বিভাগ: লেখালেখি

আসমা মতিন ।।। অভীকপথ

হে সময় আপন মানুষ নিও না দূরে,
মায়াজাল ফেলে যাও এপারে
অন্ধকারকে ছিঁড়ে ফেলে দাও
টুকরো টুকরো করে কালের ওপারে
ছুঁড়ে ফেলে দাও,
হাত-পা ভেঙে যাক অন্ধকারের।
বিষণœতা ঠেলে আলো আসুক
হৃদয় দেখুক হৃদয়কে,
যত ভুল মিশে যাক মাটির সাথে।
চোখ চোখকে দেখুক
সুপ্তপল্লব কত ভালোবাসা করেছে জমা,
বাসনার পসরা সাজানো অভীকপথ
এপথ ধরে আপন হেঁটে যাক
হেঁটে যাক সুখ।

এইচ আই হামিদ ।। বৃষ্টিতে থই থই

বৃষ্টিতে থই থই
মাঠ ঘাট বিল ঝিল
শামুকের সাদা ডিম
মনে হয় সাদা ঢিল।
খাবারের খোঁজে ওড়ে
একদল কইতর
ধান ক্ষেতে ছোটো মাছ
ছুটে চলে দিনভর।
পাতা সব ছাতা করে
বসে আছে পাখি সব
ঘোলা জলে ব্যাঙ দলে
জুড়িয়াছে কলরব।
লুকিয়েছে রবি মামা
তিন দিন হলো আজ
পথ ঘাট কাদাময়
করবে কে তার কাজ?

বাইস কাদির ।। কুয়াশা আঁধার

কুয়াশা আঁধারে ঢেকেছে নীলিমা
মনে বিষণœ ছায়া,
দুঃশ্চিন্তায় অন্ধকার মন
পাবে না মায়ের মায়া।

শূন্যতা আজ ভর করে বুকে
অব্যক্ত আর্তনাদ মোর,
মমতাময়ী জননী আর
আসবে না নিজ ঘর।

দেহান্তরে চলে গেল মা
দুনিয়ার মায়া ছাড়ি,
সোহাগী মায়ের সুন্দর বুলি
শুনব না আর বাড়ি।

হিমাংশু রায় হিমেল ।। বসতবাটি

তুমি যদি রাজহংসী হও
আমি হব গাংচিল
আমার ডানার রক্ত
ঝরে পড়বে পৃথিবীর মানচিত্রে।
ফোটা ফোটা বৃষ্টিতে ফোটা ফোটা বৃষ্টিতে
রক্তবিন্দুগুলো পড়ে
বাংলার সমস্ত শ্যামলিমা করে দিবে লাল
বেদনার কবিতা হবে
ধানক্ষেত মাঠ।
তোমাকে পাবার কোনো আশা নেই
দেখাও হয় না কালে ভদ্রে
তব্ওু কাতর এ হৃদয়
তোমার স্পর্শের বৃষ্টি।
সুখের নদীর উৎস খুঁজতে গিয়ে দেখি
খেয়া পারাপার বন্ধ।
সমুদ্রতটে বসে তখন
বিছাই শীতল পাটি।
তোমার ছবি মনে ভেসে
রৌদ্রছায়ায় হাটি।
তবুও- তোমার ঘাড়ে চিবুক রেখে
সূর্যাস্ত দেখি।
বিকেলের লাল আভায়
আবীর রাঙাই তোমার মুখে।
বুকের কাছে নেই তুমি
তবুও গড়ি তোমার বুকে
শান্তির বসতবাটি।

আবদুল মুকিত মুখতার ।। সূরা আদ-দোহার কাব্যিক অনুবাদ

শপথ সকালের শপথ রাত্রির
গভীর অন্ধকার বিশ্বকুল
আপনার প্রভূ হন নি বিমুখ
আপনি মুহাম্মাদ রাসূল,
মহানবী মুহাম্মাদ রাসূল।
দুই জাহানের মহান আপনি
উজ্জ্বল আপনার পরকাল,
অতি শীঘ্র পাবেন আপনি
মহাপ্রভূর তৃপ্ততাল।
এতিম ছিলেন আপনি তবু
নিরাপত্তা ছিল অনুকূল
আপনি মুহাম্মাদ রাসূল,
মহানবী মুহাম্মাদ রাসূল।
আপনি ছিলেন নিঃস্ব এমন
পথহারা পথিক
দান পেয়েছেন পথের দিশা
সাহসী নির্ভীক।
সদয় আপনি সবার জন্য
রহমতেরই কোল,
আপনি মুহাম্মাদ রাসূল
মহানবী মুহাম্মাদ রাসূল।

অয়ন চৌধুরী ।। রবীন্দ্রনাথ

সারা গালে কাশবন
চুলেচুলে সাদা,
দেখে যেন মনে হয়
সকলেরি দাদা।

কলকাতা শহরের
জোড়াসাঁকো গ্রাম,
জমিদার বাড়ি সে যে
পরিচিত নাম।

ও-বাড়ির ছেলে সে যে…
মহাফাঁকিবাজ,
লিখেলিখে হয়ে গেল
‘কবিগুরু’ আজ।

বড়ো হয়ে করলো কে
বিশ্বে রাইজ?
‘গীতাঞ্জলি’তে পেলো কে
নোবেল প্রাইজ?

ভাবো খোকা নাম তাঁর
গালে দিয়ে হাত;
বলি শুনো নাম তাঁর
রবীন্দ্রনাথ।

শাহীন ইবনে দিলওয়ার ।। না ছুঁয়েও ভালোবাসা হয়

না ছুঁয়েও ভালোবাসা হয়
আত্মার স্পর্শ পেলে
স্পর্শকাতর হয় না প্রেমিক।

স্পর্শ দেবে না সুখ যেখানে
ভিন্ন চাহিদা মূখ্য
আদিকাল থেকে আত্মায় কাতর মানুষ
মৃত্যুহীন আত্মায় চিরায়ত সে
প্রখর সূর্যের তেজে দীপ্তিমান
বিরহে ভ্রষ্ট নয় সেই প্রেমিক।

শরীর দেবে দীর্ঘশ্বাস অতৃপ্তি
একঘেয়েমির বিবমিষা
আত্মাকে মেলালে শারীরিক পূর্ণতা
দেখোনি কত সুদর্শন সুদর্শনা
বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে হতভাগা শরীর নিয়ে?

দোলে না সবুজ পাতা বাতাসের ভালোবাসা ছাড়া
প্রেমিক সমীরণের প্রণয়ে পল্লব ছন্দময়
অন্যথায় মুখ গুমড়ে বসে থাকা গুমোটের পরিপার্শ্ব।

অন্তর না মিলিয়ে কাউকে কাছে ডেকো না।

এম আর মনজু ।। ছড়ার ছড়া

বাবার ক্ষেতে ছড়া ছিল
ধানের
ছড়াগুলো ছিল অনেক
মানের,
বাবা মরার পরে-
ধান আসে না ঘরে,
ধানের জমি বিক্রি করে
ভাইয়া কিনেন হোন্ডা-
সাজেন নতুন গুন্ডা।
মায়ের আঁচল ভরা ছিল
চাবি-
এটা এখন দাবি করেন-
আমার বড়ো ভাবী।
মায়ের হাতে লাগানো পান-
ছড়া
ধরতে গেলে ভাবীর যে হয়
চক্ষু ছানাবড়া।
অবশেষে এখন কি আর
করা?
চাষী হয়ে বেচি কলার
ছড়া।

রেজুয়ান চৌধুরী ।।¯িœগ্ধ স্বর্ণালি সন্ধ্যা

এই ¯িœগ্ধ স্বর্ণালি সন্ধ্যায়
মনে পড়ে প্রিয়তমা হে তোমায়;
তোমারও কি মনে পড়ে এই আমায়
জানতে যে আজ মন শুধু চায়।

একা একা সৈকতে বসে তাই
ভাবনার জোয়ারেতে ভেসে যাই;
লাল-নীল স্বপনে যে বিভোর
মন আমার ছুটে যায় বহুদূর।

মন আজ মানে না যে বারণ
দিক-বিদিক ছুটে ক্ষণে অকারণ;
কি যে করি ভেবে নাহি কিছু পাই
মন বলে তোমাকেই কাছে চাই।

প্রেম-ডোরে বাঁধা এই দুটি মন
অনুভবে মিশে আছে সারাক্ষণ;
কি-যে মধুর ভালোবাসা বাসি
ভেবে বসে একা একা হাসি।

জোছনা-মাখা রাতের ওই আঁধারে
চোখ জুড়ায় খেলা দেখে তারাদের;
ভাবনাগুলো ছুড়ে দেই নীলিমায়
ছবি হয়ে থাক্ ওই সীমানায়।

আফিয়া বেগম শিরি ।। ক্ষমা চাই

চারিদিকে মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে হাহাকার
আর কত দেখব মালিক শক্তি দাও সহিবার
পৃথিবী জুড়ে মহামারির এমন কঠিন রোগে
তোমার বান্দারা পেরেশান হয়ে কাঁদছে যে শোকে
ভেঙে যাচ্ছে মনোবল বাড়ছে শুধু যন্ত্রনা
যে হারিয়েছে সে জানে স্বজন হারানোর যাতনা
গোনাতে ডুবিয়া আছি প্রভু করে দাও মাফ
নীরব থেকে দেখিও না তোমার বান্দার বিলাপ
সৃষ্টির সেরা মখলুকাত নাম দিয়েছ তুমি
বিপদ কালে তরাইয়া নাও ওগো অন্তর্যামী
মানব কুল সৃষ্টি করে পাঠিয়েছ ধরায়
নিদান কালে রহম করো তোমার বন্ধুর উছিলায়
হাত তুলে কাঁদি মোরা নিশি দিবা রাত
ফিরাইয়া দিও না মাবুদ না মোদের দুটি হাত
তুমি যদি ফিরাও মুখ যাওয়ার জায়গা নাই
উদ্ধারিয়া নেও দয়াল ওগো জগত সাঁই
রোগ ব্যাধি জীবন যাত্রা দাও স্বাভাবিক করে
করোনামুক্ত পৃথিবী আবার আসুক ফিরে।

Developed by: