বিভাগ: স ফ ল ব্য ক্তি ত্ব

মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রাজু

2-21শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রাজু দণি সুরমার সিলাম ইউনিয়নের মনজলাল গ্রামে ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দের ৪ মে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মোহাম্মদ শামসুজ্জামান। আখতারুজ্জামান জালালপুর হাইস্কুল থেকে ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে এস.এস.সি, সিলেট এম.সি কলেজ থেকে ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে এইচ.এস.সি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে অর্থনীতিতে বি.এস.এস (সম্মান) এবং ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দে এম.এস.সি ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি ২০০১ খ্রিস্টাব্দের ফেব্র“য়ারি মাসে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৭ থেকে ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত জার্মান সরকারের বৃত্তি নিয়ে জার্মানির বার্লিন থেকে ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড ডেবলপমেন্ট ইকনমিক্স বিষয়ে এম.এ ডিগ্রি অর্জন করেন। অতঃপর জন এফ কেনেডি ইনস্টিটিউট বার্লিনে এক বছর গবেষণা করেন। বর্তমানে তিনি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।

ড. কবির হোসেন চৌধুরী

27-7-1সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বরইকান্দি ইউনিয়নের বরইকান্দি গ্রামে ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে ড. কবির হোসেন চৌধুরী জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রিতে বি.এস.সি অনার্স ও ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে এম.এস.সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে ফার্মাসিউটিক্যালসে এম.এস ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৫ সালে একই ইউনিভার্সিটি থেকে একই শাস্ত্রে পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি রয়্যাল সম্মানিত মেম্বার এবং ক্যামিক্যাল সোসাইটির সম্মানিত ফেলো।
১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে তিনি ওয়ার্ল্ড ইয়ূথ কাউন্সিলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি ম্যানচেস্টার কাউন্সিল ফর দ্যা কমিউনিটি রিলেশন্সের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি কুয়েতে থাকাকালে কুয়েতে বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন। ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে তিনি বাংলাদেশ-ব্রিটিশ চেম্বার অব কমার্সের প্রতিষ্ঠাতা ডাইরেক্টর জেনারেল হন। একই খ্রিস্টাব্দে যুক্তরাজ্যের গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের যুগ্মআহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হন।
তিনি বাংলা, ইংরেজি ও আরবি এই তিনটি ভাষায় খুবই পারদর্শী। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ট্রাফালগার স্কোয়ারের বিশাল গণজমায়েতে উদ্দীপনাময়ী বক্তৃতা করেন। ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে একই স্থানে কুয়েতমুক্ত করার আন্দোলন চলাকালে অনুষ্ঠিত সভায় তাঁর বক্তৃতা বিরাট আবেদন ও সাড়া জাগায় মানুষের মনে। লন্ডনের স্কুল অব ইকনোমিক্সে ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের উপর অক্সফোর্ডের নাফিল্ড কলেজে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির উপর তাঁর বক্তৃতা সমাজে আলোড়ন সৃষ্টির পাশাপাশি অক্সফোমের অক্সফামের ফান্ডরাইজিং অভিযানেও তাঁর বক্তৃতা বিরাট সহায়তা জোগায়।
রাজনীতির ক্ষেত্রে ট্রেনিং শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং উন্নয়নমূলক কাজের দিকে ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল কনজারভেটিভ পার্টিকে তিনি ব্রিটেনের বিশেষ করে পূর্ব লন্ডনের বাঙালি কমিউনিটির স্বার্থ ও অধিকার এবং উন্নয়ন কর্মপ্রচেষ্টার প্রতি আন্তরিকভাবে আরও বেশ আগ্রহী করে তুলছেন। তিনি ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাশীন কনজারভেটিভ পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে টাওয়ার হেমলেটেস বেথেনল গ্রিন অ্যান্ড ব্রো নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে সাড়া জাগান।
কবির চৌধুরী একজন নিরহংকার, সদালাপী, মার্জিত রুচির মানুষ। তিনি নিরলসভাবে কাজ করতে ভালোবাসেন। দক্ষিণ সুরমার শিক্ষা বিস্তারে তাঁর উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তিনি শিক্ষার ক্ষেত্রে দক্ষিণ সুরমার অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাইস্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজে শিক্ষা বিস্তারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি ২০০২ খ্রিস্টাব্দ থেকে দেশে অবস্থান করছেন। দেশে অবস্থানকালীন তিনি প্রথমে শাহজালাল ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে কাজ করেন। তিনি সিলেটের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির (সাবেক) ভিসির দায়িত্ব পালন করেন। হাফিজ আহমদ মজুমদার ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ও স্কলার্স হোম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যানও তিনি।

দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাষ্ট গুপ্তরগাঁও হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসা শাখা সুললিত কণ্ঠে কোরআনের ধ্বনিতে মুখরিত পরিবেশ মোহাম্মদ নওয়াব আলী

DSC01850রমজান সিয়াম সাধনার মাস। পাপ থেকে মুক্তি লাভের মাস। এ মাসেই পবিত্র কোরআন শরিফ নাজিল হয়েছিল। পূন্যতায় ভরপুর এ মাসে যত বেশি ইবাদত, তত বেশি কল্যাণ, তত বেশি সাফল্য, ততবেশি পরজাগতিক মুক্তির পথ সুগম করা। অন্য মাসের চেয়ে রমজানে প্রতিটি সৎকাজে সত্তর গুণ ছওয়াব পাওয়া যায়।
পবিত্র কোরআন নাজিলের মাস মাহে রমজানে সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ বিদেশেও সহি শুদ্ধ কোরআন তেলাওয়াতের আয়োজন করে দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাষ্ট। দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন পীরে কামিল আল্লামা হযরত মাওলানা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী ১৯৫০ সাল থেকে এ অনবদ্য সহি শুদ্ধ কোরআন তেলাওয়ের সুযোগ করে দেন। যা দিন দিন প্রসারিত হচ্ছে এবং সহি শুদ্ধ কোরআন তেলাওয়াতের ক্বারিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ মহান ব্যক্তিত্ব ফুলতলী সাহেব কিবলা আমাদের মাঝ থেকে ২০০৮ সালের ১৫ জানুয়ারি বুধবার পরকালে চলে গেছেন। কিন্তু তাঁর প্রতিষ্ঠিত দারুল ক্বিরাতের বাগানের সুভাসে দিন দিন নতুন নতুন এলাকা মুখরিত হচ্ছে। মানুষ আলোকিত হচ্ছে কোরআনের আলোয়।
দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাষ্টের অসংখ্য শাখার মধ্যে গুপ্তরগঁও হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসা একটি শাখা। যা যাত্রা করে ২০০১ সালে। শুরুর বৎসরে জামাতে ছুরা থেকে জামাতে ছালিছ পর্যন্ত পাঠ দান শুরু হয়। ২০০২ সালে পাঠ দান বৃদ্ধি পায় জামাতে রাবে পর্যন্ত এবং ২০১১ সাল থেকে জামাতে খামিছ পর্যন্ত পড়ানো হচ্ছে। পরবর্তী বছর থেকে মহিলা জামাতে ছাদিছ পর্যন্ত অর্থাৎ একজন পূর্ণাঙ্গ ক্বারি হতে যতটুকু ইলিম দরকার ততটুকু এ কেন্দ্রে পাঠ দান করা হচ্ছে। এবারের দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাষ্ট গুপ্তরগাঁও শাখায় জামাতে ছুরায় ক ও খ শাখায় ২২৭ জন, জামাতে আউয়ালে ৭০ জন, জামাতে ছানীতে ৪০ জন, জামাতে ছালিছে ১০ জন, জামাতে রাবে ১৫ জন, জামাতে খামিছে ৩২ ও মহিলা ছালিছ জামাতে ১০ জন প্রশিক্ষণার্থী রয়েছেন।
রমজান মাস ছাড়া গুপ্তরগাঁও হাফিজিয়া মাদ্রাসা শাখায় সাপ্তাহিক ক্বিরাত প্রশিক্ষণ চলে প্রতি শুক্রবার। সেখানে জামাতে সুরা থেকে জামাতে রাবে পর্যন্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এ শাখায় প্রধান ক্বারীর দায়িত্ব পালন করছেন ক্বারী আনছার আলী। অত্র শাখায় বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন নাজিম- ক্বারী হাফিজ আব্দুর রহিম, প্রধান ক্বারী আনছার আলী, ক্বারী আব্দুল হান্নান, ক্বারী জিবলুল ইসলাম, ক্বারী ফখরুল ইসলাম, ক্বারী জামিল আহমদ, ক্বারী রজব আলী, ক্বারী আব্দুল গনি, ক্বারী রাকিব আলী, ক্বারী সৈয়দ ফখরুল ইসলাম, ক্বারী মিছবাহ উদ্দিন ও ক্বারী ছালেহ আহমদ।
বর্তমান পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে আছেন আব্দুল ওয়াহিদ, সহসভাপতি সামছু মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ক্বারী আব্দুর রহিম, সহসাধারণ সম্পাদক ইউনুছ আহমদ, কোষাধ্যক্ষ মো. ছোয়াব আলী, সদস্য আব্দুল করিম, সেলিম আহমদ, ইলিয়াছ আলী, সোহেল আহমদ, আজাদ মিয়া ও আব্দুল হামিদ।
প্রতি বছরই এ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। কোরআনের আয়াতে পরিবেশ মুখরিত হচ্ছে। মানুষ শ্রবণ করছেন কোরআনে সুললিত ধ্বনি।

Developed by: