বিভাগ: লেখক আড্ডা

যুক্তরাজ্যের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বরের বইমেলায় বাসিয়া প্রকাশনী স্টলে থাকছে রোমান্টিক কবি মোহাম্মদ ইকবালের ৫টি কাব্যগ্রন্থ

সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ যুক্তরাজ্য আয়োজিত বাংলাদেশী বইমেলা আজ দুপুর ১২ থেকে থেকে শুরু হচ্ছে পূর্ব লণ্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টারে। মেলা চলবে ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২ থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত। মেলায় বাসিয়া প্রকাশনী স্টলে প্রবাসী রোমান্টিক কবি মোহাম্মদ ইকবালের ৫টি কাব্যগ্রন্থ পাওয়া যাবে। কাব্যগ্রন্থগুলো হলো সংবিধিবন্ধ নসিহত, স্রষ্টার শৈল্পিক হাত, নিরংশু ক্ষপায়, জাফরানি মৌচাক, ইস্কাপনের বউ। বইগুলো আপনি সংগ্রহ করতে পারেন।

যুক্তরাজ্যের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বরের বইমেলায় বাসিয়া প্রকাশনী স্টলে থাকছে কবি এম মোসাইদ খানের ৮টি গ্রন্থ

সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ যুক্তরাজ্য আয়োজিত বাংলাদেশী বইমেলা আজ দুপুর ১২ থেকে থেকে শুরু হচ্ছে পূর্ব লণ্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টারে। মেলা চলবে ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২ থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত। মেলায় বাসিয়া প্রকাশনী স্টলে প্রবাসী কবি এম মোসাইদ খানের ৮টি গ্রন্থ পাওয়া যাবে। গ্রন্থগুলো হলো রোদের জখম (কাব্যগ্রন্থ), ভুলের ঘণ্টা (ছড়া), তালপাতার ঘোড়া (ছড়া), মিনতি (গান), জলের পেরেক (কাব্য), আয়না বিভ্রম (কাব্য), পংক্তিস্বজন (কবিতা-সম্পাদিত), প্রবাসী কবিদের নির্বাচিত প্রেমের কবিতা (সম্পাদিত)। বইগুলো আপনি সংগ্রহ করতে পারেন।

যুক্তরাজ্যের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বরের বইমেলায় বাসিয়া প্রকাশনী স্টলে থাকছে কবি আসমা মতিনের ৪টি কাব্যগ্রন্থ

সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ যুক্তরাজ্য আয়োজিত বাংলাদেশী বইমেলা আজ দুপুর ১২ থেকে থেকে শুরু হচ্ছে পূর্ব লণ্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টারে। মেলা চলবে ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২ থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত। মেলায় বাসিয়া প্রকাশনী স্টলে প্রবাসী কবি আসমা মতিনের ৪টি কাব্যগ্রন্থ পাওয়া যাবে। গ্রন্থগুলো হলো হরিৎ প্রান্তরের মেয়ে, মনোরতœ, হরতানি ঘাট, আমরাবতী। বইগুলো আপনি সংগ্রহ করতে পারেন।

যুক্তরাজ্যের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বরের বইমেলায় বাসিয়া প্রকাশনী স্টলে থাকছে কবি এ কে এম আবদুল­াহর ২টি কাব্যগ্রন্থ

সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ যুক্তরাজ্য আয়োজিত বাংলাদেশী বইমেলা আজ দুপুর ১২ থেকে থেকে শুরু হচ্ছে পূর্ব লণ্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টারে। মেলা চলবে ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২ থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত। মেলায় বাসিয়া প্রকাশনী স্টলে প্রবাসী কবি এ কে এম আব্দুল­াহর ২টি কাব্যগ্রন্থ পাওয়া যাবে। গ্রন্থগুলো হলো যে শহরে হারিয়ে ফেলেছি করোটি, মাটি মাচায় দণ্ডিত প্রজাপতি। বইগুলো আপনি সংগ্রহ করতে পারেন।

যুক্তরাজ্যের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বরের বইমেলায় বাসিয়া প্রকাশনী স্টলে থাকছে তরুণ ছড়াকার জুসেফ খানের ৪টি ছড়াগ্রন্থ

সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ যুক্তরাজ্য আয়োজিত বাংলাদেশী বইমেলা আজ দুপুর ১২ থেকে থেকে শুরু হচ্ছে পূর্ব লণ্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টারে। মেলা চলবে ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২ থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত। মেলায় বাসিয়া প্রকাশনী স্টলে প্রবাসী তরুণ ছড়াকার জুসেফ খানের ৪টি ছড়াগ্রন্থ পাওয়া যাবে। গ্রন্থগুলো হলো রকমারি, ছাইপাঁশ, খড়কুটো, সোৎপ্রাস। বইগুলো আপনি সংগ্রহ করতে পারেন।

বাসিয়া প্রকাশনীর আড্ডায় বক্তারা আড্ডা থেকে একটি ভালো লেখার নির্যাস আহরণ করা যায়

01আড্ডা থেকে একটি ভালো লেখার নির্যাস আহরণ করা যায়। একজন লেখকের লেখালেখিকে বেগবান করতে হলে আড্ডার কোন বিকল্প নেই। আড্ডা কিংবা আড্ডাবাজদের সংখ্যা প্রযুক্তির কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে। কিন্তু আজকের আড্ডায় আড্ডাবাজদের উপস্থিতি প্রমাণ করে এখনও সৃজনশীল মানুষ আড্ডা দিতে চায়।
গত ৬ এপ্রিল শুক্রবার বিকেলে বাসিয়া প্রকাশনীর উদ্যোগে কবি ও নাট্যকার জালাল উদ্দিন নলুয়া, কবি ও গীতিকার লুৎফা জালাল ও প্রবাসী কবি ইকবাল বাহার সুহেলকে নিয়ে সিলেটের স্টেশন রোডস্থ বাসিয়া প্রকাশনী কার্যালয়ে এক অন্তরঙ্গ আড্ডায় বক্তারা উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
বাসিয়া প্রকাশনীর কর্ণধার মাসিক বাসিয়া পত্রিকার সম্পাদক গীতিকার মোহাম্মদ নওয়াব আলীর সভাপতিত্বে ও ইসামতি কলেজের প্রভাষক কলামিস্ট জ্যোতিষ মজুমদারের সঞ্চালনায় প্রাণবন্ত আড্ডা ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য, কবি ও গল্পকার সাবিনা আনোয়ার, কবি ও সাংবাদিক সাইদুর রহমান সাঈদ, খেলাঘর সিলেট জেলা কমিটির সভাপতি ছড়াকার তাজুল ইসলাম বাঙালি, কবি ও সংগঠক লায়েক আহমেদ নোমান, দক্ষিণ সুরমা সাহিত্য পরিষদের সহসভাপতি গীতিকবি হরিপদ চন্দ, মুক্তিযোদ্ধা ও গীতিকার হেলাল উদ্দিন দাদন, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কবি মিজানুর রহমান মিজান, নোলক কালচারাল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা, কবি ও সংগঠক নিলুফা সুলতানা লিপি, গাংচিল সম্পাদক ঔপন্যাসিক শাহ ফারজানা আহমেদ, বাউল শিল্পী মো. বদরুল, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইন্সটাক্টর ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুর রহিম, গীতিকার রহমত আলী ও শাহ মাশরুকা জাহান এশা।

কবি শাহীন ইবনে দিলওয়ারে

A-02শাহীন ইবনে দিলওয়ার- এর জন্ম ২৮ ফেব্র“য়ারি ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ। মাতা আনিসা খাতুন এবং পিতা দিলওয়ার খান- এর তিনি জ্যেষ্ঠপুত্র। কৈশোরেই তিনি ছড়া লেখার মাধ্যমে লেখালেখি শুরু করেন। পরে গল্প ও কবিতা রচনায় তিনি নিজেকে পরিণত লেখকে রূপান্তরিত করেন। তাঁর রক্তের মধ্যে কবি দিলওয়ার- এর জেনেটিক্যালি যেন সাহিত্যের জিন বিদ্যমান। তাঁর জন্মের পর কবিপিতা একটি সনেটে লিখেছিলেন-
অবশেষে তুমি এলে দ্যুতি নিয়ে আকাশ তারার
আমার আঁধার ঘরে যেখানে এখন্ মন কাঁদে
ভোরের পৃথিবী ঢেকে সূচীমুখ চিন্তার বিষাদে,
হে শিশু, এনেছো তবু আনন্দের বসন্ত-বাহার!
(নবজাতকের প্রতি)
বর্তমানে লেখক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। তিনি নিউইয়র্কে মাস্টার্স অব পাবলিক এ্যাডমিনিস্ট্রেশন করার পর সেখানকার সিটি গভর্নমেন্টের হিউমেন রিসোর্স ডিপার্টমেন্টে ‘ফ্রড ইনভেস্টিগেটর’ পদে কর্মরত আছেন। সহধর্মিণী সুলতানা পারভীন। তাদের তিনপুত্র- সাইয়ান শাহীন খান, নাহিয়ান শাহীন খান এবং তাজিম শাহীন খান। ২০০৮ সালে নাট্যগ্রন্থ ক্যাবী তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। ফেব্র“য়ারি ২০১২ সালে ১২টি গল্প নিয়ে গল্পগ্রন্থ ছায়াদেহ তাঁর দ্বিতীয় প্রকাশিত গ্রন্থ। ২১ ফেব্র“য়ারি ২০১২ সালে ৪৮টি কবিতা নিয়ে কাব্যগ্রন্থ সময়ের কঠিন বিবরে তাঁর তৃতীয় প্রকাশিত গ্রন্থ। অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭ সালে ৭০টি কবিতা নিয়ে কাব্যগ্রন্থ এই তত্ত্ব শাহীন প্রবাসীর তাঁর চতুর্থ প্রকাশিত গ্রন্থ।
শাহীন ইবনে দিলওয়ারের নাট্যগ্রন্থ ক্যাবী প্রসঙ্গে ৫ সেপ্টেম্বর ২০০৭ -এ নিউইয়র্কে কবি দিলওয়ার ক্যাবী নিয়ে ভাবনা-মুখবন্ধে লিখেছিলেন, ‘বিদেশ থেকেও মাঝে মাঝে তার আর্তকণ্ঠ ভেসে আস্তো- দেশ ও মাতৃভাষাকে স্মরণ করে। নিউইয়র্কে অতি কর্মব্যস্ত থাকা সত্বেও শাহীন তার পিতাকে কাছে পেয়ে লেখালেখির কাজে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠেছে।’ নিুে কবি শাহীন ইবনে দিলওয়ারের কয়টি কবিতা দেওয়া হলো-
১.
কোথাও আমার কোনো স্বদেশ নেই

একটুকরো জমির সাফকবালা দেবো
এই জমি আমার, একদম নির্ভেজাল
মূল্য তার কোটি কোটি সোনার মোহর
ত্রিশ লাখের মৃত্যু দিয়ে কেনা
এই জমিটির সাফকবালা দেবো।

একদিকে থৈ থৈ বঙ্গোপসাগর
চারপাশে বন্ধু অথবা শত্রুর বহর
মাঝখানে তামাটে লোকগুলোর ঘরবাড়ি
ফলায় সোনালি শস্য, রমণীরা অদ্ভূত সুন্দর।

দেখে শুনে রেখো এই জমি
চিহ্নিত করেছি তার দিকগুলো
অনুপরমাণু নিংড়ে শক্তি নিয়ে
বসাও পিলার, অস্ত্র উঁচিয়ে রাখো।

সমস্ত পৃথিবী ঘুরে ফিরে আসি
কোনো প্রিয়ভূমি নেই, এই ক্ষুদ্র
লোকালয় ঘরবাড়ি লোকজন
ছাড়া, কোথাও আমার কোনো স্বদেশ নেই।


অমরতা

হাসান হাফিজুর রহমান
কয়বার দেখা হয়েছিল?

তবু তার কিছু সস্নেহ কথা
এমনভাবে মনে পড়ে
সময়ের তুমুল বৃষ্টিপাতেও
ধুয়ে মুছে যায় না।

জননীর পরলোকগমনে
মৈত্রেয়ী দেবীর একটি চিঠি
সদ্য মাতৃহারা ছয়টি শিশুর
কাঙালিপনার গভীর আদর
ছুঁড়ে দিয়ে ছিলো।

সানাউল হক খান
যার কাছে শিশু থেকে
যেতে ভালো লাগে
এখনো যিনি একই দক্ষতায়
অন্তর ছুঁয়ে যান।

আবদুল কাদির মাহমুদ
যখন কিছুই ছিলাম না
তখনো তার কাছে
কিছু একটা ছিলাম।

কিছু কিছু মানুষ এমনি হয়
যাদের হৃদয়
কখনো স্তব্ধ হয় না।


মানুষ জন্মায় না

এখন আর মানুষ জন্মায় না
শুকর জন্মায়
দুহাত তুলে বুক পেতে দিলে
বুনো শুকরের দল দাঁত
উঁচিয়ে তেড়ে আসে
হাত বাড়িয়ে কিছু দিতে গেলে
ছিনিয়ে নিতে চায়।

নম্র হয়ে থাকলে
উগ্র হয়ে আসে
ষাঁড়ে ষাঁড়ে গুঁতোগুঁতি
লেগেই থাকে
শিষ্ট কথায় রুচি নেই
মারমুখী লোকদের
কদর বেশি
রক্ত ঝরাতে পারলে
ভয়ে ভয়ে থাকে
মানুষের দাম নেই,
এখন আর মানুষে জন্মায় না
শুকর জন্মায়।

ঘরের পাশে নৃশংসমৃত্যু
দেখেও নড়ে চড়ে বসে না
সিরিয়াল চলতে থাকে
মায়ের মতো রমণিকূল
রাস্তায় বেরুতে পারে না একাকী
মায়ের পেটে জন্মানো শুকরের দল
মাতৃগর্ভ ভুলে গেছে
মাতৃস্তন্যপায়ী শ্বাপদ
জননীর স্তন থেতলে দিতে চায়।

যে কটা দিন বেঁচে আছি
মানুষ হয়ে জন্মানো এই হারামীদের
নষ্টামী দেখে যেতে হবে
এই সিরিয়ালগুলো চলতে থাকবেই।


চিরকালীন
(অনুজ কবি কিশওয়ার ইবনে দিলওয়ারের অকাল প্রয়াণে)

আজ ভোরে কিশওয়ারের
মৃত্যুসংবাদে পত্রিকার মৌন মিছিল
দরজায় দাঁড়িয়ে নেই শব্দচাষী
সেই দুরন্ত বালক।

হকারের ছুঁড়ে দেয়া কাগজগুলো
চিতায়ী দ্রুততায় লুফে নিয়ে
সাদাকালো শব্দগুলো হাতড়াতো
অবুঝ বালকের মতো, যেনো
শব্দগুলো তার প্রিয় খেলনা
কারো সাথে ভাগাভাগিতে নেই।

নিঃশব্দে মহাকালের পথে
বাড়ালি প্রিয় ভাইটি আমার
অকালে মৃতা মায়ের সাথে
দেখা হবে, আমার সালাম দিবি।

কবিতার বইগুলো মায়ের
পদতলে রেখে বলবি,
আমার সন্তানেরা ক্ষণজন্মা নয়-
চিরকালীন।

আসমা মতিন : কবিতা চর্চায় নিবেদিত প্রাণ

„yআসমা মতিন প্রবাসে সাহিত্য চর্চায় একজন নিবেদিত প্রাণ। কবিতার সাথে সখ্যতা ছোটবেলা থেকেই। তাই কবিতা ছাড়া জীবনের হিসাব নিকাশ মিলাতে পারেন না। কবিতা নিয়ে বসবাস করতে ভালোবাসেন। প্রবাসের শত ব্যস্ততার মাঝে কবি আসমা মতিন ঘর সংসারের কাজ শেষে আরাম আয়েশের সময়টুকু শব্দ বুননে কাটিয়ে দেন।  তেরো বছর বয়স থেকে কিশোরী কবি লিখে যেতেন ছোট্ট জীবন থেকে নেয়া গল্প-কবিতা। মাঝখানে হল দীর্ঘতম ছাড়াছাড়ি; হারিয়ে যাওয়া আপনারে আবার ফিরে পেয়েছেন আপন ভুবনে। তিনি দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সাহিত্য সংগঠনের সাথে জড়িত।  শৈশবের স্বর্ণযুগ তিনি অতিবাহিত করেন শ্যামলা বনের ধারে একটি পাতা দুটি কুঁড়ির দেশে। সেখানে বাস করতো বহুজাতি ও বহু ভাষাভাষী লোকজন। জীবনের বৈচিত্র্য দেখে দেখে বড় হতে থাকেন তিনি। কচিমনে মানবপ্রেমের অনুভূতি সবটুকু জায়গা তখন থেকেই জুড়ে নিয়েছিল। অসংখ্য প্রশ্নের ভিড় জমা হতো তাঁর বিবেকের কাছে। নীরবে অবলোকন করে যেতেন ভাঙাগড়ার খেলা। শ্রেণিভেদ দাগ কাটত ছোট মনে। পাখির গান ফুলে ফসলে ভরা ছিল পুরোটা এলাকা। মনোহর প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের লীলাময় দিনগুলোতে বেড়ে উঠা ভাবুক মেয়ে এক দুরূহ পথ পেরিয়ে আজকের কবি আসমা মতিন। তাঁর কবিতায় স্বদেশ, মাটি ও মানুষের কথা, বাংলার রূপ সৌন্দর্যের কথা নিখুঁতভাবে তুলে আনেন। নির্যাতিত নিপিড়িত মানুষের কথা, অধিকার বঞ্চিত নারীদের কথা, তাঁর কবিতায় সহজ সরলভাবে ফুটে ওঠে। দুবোধ্য কবিতা নয়, সহজ সরল ভাষায় কবিতা চর্চা করতে আসমা মতিন ভালোবাসেন। কবিতার পাশাপাশি তিনি গল্প ও উপন্যাস লিখছেন।  আসমা মতিনের পৈত্রিক নিবাস মৌলভীবাজার জেলার উলুআইল গ্রামের মাস্টারবাড়ি। পিতা বকসী আবদুল মান্নান। আসমা মতিন বর্তমানে স্থায়ীভাবে ইংল্যান্ডে বসবাস করছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত। স্বামী আবদুল মতিন। দুই ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তানের জননী।  গান শোনা, কবিতা লেখা ও গান গাওয়া তাঁর নেশা। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ- কবিতা হাতে নির্জনে দাঁড়িয়ে, রৌদ্রছায়ার করতলে, মনোরতœ, অমরাবতী। যৌথ কাব্যগ্রন্থ- পঙ্ক্তি স্বজন, প্রবাসী কবিদের নির্বাচিত প্রেমের কবিতা। প্রাপ্ত পুরস্কার- ‘উপকূল সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংস্থা’ থেকে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার লাভ।

বাসিয়ার সাথে একান্ত আলাপচারিতায় তরুণ কবি এম মোসাইদ খান ‘আলোয় আলোয় উজ্জ্বল যৌবনা নগরীর কোলে ফেরারী আমি।’ শুধু মা, মানুষ আর মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা আমার নিত্যসঙ্গী

0001তৃতীয় বাংলা খ্যাত বিলেতের সাহিত্যঙ্গনে অতি সুপরিচিত মুখ তরুণ কবি এম মোসাইদ খান।
এম মোসাইদ খান সিলেট জেলার দণি সুরমা উপজেলার অন্তর্গত লালাবাজার ইউনিয়নের লালারগাঁও গ্রামে ১৯৭৭ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মোহাম্মদ মদরিছ খান, মাতার নাম নুরজাহান বেগম। এম মোসাইদ খানসহ তিন ভাই ও তিন বোন।
২০০৩ সাল থেকে লন্ডনে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। এম মোসাইদ খান ছাত্র জীবন থেকেই লেখালেখির সাথে জড়িত, গান দিয়ে লেখালেখির শুরু হলেও বর্তমানে কবিতার পাশাপাশি লিখছেন নাটক ও ছড়া। দেশ বিদেশের বিভিন্ন পত্রিকা, সাহিত্যের ছোট কাগজ ও আমাদের বাংলা ব্লগসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত লিখে যাচ্ছেন। শব্দের বেনুনে স্বপ্ন বুনে যাওয়া কবি এম মোসাইদ খানের ছড়াগ্রন্থ তিনটি- তালপাতার ঘোড়া, ভুলের ঘণ্টা, কদম আলী লন্ডন ব্রীজ। গীতিকাব্য- মিনতি। কাব্যগ্রন্থ দুইটি- আয়না বিভ্রম এবং হাড়ের মিছিল। লন্ডনের একমাত্র বাংলা রেডিও চ্যানেল বেতার বাংলা তার রচনা, শব্দগ্রহণ, সম্পাদনায় ও পরিচালনায় প্রচারিত বেতার নাটক ছয়টি, যথা- কর্মফল, ফুলপরির ভালোবাস্,া ইলেকশন, মায়ার পুতুল, মজর আলীর লন্ডন সফর এবং বাউলিয়ানা। এছাড়াও শব্দগ্রহণ ও সম্পাদনা করেছেন বেতার নাটক গোলাপজান (১) ও গোলাপজান (২)
চ্যানেল এস টিভিতে প্রচারিত জনপ্রিয় নাটক অসহায় এর সংলাপ এম মোসাইদ খানেরই রচিত। সম্পাদনা করেছেন ম্যাগাজিন প্রবাহ।
টেমস নদীর পার থেকে মা, মানুষ আর মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার চিত্র কলমের আঁছড়ে নান্দনিক শব্দ চয়ন আর চমৎকার উপমায় ফুটিয়ে তুলেন কবিতায়। কোন প্রকার কৃত্রিমতা ছাড়া সহজ সরলভাবে সামাজের সঙ্গতি-অঙ্গতি তুলে ধরেন ছড়ার ছন্দে।
অসহায় দরিদ্র মানুষের জীবন যাপন ব্যথিত করে তার কবি মনকে তাইতো তার কলম থেকে বেরিয়ে আসে, ‘মারবেলের বারান্দায়/ কফির কাপে ধোঁয়ার ঝড় তুলে/ তৃপ্ত চুমুকে ভাবো/ বাড়িটা যদি হতো আরেকটু বড়ো/ সারা শহর জুড়ে কিংবা তার চেয়ে আরও বেশি/ ডিজাইনটা যদি আরও একটু হতো আধুনিক/ মসলিন সুতার কিংবা বাতাসের দেয়াল/ নীল চাদুয়ার নিচে সংখ্যাহীন ঘুমন্ত মানুষের সারি/
ভারী কাঁচের চশমায় পড়ে না ধরা/ ভুতা অনুভতিতে আঘাত করে না/ বিবস্র হাড়ের শরীর
সুখের কোলে মাথা রেখে দুঃখ পোষো বুকে/ আহা আরও একটু যদি…।’ (কাব্য গ্রন্থ’ আয়না বিভ্রম)
কিশোর বেলার স্মৃতি যখন তাকে তাড়া করে ফিরে তখন লিখেন, ‘স্মৃতি বোঝাই মনের সাম্পান/ ভেসে চলে সুরমার স্বচ্ছ জলে পদচিহ্ন কুড়ায়/ কালিঘাট, বন্দর বাজার, আম্বরখানা, তেতইর তল।’ (কাব্য গ্রন্থ’ আয়না বিভ্রম)
সমাজের অনাচার-অবিচার আর মানুষের মানবিক মুল্যবোধের অবয় তাকে ভাবিয়ে তুলে আর তাইতো বলেন, ‘মস্তিস্কের ভিতরে ভিতরে/ মানুষ আর কুকুরের প্রভু ভক্তির তুমুল দর কষাকষি/ দন্দ্বের ভেড়া জালে আধার ঘনায় আরও/ দীর্ঘশ্বাসে খসে পড়া শব্দ কত দুর আর কত দূর প্রভাত ফেরি।’ (কাব্য গ্রন্থ’ আয়না বিভ্রম)
‘মানুষকে মানুষ ভেবে ভুল করি/চোখের পাতায় অমানুষের ছায়া হিমেল হাওয়ার ঝাপটার মতো চমকে উঠি/ পাহাড় গড়িয়ে চলে বিশ্বাসী চাঁদ।’ (কাব্য গ্রন্থ’ হাড়ের মিছিল)
মাতৃভুমির টান তাকে কতোটা বিচলিত করে তুলে সেটা আমরা তার কবিতায় দেখতে পাই।- ‘ভোগ বিলাসের কানায় কানায় পূর্ন লন্ডন নগরী/ সু-সভ্যতার ঘ্রানমাখা আলোয় আলোয় উজ্জল যৌবনা নগরীর কোলে ফেরারী আমি।’ (কাব্য গ্রন্থ’ হাড়ের মিছিল)
‘নিশব্দ ছায়াহীন রাত/ র্নিঘুম দৃষ্টির পাতায় ভেসে উঠে আতুড় ঘর, টিনের চালে বৃষ্টির মতো বিরহের খই ফুটে হৃদয় গহনে।’ (কাব্য গ্রন্থ’ আয়না বিভ্রম)
একটি সুশিতি ও সুশৃংখল শান্তিময় সমাজের স্বপ্ন দেখেন তার কবিতার ভাষায়, ‘শান্ত হও, শান্ত হও মাটির মানুষ/ আলোয় আলোয় ভরে উঠুক পৃথিবী আমার।/ বৃষ্টির বর মাগি তপ্ত হৃদয়ে আজো/ বৃরে পাশাপাশি বেড়ে উঠা আমি…।’ (কাব্য গ্রন্থ’ আয়না বিভ্রম)
‘স্যাতস্যাতে ভিজা ঘরে / এক মুঠো রৌদ্র খুজি/ ফসলি মাটির বুক খুলে অঙ্কুরিত বৃরে বেড়ে উঠায়।’ (কাব্য গ্রন্থ’ হাড়ের মিছিল)
কখনওবা প্রেমের দোলায় দুলে প্রেমিকের ভুমিকার দাঁড়িয়ে ব্যক্ত করেন, ‘শূন্য কলসীর মতো শূন্য হৃদয়ে/ মাছরাঙ্গা চোখ গুঁজে রাখি পথের বাঁকে/ যদি তুমি ফিরে আসো অচেনা পথে।/ দিনের আলো ফুরায়, ফুরায় না পলক/ দিনান্তে থেকে যায় কষ্টের প্রহর, মেঘাবৃত সুর্যের আলো দৃষ্টির পাতা পোড়ে/ আমি পুড়ি তোমার প্রতিায়।’ (কাব্য গ্রন্থ’ হাড়ের মিছিল)
‘সঞ্চিত চাদের স্নেহ প্রেমের পরাগে দুলে উঠে আতœার/আনন্দ ডেউ তুলে অনন্ত সাগর জলে, উড়াউড়ি করে গাঙচিল মন, বুকের বন্দরে নোঙর করে লাল নীল প্রজাপতি।’ (কাব্য গ্রন্থ’ আয়না বিভ্রম)
কবি এম মোসাইদ খানের সাথে বাসিয়া পত্রিকার অন্তরঙ্গ আলাপে বেরিয়ে আসবে কবির আত্মস্ত ভাবনাগুলো। আমরা পাঠকের জন্য কবির সাথে কিছু প্রশ্ন নিয়ে আলাপ করি।
বাসিয়া: আপনার কাছে প্রথমেই জানতে চাই এই কর্মব্যস্ত প্রবাস জীবনে লেখালেখির সময়টা কিভাবে বের কররেন?
মোসাইদ খান: ঘুমের কাছ থেকে সময় চুরি করে লিখি, অর্থাৎ রাতে যখন ঘুমে থাকার কথা তখন না ঘুমিয়ে কিছুটা সময় লেখালেখির পিছনে ব্যয় করি।
বাসিয়া: কবিতা লেখার েেত্র কোন বিষয়টা আপনাকে প্রেরণা যোগায়?
মোসাইদ খান: মানুষকে নিয়ে ভাবতে আমার ভালো লাগে। আমি যা ভাবি এবং আমাকে যা ভাবায় তাই আমি আমার লেখায় তুলে ধরার চেষ্টা করি। পাঠকের আলোচনা-সমালোচনা, পাঠকের ভালো লাগা-ভালোবাসা, আমাকে আরও লিখতে উৎসাহ দেয়।
বাসিয়া: আপনিতো গান, ছড়া নাটক কবিতা লিখছেন, কোনটি লিখতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন?
মোসাইদ খান: আগে এক সময় গান লেখতাম এখন আর লিখছি না তবে যে সময় যেটা লিখি সেটাই ভালো লাগে। বতর্মানে কবিতাতেই ডুবে থাকতে বেশি ভালো লাগে।
বাসিয়া: কবিতায় ছন্দের বিষয়ে একটু বলুল কবিতা চর্চায় ছন্দ জানাটা কতটা জরুরী?
মোসাইদ খান: কবিতায় এক প্রকার ছন্দ থাকতেই হয়, এখন সেটা পদ্যছন্দ হোক কিংবা গদ্য ছন্দ হোক। ছন্দের একটা ন্যূনতম দোলা কবিতায় না থাকলে কবিতা পড়তে যেমন ভাল লাগবে না তেমনই শুনতেও ভালো লাগবে না। ছন্দবদ্বƒ কবিতা বলতে আমরা যেগুলো বুঝি আজকাল সেগুলোর চর্চা অনেকটা কমে গেছে কারণ এই ধরনের কবিতা লিখতে হলে স্বরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত, অরবৃত্ত ছন্দ সমন্বেƒ ভালো জ্ঞান থাকতে হয় এবং এ গুলো জানার জন্য একটু সময় ব্যয় ও পরিশ্রম করতে হয়, তাই আজকাল বেশির ভাগ কবিই গদ্যধারায় কবিতা লিখতে সাচ্ছন্বƒ বোধ করেন।
বাসিয়া: বতর্মান সময়ে কবিতার দুবোর্ধ্যতার কারনে পাঠক কবিতা বিমুখ হয়ে পড়ছেন এ বিষযে আপনার মাতামত কি?
মোসাইদ খান: উত্তর আধুনিক কবিতায় কিছুটা দুর্বোধ্যতা এসেছে সেটা সত্য কবিতায় গভীরতা থাকবে সেটা স্বাভাবিক কিন্তু আমি মনে করি এতোটা দুবোর্ধ্য হওয়া উচিৎ নয় যেখানে পাঠক কবিতার পাঠ উম্মোচনে ব্যর্থ হয়।
বাসিয়া: ইদানিং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে অনেকেই কবিতা লিখেন, মাঝে মাঝে আপনারও কবিতা ফেইসবুকে পড়ি। সাহিত্য চর্চায় ফেইসবুক কতটা ভূমিকা রাখছে বলে আপনি মনে করেন?
মোসাইদ খান: ফেইছবুকে সাহিত্য চর্চা এটা সাহিত্যের জন্য অবশ্যই একটা সুখবর। কম বেশি সবাই কবিতা লেখার চেষ্টা করছে এবং কবিতা পড়ছে এটাও আনন্দের বিষয়। এখানে অনেকেই ভালো লেখেন এবং অনেক সুনামধন্য কবিদের কবিতা ফেইসবুকের মাধ্যমে খুব তাড়াতাড়ি পাঠকের কাছে পৌছে যাচ্ছে এটাও একটা ভালো দিক।
বাসিয়া: আপনি কোন কোন ব্লগে লিখেন?
মোসাইদ খান: আমি আমাদের বাংলা ব্লগে কবিতাই লিখি, আমাদের বাংলা ব্লগটির প্রতিষ্ঠাতা লন্ডনেরই আমার অগ্রজ কবি ফারুক আহমেদ রনি ভাই এবং এই ব্লগটি লন্ডনেরই কয়েকজন কবি পরিচালনা করেন। আমি এখানে একটা কথা বলি অনেকেই ব্লগার সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করেন, মনে করেন সকল ব্লগার হয় নাস্তিক। ব্লগার মানে ব্লগ লেখক। যিনি ব্লগে লিখেন, অনেক ব্লগার আছেন যারা ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চমৎকার লেখা লিখে থাকেন। আমাদের বাংলা ব্লগে প্রায় হাজারের উপরে ব্লগার আছেন আমি কখনও কাউকে ধর্মের বিরুদ্বেƒ কোন লেখা লিখতে দেখিনি।
বাসিয়া: অপনার কাছে সবচেয়ে অপছন্দনীয় বিষয়টি কি?
মোসাইদ খান: মুখোশদারী মানুষ।

বাসিয়া: এটা আমি আপনার অনেক কবিতায় দেখেছি যেমন একটি কবিতায় আপনি বলেছেন, বিভৎস প্রাণের কোষে কোষে/ বাদুরের মতো ঝুলে থাকা আয়ু/ অজস্র রক্তাভ চোখ গাঁথা ভ্রষ্ট দেয়ালে/ মুখোশ মুখের মিছিল আর মিছিল। (কাব্য গ্রন্থ’ হাড়ের মিছিল)
মোসাইদ খান: আমি যখন দেখি আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য মুখোশদারী মানুষ এবং তাদের দ্বারা আমরা প্রতারিত হচ্ছি প্রতিনিয়ত তখন সেটা আমাকে খুব পীড়া দেয়।
বাসিয়া: আপনাকে কোন বিষয়টি আনন্দ দেয়?
মোসাইদ খান: অনেক কিছুই আনন্দ দেয়, তবে একটা ভালো কবিতা লেখার আনন্দটা অন্য রকম।
বাসিয়া: আপনি নতুন একটা কবিতা লেখার পর এমন কেউ কি আছেন যে যাকে আপনি প্রথমে কবিতাটা পড়তে দেন অথবা নিজে পাঠ করে শুনান?
মোসাইদ খান: নতুন কবিতা লেখার পর সেটা সব সময় সেটা হয় না তবে মাঝে মধ্য আমার স্ত্রীকে পড়ে শুনাই অথবা মেয়েরা যখন জানতে চায় কি লিখছি তখন তাদের ছড়া পড়ে শুনাই, যদিও তারা পুরোপুরি বাংলা বুঝে না তবুও তারা মনযোগ দিয়ে শুনে। এছাড়া বিভিন্ন সাহিত্য আড্ডায় কবিতা পাঠকরি।
বাসিয়া: বর্তমান সময়ে এই তথ্য প্রযুক্তির যুগে কেউ কেউ বলেন ইন্টারনেটের সহায়তায় বিভিন্ন ইলেক্টনিক মাধ্যমে যেখানে কবিতা, গল্প, উপন্যাস পড়া যায় সেখানে বই প্রকাশ করা অনেকটা পুরানো হয়ে গেছে।
আপনি কি মনে করনে বইয়ের জায়গা অন্য কিছু দখল করতে পারবে?
মোসাইদ খান: খুবই চমৎকার একটা প্রশ্ন করেছেন, গল্প, উপন্যাস কিংবা কবিতার বই পড়ে যতোটা তৃপ্তি পাই ডেস্টটপ কম্পিউটার, লেপ্টপ কিংবা আইপ্যাড, ট্যাবলয়েট কিংবা আনড্রয়েট মোবাইলে এসব পড়ে আমি ততোটা তৃপ্তি পাই না। নতুন বইয়ের গন্বƒটাইতো অন্যরকম যেটা আর অন্যকিছুতে পাওয়া যায় না। আর বইয়ের আলাদা একটা সৌন্দর্য্য আছে যা তাকে অন্য কিছু থেকে বিশিষ্ট ও সতন্ত্র করে দেয়,
ইচ্ছে করলে বই আমি কাউকে উপহার দিতে পারি, আমার সংগ্রহে রাখতে পারি। যেহেতু বই শিার প্রধান মাধ্যম তাই আমি মনে করি বইয়ের জায়গা অন্য কিছু দখল করতে পারবে না।
বাসিয়া: কদম আলী লন্ডন ব্রীজ ছড়াগ্রন্থ পড়ে মনে হলো সেটা গল্প বা উপন্যাস হতে পারতো ছড়ায় নিয়ে আসার ভাবনাটা আপনার কিভাবে এলো?
মোসাইদ খান: যারা ইংল্যান্ডে বসবাস করেন কদম আলী চরিত্রটি তাদের সবার কাছে পরিচিত। অসংখ্য কদম আলী ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিলেতে, প্রথমে ভেবেছিলাম এটা নিয়ে একটা নাটক লিখব তারপর ভাবলাম নাটক না লিখে ধারাবাহিক ভাবে ছড়ার আকারে গল্পটি বনর্ণা করব এই ভাবনা থেকেই কদম আলী লন্ডন ব্রীজ ছড়াগ্রন্থটি লেখা।
বাসিয়া: ‘আয়না বিভ্রম’ কাব্যগ্রন্থে অনেক অসাধরণ কবিতা রয়েছে, কবিতায় চমৎকার ভাবে বলেছেন
‘‘পরম মমতায় বুকের রুমালে ভাঁজ করে রাখি/ এক খন্ড মানচিত্র/ একটি নাম বাংলাদেশ’’
মোসাইদ খান: কাছের মানুষ যতণ কাছে থাকে ততণ ততটা আপন মনে হয় না যখন সে চোখের আড়াল হয় তখনই তার শূন্যতাটুকু বুঝা যায়। দেশের বাইরে না এলে হয়তো বুঝতে পারতাম না দেশকে কতটা ভালাবাসি, মা, মাটির টান, শিকড়ের ডাক সব সময়ই অনুভুত হয়।
বাসিয়া: আপনার ‘হাড়ের মিছিলি’ কাব্যগ্রন্থে অনেক ভালো লাগার কবিতা রয়েছে। গ্রন্থের নামও চমৎকার এখানে বিষন্ন ঋতু কবিতার প্রথম অংশ তুলে ধরছি,- ‘‘যে দিকে চোখ ফেলি ধোঁয়ার গোলক/ তুমিহীন গাঢ় অন্বƒকার সুর্যস্নাত দিন/ বোধের শরীরে ফোসকা উঠে/ এলোমেলো ভাবনায়/ কষ্টের স্রোতে ভেসে যাই, ভেসে যাই তুমিহীন’’ এখানে আপনি কাকে ইংগিত করেছেন?
মোসাইদ খান: এই কবিতাটির বিষয় হচ্ছে মা, মা ছাড়াতো সমস্ত পৃথিবীটাই অন্বƒকার। মা এই এক অরের একটি শব্দের মতো এতো ওজনদার এবং মিষ্টি শব্দ পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি নেই, সেইতো সবচেয়ে বেশি সুখি যার মা পাশে আছে, আমার অনেক গুলো কবিতা জুড়ে আছেন মা।
বাসিয়া: বিলেতে অনেক সুনামধন্য কবি রয়েছেন তাদের মধ্য আপনার প্রিয় কবি কে?
মোসাইদ খান: বিলেতে আমার অনেক প্রিয় কবি আছেন, অনেকের কবিতাই আমার কাছে ভালা লাগে প্রিয় কয়েক জন কবির নাম বলতে হলে কবি আতাউর রহমান মিলাদের নামটি প্রথমে চলে আসে।
বাসিয়া: লন্ডনের বেতার বাংলা রেডিওতে আপনার রচনা ও সম্পাদনায় বেশ কয়েকটি নাটক প্রচারিত হয়েছে এ বিষয়ে আপনার কাছ থেকে কিছু জানতে চাই?
মোসাইদ খান: শ্রোতা ফোরামের কিছু সদস্য এবং বেতার বাংলার উপস্থাপক ও উপস্থাপিকাদের নিয়ে আমি কয়েকটি নাটক করেছি। বেতার বাংলায় সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় নাটক আমিই প্রথম করেছি এবং নাটকগুলি শ্রোতাদের কাছে প্রসংশিত হয়েছে।
বাসিয়া: এখন নতুন কোন বেতার নাটকের কাজ করছেন কি না?
মোসাইদ খান: একটা নাটক লেখা এবং রেকডিং, এডিটিং করতে অনেকটা সময়ের প্রয়োজন, একা এই কাজগুলো করার মতো সময় আমার হাতে নেই, তাই এখন আর নাটক করছি না।
বাসিয়া: অনেক দিন থেকে আপনি সংহতি সাহিত্য পরিষদের সাথে যুক্ত আছেন আপনাদের কার্যক্রম সর্ম্পকে একটু বলুন?
মোসাইদ খান: সংহতি সাহিত্য পরিষদ সর্ম্পকে বলতে গেলে অনেকটা সময় লেগে যাবে কারণ এর কার্যক্রম অনেক। কবিতা উৎসব সর্ম্পকে একটু বলি সংহতি সাহিত্য পরিষদ প্রতি বছর কবিতা উৎসবের আয়োজন করে থাকে এবং সেই কবিতা উৎসবে বাংলাদেশ থেকে কবি সাহিত্যিক আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে যোগ দেন এছাড়াও আমেরিকা ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কবি সাহিত্যিকরা এসে যোগ দেন। উক্ত অনুষ্টানে কবিতা নৃত্য, কবিতা আবৃতি, স্বরচিত কবিতা পাঠ, সাহিত্য বিষয়ক আলোচনা থাকে। সংহতি সাহিত্য পদক প্রদান করা হয়। কবিতা উৎসককে কেন্দ্র করে সাহিত্য প্রেমিদের ঢল নামে, সারাদিন ব্যপি অনুষ্টান চলে।
বাসিয়া: আপনার গল্প বা উপন্যাস লেখার ইচ্ছে আছে কি না?
মোসাইদ খান: এই মুহুর্তে গল্প বা উপন্যাস লেখার কথা ভাবছি না তবে আগামীতে লিখতে পারি, সময়ই সেটা বলে দেবে।
বাসিয়া: আগামী একুশে বই মেলায় আপনার কোন বই প্রকাশ হচ্ছে কি না?
মোসাইদ খান: আগামী বই মেলায় ‘জলের পেরেক’ শিরোনামে আমার একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের অপোয় এবং ‘স্বজনপংক্তি’ শিরোনামে একটি যৌথ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ হবে।
বাসিয়া: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপনার এই মূল্যবান সময়টুকু আমাকে দেওয়ার জন্য, আপনার সাহিত্য চর্চা অব্যাহত থাকুক। দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা থাকলো।
মোসাইদ খান: আপনাকের অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞা। আপনার প্রত্রিকার সকল পাঠককেও অনেক ধন্যবাদ এবং শুভকামনা। আল্লাহ হাফেজ।

বাসিয়া অফিসে সাহিত্য আড্ডা

IMG_20151118_092126গত কাল ১৭ নভেম্বর দুপুরে বাসিয়া অফিসে কবি সাহিত্যিকদের আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়। আড্ডায় অংশ নেন কবি কামরুন নাহার চৌধুরী শেফালী, কবি ও সাংবাদিক সাইদুর রহমান সাঈদ, মাকুন্দা সম্পাদক গীতিকার মো. খালেদ মিয়া, বাসিয়া সম্পাদক গীতিকার মোহাম্মদ নওয়াব আলী, গীতিকার সৈয়দ আতিকুল ইসলাম চিশতি, মাজেদুর রহমান শিপন ও আকরাম হোসেন। প্রাণবন্ত এই বিকেল পর্যন্ত চলে। পরে কামরুন নাহার চৌধুুরী শেফালীর সৌজনে মিষ্টিমুখ করানো হয়।

Developed by: