ধিত রূপ মাত্র। ২৭৩ রানের জুটিটা তরতর করে পৌঁছে গেল ৩১২ রানে। রেকর্ড বইয়েও আলোড়ন এলো। তামিম-ইমরুলের এই যুগল-সংগ্রহ টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসেই দ্বিতীয় ইনিংসে উদ্বোধনী জুটির সর্বোচ্চ। সকালের দিকে ইমরুল বেশিক্ষণ টেকেননি। ১৫০ রানে জুলফিকার বাবরের বলে অতিরিক্ত ফিল্ডার বাবর আজমের হাতে ধরা পড়েন তিনি। টেকেননি মুমিনুল হকও। ২১ রান করে জুনায়েদ খানের বলে বোল্ড হন প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের মালিক। কিন্তু অপর প্রান্তে নিজের লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন তামিম। টুক-টুক ব্যাটিং নয়। আত্মপ্রত্যয়ী ঢংয়ে নিজের খেলাটাই খেলে গেছেন। নিজের ডাবল সেঞ্চুরিটা তামিম পূরণ করেছেন মারকুটে মেজাজেই। ১৮২ থেকে ইয়াসির শাহকে পরপর দুটি ছক্কা মেরে তিনি পৌঁছান ১৯৪-তে। এরপর ডাবল সেঞ্চুরিটা তামিম পূরণ করেন জুনায়েদ খানকে বিশাল এক ছক্কা মেরেই। এক সময় হয়ে মুশফিকুর রহিমকে টপকে হয়ে যান টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ইনিংসের মালিক। বাংলাদেশের পক্ষে ওয়ানডের সর্বোচ্চ ইনিংসটাও তাঁর।
তামিম ডাবল সেঞ্চুরি পূরণ করে থাকতে পারেননি বেশিক্ষণ। ২০৬ রানেই শেষ হয় তাঁর বীরত্বগাথা। অসম্ভব সংযম আর আত্মপ্রত্যয় নিয়ে ইনিংসটি সাজিয়ে একটু বেশিই মারমুখী হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর খেসারতটা তিনি দিয়েছেন মোহাম্মদ হাফিজের বলে সরফরাজ আহমেদের হাতে স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়ে। তামিম আউট হয়ে যাওয়ার পর দিনের দ্বিতীয় সেশনটা পার করে দেন মাহমুদউল্লাহ আর সাকিব আল হাসান। নিজেদের মধ্যে গড়ে তোলেন ৬৪ রানের জুটি। মাহমুদউল্লাহ ফেরেন ব্যক্তিগত ৪০ রানে। চোট নিয়ে ব্যাট করতে নামা মুশফিক ফেরেন রানের খাতা না খুলেই।
এর পরের সময়টা সাকিবের সঙ্গী হন সৌম্য সরকার। সৌম্য সরকার নিজেকে টেস্ট ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠিত করার ভালো সুযোগই আজ পেয়েছিলেন। কিন্তু ব্যক্তিগত খাতায় ৩৩ রান তুলেই অবশ্য থেমে যান তিনি। মজার ব্যাপার হচ্ছে প্রথম ইনিংসেও ৩৩ রানে ফিরেছিলেন বাংলাদেশের এই তরুণ-তুর্কি।
সাকিব শেষ অবধি অপরাজিত ছিলেন ৭৬ রানে। এই সিরিজে কিছুটা নিষ্প্রভ সাকিব শেষ বেলায় নিজের জাতটি কিন্তু ঠিকই চিনিয়েছেন। এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে দলের গৌরবময় ড্র নিশ্চিত হয় তাঁর ব্যাটেই। তামিম চেয়েছিলেন সাকিব সেঞ্চুরিটা করেই ফিরুন। ড্রেসিংরুম থেকে সে রকম ইশারাও করেছিলেন। কিন্তু সাকিব ততক্ষণে গ্লাভস খুলে মিসবাহর সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন। এই ম্যাচে পাকিস্তানকে যথেষ্ট যন্ত্রণাবিদ্ধ করা গেছে। মিরপুরে সিরিজের শেষ টেস্টও তো পড়েই রইল।
ম্যাচের স্কোরকার্ডে লেখা থাকবে ড্র। ম্যাচটা ‘ড্র’-ই। কিন্তু টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের চার নম্বর দলের সঙ্গে বুক চিতিয়ে লড়াই করে ড্র-টা জয়েরই সমান। অন্তত মানসিক লড়াইয়ের ক্ষেত্রে এই ম্যাচে বিজয়ী বাংলাদেশ। ওয়াহাব রিয়াজকে যেন সেটাই বোঝাচ্ছিলেন সাকিব!

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় ‘বিদ্রোহে’র পরিকল্পনা ফাঁস!

ভারতের এসেল গ্রুপের কথা মনে আছে? আইসিএল? ২০০৮ সালে এই আইসিএলে খেলতে যাওয়ার কারণেই তো বাংলাদেশের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন হাবিবুল বাশার, খালেদ মাসুদ, মোহাম্মদ রফিক, শাহরিয়ার নাফীস, অলক কাপালি ও আফতাব আহমেদের মতো ক্রিকেটাররা। এই আইসিএল কেবল বাংলাদেশেই নয়, মিলিয়ন ডলারের সুবাস ছড়িয়ে এলোমেলো করে দিয়েছিল ভারতসহ অনেক ক্রিকেট খেলিয়ে দেশকেই। এসেল গ্রুপ ছিল সেই আইসিএলের উদ্যোক্তা।
আজ বেশ অনেক বছর পর এসেল গ্রুপ আবার পরিকল্পনা করছে ক্রিকেট দুনিয়াকে ভাগ করে খেলাটির জন্য নতুন এক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার। পরিকল্পনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও সেটি এরই মধ্যে ফাঁস হয়ে গেছে সংবাদমাধ্যমে। আইপিএলের মতো সফল টুর্নামেন্টের পথ কিন্তু দেখিয়েছিল শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে যাওয়া আইসিএলই। এসেল গ্রুপ এবার আইসিসি মতোই বিকল্প একটি ক্রিকেট সংস্থাই নাকি গড়ে তুলতে চায়! স্বাভাবিকভাবেই এই খবরে উদ্বিগ্ন আইসিসি। উদ্বেগের আরও বড় কারণ, আইপিএলের ‘জন্মদাতা’, ভারতীয় বোর্ড থেকে এক রকম বিতাড়নের শিকার লোলিত মোদিকে নাকি এই উদ্যোগে হাত মেলানোর প্রস্তাব দিয়েছে এসেল গ্রুপ!
ভারতে অন্যতম ধনকুবের সুভাষচন্দ্রের মালিকানাধীন এসেল গ্রুপ ইতিমধ্যেই নাকি ৫ কোটি ডলারের প্রস্তাব ছুড়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ককে। কেবল ক্লার্কই নন, প্রস্তাব পেয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নারও। ব্যাপারটা এখনো প্রস্তাব দেওয়ার পর্যায়ে থাকলেও পুরো বিষয়টি নিয়ে মারাত্মক চিন্তিত আইসিসি। ব্যাপারটি তদন্ত করতে জরুরি ভিত্তিতে একটি কমিটিও নাকি করে দেওয়া হয়েছে। দুবাইয়ের আইসিসি অফিসে এসেল গ্রুপের এই তৎপরতা ঠেকানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গার্ডিয়ানের খবর বলছে, এসেল গ্রুপ অস্ট্রেলিয়ায় ‘অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট কন্ট্রোল প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন করার চেষ্টা করেছিল। একইভাবে অন্যান্য ক্রিকেট খেলুড়ে দেশেও এমন ‘প্রাইভেট’ ক্রিকেট বোর্ড গঠন করার পরিকল্পনা নাকি আছে তাদের। সবগুলো দেশের ‘প্রাইভেট’ ক্রিকেট বোর্ডগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে আরেকটি প্রতিষ্ঠান। যেটি হয়ে উঠতে পারে আইসিসির বিকল্প। এরই মধ্যে আইসিসি তদন্ত করে দেখছে, আসলেই অস্ট্রেলিয়ায় বেসরকারি ক্রিকেট বোর্ড ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন করার চেষ্টা এসেল গ্রুপ করেছে কি না।ধনকুবের সুভাষচন্দ্র, হতে চান ক্যারি পেকার! ফাইল ছবি
এ ব্যাপারে মুখ না খুললেও হিন্দুস্তান টাইমসকে এসেল গ্রুপের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা নরেশ ধ্যানদয়াল বলেছেন, ‘ভারতে ক্রিকেট নিয়ে আমাদের সুবিশাল পরিকল্পনা আছে। অনেক রাজ্যে এ মুহূর্তে এ বিষয়ে প্রাথমিক অনেক কাজ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমি বিস্তারিত কিছু বলতে পারব না। তবে আগামী ছয় মাসের মধ্যে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।’
আইসিএল ব্যর্থ হলেও মোদির মতো তীক্ষ্ণ ব্যবসায়িক বুদ্ধির মানুষ সুভাষচন্দ্রের সঙ্গে হাত মেলালে ফলটা অন্য রকম হতেও পারে। তা ছাড়া ব্যক্তি স্বার্থে প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে মোদী ক্রিকেটে বিদ্রোহের সূচনা করতে পারেন-এমন শঙ্কা আইসিসির মধ্যে থাকাটাও স্বাভাবিক। আইসিসির ভাবনা এসেল গ্রুপের মালিকানাধীন টেলিভিশন চ্যানেল জি নেটওয়ার্ক ও টেন স্পোর্টস নিয়েও। দশ টেস্ট খেলুড়ে দেশের পাঁচটিরই ক্রিকেট সম্প্রচারের স্বত্ব আছে তাদের।
লোলিত মোদী অবশ্য জানিয়ে দিয়েছেন, প্রথমে এসেল গ্রুপের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলেও এই মুহূর্তে তিনি এমন পরিকল্পনায় নেই। তিনি পরিকল্পনাটিকে ‘অবাস্তব’ বলেও অভিহিত করেছেন। তবে তিনি শঙ্কার আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছেন সুভাষ চন্দ্রের চরিত্র বিশ্লেষণ করে। বলেছেন, ‘সুভাষকে যতটুকু জেনেছি, কোনো জিনিস একবার মাথায় এলে তা যেকোনো মূল্যে করার লোক তিনি। সবচেয়ে বড় কথা তাঁর আছে অনেক টাকা।’ মোদী খুব সম্ভবত বলতে চেয়েছেন, অর্থের প্রলোভন দিয়ে নিজের পরিকল্পনাটুকু বাস্তবায়ন করার সব শক্তিই সুভাষ চন্দ্রের আছে।
এদিকে, এসেল গ্রুপের এই উদ্যোগকে ‘অনুমান-নির্ভর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান ওয়ালি এডওয়ার্ডস। তিনি মাইকেল ক্লার্ক ও ডেভিড ওয়ার্নারের বিশাল প্রস্তাবের বিষয়টিও নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটাররা প্রায় সবাই ভালো পারিশ্রমিক পায়। ওয়ালি ক্রিকেট পরিকাঠামোর ভাগ রোধে আইসিসিকে সর্বাত্মক সহায়তার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আরও একটা বড় বিদ্রোহের শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। একবার ব্যর্থ হলেও এ যুগের ‘ক্যারি পেকার’ হয়ে উঠতে সুভাষচন্দ্র যে ধনুকভাঙা পণ করেই নেমেছেন! সূত্র: ক্রিকইনফো, গার্ডিয়ান, হিন্দুস্তান টাইমস, টাইমস অব ইন্ডিয়া,

Developed by: