বিভাগ: খেলাধুলা

পাকিস্তানকে হটিয়ে ওয়ানডের ৮ নম্বরে বাংলাদেশ

ঢাকা, ৩০ এপ্রিল- আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সর্বশেষ প্রকাশিত ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তানকে হটিয়ে আট নম্বরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।

চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে এই আট নম্বর অবস্থান ধরে রাখতে পারলে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার সুযোগ মিলতে পারে মাশরাফি বিন মুর্তজার দলের।

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ২০১৭ সালের ১ থেকে ১৯ জুনে হতে যাওয়া চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও র‌্যাঙ্কিংয়ের অন্য শীর্ষ সাত দল খেলবে। ইংল্যান্ড এখন র‌্যাঙ্কিংয়ে আটের মধ্যেই আছে। তাই বাংলাদেশ আট নম্বর স্থান ধরে রাখতে পারলেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলতে পারবে।

৩০ এপ্রিল আইসিসির র‌্যাঙ্কিং বাৎসরিক হালনাগাদ হওয়ায় পর বাংলাদেশ এক ধাপ ওপরে উঠে এসেছে।

সাত নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেটিং পয়েন্টও বাংলাদেশের সমান ৮৮। বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলা বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট বেড়েছে ৭। অন্য দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেটিং পয়েন্ট কমেছে ৪।

সদ্য সমাপ্ত ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হারা পাকিস্তান নেমে গেছে নয় নম্বরে। তাদের রেটিং পয়েন্ট ৮৭। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া দলটির রেটিং পয়েন্ট কমেছে ৫।

২০১৯ সালের বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরে ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে আটের মধ্যে থাকতে হবে বাংলাদেশকে।

১২৯ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে এই মুহূর্তে আইসিসির ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে আছে অস্ট্রেলিয়া। ৭ পয়েন্ট বেড়েছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে যাওয়া ভারতের বেড়েছে এক পয়েন্ট। ১১৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে তারা।

এক ধাপ উপরে উঠে তৃতীয় স্থানে আছে বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়া নিউ জিল্যান্ড। ৮ বেড়ে এখন তাদের রেটিং পয়েন্ট ১১৬। নিউ জিল্যান্ডকে জায়গা ছেড়ে দিয়ে ১১২ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

শ্রীলঙ্কা তাদের আগের পঞ্চম স্থানেই আছে। তবে রেটিং পয়েন্ট এক কমে ১০৬ হয়েছে তাদের। ইংল্যান্ডও আগের ষষ্ঠ স্থানে থাকলেও রেটিং পয়েন্ট ৭ কমে ৯৪ হয়েছে।

আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তান রয়েছে যথাক্রমে দশম, একাদশ ও দ্বাদশ স্থানে।

পাকিস্তানকে হটিয়ে ওয়ানডের ৮ নম্বরে বাংলাদেশ

জয়ই চান টাইগার অধিনায়ক মুশফিক

ড্র নয় খুলনা টেস্টে জয়ই চান টাইগার অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তবে এ টেস্ট জিততে হলে চ্যালেঞ্জ নিতে হবে টাইগারদের আর এর জন্য তার দল প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

সোমবার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন মুশফিক। আগামীকাল মঙ্গলবার খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে দুই দলের মধ্যে সিরিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচ শুরু হবে। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই টেস্টের লক্ষ্য নিয়ে কথা বলতে হয় তাকে। তবে জয়ের বিকল্প ভাবছেন না তিনি।

মুশফিক বলেন, ‘ড্রয়ের কথা ভেবে খেললে রক্ষণভাব চলে আসে। তবে এসব নির্ভর করছে ম্যাচের পরিস্থিতির উপর। তারপরও আমাদের ম্যাচে নামতে হবে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে। জয় ছাড়া ভিন্ন কোনো কিছু করার চিন্তা মাথায় নেই। দলে অনেক ম্যাচ উইনার খেলোয়াড় আছে। এটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ, নতুন চ্যালেঞ্জ নেয়ার জন্য আমরা কেন প্রস্তুত হব না? আমি মনে করি জয়ের চিন্তা করাই আমাদের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।’

ওয়ানডেতে সফরকারীদের হোয়াইটওয়াশ ও টি-টুয়েন্টিতে জয় পাওয়ায় এটি বাড়িত আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলে মনে করেন তিনি। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দু’টি টেস্টে বাংলাদেশ জিতেছিলো, আমরা তো জয়ের মধ্যেই আছি।

দলের প্রায় সব খেলোয়াড়ই ফর্মে আছে জানিয়ে মুশফিক আরো বলেন, আমাদের বোলিং আক্রমণ যেমন তাতে ২০ উইকেট নেয়ার ক্ষমতা আছে। ব্যাটসম্যানদেরও ৬০০’র বেশি রান করার ক্ষমতা আছে। দলের ফিল্ডাররা প্রাপ্ত সুযোগগুলো যদি কাজে লাগাতে পারে রেজাল্ট আমাদের পক্ষে আসবে।’ খবর বাসসের।

খুলনায় ক্রিকেট উত্সবের আমেজ

নদ-নদী, গাছ-পালা আর নারকেল বীথির শহর বলা হয় খুলনাকে। প্রকৃতি অকৃপণভাবে সাজিয়েছে এই শহরটিকে। খুলনার বাইরে থেকে আসা মানুষ এই শহরের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হন। রূপসা, ভৈরব, আটারোবাকী আর ময়ূর- এই চার নদী খুলনার রূপ-সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দিয়েছে আরো বহুগুণ। প্রাকৃতিক এই নয়নাভিরাম রূপের পাশাপাশি শিল্পীর নিপূণ হাতের ছোঁয়ায় রূপসী খুলনা যেন হয়ে উঠেছে আরো উর্বশী। প্রায় পাঁচ মাস পর আজ মঙ্গলবার থেকে নগরীর শহীদ শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে প্রথম টেস্ট। আন্তর্জাতিক এই ক্রিকেট আসরকে ঘিরে পুরো নগরীতেই এখন উত্সবের আমেজ। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো বর্ণিল আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে অর্ধশতাধিক তোরণ। বিলবোর্ডগুলোতে ঝুলছে টাইগারদের ছবি ও প্রশংসা বাক্য। ক্রিকেট আনন্দে উদ্বেলিত খুলনার মানুষ।

রাতের খুলনাকে এখন যেন চেনাই দায়, মনে হবে যেন পাশ্চাত্যের কোনো এক নগরী। নগরীর নয়া এই রূপ দেখতে সন্ধ্যার পর নানা বয়সী মানুষ ভিড় জমাচ্ছে ব্যস্ততম রয়্যাল মোড়, সাত রাস্তার মোড়ে, ময়লাপোতা মোড় আর শিববাড়ি মোড়ে। এদের কেউ দু’চোখ ভরে নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখছেন, কেউ বা ব্যস্ত ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলতে। অনেকে আবার মুঠোফোনে সেলফি তুলে রাখছেন। এই সকল আয়োজন, উন্মাদনার কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রথম টেস্ট ম্যাচ। খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী আরিশা মোস্তফা হুমি, জোহরা খাতুন শিশু বিদ্যা নিকেতনের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ফাতেমা মাহবুব মারিয়া, একই ক্লাসের ছাত্র মাহিয়ান শিকদার আরিন নগরীর আলোকসজ্জা দেখে খুশিতে ডগোমগো। তাদের আনন্দ যেন ধরেই না।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসিবুর রহমান বলেন, শুধু ক্রিকেটের জন্যই এতো সাজসজ্জা, এতো আয়োজন। সত্যিই অভাবনীয়। আবেগজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমরা খুলনায় আরো বেশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ চাই। আর ক্রিকেটই পারে তরুণ সমাজকে নানা ধরনের অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে।

শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামকে বলা হয় লাকি ভেন্যু। এখন পর্যন্ত এ ভেন্যুতে কোনো ম্যাচ হারেনি বাংলাদেশ। চারটি ওয়ানডে, একটি টি-টোয়েন্টি এবং একটি টেস্ট-এর সবকটিতেই জিতেছে টাইগাররা। এ মাঠের উইকেট আর আউটফিল্ডের প্রশংসা করেছেন এখানে খেলে যাওয়া দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান অনেক ক্রিকেটার।

টেস্ট ভেন্যু হিসাবে শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের অভিষেক ২০১২ সালে। গত বছরের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হয়েছে শেষ ম্যাচ। সে ম্যাচে ব্রেন্ডন টেইলর-চিগুম্বুরাদের ১৬২ রানে হারিয়েছিল টাইগাররা। পাঁচ মাসের ব্যবধানে আবারও সেই লাকি ভেন্যুতে সাদা জার্সি পরে আজ মাঠে নামছে মুশফিক বাহিনী।

শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের ভেন্যু ম্যানেজার আব্দুস সাত্তার কচি জানান, বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট ম্যাচ উপলক্ষে স্টেডিয়ামের সকল প্রস্তুতি নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্পন্ন হয়েছে। গ্যালারিতে নতুন চেয়ার বসানো হয়েছে। এছাড়া আউট ফিল্ড এবং উইকেটও পুরোপুরি প্রস্তুত। এখন শুধু মাঠের লড়াইয়ের অপেক্ষা।

টাকা, ফ্ল্যাট, গাড়ি পাচ্ছে মাশরাফিরা

ঢাকা, ২৫ এপ্রিল- বিশ্বকাপে ভালো খেলার পর পাকিস্তানকে ওয়ানডে সিরিজে ‘হোয়াইটওয়াশ’ করায় আর একমাত্র টি-টোয়েন্টিতে হারানোয় অর্থ পুরস্কারের পাশাপাশি ফ্ল্যাট ও গাড়ি পাবে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। শনিবার গণভবনে ক্রিকেটারদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাশরাফিদের অভিনন্দন জানিয়ে এ ঘোষণা দিয়েছেন।

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শুক্রবার সফরের একমাত্র টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে এটাই ক্রিকেটের এই সংস্করণে বাংলাদেশের প্রথম জয়। এর আগে ওয়ানডে সিরিজের তিনটি ম্যাচেই দাপটের সঙ্গে সফরকারীদের হারায় মাশরাফিরা।
প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার হাতে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টির ট্রফি তুলে দিয়ে পুরো দলকে গণভবনে দাওয়াত দিয়েছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ও কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার জন্য আইসিসির কাছ থেকে বাংলাদেশ দলের পাওয়া অর্থের হিসেব প্রধানমন্ত্রীকে দেন। শেখ হাসিনা এর সঙ্গে খেলোয়াড়দের বাড়তি পুরস্কার দেওয়ারও ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বিশ্বকাপে ‘উইনিং বোনাস’ হিসেবে ১ কোটি টাকা এবং আইসিসি থেকে আরও ৩ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। বিসিবি থেকে দেওয়া হবে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। আর বিশ্বকাপে ভালো খেলার জন্য ১ কোটি টাকা এবং পাকিস্তানকে ওয়ানডেতে ‘বাংলাওয়াশ’ করা ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে হারানোর জন্য আরও ১ কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। বেক্সিমকো থেকে আরও ১ কোটি টাকা দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
জাতীয় দলের যেসব ক্রিকেটারকে আগে গাড়ি দেওয়া হয়নি তাদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করা হবে বলে শেখ হাসিনা জানান।

ক্রিকেটারদের জন্য ভালো আবাসনের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। সবাই যেন কমপক্ষে দুটি করে ফ্ল্যাট পায় সে নির্দেশ দেন তিনি।
এ ছাড়া বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের সবার কল্যাণের জন্য একটা কল্যাণ তহবিল করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

গণভবনে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ও বোর্ডের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সংবর্ধনা শেষে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে দুপুরের খাবার খান প্রধানমন্ত্রী।

কে এই নতুন বিস্ময়?

0012গতকালই সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, নতুন মুখের দেখা মিলতে পারে পাকিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচে। সৌম্য সরকারের এটা প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি হলেও আক্ষরিক অর্থে নতুন মুখ মুস্তাফিজুর রহমান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হলো ৪৪তম বাংলাদেশি ক্রিকেটারের।

মাশরাফি যখন ম্যাচের আগে ড্রেসিং রুমের সামনে ক্যাপ পরিয়ে দিচ্ছিলেন, মুস্তাফিজ নিশ্চয় রোমাঞ্চ অনুভব করেছিলেন মনে। রোমাঞ্চ ছড়ালেন বল করতে এসেও। প্রথমে তাঁর হাতেই বল তুলে ​দিলেন মাশরাফি। শুরুতেই ওয়াইড। এর কিছু পরই দেখালেন নিজের ধার। প্রথম স্পেলে জায়গা মতো বল ফেলে দারুণ কিছু সুইংয়ে ভালোই ভোগালেন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের। প্রথম স্পেলে ২ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ৫ রান। গতির সঙ্গে সর্পিল সুইং-বাঁহাতি পেসারের এমন রোমাঞ্চ ছড়ানো বোলিং বাংলাদেশ সর্বশেষ কবে দেখেছে! বারবার​ তাঁর বলে খাবি খাচ্ছিলেন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা।
দ্বিতীয় স্পেলে ফিরলেন একাদশ ওভারে। উইকেটে তখন শহীদ আফ্রিদি। পাকিস্তানের পক্ষে টি-টোয়েন্টি যাঁর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে স্ট্রাইক রেটে যাঁর অবস্থান ছয়ে। ৫০টি ছক্কা নিয়ে ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ডেও ছয়ে আছেন। সবচেয়ে বড় কথা, ওয়ানডের এক সময়ের দ্রুততম সেঞ্চুরির মালিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটই খেলছেন ১৯ বছর ধরে!

আফ্রিদির ৫০তম ছক্কাটি এল তাঁর বলেই। একাদশ ওভারের তৃতীয় বলে। চতুর্থ বলেই এমন সুইং করালেন, আফ্রিদি তো বটেই, বোকা বনে গেলেন আম্পায়ারও! আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০ হাজারেরও বেশি রানের মালিক আফ্রিদিকে দিয়েই উইকেটের খাতা খুললেন মুস্তাফিজ।

শেষ ওভারটা হলো আরও দুর্দান্ত। মনে রাখবেন, সেটা ইনিংসের ১৮ নম্বর ওভার। স্লগ করতে মরিয়া পাকিস্তান। প্রথম দুই বলে তিন রান নিয়ে হাফিজকে স্ট্রাইক দিলেন হারিস সোহেল। হাফিজ, টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের (১ হাজার ৩৪২) মালিক। পর পর দুই বলে সুইংয়ে পরাস্ত হাফিজ। এরপর ইয়র্কার। প্লাম্ব! এলবিডব্লুর ফাঁদে পড়ে হাফিজও ফিরলেন সাজঘরে।

অভিষেকে মোস্তাফিজের বোলিংটা এমন: ৪-০-২০-২। ডট বলই ১৬টা! একটাও চার খাননি। একমাত্র ছক্কাটি আফ্রিদির।

মুস্তাফিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারটাও খুব বেশি দিনের নয়। বছর তিনেক আগে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ফাস্ট বোলিং ক্যাম্পে ট্রায়াল দিতে এসে কোচদের নজর কেড়েছিলেন সাতক্ষীরার এ পেসার। এরপর নিয়মিতই অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলেছেন। জাতীয় দলের নেটেও নিয়মিত বল করেছেন। তবে আলো ছড়িয়েছিলেন গত বছর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে। পেয়েছিলেন বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯ উইকেট।

অবশ্য আলোচনায় এসেছিলেন গত বছর মে মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে বাংলাদেশ ‘এ’ দলে ডাক পেয়ে। রীতিমতো চমকই ছিলেন তিনি। তাঁকে দলে নেওয়ার যুক্তি হিসেবে প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ সংবাদমাধ্যমে তখন বলেছিলেন, ‘অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সেরা বোলার সে। হয়তো খুব বেশি ম্যাচ খেলেনি। তবে দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে। তা ছাড়া আমাদের বাঁহাতি পেসারও দরকার।’ একই যুক্তি ছিল অপর নির্বাচক হাবিবুল বাশারেরও।

প্রথম শ্রেণিতে অভিষেক গত বছর এপ্রিলে। আর ছয় মাস আগে অভিষেক হয়েছে ঘরোয়া একদিনের ম্যাচে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খুলনার হয়ে মাত্র আট ম্যাচ খেলেই পেয়েছেন ২৩ উইকেট। গড় ১৮.৯১, ইকোনমিক রেট ২.৬৮। আর লিস্ট এ-তে আবাহনীর পক্ষে ৫ ম্যাচে উইকেট ১২টি। গড় মাত্র ১১.৭৫, ইকোনমিক রেট ৩.৪৫। ছোট্ট এ ক্যারিয়ারে উজ্জ্বল পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে মুস্তাফিজ কতটা প্রতিভাধর। এখন সে প্রতিভার বিকাশ দেখার অপেক্ষায় বাংলাদেশ। ১৯ বছর বয়সী সেই আশার গানই শোনালেন অভিষেকে।

টি২০তেও পাকিস্তানকে হারালো বাংলাদেশ

0011তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জিতে উড়তে থাকা বাংলাদেশের সামনে টি-টোয়েন্টিতেও দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তান। সাকিব আল হাসান আর সাব্বির রহমানের অর্ধশতকে এই সংস্করণের ক্রিকেটের অন্যতম সফল দলটিকে সহজেই ৭ উইকেটে হারিয়েছে স্বাগতিকরা।

পাকিস্তানের বিপক্ষে এই প্রথম টি-টোয়েন্টিতে জিতল বাংলাদেশ। আগের সাত ম্যাচেই পাকিস্তানের কাছে হেরেছিল তারা। এর আগে ৩-০ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জেতার পথে ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটান মাশরাফিরা।

শুক্রবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ১৪১ রান করে পাকিস্তান। জবাবে সাকিব ও সাব্বিরের শতরানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ১৬ ওভার ২ বলে ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

মোহাম্মদ হাফিজের প্রথম চার বলে ১৪ রান নিয়ে বাংলাদেশকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন তামিম ইকবাল। তবে সেই ওভারেই রান আউট হয়ে সৌম্য সরকারের বিদায়ে বড় একটা ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি অভিষেকে কোনো বল খেলতে পারেননি তৃতীয় ওয়ানডে অপরাজিত শতক করা এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

তৃতীয় ওভারে ফিরে যান তামিমও। উমর গুলের অফস্টাম্পের অনেক বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে স্লিপে হাফিজের ক্যাচে পরিণত হন তিনি।

ক্রিজে এসেই দারুণ সব শট খেলে দ্রুত রান সংগ্রহ করতে থাকেন মুশফিকুর রহিম। তবে ওয়াহাব রিয়াজের বলে ব্যাটের কানায় লেগে তিনি বোল্ড হয়ে গেলে অস্বস্তিতে পড়ে বাংলাদেশ। মুশফিকের বিদায়ের সময় বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ৩৮ রান।

ওয়ানডে সিরিজে খুব একটা ব্যাটিংয়ের সুযোগ না পাননি সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান। তবে বিপদের সময় তারাই হলেন ত্রাতা। পাল্টা আক্রমণে দ্রুত রান তুলতে থাকেন সাকিব-সাব্বির।

অবিচ্ছিন্ন চতুর্থ উইকেটে ১০৫ রানের জুটি গড়েন সাকিব-সাব্বির। ক্যারিয়ার সেরা ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন সাব্বির। তার ৩২ বলের ইনিংসটি গড়া ৭টি চার ও ১টি ছক্কায়।

চার হাঁকিয়ে দলকে জয় এনে দেয়া সাকিব অপরাজিত থাকেন ৫৭। টি-টোয়েন্টিতে বিশ্বের সেরা এই অলরাউন্ডারের ৪১ বলের ইনিংসটি ৯টি চারে সাজানো।

এর আগে অভিষিক্ত বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ও সাকিবের আঁটসাঁট বোলিংয়ে শুরুতে রানের জন্য লড়াই করতে হয় পাকিস্তানের দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান আহমেদ শেহজাদ ও মুক্তার আহমেদের।

অতিথিদের উদ্বোধনী জুটি নবম ওভার পর্যন্ত স্থায়ী হলেও এই সময়ে তারা দ্রুত রান তুলতে পারেননি।

তাসকিন আহমেদের করা অফস্টাম্পের একটু বাইরের বলে শেহজাদের তোলা ক্যাচ দারুণ দক্ষতায় লুফে নেন মাশরাফি। ৫০ রানের উদ্বোধনী জুটিতে শেহজাদের অবদান ১৭ রান।

রানের গতি বাড়াতে তিন নম্বরে নামেন শহিদ আফ্রিদি। সফল হননি তিনি; তরুণ মুস্তাফিজের বলে মুশফিকের গ্লাভসবন্দি হয়ে ফিরে যান তিনি। পাকিস্তানের অধিনায়কের ব্যাটে বল লেগেছিল বলে টিভি রিপ্লেতে মনে হয়নি।

অভিষিক্ত উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান মুক্তারকে ফিরিয়ে আরেকটি আঘাত হানেন আরাফাত সানি। তার বল ব্যাটসম্যানকে পুরোপুরি পরাস্ত করে মুশফিকের গ্লাভসে পৌঁছায়; একটু এগিয়ে এসে খেলতে যাওয়া মুক্তার ক্রিজে পৌঁছানোর আগেই দারুণ ক্ষিপ্রতায় স্টাম্প ভেঙে দেন বাংলাদেশ উইকেটরক্ষক।

৭৭ রানে তিন উইকেট হারিয়ে অস্বস্তিতে পড়া পাকিস্তানকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন হাফিজ ও হারিস সোহেল। ৫.৪ ওভারে ৪৯ রানের জুটি গড়েন এই দুই জনে।

পরপর দুই বলে কোনো রান না দিয়ে হাফিজকে চাপে ফেলেন মুস্তাফিজ। পরের বলে হাফিজকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে বিপজ্জনক হয়ে উঠা জুটি ভাঙেন এই তরুণ বাঁহাতি পেসার।

হাফিজের বিদায়ের পর অতিথিদের রানের গতিতে ভাটা পড়ে। শেষ ১৩ বলে ১৫ রানের বেশি সংগ্রহ করতে না পারায় দেড়শ’ পর্যন্তও পৌঁছায়নি পাকিস্তানের সংগ্রহ।

অভিষেক স্মরণীয় করে রাখলেন মুস্তাফিজ। ২০ রানে দুই উইকেট নেন তিনি। কোনো উইকেট না পেলেও মাত্র ১৭ রান দেন সাকিব।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৪১/৫ (মুক্তার ৩৭, শেহজাদ ১৭, আফ্রিদি ১২, হারিস ৩০*, হাফিজ ২৬, তানভির ৮; মুস্তাফিজ ২/২০, আরাফাত ১/২৩, তাসকিন ১/২৯)

বাংলাদেশ: ১৬.২ ওভারে ১৪৩/৩ (তামিম ১৪, সৌম্য ০, সাকিব ৫৭*, মুশফিক ১৯, সাব্বির ৫১*; গুল ১/২৩, ওয়াহাব ১/৩৯)

এবার পাকিস্তানকে বাংলাওয়াশ

ঢাকা, ২২ এপ্রিল- কেনিয়া, আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড। এবার এই তালিকায় যোগ হলো পাকিস্তানের নামও। বাংলাওয়াশের শুরুটা হয়েছিল কেনিয়াকে দিয়ে। সর্বশেষ চুনকাম হয়ে গেলো পাকিস্তান। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের সব ক’টিতেই গো-হারা হেরে ৩-০ ব্যবধানে ধবল ধোলাই হলো পাকিস্তান।

মিরপুরে আজ তৃতীয় ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে ২৫০ রানে বেধে দিয়ে মাত্র ৩৯.৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়েই ঐতিহাসিক জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। অসাধারণ সেঞ্চুরি করেন ওপেনার সৌম্য সরকার এবং ১২৭ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন তিনি।
২৫০ রানের লক্ষ্য। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সামনে এটা খুব বড় হওয়ার কথা নয়। বড় হিসেবে দেখাতে চানও না সৌম্য আর তামিম ইকবালরা। সে কারণেই হয়তো মোহাম্মদ হাফিজকে এক রান নিয়ে পূনরায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিংয়ে অভ্যর্থনা জানালেও, উমর গুলকে স্বাগত জানানো হলো বাউন্ডারি দিয়ে। দুই ওপেনারের ব্যাটে ভর করে বলা যায় দারুন সূচনাই হলো বাংলাদেশের।
স্পিনারদের কাছেই নাকাল হতে হয়েছে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের। এ কারণেই হয়তো স্পিন দিয়ে শুরু করতে চাইলেন পাকিস্তান অধিনায়ক আজহার আলি। অবৈধ অ্যাকশনের কারণে নিষিদ্ধ হওয়া্ মোহাম্মদ হাফিজ আগেরদিনই আইসিসি থেকে ক্লিয়ারেন্স পেলেন এবং আজ তাকে দিয়েই বোলিং ওপেন করানো হলো। তার প্রথম ওভার থেকে ৬ রান নিলেন তামিম-সৌম্য। দ্বিতীয় ওভার থেকেও নিলেন ৬ রান। চতুর্থ ওভারে গিয়ে উমর গুলকে পর পর দু’বার বাউন্ডারিছাড়া করলেন সৌম্য সরকার।
সেই যে শুরু, এরপর একে একে পাকিস্তানি বোলারদের শুধু বাউন্ডারিছাড়া করছিলেন তামিম আর সৌম্য সরকার। হাফ সেঞ্চুরি করে ফেললেন দু’জনই। প্রথমে হাফ সেঞ্চুরি করেন সৌম্য। ৬৩ বলে ৬ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি করেন তিনি। এরপর হাফ সেঞ্চুরির মাইলফলকে পৌঁছান তামিম।
ওপেনিং উইকেটে ১৪০ রান করার পর অবশেষে বিচ্ছিন্ন হয় তামিম-সৌম্য জুটি। ৭৬ বলে ৬৪ রান করে জুনায়েদ খানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান তামিম ইকবাল। ৮টি বাউন্ডারি আর ১টি ছক্কায় সাজান তার ইনিংস। তামিম অবশ্য রিভিউ নিয়েছিলেন। কিন্তু সে রিভিউ আর সফল হয়নি।
বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরমার ছিলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজে এসে নিজের নামের প্রতি সুবিচারই করতে পারেননি তিনি। প্রথম দুই ম্যাচের মত আজও তৃতীয় ম্যাচে আউট হয়ে গেলেন মাত্র ৪ রানে। ১০ বলে জুনায়েদ খানের বলে বোল্ড হন তিনি। প্রথম ম্যাচে করেছিলেন ৫, দ্বিতীয় ম্যাচে ১৭ রান এবং সর্বশেষ তৃতীয় ম্যাচে আউট হলেন ৪ রান করে।

র‍্যাঙ্কিংয়ের জন্যই বাংলাওয়াশ চায় বাংলাদেশ

ঢাকা, ২১ এপ্রিল- বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে, এক মাসও হয়নি। ভাবনায় চলে এসেছে আগামী বিশ্বকাপ। সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপে দারুণ পারফরম্যান্সের পরও আগামী বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশকে ভাবতে হচ্ছে ঢের। ভাবনাটা যে সুযোগ পাওয়া নিয়েই!

২০১৯ বিশ্বকাপের ফরম্যাটই চিন্তায় ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশকে। আগামী বিশ্বকাপ হবে ১০ দলের। সেখানে স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ সাত দল খেলবে সরাসরি। বাকি দুটি স্থানের জন্য র‍্যাঙ্কিংয়ের আট ও নয় নম্বর দল বাছাইপর্ব খেলবে আইসিসির সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে। তাই আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে সেরা আটে থাকতেই হবে। না হলে খেলতে হবে বাছাই পর্ব, যেখানে হুমকি হয়ে দাঁড়াবে আয়ারল্যান্ড-স্কটল্যান্ড-আফগানিস্তানের মতো উন্নতি করতে থাকা দলগুলো।

পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করার দারুণ সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। সাধারণত সিরিজের এমন সমীকরণে অনেক দলই শেষ ম্যাচে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে থাকে। রনি তালুকদারকে দলে নিলেও খেলানো হয়নি। তাঁকেও একটা সুযোগ দেওয়া যায়।

বাংলাদেশও হাঁটবে সে পথে? সহকারী ও স্পিন–কোচ রুয়ান কালপাগে জানালেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়; বাংলাদেশের ভাবনায় কেবলই র‌্যাঙ্কিং, ‘আমাদের জন্য ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখন পরীক্ষা নিরীক্ষার সময় নয়। প্রতিটি ম্যাচই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি ম্যাচ জেতা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে রেটিং বাড়ানোর এটা একটা দারুণ সুযোগ।’

সিরিজ শুরু হওয়ার আগেই দুভাবে হিসাব-নিকাশ করা হচ্ছিল। এক. বাংলাদেশ পাকিস্তানকে যদি বাংলাওয়াশ করে তবে র‌্যাঙ্কিংয়ে কী হবে। দুই. পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশ যদি ধবলধোলাই হয়, র‍্যাঙ্কিংয়ে কী হবে?

দ্বিতীয়টি ঘটার আর সুযোগ নেই। তাই প্রথম হিসাবটাই চলে এসেছে সামনে। বাংলাদেশ পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হারালে র‍্যাঙ্কিংয়ে অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হবে না। বাংলাদেশ নয় নম্বরেই থাকবে। তবে বাংলাদেশ মূল্যবান ৫টি রেটিং পয়েন্ট নিয়ে পৌঁছাবে ৮১–তে। অন্যদিকে বাংলাওয়াশের বড় মূল্য দিতে হবে পাকিস্তানকে। তাদের পয়েন্ট নেমে আসবে ৯২-এ। সমান পয়েন্টে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ছেড়ে দিতে হবে সপ্তম অবস্থানটি। এক ধাপ কমে পাকিস্তান চলে আসবে অষ্টম অবস্থানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ–পাকিস্তান দুই দলের সঙ্গে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্টের ব্যবধান কমে আসবে ১১-তে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের রেটিং বাড়িয়ে নেওয়ার এ সুযোগ বাংলাদেশের এমনি হয়নি; হয়েছে গত কমাসের দারুণ সাফল্যে। কালপাগে তাই বললেন, ‘বিশ্বকাপে ছেলেরা দারুণ খেলেছে। সবার দারুণ উন্নতি হয়েছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতে খেলোয়াড়েরা দারুণ খুশি। এখন তৃতীয় ম্যাচের দিকে তাকিয়ে সবাই। গত কয়েক ম্যাচ কেবল নয়, আমরা গত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে কঠোর পরিশ্রম করছি। সব সময় উঁচুমানের পারফরম্যান্স সম্ভব নয়। তবে এখন সবাই আত্মবিশ্বাসী। বোলিং-ফিল্ডিং-ব্যাটিং প্রতিটি বিভাগেই এ মুহূর্তে দারুণ করছে খেলোয়াড়েরা।’

যে দলটির বিপক্ষে ১৬ বছর জয়-খরায় ভুগেছে বাংলাদেশ দল, তাদের বিপক্ষে দাপুটে সিরিজ জয়। তবে এ পারফরম্যান্সে মোটেও অবাক হননি বাংলাদেশ দলের স্পিন কোচ কালপাগে, ‘আমি অবাক হইনি। খেলোয়াড়েরা যেভাবে উন্নতি করছে তাতে খুশি। খেলোয়াড়েরা জানে তারা কতটা প্রতিভাবান। আমরা খেলছি একটা দল হয়ে। গত চার মাসে সত্যি অসাধারণ ক্রিকেট খেলেছি। প্রত্যেকে দারুণ খেলছে এ মুহূর্তে।’

এবার বাংলাওয়াশের অপেক্ষা

ঢাকা, ২০ এপ্রিল- পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়টা নিশ্চিত হয়ে গেছে এরই মধ্যে। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে এক সময়ের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের উড়িয়ে দিয়ে উৎসবের মঞ্চটাও তৈরি হয়ে গেছে। যে দলটির বিপক্ষে টানা ১৬ বছর জয়ের মুখ দেখা হয়নি, সেই দলটিই কি না এমন অসহায় বাংলাদেশের সামনে! আনন্দের আতিশয্যে উদ্বেল হওয়ার মতোই ব্যাপার। নাহ্! কাজ যে এখনো শেষ হয়ে যায়নি। ধবলধোলাই? হ্যাঁ, ওই কাজটি যে এখনো বাকি! তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুটো জেতা হয়ে গেছে। বাংলাওয়াশ হবে না, তা কী করে হয়!

এই বাংলাদেশ যে সত্যিই অন্যরকম, সেটা পাকিস্তানিরা জেনে গেছে শুক্রবার সিরিজের প্রথম ম্যাচেই। ৭৯ রানে জিতেও সাকিব-মুশফিক-তামিমদের আশ্চর্য নির্লিপ্ততা পাকিস্তানিদের জন্য ছিল গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার মতোই। আজ পরিষ্কার ব্যবধানে সিরিজটা নিশ্চিত করেও মাশরাফিদের পরিমিত উল্লাসটা খুব ভালো করেই পাকিস্তানকে দিয়ে দিল এক নতুন বার্তা। ইমরান খান, জহির আব্বাস, জাভেদ মিয়াঁদাদ, ওয়াসিম আকরাম, সাঈদ আনোয়ার, ওয়াকার ইউনুসদের উত্তরসূরিরা জেনে গেল, এই বাংলাদেশ আর সেই বাংলাদেশ এক নয়।

ঠিক এভাবেই দুবার নিউজিল্যান্ডকে ফুৎকারেই উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের কাছে ধবলধোলাইয়ের লজ্জা পেয়েছে একবার ওয়েস্ট ইন্ডিজও। জিম্বাবুয়ের এই অভিজ্ঞতা আছে একাধিকবার। আয়ারল্যান্ড কিংবা কেনিয়া-স্কটল্যান্ডের প্রসঙ্গ না হয় বাদই দেওয়া গেল। ২০১০ আর ২০১৩ সালে বাংলাদেশের মাটিতে পরপর দুটি সিরিজে নিউজিল্যান্ডকে ধবলধোলাই করেছে। টানা সাতটি ম্যাচে পরাজয়ের গুরুভার যে নিউজিল্যান্ডের জন্য কতটা ভয়াবহ ছিল, সেটা সারা দুনিয়া দেখেছে এবারের বিশ্বকাপেই। পুরো বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে রীতিমতো অজেয় নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশের বিপক্ষে হ্যামিল্টনের বিপক্ষে হয়েছিল ঘেমে-নেয়ে একাকার। এবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেই সুযোগ।

মাশরাফি কি পারবেন না, পাকিস্তানকে ‘ধইরে দিতি? ’

Developed by: