বিভাগ: লেখালেখি

মরমি কবি শাহ ইসকন্দর মিয়ার ভাগ্যে জোটেনি রাষ্ট্রীয় সম্মাননা

মোহাম্মদ নওয়াব আলী
001পীর মোহাম্মদ শাহ ইসকন্দর মিয়া গানের জগতে অতি সুপরিচিত নাম। তিনি সুপরিচিত গীতিকার। এ যাবত প্রায় তিন হাজারের বেশি গান রচনা করে বেশ খ্যাতি অর্জন করেছেন। তাঁর বেশির ভাগ গানই পুস্তকাকারে প্রকাশিত হয়েছে। দেশ-বিদেশের অসংখ্য বাউল শিল্পী তাঁর গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। বাউলদের মুখে মুখে তাঁর গানের অংশ বিশেষ প্রতিনিয়ত শুনা যায়।
বহুগ্রন্থ রচয়িতা মরমি সাধক বাউল কবি পীর মোহাম্মদ শাহ ইসকন্দর মিয়া ১৯৩৫ সালের ১৫ জুন সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের তেরাউতিয়া মোকামবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা শাহ মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ পীর ও মাতা সৈয়দা মিরজান বিবি।
বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জ গানের একটি সমৃদ্ধ উর্বর জনপদ। এ জনপদে হাছন রাজা, রাধারমন দত্ত, ফকির দূর্বিন শাহ, শাহ আবদুল করিমের মত প্রতিথযজ্ঞা বাউল সাধকদের জন্ম, যারা সগৌরবে সংগীতের জগতে আপন আলোয় দিপ্তীমান। তাদের উত্তরসুরী পীর মোহাম্মদ শাহ ইসকন্দর মিয়া তাদেরই পথ অনুসরণ করে সংগীতের এই সুন্দর ভুবনে পা বাড়ান। ইতিপূর্বে একজন সার্থক গীতিকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সম হয়েছেন।
গানপাগল পীর মোহাম্মদ শাহ ইসকন্দর মিয়া কৈশোর বয়সেই বাউল গানের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েন এবং গান লিখতে শুরু করেন। প্রবাস জীবনের শত ব্যস্ততার ফাঁকে ফাঁকে ভাবুক ইসকন্দর মিয়া সংগীত চর্চা চালিয়ে যান নীরবে নিভৃতে। তাঁর বিশ্বাস ছিল মানুষের মনের কথা সুন্দর করে উপস্থাপন করা যায় সংগীতের মাধ্যমে। স্রষ্টার সান্বিধ্য লাভ করা যায় সংগীত সাধনার মাধ্যমে। তাই তিনি মানুষের মনের কথা বলার জন্য। অধরাকে ধরার জন্য বেছে নেন সংগীতের এই শক্তিশালী মাধ্যম। আর কর্মব্যস্ততাকে ফাঁকি দিয়ে ভাবের গভীরে চলে যান এবং লিখতে থাকেন অনবরত।
মরমি কবি ইসকন্দর মিয়ার এ যাবত প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হলো ইসকন্দর গীতি ১ম খণ্ড (অক্টোবর ১৯৮৯), ইসকন্দর গীতি ২য় খণ্ড (জানুয়ারি ১০৯০)। বইগুলোর মুদ্রণ সংখ্যা শেষ হলে পরবর্তীতে ইসকন্দর গীতি প্রথম খণ্ড গান সংখ্যা ১০১টি (ফেব্র“য়ারি ২০০৩), ইসকন্দর গীতি ২য় ও ৩য় খণ্ড গান সংখ্যা ২২৯টি, ইসকন্দর গীতি ৪র্থ ও ৫ম খণ্ড গান সংখ্যা ২৮৩টি (মে ২০০৩), ইসকন্দর গীতি ৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম খণ্ড গান সংখ্যা ৪৩৯টি (আগস্ট ২০০৩), ইসকন্দর গীতি ৯ম, ১০ম, ১১তম, ১২তম খণ্ড গান সংখ্যা ৫৬১টি (মে ২০০৪), ইসকন্দর গীতি ১৩তম খণ্ড গান সংখ্যা ২৮৬টি (ফেব্র“য়ারি ২০০৬) প্রকাশিত হয়। এছাড়া বাংলাদেশ ও বিদেশের অসংখ্য বই, পুস্তক, ম্যাগাজিন, সিডিতে তাঁর গান ও জীবনী প্রতিদিনই ছাপা হচ্ছে।
তিনি ২০০৬ সালে অর্জন করেছেন ইতিহাসবিদ ড. মুমিনুল হক একাডেমি ইউকে এর এ্যাওয়ার্ড। মহাকবি সৈয়দ সুলতান সাহিত্য ও গবেষণা পরিষদের মরমি সাহিত্য পদক। পাইলগাঁও বিএন উচ্চ বিদ্যালয় তাকে এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা প্রদান করে। তিনি যুক্তরাজ্যের সিলেট একাডেমির পৃষ্ঠপোষক।
তাঁর দ্বিতীয় ছেলে মোহা. ইউছুফ মিয়া নুনু পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে লেখালেখির জগতে চলে এসেছেন। ইতিপূর্বে তাঁর প্রকাশিত বই- সুর লহরী ১ম থেকে ৪র্থ খন্ড, মেঘ বৃষ্টি ও প্রেম কুঞ্জে প্রকাশিত হয়েছে। গান ও কবিতার এ বইগুলো পাঠক সমাদৃত হয়েছে।
ইসকন্দর মিয়া আপাদমস্তক একজন ভাবুক। প্রতিটি মুহুর্ত ভাবের জগতে ঢুবে থাকতে চান। তাই সংগীত সাধনায় রেখেছেন অসাধারণ সাফল্যের স্বার। কিন্তু পরিতাপের বিষয় আজ পর্যন্ত এলাকাবাসী কিংবা দেশবাসীর কাছ থেকে এ সৃষ্টিকর্মের মূল্যায়নধর্মী কোন স্বীকৃতি তিনি পাননি। তিনি গান লিখে দেশ বিদেশে সুপরিচিত হলেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত তিনি (২ পৃষ্ঠায় দেখুন) বাংলাদেশ বেতার কিংবা বাংলাদেশ টেলিভিশনের গীতিকার হিসেবে অনুমোদন লাভ করতে পারেননি। তার অনেক অনুজ গীতিকার বেতার কিংবা টেলিভিশনের অনুমোদন লাভ করলেও তার ভাগ্যে জুটেনি এ দুর্লভ প্রাপ্তি। এটা দেশ জাতি এবং সংগীত জগতের জন্য লজ্জার বিষয়। প্রবীণ এ গীতিকার শেষ বয়সের যেন তার সৃষ্টিকর্মের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি লাভ করতে পারেন। বয়সের ভারে বেশ বয়সেও তিনি আশাবাদী তার গান বেতার কিংবা টেলিভিশনে শীঘ্রই প্রকাশিত হবে।
দেশে-বিদেশে একজন নন্দিত গীতিকার হওয়ার গীতিকার, ঠিক তখনও পীর মোহাম্মদ শাহ ইসকন্দর মিয়া অননুমোদিত গীতিকার। যেটা বেশ লজ্জ্বার বিষয়। যুক্তরাজ্য প্রবাসী কলম সৈনিক পীর মোহাম্মদ শাহ ইসকন্দর মিয়া রচিত অনেক গানের শুধু ভণিতার পরিবর্তন করে অনেক তথাকথিত গীতিকার অনুমোদন লাভ করেছেন। দেশ জাতি তাঁকে অনেক ন্যায্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত রেখেছে যেটা কিছুতেই অস্বীকার করা যায় না। তাঁর প্রতি এ বঞ্চনা, অবহেলা সৃজনশীলতার জন্য কোনোভাবেই হিতকর হতে পারে না। সাড়ে তিন হাজার মরমি সংগীত রচনা করে পীর মোহাম্মদ শাহ ইসকন্দর মিয়া কী পেলেন? এ সত্য উপলব্ধি করে অনেক নতুন ভাবুক সাধনার পথে অগ্রসর হতে আগ্রহ পোষণ করবে না। পাঠকের জন্য ইসকন্দর মিয়ার একটি গান পত্রস্থ করা হলো-
তুমি হাকিমুল হাকিম
বাদশাহ্র বাদশাহ তুমি
রহমান রহিম।
অপার মহিমা মহিম
পরওয়ারদিগার।।

তুমি- কুদরতে কামাল
পড়েছি অকুল সাগরে
তরাও হে দয়াল।
কিনারায় লাগাইয়া জালাল
দূর করো আঁধার।।

ওগো- কাদির ও গনী
করুণা করিয়া দান
দাও হে রওশনী।
খুলে দাও রহমতের খনি
করিম ও ছত্তার।।

ভেবে ইসকন্দরে কয়
অপরাধ মা কর
প্রভু দয়াময়।
ভক্ত ভাবে রাখ হৃদয়
ডাকি বারেবার।।

শাহ মো. শরফ উদ্দিন চিশতী

11111শাহ মোহাম্মদ শরফ উদ্দিন চিশতী একই সাথে একজন গীতিকার, সুরকার ও সংগীত শিল্পী। অর্থাৎ যাকে বলে একের ভেতর তিন। তাঁর জন্ম সিলেট জেলার অন্তর্গত দণি সুরমা উপজেলা মোল্লারগাঁও ইউনিয়নের লামাহাজরাই গ্রামে। পিতা মরহুম মোঃ আত্তর আলী ঠাকুর মিয়া ও মাতা মোছা. তাসলিমা খানম।
শাহ মোহাম্মদ শরফ উদ্দিন চিশতী পেশায় কবিরাজ হলেও নেশা মূলত সংগীতচর্চা। তাঁর পিতা মরহুম মোঃ আত্তর আলী ঠাকুর মিয়া সংগীত চর্চা করতেন, সেই সূত্র ধরেই তিনি সংগীতের জগতে প্রবেশ করেন। ছোটবেলা কোন শিকের কাছ থেকে গানের তালিম নেবার সুযোগ তাঁর হয়নি। তাঁর ভাষায় তিনি নিজেই নিজের শিক আবার নিজেই নিজের ছাত্র। মুক্তিযুদ্ধের বছর থেকে তিনি নিজের গানে সুর দেন ও গান করেন। তিনি দেহতাত্ত্বিক, আধ্যাত্মিক, ভাটিয়ালি, পল্লীগীতি, বাউল ইত্যাদি বিভিন্ন ধারার সংগীতের চর্চা করে থাকেন। তাঁর গানগুলো গ্রাম ও শহর সব অঞ্চলের মানুষেরই শোনার উপযোগী। সুশীল সমাজের আর্থিক সহযোগীতা পেলে ভবিষ্যতে গানের সিডি বের করতে তিনি ইচ্ছুক। আমাদের দেশের সংগীতের ত্রে নিয়ে তাঁর বক্তব্য হলো, দেশে বর্তমানে যথেষ্ট ভালো সংগীতচর্চা হচ্ছে। তবে এক শ্রেণির গায়কেরা গানের মূল সুর ও মিউজিক বিকৃত করে গান গাচ্ছেন যা ঠিক নয়। গানের শ্রোতা ও সংগীত শিল্পীদের উদ্দেশ্যে তাঁর বক্তব্য হলো গান আধ্যাত্মিক জগতের বস্তু। একে শুধু কান দিয়ে শুনলেই হবে না একে হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করাও জরুরী। না বুঝে গান গাওয়া ঠিক নয়। প্রতিটি গানের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ও গভীর অর্থ রয়েছে। একে বুঝে আত্মস্থ করা উচিত।
প্রাইমারী পড়–য়া শাহ মোহাম্মদ শরফ উদ্দিন চিশতী অলি আউলিয়াদের মাজারে মাজারে কাটান বেশিরভাগ সময়। ওলী আওলিয়ার সংস্পর্শে থাকতে চান। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত।
সংগীতকে ভালোবেসে তিনি নিয়মিত সংগীতের সাথে আছেন। তাঁর প্রত্যাশা একদিন তার গানগুলো গ্রন্থাকারে ও সিডি আকারে প্রকাশিত হবে। আমরা শরফ উদ্দিনের কটি গান পত্রস্থ করলাম
০০০
অপুরন্ত ভান্ডার হতে ফিরলে খালি কলংক রবে
ভিখারীর মনে ভরসা তোমারই দয়া পাবে।।

দয়া পাইতে আসা নিয়া কত না যাতনা লইয়া
আসে সবে
ভক্তের মনে ঐ ভরসা দয়াল হইয়া ভিা দিবে।।

আমার অপরাধের নাইগো সীমা ভিা মাগি পাইতে মা
আসে সবে
তুমি নায়রে নবী উজ্জল রবি একুল সেকুল খেয়া দিবে।।

তব জাতের জাতি করে কুলেনি লইবে আমারে
আপন ভেবে
শাহ শরফ উদ্দিন কয় তাই না হলে দয়াল নামের কিগুণ রবে।।

০০০
ভারের দেশে যাবে যদি মন
ভাবের দেশ মুকাম্মীলে শাকারে পায় সাই নিরঞ্জন।।

ভাবের দেশের কায্য নিত্য সরলে রয় সবাই লিপ্ত
মরা বৃে জল দিতে রয় বহুজন হইয়া একজন।।

ভাবের দেশের কঠিন রীতি সুসাধনে পায় যে জুতি
সঙ্গি হলে আপ্ত জ্ঞাতি আলো ছড়ায় বিশ্ব ভুবন।।
শরফ উদ্দিন কয় আলীফ দাল মিম
তিন হরফে আদম মুমিন
ভেদাভেদ নাই হিন্দু মুসলিম দেশে করে রনে গমন।।

০০০
বাহির চোখে আল্লাহ দেখা নাহি যায়
বাহির চোখে দলিল দেখে ভাবরে খোদা রইল কোথায়।।
বাহির চোখে দিচ্ছে জুতি দেখিতে সুন্দন আকৃতি
সৃজন করছে জগৎপতি ফাদ পাতিয়া দুটানায়
বাহির চোখে করবে দোষি না হইলে অন্ধের তল্লাশি
বাহির চোু নফছ রাশি ঘন্টা জলে নাও ডোবায়।
ভেবে কয় শাহ শরফ উদ্দিন অন্ধ চোখে মৌলার শাকিন
বুঝলে না তুই মনরে কমিন চোখ সাধনা জঙ্গলায়।।

শামছুন নাহার

000কবি শামছুন নাহার কবিতার স্বপ্নীল ভূবনে বসবাস করছেন দীর্ঘদিন ধরে। তাঁর জন্ম ১৯৬২ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকা জেলার অন্তর্গত সাভার উপজেলার ভাদাইল গ্রামে। পিতা জালাল উদ্দিন আহমদ ও মাতা মৃত রাবেয়া বেগম। পিতার নাটকে সংশ্লিষ্টতার সুবাদে তাঁর সাহিত্যের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা। ছোট বেলা থেকেই ছড়া, কবিতা, গল্প ইত্যাদি লেখার প্রতি প্রচন্ড ঝোঁক ছিলো। তাই স্কুল জীবন থেকেই লেখালেখি শুরু করেন। তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘ভালোবাসা’ শিরোনামে ১৯৮২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সিলেটের যুগভেরী পত্রিকায় কবিতা প্রকাশিত হয়। এরপর ‘সিলেট কণ্ঠ, সাপ্তাহিক জালালাবাদী ইত্যাদি পত্রিকায় তাঁর লেখা নিয়মিত প্রকাশিত হতে থাকে। তিনি সাভারে থাকেন অথচ প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় সিলেটে। এর কারণ হলো তাঁর সিলেটে বেশ কয়েকজন ‘পেনমামা’ ছিলেন। তাদের কাছে তিনি লেখা পাঠাতেন আর সে লেখা তাঁর অজান্তেই ছাপা হতো সিলেটের পত্র পত্রিকায়। পরবর্তীতে বেগম পত্রিকা সহ অন্যান্য জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় তাঁর লেখা নিয়মিত বেরুতে থাকে।
কবি শামছুন নাহারের এ যাবত প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হলো- *ভালোবাসার নীল দুয়ার, *কষ্টের ঝোল বারান্দা, *অনুভবে ছুঁয়েছি তোমায়, *নগ্ন রাতের ঘ্রাণ, *ফিরে এসো পুরাণের পাখি হয়ে। প্রকাশিতব্য *বাংলাদেশের জন্ম (ছোটদের জন্য)।
কবিতায় অনন্য অবদানের জন্য তিনি ২০০৬ ও ২০০৭ সালে বাংলাদেশ সাহিত্য ও সংস্কৃতি পুরস্কার এবং ২০১০ সালে সাংবাদিক বজলুর রহমান স্মৃতি স্বর্ণপদক লাভ করেন। ২০০৫ সালে জাতীয় লেখক ফোরাম কর্তৃক শ্রেষ্ঠ সংগঠক হিসেবে ভূষিত হন।
কবি শামছুন নাহার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে øাতক এবং ময়মনসিংহ ভেটেরিনারি ইন্সটিটিউটে অধ্যয়ন করেছেন। এরপর টহরহাবৎংরঃু ড়ভ ঐঁফফবৎংভরবষফ ধহফ ঈড়সসড়হবিধষঃয ঝবপৎবঃধৎরধঃব ওহ ট.ক হতে ণড়ঃয উবাবষড়ঢ়সবহঃ এ চড়ংঃ এৎধফঁধঃব উরঢ়ষড়সধ (উণউড) পরবর্তীতে শান্তা মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন। পেশাগত জীবনে তিনি বাংলাদেশ পশু সম্পদ অধিদপ্তর ঢাকায় কর্মরত আছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত। তাঁর স্বামী মোহাম্মদ আমির হোসেন। শাওন ও তন্ময় নামক দুই পুত্র সন্তানের তিনি জননী।
তার অসংখ্যা লেখা থেকে পাঠকদের উদ্দেশ্যে দুটি লেখা পত্রস্থ করা হলো-

অদম্য পুরুষ তুমি
জানি না কোন সে জাগরণ থেকে
স্পর্শের উষ্ণতা ছড়াতে চাও
যৌবনের এই ছেঁড়া শরীরে।
তুমুল স্বাধীন নিঃসঙ্কোচে করেছো প্রকাশ
নোনা স্বাদ পেতে চাও কোমল ভালোবাসার।
অদম্য পুরুষ তুমি
বুকজুড়ে এত টান
বৃরে শিকড়ের মতো
অরণ্যের গোপন ঘ্রাণের মতন
চুমুর চিহ্ন এঁকে দিতে চাও
ঠোঁটের কোণে লুকানো ছিল যা এতকাল।
অরণ্যের সবুজের মতোই
পাশাপাশি থেকেও বুঝতে পারিনি
তোমার হৃদয়ের হাওয়া- মেঘবৃষ্টি।
পরখ করিনি কখনো আমার অনুভবে
তোমার অস্তিত্বের খিল কতখানি আঁটা।
তোমার ব্যাকুলতাগুলি ওম দিয়েছে
একখন্ড শীতবস্ত্রের মতো আর তাই
শখের কুলঙ্গিতে তুলে রেখেছি
একরাশ শাদা জুঁইয়ের মতো
হয়তো কোনো উদাসীন দুপুরে
বিহ্বল করে তুলবে এই অপোয়।

অঘ্রাণের সুখ
কীর্তনখোলার বুকে বজরা ভাসিয়ে
আমি রবীন্দ্রনাথ হবো না।

কতটুকু হারিয়ে খুঁজেছে মানুষ
অঘ্রাণের সুখ।
অন্তহীন নবান্নের উৎসবে
কতদিন বাজেনি মাদল
মনে পড়ে না।

তবু স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকা
নবীন পুরুষেরা জানে না
নিঝুম বসে থাকা
ছানিপড়া বৃদ্ধের দল
পাঁজরের তে কতটা ব্যথা নিয়ে
তাকিয়ে রয়েছে বৃত্তাবদ্ধ জীবনের দিকে।

আকাশকে কাব্য করে বলি
হে দূরের আকাশ
তুমি একবার বৃষ্টি দাও
পোড়ামাটি পোড়াগাছ
বীজ বোনা ভালোবাসাকে
তামাটে করো না।

পাহাড় ফেটে ছুটে আসুক হিমস্রোত।
আকাশ ভেঙে নামুক অঝোর ধারা
শ্যামলতার সারাৎসার শুষে
মৃত্তিকা ফুঁড়ে নতুন জন্ম
দিতে পারে উর্বর শস্যদানা।

আমার মন পড়ে রয় কীর্তনখোলার বুকে
জলের গন্ধ কড়া নাড়ায়
স্বপ্নস্মৃতির অপরূপ ক্যানভাসে
ধানের গন্ধ জালের স্বপ্ন, অসীম পিপাসা
উঠে আসছে কীর্তনখোলার অপরূপ ক্যানভাসে।

মামুন রশীদ

31-15জন্ম : ১৫ অক্টোবর ১৯৫৭
গ্রাম ও ডাক: মোল্লারগাঁও
দক্ষিণ সুরমা, সিলেট- ৩১০০
পেশা : অধ্যাপনা
বিভাগীয় প্রধান (বাংলা বিভাগ)
দক্ষিণ সুরমা ডিগ্রি কলেজ
সিলেট- ৩১০০।
প্রকাশিত গ্রন্থ
এই দেশ সেই দেশ (ছড়া-১৯৭৫)
বাঁশি (গান ১৯৮৪)
সবার উপরে তিনিই সত্য (কথা সাহিত্য, ১৯৮৯)
না হয় সগন অরণ্যে যাবো (কবিতা- ১৯৯৮)
ছড়ার নাম যুদ্ধ (ছড়া- ২০১৩)

প্রকাশিতব্য গ্রন্থ
একদিন সারাদিন (কথা সাহিত্য)
স্মৃতির পাখিরা (কথা সাহিত্য)
মধু-গাছ ও অন্যান্য (গল্প)
আমিতো গল্প বলছি না (প্রবন্ধ)

প্রেম

প্রেম কি হয় ফুলের সমান?
মিথ্যে তোমার বুলি,
প্রেম যে এক বিশাল কামান
খাচ্ছি কেবল গুলি!

তোমার কথা স্বপ্ন আনে
জীবনকে দেয় অন্য মানে
এই ছিলতো শর্ত,

প্রেমের ভুবন এখন ফাঁকা
প্রেমের জন্য চাই যে টাকা,
ইঁদুর হয়ে খুঁড়ছি তাই
বিত্ত পাবার গর্ত।

নাম ও গ্রাম
(উৎসর্গ : অধ্যাপক শাহানা বেগম)

সারার বাড়ি ভার্থখলায়
খোজারখলায় জারা
মোগলাবাজার মুন্নীর বাসা
ধুবলাবাজারে তারা।

তানহা থাকে আরফিননগর
জালালপুরে মীনা
কলারতলে এলে গেলে
দেখবে সেথায় দীনা।

ফাহমি থাকে আরশিনগর
রায়নগরে হেনা
নাম বললে গ্রাম বললে
তবেই যাবে চেনা।

নির্মলেন্দু গুণ

কথাগুলো খুব বেশী মানবিক
বৃন্দাবনে ছড়িয়ে আছে কৃষ্ণের লীলা!
রাধিকা দেখেনি যুদ্ধ আনবিক
বারহাট্টায় ঈশ্বর কার জন্ম দিলা!

মুসা ইব্রাহিম নব প্রজন্মের কাছে খুবই প্রীত
তাই বলে রাধা-কৃষ্ণ উপাখ্যান নয় মৃত
যতোই গগণচুম্বী হোক পারমানবিক মই
আঠারোশ গোপিনী আজও করে পইপই!

দিন বদলের পালা শেষে দেখি
বারহাট্টায় আছে এক তাজা রসুন
সে আমাদের অতি খ্যাতিমান
আপাদমস্তক কবি, নির্মলেন্দু গুণ।

যদি
(উৎসর্গ : আবদুল হামিদ মানিক শ্রদ্ধাভাজন)

যদি আমার হাতের তালু
আকাশ হতো!
বুকের মাঝে রইতো যদি
বিপুল ধরা!
খুঁজতে আমায় হতো না কো
মানব জীবন!
সাত সাগরের ভাবোচ্ছাসে
জীবন ক্ষরা!

ছড়ার নাম যুদ্ধ

যুদ্ধ করে স্বাধীন হলাম
যুদ্ধতো নয় খেলা
যুদ্ধ পরে জীবন যুদ্ধে
যুদ্ধ দেখি ম্যালা!

যুদ্ধ আমার খাওয়া-পরার
যুদ্ধ প্রাণে বাঁচা,
যুদ্ধ আমার বসত ভিটায়
তুলতে ঘরের মাচা।

যুদ্ধ করে তাড়িয়ে ছিলাম
যুদ্ধবাজ এক দেশ
যুদ্ধ এখন আমার দেশে
ঝুলতে দেখি বেশ!

মো. খালেদ মিয়া

31-13জন্ম : ১৩ মে ১৯৬৫ বৃহস্পতিবার
পিতা : ছিদ্দেক আলী
মাতা : আফতেরা বিবি
গ্রাম : নয়াগাঁও
ডাক : সিঙেরকাছ
উপজেলা : বিশ্বনাথ
জেলা : সিলেট
প্রকাশিত গ্রন্থ
প্রেমগীতি (১৯৯১)
জাগ্রতদৃষ্টি (১৯৯৬)
সামনে ভরা নদী (২০০০)
উড়ালপাখি (২০০২)
ফুলের হাসি (২০০৩)
ফকির দূর্বিন শাহ (২০০৩)
শান্তির মিছিল (২০০৪)
সময়ের গান (২০০৪)
সিলেটের আঞ্চলিক গান (২০০৫)
ভবসাগরের নাইয়া (২০০৬)
দৌলত (২০০৯)
টাঙ্গুয়া : এপার থেকে সেপার (২০১১)
বিশ্বনাথের একশ বিশজন (২০১২)
গানের আসর (২০১২)
বাদানুবাদ (২০১৩)
একজন মরমি সাধক পীর
মো. শাহ ইসকন্দর মিয়া (২০১৪)

31-14

প্রসঙ্গ ধূমপান
ক)
ধূমপান
ছেড়ে দিলে ক্ষতি কী?
ধূমপানে
লাভ হয় অতি কী?
ধূমপান
বিষপান জানো তো
জেনে শুনে
রীতিমতো টানো তো।
ছারখার
করে দাও চিত্ত্ব
ধূমপান
করে যাও নিত্য।

খ)
বড়ো চাচা এম এ পাশ
ধূমপায়ী সেরা
বিরুদ্ধে বললেই
শুরু করেন জেরা।
চাচি এখন নিশ্চুপ
অতিশয় চালাক
একবার মুখ খোলে
শুনেছিলেন তালাক।
সেই থেকে মুখ বন্ধ
কোনো রকম চলছেন
চাচার সাথে চাচীও
নিয়মিত জ্বলছেন।

সুরমা সিলেট

সকল সুরের মাতা যে
প্রেমের ছন্দে গাঁথা যে
সুরমা নদী নামÑ
বহুনদীর সেরা নদী
বহমান নিরবধি
সব লোকে দেয় দাম।

শাহজালাল’র পরশ পেয়ে
যে নদীটা ধন্য হলো
নদীমাতৃক বাংলাদেশে
ভাগ্যবান আর কোনটি বলো?

আধ্যাত্মিক রাজধানী
সিলেট জেলা আমরা জানি
সুরমা নদীর তীরে আছেÑ
চাঞ্চল্যকর জোয়ার ভাটায়
প্রেমের বার্তা নিত্য পাঠায়
নদীপ্রেমিক সবার কাছে।

সারি সিলেট

সারি-
তোর সাথে মোর আড়ি
তুই না এলে আর কোনোদিন
যাবোনা তোর বাড়ি।

জলের ঘাটে কলসি কাকে
দাঁড়ায় সারি সারি
পল্লীবালার পল্লীমেলা
দেখতে সুন্দর ভারী।

সারি-
মাকুন্দার ঢেউ দেখার দাওয়াত
এসো তাড়াতাড়ি।

বাসিয়া সিলেট

বিলঝিলের এই বাংলাদেশে
অশেষ নদীনালা
বাসিয়াও তাদের একজন
সম্পর্কে মোর খালা।

প্রেমনদীর নাম বাসিয়া
একই নানীর মেয়ে
ধন্য দুই তীরের মানুষ
ভালোবাসা পেয়ে।

বাঙালি
চেতনার ঢল নামে মননে
বৈশাখে বাঙালি চেনা যায়।
চিরায়ত পরিচয় আমরা বাঙালি
আমাদের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে।
বাঙালির বুকভরা আশা
আর চোখভরা স্বপ্ন
পল্লিগীতি ভাটিয়ালি মুর্শিদি
বাঙালি কণ্ঠে প্রতিক্ষণ।
আচারে প্রচারে বাঙালি
চলনে বলনে বাঙালি
চেতনায় চৈতন্যে বাঙালি
চিরকাল চিরদিন বাঙালি।

কয়েকটি অনির্বাচিত কবিতা ॥ ফকির ইলিয়াস

27-7-3পাঠক সংখ্যা এক

 

যে কবিতাটি আমি একটি জাতীয় দৈনিকে

পাঠিয়েছিলাম, তা আর কেউ পড়েনি।শুধু

পড়েছিলেন ঐ দৈনিকের সাহিত্য সম্পাদক।

তারপরে ছুঁড়ে দিয়েছিলেন ডাস্টবিনে।সেই

থেকে আমার ঐ কবিতাটির পাঠক সংখ্যা

একজনই ।

 

তিনি ফেলে দিয়েছিলেন ,কারণ তার ভালো

লাগেনি কবিতাখানি।

 

এই ভবের বাজারে ,অনেকের অনেক কিছুই

ভালো লাগে না।

কারো ভালো লাগে না যোগাত্মক যন্ত্রনা।

আবার, কারো ভালো লেগে যায় বিয়োগাত্মক বন্দনা ।

 

তা নিয়ে আমার কোনো অনুযোগ নেই

প্রকাশিত কথা হচ্ছে এই ……

যারা কবিতা বুঝতে জানে তারা প্রজাপতির পাশে দাঁড়াবেই ।

 

।।।।।।।।

ছিটমহল

 

ছড়িয়ে আছে পাথরদানা।জানা- অজানার বনভূমি ছুঁয়ে শিশুরা খেলে

যাচ্ছে সাপ-লুডু খেলা। বেলা দাঁড়িয়ে দেখছে জীবনের গমনদৃশ্যরূপ।

চুপ করে থাকি। আঁকি আমিও সম্প্রসারিত ভুলের কোলাজ। আওয়াজ

দেবার কথা ছিল যাদের, তারাও ছিটমহলের বাসিন্দা এখন। দ্রবণ

শেষ হলে প্রেমও কি তবে ছিটকে পড়ে পরাকাশের ,প্রান্তে অবশেষে!

ভালোবেসে মাটির মরম, দেখে যেয়ো … জমাট পাথর বাঁধা বুকের প্রদেশে।

 

।।।।।।।।

ঘাসগল্প

 

কিছুটা গৌরবগরজ নিয়ে আছি। কিছুটা রক্তাক্ত রাতের শরীরে মিশিয়ে শরীর।

এভাবে থেকে যেতে হয় । বিনয়ের কবিতা পড়ে শিখেছি বিনয়।

আর শক্তির কাছ থেকে ধার নিয়ে শক্তি, খুঁজেছি নির্জনতার ছায়া।

 

শনাক্ত করতে পারলে বুঝা যায় জলভাষা। দৃষ্টির দিগন্ত ছুঁলে ধরা যায়

বৃষ্টিবর্ণ । প্রতিবেশী প্রেমিকাকে ঘাসগল্প শুনিয়ে ঘুরা যায় নক্ষত্রনগর ।

 

কিছুটা মৌনতা নিয়ে আছি। গৌণ ভুলগুলোর চূড়ায় গোলাপ পাপড়ি

সাজিয়ে বার বার হয়েছি বশ্য। পারলে দিয়ে যেতাম এর অধিক কিছু।

এই শৌর্যের সন্ধ্যাতারার মেলায়, ভার্চুয়াল জোসানারা যেমন ভাসে দ্যোতনায়।

 

।।।।।।।।

এ্যাটাচম্যান্ট

 

মেঘের আলোয় লুকিয়ে রাখি মেঘালয়। অনাদি ঈশ্বর এসে ঢেকে দেবেন

আমাদের কামঘুম , সে প্রত্যয় নিয়ে গোণি প্রহর । বুঝে , না বুঝে আমরা

যারা খেলি প্লাস-মাইনাস খেলা ,তাদের সমবেত তাঁবুতে ছিটাই কুয়াশামন।

 

সংগ্রহ শেষ হলে পাঠিয়ে দেবো তোমার ঠিকানায়। লগো দেখে তুমি তা

যুক্ত করে নিতে পারবে তোমার ডেস্কটপে।তারপর ম্যাচমেকিং করে দূর

আকাশের রঙের সাথে মিলিয়ে নিতে পারবে গৃহীত উত্তরের রঙ। চাইলে

ডিলিট ও করতে পারবে । তবে বলি ,তার আগে শিখে নিও ‘সেভ ইয়র

সোল’। এ্যাটাচম্যান্ট করে পাঠিয়ে দিও অন্য কারো কাছে।যে জন যতনে

শিলং শহরে ……..

একজন অনিমিতা দেবরায়ের খোঁজে দিবানিশী ঘুরে ।

 

।।।।।।।।

মাস্তুল

 

এই বাঁকে কী এর আগে দাঁড়িয়েছিল কেউ। মাস্তুল কাঁধে ফেরারী মাঝির

মন নিয়ে দেখেছিল ভাঙনের সপ্তদৃশ্য ! এবং ওপারের মানুষের বিরহে

ঢেকেছিল দু’চোখ !

 

এমন প্রশ্ন নিয়ে জল খেলে ঘূর্ণি ঘূর্ণি খেলা

বেলা বয় ধীরে-

যমুনার দুই পাড়ে স্মৃতিমেদ বসিয়েছে মেলা

Developed by: