বিভাগ: খেলাধুলা

পাকিস্তানের অধিবাসীরা এশিয়া কাপ দেখার সুযোগ নাও পেতে পারেন

বাসিয়া ডেক্স : বেশ নাটকীয়ভাবে চূড়ান্ত হয়েছে এশিয়া কাপের সূচি। তবে এখনো জটিলতা শেষ হয়নি এই টুর্নামেন্ট নিয়ে । খেলা সম্প্রচার নিয়ে এবার নিজ দেশেই পাকিস্তানের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।  সমস্যা না মিটলে পাকিস্তানের দর্শকরা হয়তো নিজ দেশে থেকে এশিয়া কাপ উপভোগ করতে পারবেন না।

মূলত পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ওপর চাপ তৈরি করেছে সনি স্পোর্টস নেটওয়ার্ক। এশিয়া কাপ সম্প্রচার করবে চ্যানেলটি। ২০৩১ সাল পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতার সম্প্রচারের জন্য এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলকে ১৪৮০ কোটি টাকা দিতে হবে তাদের। পাকিস্তানে এশিয়া কাপ সম্প্রচারের জন্য তারা এই চুক্তির ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ৩৭০ কোটি টাকা দাবি করেছে। তাতেই সমস্যা বেড়েছে।

এত দিন পাকিস্তানে এশিয়া কাপ সম্প্রচারের জন্য মোট চুক্তির ১০ শতাংশ দেওয়া হতো। সেটা এক ধাক্কায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন, এই টাকার চাপ পাকিস্তানের পক্ষে সামলানো মুশকিল। পিসিবির একটি সূত্র বলেছেন, এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সব সম্প্রচারকারী চ্যানেলকে এক জায়গায় আসতে হবে। অর্থাৎ, পাকিস্তানের সব চ্যানেল মিলে একসঙ্গে একটাই চ্যানেলে এশিয়া কাপ সম্প্রচার করতে হবে। না হলে প্রতিযোগিতার সম্প্রচারের দৌড় থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আর এমনটা হলে পাকিস্তানে এশিয়া কাপ সম্প্রচার করা যাবে না। সম্প্রচারকারীদের এই দাবি ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ক্রিকেটীয় সম্পর্ক আরও খারাপ করতে পারে। সূত্রটি বলেছে, ভারতীয় সম্প্রচারকারী সংস্থা জুয়া খেলছে। এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। যদি তেমনটা হয় তা হলে দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক আরও খারাপ হবে।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড আইসিসির কাছে বড় প্রতিযোগিতায় ভারত-পাকিস্তানকে এক গ্রুপে না ফেলতে আবেদন করেছিল। তবুও এশিয়া কাপে তাদের এক গ্রুপে রাখা হয়েছে। সূচি অনুযায়ী আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সেই ম্যাচ হওয়ার কথা।

১১ ছক্কা ১১ চারে ইংলিশ ব্যাটারের বিশ্ব রেকর্ড

বাসিয়া ডেক্স : ভাইটালিটি ব্লাস্টে রোমাঞ্চকর এক ম্যাচে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন ইংল্যান্ডের উইকেটরক্ষক ব্যাটার জর্ডান কক্স। ১১ ছক্কা ও ১১ চারে সাজানো ৬০ বলে অপরাজিত ১৩৯ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে নিজের নাম লেখালেন ইতিহাসে।

হ্যাম্পশায়ারের দেওয়া ২২১ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি এসেক্সের। মাত্র ৩৯ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দলটি। তবে তিন নম্বরে নামা কক্স একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন। তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সামনে হ্যাম্পশায়ারের বোলাররা ছিল পুরোপুরি ব্যতিব্যস্ত।

শেষ পর্যন্ত ৬০ বলে ১৩৯ রানে অপরাজিত থেকে ৪ উইকেট ও ৪ বল হাতে রেখে এসেক্সকে এনে দেন দারুণ এক জয়। কক্সের এই ইনিংসটি ইংল্যান্ডের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কোনো উইকেটরক্ষক ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। আগের রেকর্ডটি ছিল ফিল সল্টের ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১১৯ রান করেছিলেন তিনি।

তবে আন্তর্জাতিক ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট মিলিয়ে উইকেটরক্ষক ব্যাটারদের মধ্যে এখনও সবচেয়ে বড় ইনিংসটির মালিক নিউজিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। ২০০৮ আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে ৭৩ বলে অপরাজিত ১৫৮ রান করেছিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় কক্সের। এখন পর্যন্ত তিনি খেলেছেন ৩টি ওয়ানডে ও ২টি টি-টোয়েন্টি। টেস্ট দলে ডাক পেলেও চোটের কারণে অভিষেক হয়নি তার। তবে ভাইটালিটি ব্লাস্টে এই অনবদ্য পারফরম্যান্স নতুন করে তাকে জাতীয় দলের আলোচনায় নিয়ে আসতে পারে।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সূচি : কম ম্যাচ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ২০২৫-২৭ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (ডব্লিউটিসি) চক্রের পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করেছে। দুই বছরব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে ৯টি দল, মোট ৭১টি টেস্ট ম্যাচ ছড়িয়ে থাকবে বিশ্বজুড়ে। গলে শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ ম্যাচ দিয়ে ১৭ জুন শুরু হবে নতুন মৌসুম।

এই চক্রে অস্ট্রেলিয়া খেলবে সর্বোচ্চ ২২টি টেস্ট, এরপর রয়েছে ইংল্যান্ড (২১ ম্যাচ)।

দুই ক্রিকেট পরাশক্তির মধ্যে ২০২৫ সালের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহাসিক অ্যাশেজ সিরিজ। ১৮টি টেস্ট খেলবে ভারত। ২০ জুন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের প্রথম ম্যাচ দিয়েই শুরু হচ্ছে এই অধ্যায়।অন্যদিকে সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা—দুদলই খেলবে ১২টি করে টেস্ট।
বাংলাদেশের হোম সিরিজের প্রতিপক্ষ হলো পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড (প্রতিটি দলের বিপক্ষে ২টি করে ম্যাচ)। বিদেশের মাটিতে টাইগাররা খেলবে শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে (প্রতিটি দলের বিপক্ষে ২টি করে ম্যাচ)।নতুন চক্রে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা খেলতে নামবে টানা ৯টি টেস্টে অপরাজিত থাকার আত্মবিশ্বাস নিয়ে। টেম্বা বাভুমার নেতৃত্বাধীন দলটি অক্টোবর ২০২৫-এ পাকিস্তান সফরের মধ্য দিয়ে তাদের অভিযান শুরু করবে।
তবে ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকানদের দেখা যাবে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।ডব্লিউটিসি ২০২৫-২৭ : দলের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ সূচি 

দল মোট ম্যাচ      ঘরের মাঠে সিরিজ বিদেশে সিরিজ
অস্ট্রেলিয়া ২২ ইংল্যান্ড (৫), নিউজিল্যান্ড (৪), বাংলাদেশ (২) ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৩), দক্ষিণ আফ্রিকা (৩), ভারত (৫)
বাংলাদেশ ১২ পাকিস্তান (২), ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২), ইংল্যান্ড (২) শ্রীলঙ্কা (২), দক্ষিণ আফ্রিকা (২), অস্ট্রেলিয়া (২)
ইংল্যান্ড ২১ ভারত (৫), নিউজিল্যান্ড (৩), পাকিস্তান (৩) অস্ট্রেলিয়া (৫), দক্ষিণ আফ্রিকা (৩), বাংলাদেশ (২)
ভারত ১৮ ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২), দক্ষিণ আফ্রিকা (২), অস্ট্রেলিয়া (৫) ইংল্যান্ড (৫), শ্রীলঙ্কা (২), নিউজিল্যান্ড (২)
নিউজিল্যান্ড ১৬ ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৩), ভারত (২), শ্রীলঙ্কা (২) ইংল্যান্ড (৩), অস্ট্রেলিয়া (৪), পাকিস্তান (২)
পাকিস্তান ১৩ দক্ষিণ আফ্রিকা (২), শ্রীলঙ্কা (২), নিউজিল্যান্ড (২) বাংলাদেশ (২), ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২), ইংল্যান্ড (৩)
দক্ষিণ আফ্রিকা ১৪ অস্ট্রেলিয়া (৩), বাংলাদেশ (২), ইংল্যান্ড (৩) পাকিস্তান (২), ভারত (২), শ্রীলঙ্কা (২)
শ্রীলঙ্কা ১২ বাংলাদেশ (২), ভারত (২), দক্ষিণ আফ্রিকা (২) ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২), পাকিস্তান (২), নিউজিল্যান্ড (২)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৪ অস্ট্রেলিয়া (৩), শ্রীলঙ্কা (২), পাকিস্তান (২) ভারত (২), নিউজিল্যান্ড (৩), বাংলাদেশ (২)

টস হেরে ব্যাটিংয়ে অস্ট্রেলিয়া

বিশ্বকাপে নিজেদের সপ্তম ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামছে অস্ট্রেলিয়া। শনিবার (৪ নভেম্বর) আহমেদাবাদ নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে টস জিতে অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছেন ইংলিশ অধিনায়ক জস বাটলার।

হার দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। তবে এরপর শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টানা চার ম্যাচ জিতে ছন্দে ফিরেছে অজিরা। জয়ের ধারা ধরে রাখার মিশনে মাঠে নামবে অস্ট্রেলিয়া। দুই পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামছে অজিরা। একাদশে জায়গা পেয়েছেন ক্যামেরুন গ্রিণ ও মার্কাস স্টোনিয়াস।

অপরদিকে, বিশ্বকাপে একেবারে ছন্দহীন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। ৫ ম্যাচ খেলে মাত্র একটি ম্যাচে জয় পেয়েছে তারা। এই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টায় মাঠে নামবে ইংলিশরা। অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নামছে ইংল্যান্ড।

অস্ট্রেলিয়া একাদশ: ডেভিড ওয়ার্নার, ট্রাভিস হেড, স্টিভেন স্মিথ, মার্নাস লেবুশানে, জশ ইঙ্গলিস, ক্যামেরুন গ্রিণ, মার্কাস স্টোনিয়াস, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক, জস হ্যাজেলউড, অ্যাডাম জ্যাম্পা।

ইংল্যান্ড একাদশ: ডেভিড মালান, জনি বেয়ারস্টো, জো রুট, লিয়াম লিভিংস্টোন, জস বাটলার (অধিনায়ক), বেন স্টোকস, মইন আলি, ক্রিস ওকস, ডেভিড উইলি, মার্ক উড ও আদিল রশিদ।

অনেক কিছুই বলার আছে: মাহমুদউল্লাহ

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের ১৪৯ রানের বড় হার ছাপিয়ে আলোচনায় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সেঞ্চুরি। দল নিয়মিত হারলেও ব্যাট হাতে আলো ছড়াচ্ছেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। সবশেষ ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকানোর পরেই বোমা ফাটিয়েছে এই তারকা। বললেন, অনেক কিছুই বলার আছে তার। কিন্তু পরিস্থিতির বেড়াজালে আটকে সেসব না বলা কথা নিজের মধ্যেই রেখে দিলেন  তিনি

বিশ্বকাপে মাহমুদউল্লাহর খেলা নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা। মাঝখানে দল থেকেও বাদ পড়েছিলেন। অনেক নাটকের পর অবশেষে বিশ্বকাপের দলে সুযোগ পান। আর সুযোগ পেয়েই নিজেকে প্রমাণ করার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তবে মঙ্গলবার শতরান করেই দলের ভিতর ঝামেলার ইঙ্গিত দিলেন তিনি। 

বিশ্বকাপের দলে সুযোগ পেলেও প্রথম ম্যাচে তিনি ব্যাট করার সুযোগ পাননি। পরের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ছিলেন একাদশের বাইরে। এর পর নিউজিল্যান্ড এবং ভারতের বিপক্ষে করেছিলেন চল্লিশের উপর রান। কিন্তু সেই সব ম্যাচে নিশ্চিত হরের মুখে দল। কাঁধে ছিল ডেথ ওভারে রানের গতি বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ঠিকঠাক সময় এবং সুযোগ পেতেই সেঞ্চুরি হাঁকালেন মাহমুদউল্লাহ। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তার চারটি শতরান, সবকটিই এসেছে আইসিসির টুর্নামেন্টে। একটি ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। এছাড়াও মঙ্গলবার প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি সহ বাকি দু’টি সেঞ্চুরিও বিশ্বকাপে।

অথচ এই মাহমুদুল্লাহ হঠাৎ করেই বাংলাদেশ দলে ব্রাত্য হয়ে পড়েছিলেন গত মার্চ মাসে, ইংল্যান্ড সিরিজের পর। সেই সময় থেকে নিজেকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে শতরান করার পর সংবাদ সম্মেলনে তাই বললেন।

‘আমি ঠিক জানি না, নিজেকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছি।’ এর পরেই তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন বলে কি আশা করেছিলেন? মাহমুদুল্লাহ বলেন, ‘চেষ্টা করেছি ফিটনেস ঠিক রাখতে, কষ্ট করতে, এর বাইরে তো আমার করার কিছু ছিল না।’

বিশ্বকাপের দলে সুযোগ পেলেও ব্যাটিং অর্ডারের নীচের দিকে ছয় ব্যাট করা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মাহমুদউল্লাহ ক্ষোভ উগরে দিতে গিয়েও নিংজে সংযত করে নিয়ে বলেন, ‘আমি এখন এই বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। যদিও আমার অনেক কিছু বলার আছে। কিন্তু এটা হয়তো ওই সব কথা বলার জন্য সঠিক সময় নয়।’

মাহমদউল্লাহকে দল থেকে বাদ দিয়ে নির্বাচকেরা বলেছিলেন, তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশ্রামটা মনে হয় একটু বেশিই হয়ে গিয়েছিল। এটা আমার হাতে নেই। এটা তাঁদের (নির্বাচকদের) সিদ্ধান্ত। আমার কাজটা আমি যদি সততা দিয়ে করতে পারি, এটাই আমার কাজ। আমি এটাই করতে চাই।’

তিনি আপাতত দেশ আর দল নিয়েই ভাবতে চান। বলেন, ‘এই মুহূর্তে এটুকুই বলতে পারি যে, আমি দেশের জন্য খেলতে চাইছি, দলের জন্য অবদান রাখতে চাইছি। যদি দলের জয়ের জন্য কিছু করতে পারি, তাহলে আরও ভালো লাগবে।’

সেঞ্চুরি যাদের উৎসর্গ করলেন মাহমুদউল্লাহ

বিশ্বকাপ শুরুর আগে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে দলে নেয়ে নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হচ্ছিল। সেই রিয়াদই বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়ে বাংলাদেশকে লজ্জার হাত থেকে রক্ষা করছে। গতকাল (২৪ অক্টোবর) দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিডর অর্ডারে ব্যাটিংয়ের সু্যোগ পেয়ে করেছেন সেঞ্চুরি। সেই সেঞ্চুরি করে পরিবার ও সমর্থকদের উৎসর্গ করেছেন রিয়াদ।

সংবাদ সম্মেলনে নিজের সেঞ্চুরির উল্লাস কি প্রতিবাদের ভাষা ছিল- এমন প্রশ্নে এক কথায় বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ’। পরে অবশ্য ড্রেসিংরুমের পথ ধরার সময় বলেন, ‘আমি নিজেকে নিয়ে নয়, ওপরে আল্লাহ আছেন এটাই বুঝিয়েছি।’ সেঞ্চুরিটা কাকে উৎসর্গ করছেন? উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমার পরিবারকে উৎসর্গ করবো। আর বিশেষত শেষ তিন মাসে যারা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন, যারা আমার জন্য দোয়া করেছেন তাদের জন্য।’

এই সেঞ্চুরিটা কি প্রতিবাদের একটা ভাষাও? উত্তরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘কোন প্রতিবাদের ভাষা ছিল না। সেঞ্চুরি হয়েছে। এটা শুধু তার সেলিব্রেশন ছিল। যদি জিততে পারতাম তাহলে বুনো উল্লাস করতাম।’

এরপর সাংবাদিকদের উদ্দেশে রিয়াদ বলেন, ‘যারা আমাকে ওই সময় সাপোর্ট করেছেন, আপনাদের মধ্য থেকে তাদের ধন্যবাদ। আর যারা করেননি তাদেরও ধন্যবাদ।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০১৫—এর কথা যদি বলি, ম্যাচ জিতেছিলাম। অবশ্যই ভালো লাগাটা স্বাভাবিক। আমার নিয়ন্ত্রণে যা আছে সেটি হচ্ছে দলের জন্য চেষ্টা করা, আমি সেটাই করতে পারি।’

টস হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ, ফিরেছেন সাকিব

বিশ্বকাপে নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) মুম্বায়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম টস জিতে বাংলাদেশকে বোলিংয়ে পাঠিয়েছেন প্রোটিয়া অধিনায়ক এইডেন মার্করাম।

 

জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি টাইগাররা। টানা হ্যাটট্রিক হারে অনেকটা পিছিয়ে আছে সাকিবরা। জয়ের ধারায় ফিরতে মুখিয়ে বাংলাদেশ। এই ম্যাচে এক পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ইনজুরি কাটিয়ে একাদশে ফিরেছেন অধিনায়ক সাকিব। বাদ পড়েছেন ব্যাটার তাওহিদ হৃদয়।

অপরদিকে, দারুণ ছন্দে রয়েছে দক্ষিণ অফ্রিকা। বড় জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছিল প্রোটিয়ারা। শুধু নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে হোঁচট খেয়েছিল বাভুমার দল। তবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে ২২৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ফের ছন্দে ফিরেছে প্রোটিয়ারা। এই ম্যাচে এক পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামছে দক্ষিণ আফ্রিকা। লুঙ্গি এনগিডির পরিবর্তে একাদশে জায়গা পেয়েছেন লিজাড উইলিয়ামস।

বাংলাদেশ একাদশ: লিটন দাস, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাসুম আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ মুস্তাফিজুর রহমান।

দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশ: কুইন্টন ডি কক, রেজা হেনরিখস, রাসি ভ্যান ডুসেন, এইডেন মার্করাম (অধিনায়ক), হেনরিখ ক্লাসেন, ডেভিড মিলার, মার্কো জানসেন, গেরাল্ড কোয়েটজে, কেশব মহারাজ, লিজাড উইলিয়ামস, কাগিসো রাবাদা।

ভারতের বিপক্ষে হারল শ্রীলঙ্কা, ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এশিয়া কাপে ৪১ রানে জিতেছে ভারত। তবে এই ম্যাচে যদি শ্রীলঙ্কা জিততো, তবে বাংলাদেশের ফাইনালে যাওয়ার একটা আশা ছিল। সপ্তম উইকেটের জুটিতে ধনাঞ্জয়া ও ভেল্লালাগে কিছুটা আশা জুগিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে আশা গুড়ে বালিতে পরিণত হলো। রবীন্দ্র জাদেজার ব্রেক থ্রুতে ভারতের জয়ে বাংলাদেশের ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্নভঙ্গ হয়ে গেল।

এখন ভারত দুই ম্যাচে জয় পাওয়ায় শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান ম্যাচের জয়ী দল ফাইনালে চলে যাবে। এমনকি ম্যাচটি ভেসে গেলেও বাংলাদেশের আর কোনো আশা নেই।

এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিন্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা। তবে বিরাট কোহলি-গিলদের ব্যর্থতায় ৪৯ ওভার ১ বলে ২১৩ রানে গুটিয়ে যায় ভারতের ইনিংস। দলের পক্ষে অধিনায়ক রোহিত সর্বোচ্চ ৫৩ রান করেন। এছাড়া, রাহুল ৩৯ ও ঈশান কিশান ৩৩ রান করেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে বামহাতি স্পিনার দুনিথ ওয়েল্লালাগে ৫ উইকেট নেন।

কম রানের জবাবে নেমে ১৭২ রানে আটকে যায় শ্রীলঙ্কা। দেশটির পক্ষে সর্বোচ্চ ৪২ রান করেন ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ চুরমার করে দেওয়া বামহাতি স্পিনার দুনিথ ওয়েল্লালাগে। তিনি ৪৬ বলে ৪২ রান করেন। এছাড়া ধনাঞ্জয়া ও আশালঙ্কার ব্যাট থেকে আসে যথাক্রমে ৪১ ও ২২ রান। ভারতের পক্ষে ৪৩ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন বামহাতি স্পিনার কুলদ্বীপ যাদব।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে বড় জয় বাংলাদেশের

ইসলামবাদ, ০৪ সেপ্টেম্বর – আফগানদের বিপক্ষে বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয়। আফগানিস্তানকে ৮৯ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এশিয়া কাপের শুরুটা হয়েছিল হার দিয়ে। তাতে এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কা জাগে। বাঁচামরার ম্যাচে আজ পাকিস্তানের লাহোরে গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

স্কোরবোর্ড অনুযায়ী আফগানিস্তানের দরকার ছিল ৩৩৫ রান। আর বাংলাদেশের জন্য লক্ষ্য ছিল ২৭৯ রানেই অলআউট করা। ৩৩৪ রানের বড় সংগ্রহের পর সমীকরণ ছিল সহজ।

 

 

এশিয়া কাপের সুপার ফোরে যেতে হলে বাংলাদেশকে জিততে হবে ৫৫ কিংবা তারচেয়ে বেশি রানের ব্যবধানে। হাতের নাগাল থেকে পায় ছুটে যাওয়া ম্যাচে সেই কাজটাই মনে হচ্ছিল অসম্ভব। কিন্তু বাংলাদেশ ম্যাচে ফিরেছে। বড় ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেছে সুপার ফোরের অংশগ্রহণ।

রহমত শাহ ৫৭ বলে ৩৩ রান করে ফিরেছেন। তাসকিন তাকে বোল্ড করেছেন। ইব্রাহিম জাদরান ৭৪ বলে ১০ চার ও এক ছক্কায় ৭৫ রান করে আউট হয়েছেন। হাসানের বলে উইকেটের পেছনে দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়েছেন মুশফিক। এর আগে ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজ ১ রান করে শরিফুলের বলে লেগ বিফোর হয়েছেন।

সবাইকে অবাক করে দিয়ে আজ ওপেনিংয়ে নাঈম শেখের সঙ্গী হয়েছিলেন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। ৬০ রানের সফল ওপেনিং জুটির পর দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিও করেছেন তিনি। এরপর টাইগারদের দ্রুত দুই উইকেট হারানোর পর নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে গড়েছেন ১৯৪ রানের রেকর্ড জুটি, শতক হাঁকিয়েছেন শান্ত নিজেও। দুই টপ অর্ডারের জোড়া শতকে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩৩৪ রানের সংগ্রহ পায় টাইগাররা।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাজেভাবে হারার পর এই ম্যাচে একাদশে তিন বদল আনে বাংলাদেশ। গত ম্যাচে অভিষিক্ত তানজিদ তামিম, অভিজ্ঞ বোলার মোস্তাফিজুর রহমান ও অলরাউন্ডার শেখ মেহেদীর জায়গায় দলে আসেন আফিফ হোসেন, শামীম হোসেন পাটোয়ারী ও হাসান মাহমুদ। তামিমের জায়গায় নতুন কোনো ওপেনার না নিয়ে ওপেনিং জুটিতে ‘এক্সপেরিমেন্ট’ করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সাকিব-হাথুরু। মেহেদী হাসান মিরাজকে নাজমুল হোসেন শান্ত’র সঙ্গে ব্যাট হাতে নামতে দেখে সেটারই সার্থকতা মেলে।

এর আগে মাত্র একবারই ওপেন করতে নেমেছিলেন মিরাজ। ভারতের বিপক্ষে গত এশিয়া কাপের সে ম্যাচে লিটন দাসের সঙ্গে সেঞ্চুরি জুটি গড়েছিলেন মিরাজ। আজ এই অলরাউন্ডার আরও ঝলসে উঠলেন যেন। মুজিব-ফারুকীদের প্রথম থেকে দেখেশুনে খেলা মিরাজ ইনিংস এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে হাত খুলেছেন। শেষমেশ আঙ্গুলের ব্যথায় অবসর নেয়ার আগে সেঞ্চুরি করেছেন, ১১২ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেছেন।

তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে গেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ১০৫ বলে ৯ চার আর দুই ছক্কায় সাজানো শান্ত’র ১০৪ রানের ইনিংসটা শেষ হয়েছে দুর্ভাগ্যজনক এক রানআউটে। কিছুদিন আগেই বাবা হওয়া, ছেলেকে উৎসর্গ করা ইনিংসটা না হয় আরেকটু বড় হতো! এর আগে বাংলাদেশের একই ইনিংসে জোড়া সেঞ্চুরির ঘটনা ঘটেছিল চারবার।

শেষদিকে ১৮ বলে সাকিবের অপরাজিত ৩২, ১৫ বলে মুশফিকের ২৫ আর ৬ বলে শামীমের ১১ রান ৩৩৪ রানে পৌঁছে দেয় বাংলাদেশকে। উইকেটশূন্য থেকেছেন রশিদ খান, মোহাম্মদ নবী ও ফজলহক ফারুকির মতো বোলাররা

হারে শুরু বাংলাদেশের এশিয়া কাপ

হার দিয়ে এশিয়া কাপ শুরু করল বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার মাটিতে স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করে মাত্র ১৬৪ রান করেছিলেন সাকিব আল হাসানরা। সেই রান সহজেই করে জয় তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা।

বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয় ১৬৪ রানে। দলের পক্ষে নাজমুল হাসান শান্ত সর্বোচ্চ ৮৯ রান করেন। মাথিসা পাথিরানা একাই চার উইকেট নেন।

টসে জিতে ব্যাটিং শুরুর পর থেকেই উইকেট হারাচ্ছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভারেই আউট হয়ে যান ওপেনার তানজিদ হাসান। অভিষেক ম্যাচে কোনও রান না করেই আউট হয়ে গেলেন তিনি। অন্য ওপেনার মোহাম্মদ নইম ১৬ রান করেন। অধিনায়ক সাকিব আল হাসান আউট হন পাঁচ রান করে। ৩৬ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় ওভারেই স্পিনার মাহিশ থিকসানাকে নিয়ে এসেছিল শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয় বলেই উইকেট তুলে নেন তিনি। স্পিনার দিয়ে আক্রমণ শুরু করার পরিকল্পনা কাজে লাগে শ্রীলঙ্কার। এতে লঙ্কানরা যেমনি উইকেট পেতে থাকে, তেমনি বাংলাদেশের রানও আটকে যায়।

শান্তর হাত ধরে কিছুটা ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু, অন্য কোনও ব্যাটার তাকে সাহায্য করতে পারেননি। নাইম আগে ব্যাট চালিয়ে পরাস্ত হন। হাসান বলের লাইন বুঝতে পারেননি। সাকিবকে আউট করেন তরুণ পাথিরানা। তোহিদ হৃদয়কে আউট করেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দাসুন শনাকা।

রান করতে পারেননি অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমও। মাত্র ১৩ রান করে আউট হয়ে যান তিনি। পাথিরানার বাউন্সারে আপারকাট মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন মুশফিকুর। মেহেদি হাসান মিরাজ রান আউট হয়ে যান। তার উল্টো দিকে থাকা নন স্ট্রাইকার শান্ত ক্রিজ় ছেড়ে বেরিয়ে যান। পৌঁছেও যান উল্টো দিকের ক্রিজ়ে। কিন্তু, মিরাজ সেই ডাকে সারা দেননি। কিন্তু শান্তকে উল্টো দিকের ক্রিজ়ে পৌঁছে যাওয়ায়, নিজেই ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে রান আউট হন মিরাজ।

১৬২ রানে সাত উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তারপর আর বেশি ক্ষণ টিকতে পারেনি সাকিবের দল। শান্তকে আউট করেন থিকসানা। ৮৯ রান করে বোল্ড হয়ে যান তিনি। পরের ওভারে পাথিরানার বল সামলাতে পারেননি তাসকিন আহমেদ এবং মুস্তাফিজুর রহমান। ফলে, ১৬৪ রানে শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংস।

Developed by: