বিভাগ: লেখালেখি

আনোয়ার হোসেন মিছবাহ্ ।। গান

অমন করে লুকিয়ে তুমি মনটা নিলে কাছে

মেঘলা দিনে একলা বেলা তোমায় পেয়ে নাচে।।

 

এখন আমি পুড়তে পারি উড়তে পারি মনে

আকাশ রবি সাগর নদী গভীর বনে বনে

তোমার বুকে বসত গড়ি যে যা ই বলে পাছে।

অমন করে লুকিয়ে তুমি মনটা নিলে কাছে

মেঘলা দিনে একলা বেলা তোমায় পেয়ে নাচে।।

 

মনের জ্বালা পরম জ্বালা আগলে রেখে তুমি

বুকের জমি নিলাম দিতে কলজেখানা চুমি

তোমায় যেন জনম ভরে পাই গো বাঁকে বাঁকে

মৌমাছি রোজ যেমন করে রাণী কে তার রাখে

তেমনি করে তোমায় নিয়ে প্রাণটা যেন বাঁচে।

অমন করে লুকিয়ে তুমি মনটা নিলে কাছে

মেঘলা দিনে একলা বেলা তোমায় পেয়ে নাচে।।

আসমা মতিন ।। প্রজাপতির স্বপ্ন

চল আমরা জানালায় একটু আকাশ দেখি
অহংকার স্ত‚পে স্তূপে জমাট বেঁধেছে
অভিমানি ঠোঁটের থরথরানি বেড়েছে
বহুগুণ সরলরেখা ওগো,
তোমাকে চিনতে করিনি ভুল
হাতের মুটোয় কত না স্বস্তি জমা একবারই
হাতে হাত রেখেছি।
ভ্রুলেখায় নাসিকা ডুবায়ে আত্তরের
গন্ধ নেয়া মনে আছে খুব
এসো স্বপ্ন দেখি, তোমার স্বপ্নের হাসিটা দেখি,
রাতকে আপন করে কোয়াশার তুষার ভেঙে
প্রজাপতি হব আমরা বসব গিয়ে
জোনাকি শাখায়
ঐ গলিপথ সবখানে তোমাকে খুঁজেছি
আর দেখি না কোথাও
শুধু তুমি সখী
এই পথে এসেছিলে একবার!

মোহাম্মদ জুনায়েদ খোরাসানী ।। নন্দ বাবুর মন্দ ছড়া

নন্দ বাবু ছড়া লিখেন

লিখেন কিছু ছন্দ,

ছন্দ বাবু ছন্দ বোঝেন

লেখা দেখেন মন্দ।

নন্দ বাবু ঘাটাঘাটি

লিখলেন একটি ছড়া,

ছড়া নাকি কচু তাই

কুমড়ো ফুলের বড়া।

ছন্দ বাবুর পাতায় নাকি

ছাপতে তাই মানা,

নন্দ বাবুর মন্দ লেখা

নন্দর হলো জানা।

নন্দ বাবু পণ করেছেন

লিখে যাবেন ছড়া,

ছড়া টরা হউক না হউক

ডাল পিয়াজু বড়া।

নন্দ বাবু ছাপবেন ছড়া

ছন্দ মনের পাতায়,

ভাবের দেখা মনের আয়না

লিখবে নন্দ খাতায়।

মো. সাদিকুর রহমান রুমেন ।। নিন্দুকের পরিণতি

নিন্দা হলো প্রশংসার বিপরীত কর্ম
নিন্দাবাদ জিন্দা রাখা নিন্দুকের ধর্ম
নিন্দায় ভালোও কালো হয়ে যায়
নিন্দায় আলোতেও আঁধার দেখায়।
পরের নিন্দামন্দ যে করে প্রচার
জগতে সে সবচে বড়ো দুরাচার
অপরের নিন্দা চর্চা ভারী বদভ্যাস
নিন্দাচারী অসৎ আর চাক্ষুষ বদমাশ।
পরের নিন্দায় যে সদা পঞ্চমুখ
নিজের নিন্দা শুনতে সেও তো বিমুখ?
নিন্দায় অপরের যা করে ক্ষয়ক্ষতি
নিন্দুকের ভাগ্যে জুটে সমুচিত দুর্গতি।

এম মোসাইদ খান ।। জিহ্বা

প্রায় প্রতিদিন কাটাচেরা হচ্ছে চোরাজিহ্বায়
টেবিল থেকে টেবিলে আর সুনশান রাতের গুহায়।
সুযোগ সুবিধায় ধার দেয়া জিহ্বা চালিয়ে
দেওয়া হচ্ছে কথার ফাঁকে,
ফুরফুরে মেজাজে কাগজের চোখ
ফাঁকি দিয়ে এফোঁড় ওফোঁড়
করে দেওয়া হচ্ছে সরস বুক।
ভাগাভাগি করে লিকলিকে গরম জিহ্বা
চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে নরম পাছায়
চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে
এর পিছে
ওর পিছে
খুনি জিহ্বায় আয়োজন করে
কাটা হচ্ছে রোদের জমিন।
চেতন-অচেতনে বাড়িয়ে
দেওয়া হচ্ছে ডানে-বামে,
উপরে-নিচে
হাটে-মাটে
বাসা-বাড়িতে
ঘাতক জিহ্বা পকেটে শতশত লোক।

আবদুল মুমিন মামুন ।। আঙ্গুল

সেদিন ঘুমন্ত চোখে নির্জনতায়
মুঠোফোনের নির্জিব নোটিফিকেশনে
চোখমেলেই দেখি নতুনের আহবান-
আলোতে ভরে ওঠে চোখ;
সে যেন এক স্বপ্নছোঁয়া-
স্পর্শে বিভূর কান্ত দু’চোখ।

মনের জানালা খোলেছে দেখে বাহিরে তাকাই
সাধের নীলাকাশ সেদিন জেনো মেলেছে ডানা-
কত বসন্তে ফুটেনি ফুল
কলমিলতায় জড়িয়ে থাকা শিরিষের ডাল
আমাকে অপ্লুত করে-
নীলের ক্যানভাসে চোখ-
ধাঁধানো তার সবুজ আঙিনা।

এভাবেই চলছি পথে-রাগ-
অভিমানের দোলাচলে
সান্ত¦নার অভয়বাণী যদি বা কখনো
মুঠোফোনে আসে ভেসে-
আমিও তখন ওই আকাশের নীল দিগন্তে
আগন্তুকের কোমল আঙ্গুল সন্ধানে
হাসিমুখেই হারিয়ে যাব একান্তে।

রানাকুমার সিংহ ।। বরষার ফুল

বরষার ফুল
তোর এলো চুল
বারবার অধমের
হৃদয়ে আকুল!

ভাবি যদি ভুল
তুই তুলতুল
আবেগের হিসাবেই
টেনে দিবি মূল।

বরষার ফুল
তোর কানে দুল
নেচে যায় বাতাসেই
কূল বা অকূল!

বরষার ফুল
অভিজাত কুল
ভালোবেসে যায় শুধু
প্রেমিক বাবুল।

জান্নাত আরা খান পান্না ।। মুক্তি কবজ

প্রথমে সে একাই ছিল,
একে একে আরও কজন গেল
কিনে নিলো মুক্তি কবজ,
কষ্ট করতে হলো না তাদের,
উপরতলার লোক হয়ে
যাওয়া তো খুবই সহজ।
তখনও তারা মাত্র কজন
তখনও তারা নিন্দনীয়,অস্পৃশ্য
আমাদের বিচারের কাঠগড়ায়
অপরাধী তারা, মানুষ ঠকায়।
ক্রমে বড় হতে থাকল তাদের দল
ভারী হলো পাল্লা তাদের,
সততার বাণীর আবেদন হলো নিস্ফল।
একে একে সকলেই কিনে নিলো
মুক্তি কবজ।
এভাবে উপরে উঠাতো খুবই সহজ।
যারা ছিল বাকি, তারা বলে
আমরাই বা কেন থাকি?
সবাই গেল চলে।
আমিই রইলাম পড়ে
দিন বদলের আশা করে।
সবাই দিল ফাঁকি,
আমিই রইলাম বাকি।
রইলাম আমি একা, ওরা
হাসে আমায় নিয়ে বলে
ওরে বোকা।

মো. মুর্শেদ আলম ।। পড়া লেখার ছড়া

পড়িতে চাই, পড়াতে চাই-
ইহার চেয়ে সুখ কোথাও নাই।
পড়িতে পড়াইতে মরিলেও সুখ
ইহার তুলনা কোথাও নাই।

জ্ঞান হলো দীপ্ত আলো
শিক্ষায় তা জাগিয়ে তোল।
দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত
পড়ালেখা করো না ক্ষান্ত।

আজ যারা চোর লুটতরাজ
নিশ্চয় ছিল চরম ফাঁকিবাজ।
বালিশ কাÐ ঘটিয়ে তারা
জাতির করেছে সর্বনাশ।

পড় পড় ভালো করে-
আত্মশুদ্ধি চিরতরে,
মানবতার বিকাশ করে
ধন্য করো আপনারে।

মো. খালেদ মিয়া ।। বঙ্গবন্ধু

বাংলাদেশে জন্ম তাই আমিও গর্বিতবোধ করি
সুজলা-সুফলা এই সবুজ-শ্যামল পুণ্যভ‚মি
নদী-নালা, খাল-বিল আঁকাবাঁকা মেঠোপথ ধরি
বাঙালির আশীর্বাদ বঙ্গবন্ধু এসেছিলে তুমি।
তুমি এসেছিলে বলে আমরা স্বাধীন জাতি আজ
মুক্তির মিছিলে যাও জীবনের ঝুঁকি হাতে নিয়ে
স্বাধীনতা প্রিয় শব্দ স্বজাতির হাতে তুলে দিয়ে
অগণিত বাঙালির প্রাণের স্পন্দন বঙ্গরাজ।
বঙ্গবন্ধু শব্দ থেকে অবশেষে জাতির জনক
তোমাকে স্বজনভাবে মেঘনা পদ্মার নীল ঢেউ
আকাশের তারা সাক্ষী সমকক্ষ নয় অন্য কেউ
তুমি ছাড়া কে নড়ায় সেই ইয়াহিয়ার টনক।
পরিশেষে নতশিরে হানাদার প্রাণ ভিক্ষা চায়
জনকের দুঃসাহসে সন্তানেরা স্বাধীনতা পায়।

Developed by: