বিভাগ: লেখক আড্ডা

মামুন রশীদ

31-15জন্ম : ১৫ অক্টোবর ১৯৫৭
গ্রাম ও ডাক: মোল্লারগাঁও
দক্ষিণ সুরমা, সিলেট- ৩১০০
পেশা : অধ্যাপনা
বিভাগীয় প্রধান (বাংলা বিভাগ)
দক্ষিণ সুরমা ডিগ্রি কলেজ
সিলেট- ৩১০০।
প্রকাশিত গ্রন্থ
এই দেশ সেই দেশ (ছড়া-১৯৭৫)
বাঁশি (গান ১৯৮৪)
সবার উপরে তিনিই সত্য (কথা সাহিত্য, ১৯৮৯)
না হয় সগন অরণ্যে যাবো (কবিতা- ১৯৯৮)
ছড়ার নাম যুদ্ধ (ছড়া- ২০১৩)

প্রকাশিতব্য গ্রন্থ
একদিন সারাদিন (কথা সাহিত্য)
স্মৃতির পাখিরা (কথা সাহিত্য)
মধু-গাছ ও অন্যান্য (গল্প)
আমিতো গল্প বলছি না (প্রবন্ধ)

প্রেম

প্রেম কি হয় ফুলের সমান?
মিথ্যে তোমার বুলি,
প্রেম যে এক বিশাল কামান
খাচ্ছি কেবল গুলি!

তোমার কথা স্বপ্ন আনে
জীবনকে দেয় অন্য মানে
এই ছিলতো শর্ত,

প্রেমের ভুবন এখন ফাঁকা
প্রেমের জন্য চাই যে টাকা,
ইঁদুর হয়ে খুঁড়ছি তাই
বিত্ত পাবার গর্ত।

নাম ও গ্রাম
(উৎসর্গ : অধ্যাপক শাহানা বেগম)

সারার বাড়ি ভার্থখলায়
খোজারখলায় জারা
মোগলাবাজার মুন্নীর বাসা
ধুবলাবাজারে তারা।

তানহা থাকে আরফিননগর
জালালপুরে মীনা
কলারতলে এলে গেলে
দেখবে সেথায় দীনা।

ফাহমি থাকে আরশিনগর
রায়নগরে হেনা
নাম বললে গ্রাম বললে
তবেই যাবে চেনা।

নির্মলেন্দু গুণ

কথাগুলো খুব বেশী মানবিক
বৃন্দাবনে ছড়িয়ে আছে কৃষ্ণের লীলা!
রাধিকা দেখেনি যুদ্ধ আনবিক
বারহাট্টায় ঈশ্বর কার জন্ম দিলা!

মুসা ইব্রাহিম নব প্রজন্মের কাছে খুবই প্রীত
তাই বলে রাধা-কৃষ্ণ উপাখ্যান নয় মৃত
যতোই গগণচুম্বী হোক পারমানবিক মই
আঠারোশ গোপিনী আজও করে পইপই!

দিন বদলের পালা শেষে দেখি
বারহাট্টায় আছে এক তাজা রসুন
সে আমাদের অতি খ্যাতিমান
আপাদমস্তক কবি, নির্মলেন্দু গুণ।

যদি
(উৎসর্গ : আবদুল হামিদ মানিক শ্রদ্ধাভাজন)

যদি আমার হাতের তালু
আকাশ হতো!
বুকের মাঝে রইতো যদি
বিপুল ধরা!
খুঁজতে আমায় হতো না কো
মানব জীবন!
সাত সাগরের ভাবোচ্ছাসে
জীবন ক্ষরা!

ছড়ার নাম যুদ্ধ

যুদ্ধ করে স্বাধীন হলাম
যুদ্ধতো নয় খেলা
যুদ্ধ পরে জীবন যুদ্ধে
যুদ্ধ দেখি ম্যালা!

যুদ্ধ আমার খাওয়া-পরার
যুদ্ধ প্রাণে বাঁচা,
যুদ্ধ আমার বসত ভিটায়
তুলতে ঘরের মাচা।

যুদ্ধ করে তাড়িয়ে ছিলাম
যুদ্ধবাজ এক দেশ
যুদ্ধ এখন আমার দেশে
ঝুলতে দেখি বেশ!

মো. খালেদ মিয়া

31-13জন্ম : ১৩ মে ১৯৬৫ বৃহস্পতিবার
পিতা : ছিদ্দেক আলী
মাতা : আফতেরা বিবি
গ্রাম : নয়াগাঁও
ডাক : সিঙেরকাছ
উপজেলা : বিশ্বনাথ
জেলা : সিলেট
প্রকাশিত গ্রন্থ
প্রেমগীতি (১৯৯১)
জাগ্রতদৃষ্টি (১৯৯৬)
সামনে ভরা নদী (২০০০)
উড়ালপাখি (২০০২)
ফুলের হাসি (২০০৩)
ফকির দূর্বিন শাহ (২০০৩)
শান্তির মিছিল (২০০৪)
সময়ের গান (২০০৪)
সিলেটের আঞ্চলিক গান (২০০৫)
ভবসাগরের নাইয়া (২০০৬)
দৌলত (২০০৯)
টাঙ্গুয়া : এপার থেকে সেপার (২০১১)
বিশ্বনাথের একশ বিশজন (২০১২)
গানের আসর (২০১২)
বাদানুবাদ (২০১৩)
একজন মরমি সাধক পীর
মো. শাহ ইসকন্দর মিয়া (২০১৪)

31-14

প্রসঙ্গ ধূমপান
ক)
ধূমপান
ছেড়ে দিলে ক্ষতি কী?
ধূমপানে
লাভ হয় অতি কী?
ধূমপান
বিষপান জানো তো
জেনে শুনে
রীতিমতো টানো তো।
ছারখার
করে দাও চিত্ত্ব
ধূমপান
করে যাও নিত্য।

খ)
বড়ো চাচা এম এ পাশ
ধূমপায়ী সেরা
বিরুদ্ধে বললেই
শুরু করেন জেরা।
চাচি এখন নিশ্চুপ
অতিশয় চালাক
একবার মুখ খোলে
শুনেছিলেন তালাক।
সেই থেকে মুখ বন্ধ
কোনো রকম চলছেন
চাচার সাথে চাচীও
নিয়মিত জ্বলছেন।

সুরমা সিলেট

সকল সুরের মাতা যে
প্রেমের ছন্দে গাঁথা যে
সুরমা নদী নামÑ
বহুনদীর সেরা নদী
বহমান নিরবধি
সব লোকে দেয় দাম।

শাহজালাল’র পরশ পেয়ে
যে নদীটা ধন্য হলো
নদীমাতৃক বাংলাদেশে
ভাগ্যবান আর কোনটি বলো?

আধ্যাত্মিক রাজধানী
সিলেট জেলা আমরা জানি
সুরমা নদীর তীরে আছেÑ
চাঞ্চল্যকর জোয়ার ভাটায়
প্রেমের বার্তা নিত্য পাঠায়
নদীপ্রেমিক সবার কাছে।

সারি সিলেট

সারি-
তোর সাথে মোর আড়ি
তুই না এলে আর কোনোদিন
যাবোনা তোর বাড়ি।

জলের ঘাটে কলসি কাকে
দাঁড়ায় সারি সারি
পল্লীবালার পল্লীমেলা
দেখতে সুন্দর ভারী।

সারি-
মাকুন্দার ঢেউ দেখার দাওয়াত
এসো তাড়াতাড়ি।

বাসিয়া সিলেট

বিলঝিলের এই বাংলাদেশে
অশেষ নদীনালা
বাসিয়াও তাদের একজন
সম্পর্কে মোর খালা।

প্রেমনদীর নাম বাসিয়া
একই নানীর মেয়ে
ধন্য দুই তীরের মানুষ
ভালোবাসা পেয়ে।

বাঙালি
চেতনার ঢল নামে মননে
বৈশাখে বাঙালি চেনা যায়।
চিরায়ত পরিচয় আমরা বাঙালি
আমাদের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে।
বাঙালির বুকভরা আশা
আর চোখভরা স্বপ্ন
পল্লিগীতি ভাটিয়ালি মুর্শিদি
বাঙালি কণ্ঠে প্রতিক্ষণ।
আচারে প্রচারে বাঙালি
চলনে বলনে বাঙালি
চেতনায় চৈতন্যে বাঙালি
চিরকাল চিরদিন বাঙালি।

কয়েকটি অনির্বাচিত কবিতা ॥ ফকির ইলিয়াস

27-7-3পাঠক সংখ্যা এক

 

যে কবিতাটি আমি একটি জাতীয় দৈনিকে

পাঠিয়েছিলাম, তা আর কেউ পড়েনি।শুধু

পড়েছিলেন ঐ দৈনিকের সাহিত্য সম্পাদক।

তারপরে ছুঁড়ে দিয়েছিলেন ডাস্টবিনে।সেই

থেকে আমার ঐ কবিতাটির পাঠক সংখ্যা

একজনই ।

 

তিনি ফেলে দিয়েছিলেন ,কারণ তার ভালো

লাগেনি কবিতাখানি।

 

এই ভবের বাজারে ,অনেকের অনেক কিছুই

ভালো লাগে না।

কারো ভালো লাগে না যোগাত্মক যন্ত্রনা।

আবার, কারো ভালো লেগে যায় বিয়োগাত্মক বন্দনা ।

 

তা নিয়ে আমার কোনো অনুযোগ নেই

প্রকাশিত কথা হচ্ছে এই ……

যারা কবিতা বুঝতে জানে তারা প্রজাপতির পাশে দাঁড়াবেই ।

 

।।।।।।।।

ছিটমহল

 

ছড়িয়ে আছে পাথরদানা।জানা- অজানার বনভূমি ছুঁয়ে শিশুরা খেলে

যাচ্ছে সাপ-লুডু খেলা। বেলা দাঁড়িয়ে দেখছে জীবনের গমনদৃশ্যরূপ।

চুপ করে থাকি। আঁকি আমিও সম্প্রসারিত ভুলের কোলাজ। আওয়াজ

দেবার কথা ছিল যাদের, তারাও ছিটমহলের বাসিন্দা এখন। দ্রবণ

শেষ হলে প্রেমও কি তবে ছিটকে পড়ে পরাকাশের ,প্রান্তে অবশেষে!

ভালোবেসে মাটির মরম, দেখে যেয়ো … জমাট পাথর বাঁধা বুকের প্রদেশে।

 

।।।।।।।।

ঘাসগল্প

 

কিছুটা গৌরবগরজ নিয়ে আছি। কিছুটা রক্তাক্ত রাতের শরীরে মিশিয়ে শরীর।

এভাবে থেকে যেতে হয় । বিনয়ের কবিতা পড়ে শিখেছি বিনয়।

আর শক্তির কাছ থেকে ধার নিয়ে শক্তি, খুঁজেছি নির্জনতার ছায়া।

 

শনাক্ত করতে পারলে বুঝা যায় জলভাষা। দৃষ্টির দিগন্ত ছুঁলে ধরা যায়

বৃষ্টিবর্ণ । প্রতিবেশী প্রেমিকাকে ঘাসগল্প শুনিয়ে ঘুরা যায় নক্ষত্রনগর ।

 

কিছুটা মৌনতা নিয়ে আছি। গৌণ ভুলগুলোর চূড়ায় গোলাপ পাপড়ি

সাজিয়ে বার বার হয়েছি বশ্য। পারলে দিয়ে যেতাম এর অধিক কিছু।

এই শৌর্যের সন্ধ্যাতারার মেলায়, ভার্চুয়াল জোসানারা যেমন ভাসে দ্যোতনায়।

 

।।।।।।।।

এ্যাটাচম্যান্ট

 

মেঘের আলোয় লুকিয়ে রাখি মেঘালয়। অনাদি ঈশ্বর এসে ঢেকে দেবেন

আমাদের কামঘুম , সে প্রত্যয় নিয়ে গোণি প্রহর । বুঝে , না বুঝে আমরা

যারা খেলি প্লাস-মাইনাস খেলা ,তাদের সমবেত তাঁবুতে ছিটাই কুয়াশামন।

 

সংগ্রহ শেষ হলে পাঠিয়ে দেবো তোমার ঠিকানায়। লগো দেখে তুমি তা

যুক্ত করে নিতে পারবে তোমার ডেস্কটপে।তারপর ম্যাচমেকিং করে দূর

আকাশের রঙের সাথে মিলিয়ে নিতে পারবে গৃহীত উত্তরের রঙ। চাইলে

ডিলিট ও করতে পারবে । তবে বলি ,তার আগে শিখে নিও ‘সেভ ইয়র

সোল’। এ্যাটাচম্যান্ট করে পাঠিয়ে দিও অন্য কারো কাছে।যে জন যতনে

শিলং শহরে ……..

একজন অনিমিতা দেবরায়ের খোঁজে দিবানিশী ঘুরে ।

 

।।।।।।।।

মাস্তুল

 

এই বাঁকে কী এর আগে দাঁড়িয়েছিল কেউ। মাস্তুল কাঁধে ফেরারী মাঝির

মন নিয়ে দেখেছিল ভাঙনের সপ্তদৃশ্য ! এবং ওপারের মানুষের বিরহে

ঢেকেছিল দু’চোখ !

 

এমন প্রশ্ন নিয়ে জল খেলে ঘূর্ণি ঘূর্ণি খেলা

বেলা বয় ধীরে-

যমুনার দুই পাড়ে স্মৃতিমেদ বসিয়েছে মেলা

Developed by: