বিভাগ: স ফ ল ব্য ক্তি ত্ব

প্রবাসে একজন সফল ব্যবসায়ী মো. মখলিছ মিয়া

ssssমকসুদ আহমদ বাসিত: প্রবাসীরা বিপুল পরিমান অর্থের যোগান দিয়ে এদেশের অর্থনীতিকে ঠিকিয়ে রেখেছেন। প্রবাসীদের পরিশ্রয়ে আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল থেকে সচল হচ্ছে দিন দিন। আমরা সমৃদ্ধ হচ্ছি অর্থনৈতিকভাবে। দেশ হচ্ছে স্বনির্ভর। ফলে আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছি।
শুধু ইউরোপ আমেরিকা নয় মধ্যপ্রাচ্যের অনেক প্রবাসীরা আমাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছেন। তাঁদের প্রাণপণ প্রচেষ্টায় আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তড়ান্বিত হচ্ছে।
এমনি একজন প্রবাসী সফল মো. মখলিছ মিয়া। মধ্যপাচ্যের কাতারে ১৯৮৪ সালের ১৫ জানুয়ারি চাকরির সুবাদে পাড়ি জমান। চার বছর চাকরি শেষে নিজ উদ্যোগে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। পরিচ্ছন্ন ব্যবসায়ী হিসেবে বেছে নেন ডেকোরেশন ব্যবসা। গড়ে তুলেন কাতারের দোহা নিউ রোডের ২নং সিটি আলখোর সপ মার্কেটে মুহা. আপহোলস্টরি সপ নামের ডেকোরেশন ব্যবসা। যা দিন দিন জনপ্রিয়তা অর্জন করে। আর একজন সফল ও জনপ্রিয় ব্যবসায়ী হিসেবে মখলিছ মিয়ার সুনাম দিন দিন প্রসারিত হয়। এখন তিনি সেখানে একজন সুনামধন্য ও সফল ব্যবসায়ী। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশীদের কর্মসংস্থান হচ্ছে। সাথে সাথে বাংলাদেশ থেকে জনবল নিয়ে তিনি বিভিন্ন কোম্পানীতে চাকরির সুযোগ করে দিচ্ছেন। ফলে প্রবাসে বাঙালিরা যেমন উপকৃত হচ্ছে তেমনি বাংলাদেশ থেকে বাঙালিরা সেখানে গিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে।
সর্বদা হাস্যজ্জোল ও প্রাণচঞ্চল মখলিছ মিয়া সিলেটের দণি সুরমার লালাবাজারস্থ আকিলপুর গ্রামের অধিবাসী। পিতা মৃত সুনু মিয়া। জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৬২ সালে।
মখলিছ মিয়া সদা কর্মব্যস্ত একজন সরলমনা মানুষ। দেশ বিদেশে বিভিন্ন সামাজিক, মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রচারবিমুখ মখলিছ মিয়া আকিলপুরস্থ হযরত ওমর শাহ হাফিজিয়া মাদ্রসার কোষাধ্যরে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর সফলতার পিছনে তাঁর স্বদিচ্ছা, কঠোরপরিশ্রম ও ধৈর্য কাজ করেছে বলে তিনি জানান।

ওয়াসিম খান : এ সময়ের একজন ব্যস্ত কী-বোড বাদক ও সুরকার

01হৃদয় সজীব : বৃহত্তর সিলেটের সংগীত জগতে ওয়াসিম খান নাম উচ্চারণ করলে সবাই এক নামে চিনে একজন সফল কী-বোড বাদক হিসেবে। এ সুনাম অর্জন করেছেন ওয়াসিম খান দীর্ঘদিনে। শিশুকালেই ওয়াসিম খান সুরের ভুবনে যাত্রা শুরু করেন। বড় ভাই লাল মিয়া তখন গান গাইতেন। তাঁর হাত ধরে ওয়াসিম খান গানের প্রতি ঝুঁকে পড়েন এবং বড় ভাইয়ের সাথে কণ্ঠ মিলাতে থাকেন। কম বয়সেই আয়ত্ত করেন একটি অসাধারণ গুণ। এক সাথে পাঁচটি ডফকি বাজানোর দুর্লভ অর্জন। বড় ভাই লাল মিয়ার অনুষ্ঠানে বিশেষ আকর্ষণ ছিল ওয়াসিম খান ডফকি বাজানো। মানুষ মুগ্ধ হয়ে যেমন গান শুনতো তেমনি ওয়াসিম খানের ডফকি বাজানো দেখে তাক লেগে যেত এবং অনুষ্ঠানে শেষে গুণীজনরা তাকে আর্শিবাদ করে যেতেন।
ওয়াসিম খানের ১৯৬৪ খ্রি. বি-বাড়িয়ার হাবলা উচ্চ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম মো. শহিদুল ইসলাম ও মাতা মরহুমা মোছা. সাফিয়া খাতুন। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয়।
বড় ভাই লাল মিয়ার সাথে ওয়াসিম খান বি-বাড়িয়ার আঁনাচে কাঁনাচে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করতেন। এক পর্যায়ে গানের নেশায় ও যন্ত্রের ভালোবাসায় তারা ছাতকে চলে আসেন। ছাতক বাজারের গুণীজন ও কিছু মুরব্বিরা বাউলদল দেখে গান গাওয়ার অনুরোধ করেন। তখন তিনি বড় ভাইয়ের সাথে গান গাওয়া শুরু করেন এবং একসাথেপাঁচটি ডফকি বাজাতে থাকেন। মুরব্বিদের দৃষ্টি পড়ে শিশু ওয়াসিমের অসাধারণ ডফকি বাজানোর দিকে। এক পর্যায়ে দুর্বিণ শাহর জনপ্রিয় গান ‘যৌবনরে ডেকছি তরে লইয়া আমি অভাগীনি’ গানটিতে টান দিলেই উপস্থিত সবাই মুগ্ধ হয়ে যান। এই আসরে ছিলেন মুরব্বিদের সারিতে দুর্বিণশাহও। গান শেষ হওযার পরে উপস্থিত সুধীজন জানতে চাইলে যার গান গাইয়ের সেই পীর সাহেবের সাথে আপনাদের পরিচয় আছে কি? কিন্তু ইতোপূর্বে দূর্বিণ শাহর সাথে তাদের পরিচয় হয়নি। ওয়াসিম সান্বিধ্য পেলেন বাউল সম্রাট দুর্বিন শাহর। শুধু সান্বিধ্য নয় দুর্বিন শাহ মুগ্ধ হয়ে মাথায় হাত দিয়ে আর্শিবাদ করলেন।
এভাবে এগুতে থাকেন ওয়াসিম গানের জগতে। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৬ সালের শেষের দিকে বড় ভাইয়ের সাথে সিলেটের তালতলার দিকে যাচ্ছেন। তালতলার হোটেল ব্যবসায়ী কালা মিয়ার দৃষ্টিপরে তাদের দিকে। তিনি তাদেরকে নিয়ে যান তার নিজস্ব হোটলের অফিসে। সেখানে অনেক ভাবুকরা বসে আছেন। তখন বিকাল চারটা। বাংলাদেশ বেতারে অনুষ্ঠানপূর্ব সিলেটের বাউল পরিবেশিত হবে। সবাই শুনবেন। বেতারে শুরু হলো বাউল আবদুল হামিদের গান। সবাই মনোযোগ সহকারে শুনলেন। গান শেষে শুরু হলো ওয়াসিমদের পালা। ছাতকের মতো সিলেটেও সবাই মুগ্ধ হলেন ওয়াসিমের অসাধারণ ডফকি বাজানো দেখে। আসরের শেষ পর্যায়ে উপাস্থিত হলেন বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী আবদুল হামিদ। তিনি তাদেরকে নিয়ে লালদিঘির পারের হোটেল তাজ বোডিংয়ে যাপনের ব্যবস্থা করলেন। আবদুল হামিদ ওয়াসিমের প্রতিভায় মুক্ত হয়ে ছাড়তে চাইলেন না। শেষ পর্যন্ত আবদুল হামিদ ওয়াসিমকে তার বন্ধনে নিয়ে আসলেন। ওয়াসিম আবদুল আবদুল হামিদকে ধর্মীয় পিতা হিসেবে গ্রহণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে গানের তালিম নেয়া শুরু করেন এবং বিভিন্ন জায়গায় তার সাথে গানে কণ্ঠ মিলাতে থাকেন। বাউল আবদুল হামিদের সুযোগ্য শিষ্য হিসেবে ওয়াসিমের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে।
ওয়াসিম ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ বেতার সিলেট কেন্দ্রের আধুনিক ও পলীগীতি গানের একজন কণ্ঠশিল্পী হিসেবে তালিকাভূক্ত হন। ১৯৯৮ সালের (৭ পৃষ্ঠায় দেখুন) মিয়া (৬ পৃষ্ঠার পর) : পলীগীতি গানের একজন কণ্ঠশিল্পী হিসেবে তালিকাভূক্ত হন। ১৯৯৮ সালের যন্ত্রশিল্পী হিসেবে বাংলাদেশ বেতার সিলেট কেন্দ্র তাকে চাকরি প্রদান করে। তিনি কী-বোর্ড, দুতারা, মেন্ডোলিন, তবলা, হারমোনিয়াম বাজান বেতারে।
২০০৭ সালে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের কণ্ঠশিল্পী হিসেবে অনুমোদান লাভ করেন।
২০১৫ সালের শেষের দিকে বেতারের সুরকার হিসেবে তিনি গান সুরারোপ করতে থাকেন এবং বিশেষ বিশেষ প্রোগ্রামে তার সুরারোপিত গান পরিবেশিত হয়ে থাকে।
১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো ওয়াসিম শিল্পী হিসেবে লন্ডন সফর করেন। তার সাথে এ সফরে ছিলেন সৈয়দ আবদুর হাদী, বেবী নাজনীন, বাউল আবদুল হামিদ ও বাউল মুজিবুর সরকারসহ আরো অনেকে। এছাড়া তিনি বিভিন্ন সময় ভারতে বিভিন্ন অনুষ্টানে গান পরিবেশন করেন। সম্প্রতি তিনি সুফী শিতালংশাহ শিল্পী গোষ্ঠী প্রদত্ত সম্মাননা পদক ২০১৬ গ্রহণ করেন।
তার প্রিয় শিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদী, সুবীর নন্দী, সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, মাহমুদুন নবী, খুশিদ আলম। খুশিদ আলমের গান নিজের করতেন। প্রিয় সুরকার খান আতাউর রহামন, সত্য সাহা।
জীবনে গান বাজনায় মগ্ধ থাকার কারণে ব্যক্তিজীবন নিয়ে ভাবা সম্ভব হয়নি। প্রায় ৪০ বছর বয়সে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মোছা. সাবরীন ভূইয়া নিপার সহিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

আলোকিত শিক্ষক

1464602996বেগম রোকেয়ার সমাজ থেকে এ সমাজের তেমন কোনো বিশেষ পার্থক্য নেই। শুধু খোলস পাল্টেছে মাত্র। সবসময় স্বপ্ন দেখি এমন সমাজের যা হবে নারী-পুরুষের বৈষম্যমুক্ত

বাবা ও মা দু’জনেই ছিলেন কবি। ছোটবেলায় দেখতেন নিজেদের যে কোন ঘরোয়া অনুষ্ঠানে কবি শামসুর রাহমান ও আসাদ চৌধুরীর মত অনেক কবিদের আড্ডা বসতো। এ জন্য ছোট থেকেই সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসার জন্ম নেয়। মাত্র ছয় বছর বয়সে ৪১ লাইনের কবিতা মুখস্থ আবৃত্তি করে পুরস্কার লাভ করেন। সে বছরই সেরা হন জাতীয় শিশু সাহিত্য প্রতিযোগিতাতেও। এভাবেই শুরু হয় জেবুন্নেসার সাহিত্যের পথ চলা। এরপর এসএসসি ও এইচএইসসি পাস করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগে। ছাত্রজীবনে পুরোদমে লেখা-লেখি চলে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও সাহিত্য পত্রিকায়। পড়াশুনা শেষ করেই তার কর্মজীবন শুরু হয় ইউএনডিপি’তে জেন্ডার প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে। তারপর গণবিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকতা করার পরে যোগ দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে।

বর্তমানে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণা ও লিখতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কারণ আশির দশকের শেষের দিকে তার বাবার রচিত ‘টাকার পাহাড় চাই’ নাটকের একটি সংলাপ ছিল: ‘জন্মদাতা, কর্মদাতা, শিক্ষাদাতার মতোই আমি ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি দেশের মুক্তিদাতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের’। এই সংলাপ শুনেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে লিখবেন। তার প্রথম মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রন্থ ‘মুক্তিযুদ্ধ: বুদ্ধিজীবীর দৃষ্টিকোণ ও অভিজ্ঞতা’। এরপর ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত হয় তার গবেষণাগ্রন্থ ‘মুক্তিযুদ্ধে নারী’। সবচেয়ে সাড়াজাগানো মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক তার সম্পাদিত গ্রন্থ হলো: ‘আলোকিত নারীদের স্মৃতিতে মুক্তিযুদ্ধ’।

বইটিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আফরোজা পারভীন, পান্না কায়সার, মাহফুজা খানম, লায়লা হাসানসহ মোট ২৭ জন আলোকিত নারীদের লেখা রয়েছে। তাদের যুদ্ধ স্মৃতিতে লড়াই, শোক, দুঃখ আর নির্যাতনের লোমহর্ষক কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। এদের মধ্যে কারো ভাই, বোন, স্বামীসহ আত্মীয়-স্বজনদের জোর করে ধরে নিয়ে তত্কালীন পাকিস্তানী বাহিনীরা যেভাবে হত্যা করেছে, নির্যাতন করেছে তারই ঘটনা তুলে ধরেন সবাই। সম্প্রতি বইটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে বিতরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একজন আলোকিত নারী হিসেবে সাহিত্য ও মুক্তিযুদ্ধে এমন গবেষণার জন্য জেবুন্নেসা ভূষিত হয়েছেন বিভিন্ন সম্মাননায়। বিনোদনধারা পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড, আমরা কুঁড়ি পদক, বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি পুরস্কার, নক্ষত্র সাহিত্য পদক, অক্ষর সম্মাননা স্মারক, মৃত্তিকা পদক, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক পরিষদ অ্যাওয়ার্ড ইত্যাদি। এছাড়া তিনি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নেটওয়ার্ক শিক্ষক, পেশাজীবী নারী সমাজের যুগ্ম সম্পাদক, বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সদস্যসহ বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন। নিজের এই প্রাপ্তির বিষয়ে তিনি বলেন, একজন নারী হিসেবে আমি আমার অর্জনে সন্তুষ্ট। যা একজন পুরুষের দ্বারাও অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। এছাড়া নারীদের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বেগম রোকেয়ার সমাজ থেকে এ সমাজের তেমন কোনো বিশেষ পার্থক্য নেই। শুধু খোলস পাল্টেছে মাত্র। সবসময় স্বপ্ন দেখি এমন সমাজের যা হবে নারী-পুরুষের বৈষম্যমুক্ত।

জাতীয় কবি নজরুলের জন্মদিন আজ

60555‘গাহি সাম্যের গান/ যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা ব্যবধান/ যেখানে মিশেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম-খ্রিস্টান’…

আজ বুধবার ২৫ মে, ১১ জ্যেষ্ঠ। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৭তম জন্মবার্ষিকী। দ্রোহ, প্রেম ও সাম্যের কবি হিসেবেও বাংলা সাহিত্যের অনন্য প্রতিভা নজরুল ইসলামকে অভিহিত করা হয়।

১৮৯৯ সাল, ১৩০৬ বঙ্গাব্দের এইদিনে বর্ধমান জেলার (বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে) আসানসোলের চুরুলিয়া গ্রামে কাজী পরিবারে নব জাগরণের এ কবির জন্ম।

জাতীয় পর্যায়ে জাতীয় কবির ১১৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে নানা কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। এ বছর জাতীয় পর্যায়ের এই অনুষ্ঠান হচ্ছে চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে। কবির জন্মদিনের এ অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ।

জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে নজরুলের স্মৃতি বিজড়িত ত্রিশাল, কুমিল্লায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের অন্যান্য জেলায়ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে নজরুলের জন্মবার্ষিকীতে।

বেসরকারি উদ্যোগেও রয়েছে নানা আয়োজন। ভোরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রয়েছে।

জাতীয় কবির জন্মদিনে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। জাতীয় সব দৈনিক কবির জন্মদিনে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। টেলিভিশন ও রেডিও প্রচার করছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।

বাংলা সাহিত্যে নজরুল ইসলাম জনপ্রিয় হয়েছেন কবিতা ও গানে। ব্রিটিশ শাসকদের শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে কবিতা ও গান লিখে বিদ্রোহী কবি হিসেবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে আসেন নজরুল ইসলাম। রচনা করেন ‘বিদ্রোহী’ ও ‘ভাঙ্গার গান’র মতো কবিতা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ব্রিটিশ সরকার কবিকে জেলে পাঠায়। সেখানে বসে কবি রচনা করেন ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’। বাংলা সাহিত্যে নজরুল ইসলামের আবির্ভাবকে ধুমকেতুর আত্মপ্রকাশ হিসেবেও দেখেন অনেকে।

বহুমুখী প্রতিভার এ কবি বাংলা সাহিত্যের বিশাল অঙ্গনে ভূমিকা রাখেন ঔপন্যাসিক, গল্পকার, প্রাবন্ধিক হিসেবে। সাহিত্যকর্মের উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে রয়েছে তার গান। প্রায় ৩ হাজার গান রচনা করেন নজরুল ইসলাম। ইসলামি গজল লিখে বাংলা গানে নতুন এক ধারার সৃষ্টি করেন তিনি। গান রচনার পাশাপাশি সেগুলোতে সুরারোপ করে সমৃদ্ধ করেছেন সঙ্গীতাঙ্গনকে।

নাটক লিখেছেন, ছেলেবেলায় লেটো দলে যোগ দিয়ে নাটকে অভিনয় করেছেন, পরিণত হয়ে লিখেছেনও নাটক। চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লিখেছেন, পরিচালনা এবং অভিনয়ও করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ছেলেবেলায় লেটো দলে শুরু হয় নজরুলের সাহিত্যচর্চা, যা পরিণতি পায় সৈনিক জীবন থেকে ফেরার পর। সৃষ্টির সময় মাত্র দুই দশক। যুদ্ধ থেকে ফিরে ১৯২২ থেকে ১৯৪২ সাল। স্বল্প এ সময়ে সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় নজরুলের অবদান অনন্য বলেও মত তাদের।

বরেণ্য এ কবি নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছেন। মাত্র ৯ বছর বয়সে পিতা কাজী ফকির আহমেদকে হারিয়ে এলামেলো হয়ে যায় সামনে চলার পথ। আর্থিক অনটনে পড়ে বই-খাতা রেখে রোজগারে নেমে পড়তে বাধ্য হন নজরুল। কখনও মসজিদের ইমামতি, মাজারের খাদেমগিরি, চায়ের দোকানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়েছে তাকে। ছেলেবেলায় তার নাম রাখা হয় ‘দুখু মিয়া’।

আসানসোলের চা-রুটির দোকানে রুটির কাজ করার সময় সেখানে কর্মরত দারোগা রফিজ উল্লাহ’র সঙ্গে পরিচয় হয় নজরুলের। তিনি কিশোর নজরুল নিয়ে ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালের দরিরামপুর স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি করে দেন। এটা ১৯১৪ সালের কথা। মাধ্যমিকের প্রিটেস্ট পরীক্ষা না দিয়ে ১৯১৭ সালে সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে যোগ দেন নজরুল ইসলাম। অংশ নেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধে।

১৯৪২ সালে আকস্মিক অসুস্থ হয়ে পড়েন নজরুল। অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, বাংলা সাহিত্যের অনন্য প্রতিভার এ কবি পিকস ডিজিজে আক্রান্ত। এক পর্যায়ে মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন চিরবিদ্রোহী এ কবি। এতে তার সাহিত্যচর্চা পুরোপুরি থেমে যায়।

কোলকাতায় পারিবারিক তত্ত্বাবধানে থাকা বাকরুদ্ধ এ কবিকে ১৯৭২ সালের ২৪ মে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এখানে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রাখা হয় নজরুল ইসলামকে। অভিসিক্ত করা হয় বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায়।

চিরবিদ্রোহী এ কবি ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট সকাল ১০টা ১০ মিনিটে ঢাকার পিজি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ‘আজান’ কবিতায় চাওয়া শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয় চির জাগরণের এ কবিকে, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন।

ম্যারাডোনার চেয়েও বড় ফুটবলার ছিল বাংলাদেশে

ফুটবল জাদুকর সামাদকে বলা হয় কিংবাদন্তির মহানায়ক। তিনি যাদুকর উপাধি পেয়েছিলেন জাদুবিদ্যা জানার জন্য নয়, ফুটবল খেলার অপূর্ব দক্ষতা এবং উন্নতমানের কৌশল প্রদর্শনের জন্যই তার এ উপাধি। উপমহাদেশের প্রখ্যাত কিংবদন্তি ফুটবলার সামাদ ম্যারাডোনার চেয়েও বড় জাদুকর ছিলেন বলে অনেকেই মনে করেন। আজ ২ ফেব্রুয়ারি তার ৫২তম মৃত্যুবার্ষিকী।

১৯১৫ সাল থেকে ১৯৩৮ সাল এই ২৩ বছর ছিল সামাদের খেলোয়ার জীবন। তিনি ছিলেন একজন রেল কর্মচারী। সে সময় ইবিআর নামে যে রেলওয়ে ফুটবল টিম ছিল সামাদ তাতে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। সেই কারণে ইবিআরএ সামাদ নামে পরিচিত ছিলেন তিনি। সামাদের ২৩ বছর খেলার জীবনে এমন সব বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে যা ক্রীড়া জগতে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। দেশে এবং দেশের বাইরেও তার অভিনব খেলা দেখে মানুষ হতবাক হয়েছে। তার জাদুকরী খেলার কৌশল দেখে দর্শকরা উল্লাসে ফেটে পড়েছে। করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছে।

একবার খেলার আগে মাঠের চারদিকে পায়চারী করে এসে সামাদ সেখানকার কমিটির কাছে অভিযোগ করলেন যে, এ মাঠ আন্তর্জাতিক মাপ হিসেবে ছোট আছে বিধায় এ মাঠে আমাদের টিম খেলতে পারে না। পরে মাঠ মাপার পর তার অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।

আরেকবার মাঠের মধ্যস্থল থেকে বল নিয়ে সব খেলোয়াড়কে বোকা বানিয়ে বল ড্রিবলিং করে নিক্ষেপ করলেন গোলে। বল গোলে প্রবেশ না করে পোস্টের কয়েক ইঞ্চি উপর দিয়ে বাইরে চলে গেলে রেফারি বাঁশি বাজিয়ে বলকে আউট ঘোষণা করলেন। কিন্তু সামাদ তা গোল হয়েছে বলে চ্যালেঞ্জ করে বসেন। তিনি বলেন, ‘আমার শটে নিশ্চিত গোল হয়েছে। সামাদের শটের মেজারমেন্ট কোনোদিন ভুল হয় নাই। গোলপোস্ট উচ্চতায় ছোট আছে।’ পরে তার চ্যালেঞ্জ অনুযায়ী মেপে দেখা গেলো সত্যিই গোলপোস্ট কয়েক ইঞ্চি ছোট আছে।

তার খেলোয়াড় জীবনের এরকম বহু ঘটনা আজও দেশ-বিদেশের খেলার জগতে অগণিত সামাদ ভক্তের মুখে মুখে শোনা যায়। জাদুকর সামাদ ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানে চলে আসেন ও বসবাস করতে শুরু করেন দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরে। রেলওয়ে জংশনের জন্য খ্যাত বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনের বৃহৎ রেলওয়ে জংশন পার্বতীপুরে ফুটবল জাদুকর সামাদ ছিলেন।

যদিও রেলওয়ের কোনো প্লাটফর্ম ইনস্পেক্টর পদ নেই তবুও জাদুকর সামাদের জন্য রেল কর্তৃপক্ষ এই পদ সৃষ্টি করেছিলেন। পরে তাকে বাংলাদেশ রেলওয়ে পার্বতীপুর জংশনে প্লাটফর্ম ইনস্পেক্টর হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। তিনি রেলওয়ে সাহেবপাড়া কলোনিতে টি-১৪৭ নম্বর বাসায় থাকতেন এবং মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি এই বাসাতেই ছিলেন।

ভারত বর্ষের বিহার এলাকার পুর্নিয়ায় ফুটবল জাদুকর সামাদের জন্ম হয়। তার পুরো নাম সৈয়দ আব্দুস সামাদ। তিনি ১৯৬৪ সালে ২ ফেব্রুয়ারি পার্বতীপুরে মৃত্যুবরণ করেন। পার্বতীপুর শহরের ইসলামপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

আজ আমরা বিদেশি খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্ব করে তাদের ছবি গায়ের জামাতে ছাপিয়ে ঘুরে বেড়াই। শোনা যায়, ফুটবলার জাদুকর সামাদের সোনার মূর্তি ব্রিটিশ মিউজিয়ামে রক্ষিত আছে। আমরা বিশ্বনন্দিত ফুটবল জাদুকর সামাদকে কতটুকু মূল্যায়ন করছি? পার্বতীপুরে রেলওয়ের নির্মিত একটি মিলানায়তন আছে। যা ফুটবল জাদুকর সামাদের নামে রাখা হয়েছে।

পার্বতীপুর শহরের ইসলামপুর কবরস্থানে সমাহিত করার দীর্ঘ ২৫ বছর অবহেলিত অরক্ষিত থাকার পর ১৯৮৯ সালে ৫২ হাজার টাকা খরচ করে নির্মাণ করা হয় স্মৃতিসৌধ। এখনো সেখানে রয়েছে সামাদ রেলওয়ে মিলনায়তন যা ১৯৪৯ সালে ফুটবল জাদুকর সামাদের নামে উৎসর্গ করা হয়েছিল। রয়েছে তার বসবাসকৃত রেলের বাসাসহ বেশকিছু স্মৃতিচিহ্ন। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তার স্মৃতিচিহ্নগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে।

যদি সরকার স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে ফুটবল জাদুকর সামাদের ছবিসহ জীবনী তুলে ধরা হয় তাহলে হয়তো ভবিষ্যতে তার নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি বেঁচে থাকবেন যুগযুগ।

বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর যুগান্তকারী সাফল্য: নোবেলের সম্ভাবনা

5c57b0ee2a0b27e086035a71910e61aaদীর্ঘ ৮৫ বছরে যেটা কেউ পারেনি, সেটা করে দেখিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানী জাহিদ হাসান। বহুল প্রতীক্ষিত অধরা কণা ফার্মিয়ন, ভাইল ফার্মিয়ন অস্তিত্ব আবিষ্কার করেছেন তিনি।

গত কয়েকবছরে যারা পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন, তাদের অবদানের সাথে এম জাহিদ হাসানের অবদানের তুলনা করেও এ সম্ভাবনার কথা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের একদল গবেষক পদার্থবিদ জাহিদ হাসানের নেতৃত্বে পরীক্ষাগারে এই কণা খুঁজে পেয়েছেন। এই আবিষ্কার এখনকার মুঠোফোন, কম্পিউটারের মতো ইলেকট্রনিক সামগ্রীর গতি বাড়াবে, হবে শক্তিসাশ্রয়ী।

গত বৃহস্পতিবার বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স-এ ভাইল ফার্মিয়নের পরীক্ষামূলক প্রমাণের বিষয়টি বিস্তারিত ছাপা হয়েছে।

এই আবিষ্কারের গুরুত্ব সম্পর্কে বলতে গিয়ে জাহিদ হাসান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভাইল ফার্মিয়নের অস্তিত্ব প্রমাণের মাধ্যমে দ্রুতগতির এবং অধিকতর দক্ষ নতুন যুগের ইলেকট্রনিকসের সূচনা হবে।

কেমন হবে সেই নতুন যুগের ইলেকট্রনিক সামগ্রী—জাহিদ হাসান বিষয়টির ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে, উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, এই আবিষ্কার কাজে লাগিয়ে তৈরি নতুন প্রযুক্তির মুঠোফোন ব্যবহারের সময় সহজে গরম হবে না। কারণ, এই কণার ভর নেই। এটি ইলেকট্রনের মতো পথ চলতে গিয়ে ছড়িয়ে পড়ে না।

গ্রহ-নক্ষত্র, পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা, গাছপালা, ফুল কিংবা মানুষ—সবই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার পিণ্ড। দুনিয়ার এসব বস্তুকণাকে বিজ্ঞানীরা দুই দলে ভাগ করেন। এসব কণার একটি ফার্মিয়ন, যার একটি উপদল হলো ভাইল ফার্মিয়ন। ১৯২৯ সালে হারম্যান ভাইল এই কণার অস্তিত্বের কথা প্রথম জানিয়েছিলেন। সম্প্রতি তাঁরই পরীক্ষামূলক প্রমাণ হাজির করলেন জাহিদ হাসান।

আরেক জাতের কণা হলো ‘বোসন’, যার নামের সঙ্গেই জড়িয়ে আছেন বাঙালি পদার্থবিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু। তাঁর আবিষ্কারের ৯১ বছর পর ভাইল ফার্মিয়নের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়ে পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে যুক্ত হলেন আরেক বাঙালি জাহিদ হাসান।

জাহিদ হাসান জানান, মোট তিন ধরনের ফার্মিয়নের মধ্যে ডিরাক ও মায়োরানা নামের বাকি দুই উপদলের ফার্মিয়ন বেশ আগেই আবিষ্কৃত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা ভেবেছেন, নিউট্রিনোই সম্ভবত ভাইল ফার্মিয়ন। কিন্তু ১৯৯৮ সালে নিউট্রিনোর ভরের ব্যাপারটা নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে আবার ভাইল ফার্মিয়নের খোঁজ শুরু হয়।
দীর্ঘদিন ধরে ফার্মিয়ন নিয়ে কাজ করছেন কানাডার ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানী আন্তন ভার্খব। আন্তর্জাতিক জার্নাল আইইইই স্পেকট্রামকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উচ্ছ্বসিত ভার্খব বলেন, তত্ত্বীয় জগতের জিনিসপত্র বাস্তব জগতে খুঁজে পাওয়ার মতো আনন্দের বিষয় আর কিছুই নেই।

পেতে পারেন নোবেল পুরষ্কারও
অনন্য এ আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরষ্কারের জন্যও মনোনীত হতে পারেন এ বিজ্ঞানী। তার এ আবিষ্কারের ফলে কেবল তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞানই পাল্টে যাবে না, বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে ইলেকট্রনিক ও কম্পিউটারের বাস্তব জগতেও। ইলেকট্রনিক আর কম্পিউটারের জগৎটা এমনিতেই বদলে যাচ্ছে দ্রুত, প্রতিনিয়ত উন্নতি হচ্ছে এ ক্ষেত্রে, কিন্তু এম জাহিদ হাসানদের আবিষ্কার এটাকে কী যে গতি দেবে, মসৃণতা দেবে, তা কল্পনা করতে গিয়ে হইচই পড়ে গেছে বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের মধ্যে।

গত কয়েকবছরে যারা পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন, তাদের অবদানের সাথে এম জাহিদ হাসানের অবদানের তুলনা করেও এ সম্ভাবনার কথা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না।
২০১৪ সালে পরিবেশবান্ধব বিকল্প আলোর উৎস নীল লাইট ইমিটিং ডায়োড (এলইডি) আবিষ্কারের জন্য পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন দুই জাপানি ও এক জাপানি বংশোদ্ভূত মার্কিন গবেষক। এরা হচ্ছেন জাপানের গবেষক ইসামু আকাসাকি, হিরোশি আমানো ও জাপানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক শুজি নাকামুরা।

২০১৩ সালে ‘হিগস বোসন’ বা ঈশ্বর কণার অস্তিত্বের তাত্ত্বিক ধারণা দেওয়ায় ব্রিটিশ বিজ্ঞানী পিটার ওয়ের হিগস ও বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী ফ্রাঁসোয়া এংলার্ট পদার্থবিদ্যায় যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। ‘হিগস বোসন’ কণা সম্পর্কে এমন ধারণা, যা ব্যাখ্যা করে, কীভাবে কোনো বস্তুর ভর সৃষ্টি হয়। এছাড়া এই তত্ত্ব ব্যাখ্যা করে, ‘ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফোর্স’র তুলনায় কেন ‘উইকফোর্স’র ব্যাপ্তি ক্ষুদ্র। এর ফলে মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য সম্পর্কে ধারণা পেতে সাহায্য করবে।

আর ২০১২ সালে আলোর মৌলিক একক (ফোটন) বিশুদ্ধ কোয়ান্টাম অবস্থা পরিমাপের পদ্ধতি আবিষ্কারের স্বীকৃতি হিসেবে ফ্রান্সের সার্জ হারোশে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডেভিড ওয়াইনল্যান্ডকে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

জালালাবাদ টিচার্স ট্রেনিং কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্য অধ্যাপক মো. হাসমত উল্লাহর পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন

Bashi-04মনাক্কা আক্তার চৌধুরী: সিলেট বিভাগে প্রথম শিক প্রশিণ প্রতিষ্ঠান জালালাবাদ টিচার্স ট্রেনিং কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্য অধ্যাপক মো. হাসমত উল্লাহর পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন। আমেরিকা ওয়াল্ড ইউনিভার্সিটি কেলফোনিয়া ইউএসএ এর অধীনে সম্পাদিত তাঁর গবেষণার শিরোনাম হচ্ছে, এ স্টাডি ওন প্রাইভেট টিচারস ট্রেনিং কলেজ ইন বাংলাদেশ : প্রবলেমস এন্ড প্রসফেক্ট। তিনি বিগত ০৫ মে ২০১৫ ইং তারিখে এমেরিকান ওয়ার্ল্ড ইউনির্ভাসিটি ক্যালিফোর্নিয়া, ইউ.এস.এ. থেকে পিএইচ.ডি. ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি ১৫ জুন ২০১৫ ঈসায়ী তারিখে এডাব্লউি ইউএসএ থেকে আগত পিএইচ.ডি, সনদ, ট্রান্সস্ক্রীপ্ট ও এডাব্লউি ইউএসএ এপ্রোভড থিসিস (ইংলিশ মিডিয়াম) তিনি ঢাকা থেকে সংগ্রহ করেছেন।
অন্যান্য গবেষণা কর্ম: বেসরকারি পর্যায়ে সিলেট বিভাগে প্রথম টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, জালালাবাদ টিচার্স ট্রেনিং কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্য হিসেবে কলেজের বি.এড. প্রশিণের অংশ হিসেবে কারিকুলামভূক্ত কর্মসহায়ক গবেষণা বিষয় সংশ্লিষ্ট গবেষণা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দীর্ঘদিন যাবৎ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি ১৯৯৯ সনে জালালাবাদ টিচার্স ট্রেনিং কলেজ প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই প্রাইভেট টি.টি, কলেজ হিসেবে এ জাতীয় কলেজের নানাবিধ সমস্যা নিয়ে চিন্তাভাবনা, আলোচনা-পর্যালোচনা এবং লেখা-লেখি ও গবেষণা শুরু করেন। তাঁর বি.এড. প্রশিণ এবং শিক প্রশিণ কলেজ নিয়ে বিভিন্ন সময় গবেষণামূলক প্রবন্ধ, নিবন্ধ যা বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিভিন্ন বিষয়ের উপর তাঁর লেখা পাঠ্যবই আছে। কিছু বই পাঠ্য হিসেবে পড়ানো হচ্ছে। তিনি শৈশবকাল থেকে সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী প্রতিভার অধিকারী। ‘বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ও বি. এড. প্রশিণ’ শিরোনামে তাঁর লেখা গবেষণামূলক প্রবন্ধ বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। চট্রগ্রাম বিশ্বাবিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগে এম.এসসি শেষ বর্ষে অধ্যয়নকালিন সময়ে টু সার্ভে টি রাইস ফিল্ড এন্টমফান অব দ্যা চিটাগাং ইউনিভাসিটি ক্যাম্পাস এন্ড ইটস সাবিয়াস এই শিরোনামের উপর একটি সমৃদ্ধ গবেষণাকর্ম ইংলিশ মিডিয়ামে সফলভাবে সম্পাদন করেন। এম. এড. প্রোগ্রামে অধ্যয়নকালীন সময়ে ও শিা প্রশাসন বিষয়ের উপর তিনি গবেষনণাকর্ম সম্পাদন করেন।
অধ্যাপক ডক্টর মো. হাসমত উল্লাহ জন্ম ও পরিবারিক জীবন: অধ্যাপক ডক্টর মো. হাসমত উল্লাহ ১লা জুন ১৯৬২ সনে বিশ্বনাথ উপজেলার ৫নং দৌলতপুর ইউনিয়নের ০৩নং সিঙ্গেরকাছ ওয়ার্ডের গোয়াহরি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম বুরহান উল্লাহ ও মাতা মরহুমা কুলছুমা বেগম, স্ত্রী মিসেস মনাক্কা আক্তার চৌধুরী। তিনি তিন ছেলে এবং এক মেয়ের জনক।
শিা জীবন: অধ্যাপক ড. মো. হাসমত উল্লাহ ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত গোয়াহরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করে পঞ্চম শ্রেণি পাশ করেন। ১৯৭২ সনে বুরাইয়া আলিয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেন। ১৯৭৩-১৯৭৫ সন পর্যন্ত একলিমিয়া হাই স্কুল বৈরাগী বাজার-এ ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়নের পর অষ্টম শ্রেণী পাশ করেন। ১৯৭৬-১৯৭৭ সাল পর্যন্ত বিশ্বনাথ রামসুন্দর বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম ও দশম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়নের পর ১৯৭৮ সালে কুমিল্লা শিা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চতর দ্বিতীয় শ্রেণিতে এস.এস.সি. পাশ করেন। ১৯৭৯-১৯৮০ সালে সিলেট সরকারি এম.সি কলেজে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নের পর ১৯৮১ সালে কুমিল্লা শিা বোর্ড হইতে বিজ্ঞান বিভাগে দ্বিতীয় শ্রেণিতে এইচ.এস.সি. পাশ করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সিলেট সরকারি এম. সি. কলেজ হতে ১৯৮৩ সালে দ্বিতীয় শ্রেণিতে বি.এস্সি পাশ করেন। ১৯৮৪-১৯৮৫ শিা বর্ষে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নের পর দ্বিতীয় বিভাগে এম.এস্সি প্রথম পর্ব পাশ করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় হতে ১৯৮৬ সালে এম, এস্সি শেষ পর্বে দ্বিতীয় বিভাগে পঞ্চম স্থান অধিকার করে কৃতিত্বের সাথে পাশ করেন। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হতে উচ্চতর দ্বিতীয় বিভাগে ১৯৯৫ সালে বি.এড. (বিজ্ঞান) ডিগ্রী লাভ করেন। ২০০০ সালে খানবাহাদুর আহসান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা হতে দ্বিতীয় শ্রেণিতে এম.এড. (শিা প্রশাসন) ডিগ্রী লাভ করেন।
চাকুরী জীবন: তিনি ১৯৮৯ সালে শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট-এ বিজ্ঞান শিক হিসেবে চাকুরী জীবন শুরু করেন। ১৯৯২-৯৩ শিাবর্ষে বিশ্বনাথ ডিগ্রী কলেজে জীববিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপনা করেন। ১৯৯৯ থেকে সিলেট বিভাগের প্রথম শিক প্রশিণ প্রতিষ্ঠান ‘জালালাবাদ টিচার্স ট্রেনিং কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যাবধি অধ্য হিসেবে দায়িত্ব পালনরত আছেন। দারুল ইহসান বিশ্বাবিদ্যালয়, ঢাকা এর অধীনস্থ মৌলভীবাজার আউটরিচ ক্যাম্পাসের কো-অর্ডিনেটর ছিলেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের এম.এড প্রোগ্রামের শিা প্রশাসন বিষয়ের অধ্যাপক ছিলেন। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের, বি.এড. প্রোগ্রামের শিা প্রশাসন বিষয়ে অধ্যাপনা করেছেন।
শিা েেত্র: *পরীক: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর। *সাবেক পরীক: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিাবোর্ড, কুমিল্লা, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
সামাজিক জীবন: অধ্যাপক ড. মো. হাসমত উল্লাহ, ইসলামী ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি বিশ্বনাথ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, হযরত ওমর ফারুক (রা.) একাডেমি, বিশ্বনাথ এর অন্যতম উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি, ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদ, গোয়াহরী এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহজালাল উপশহর একাডেমি (আই-ব্লক) সিলেট এর পরিচালনা কমিটির সদস্য, শাহজালাল উপশহর ওয়েলফেয়ার সোসাইটি এর সেক্রেটারি, শাহজালাল উপশহরস্থ ‘বাইতুন নাজাত’ জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ-সিলেটের আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ আদর্শ শিক পরিষদ ফেডারেশন-এর সিলেট জেলার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি, সিলম্যান প্রোপার্টিজ কোম্পানী লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এ ছাড়াও বিভিন্ন েেত্র নানা ধরনের সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে তিনি জড়িত।
বিশিষ্ট শিাবিদ, রাজনীতিক, সমাজকর্মী অধ্যাপক ড. মো. হাসমত উল্লাহ দেশ জাতি ও সমাজের উন্নয়নে একজন নিবেদিত প্রাণ ব্যক্তিত্ব। এলাকায় শিা বিস্তারে তিনি সদা তৎপর। একটি আলোকিত সমাজ প্রতিষ্ঠার ল্েয অধ্যাপক ড. মো. হাসমত উল্লাহ অকান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তাঁর অবদান কালের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. খাদেমুল ইনসান মোহাম্মদ ইকবাল

B.G.Dr. Ikbalব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. খাদেমুল ইনসান মোহাম্মদ ইকবাল দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি ইউনিয়নের বরইকান্দি সুনামপুর গ্রামে ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের ২ ফেব্র“য়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা (মরহুম) মোহাম্মদ মকবুল আলী। খাদেমুল ইনসান মোহাম্মদ ইকবাল সিলেট সরকারি পাইলট স্কুল থেকে ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে ম্যাট্রিক, সিলেট সরকারি কলেজ থেকে ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে ইন্টারমেডিয়েট এবং ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে সিলেট মেডিকেল কলেজ থেকে এম.বি.বি.এস পাস করেন। তিনি ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোরে সরাসরি ক্যাপটেন হিসেবে কমিশন প্রাপ্ত হন। ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে মেজর রেঞ্জে পদোন্নতি লাভ করেন। ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে লেফটেন্যান্ট কর্নেল এবং সামরিক চিকিৎসা সার্ভিসের সহকারী মহাপরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ খ্রিস্টাব্দে কর্নেল হিসেবে পদোন্নতি হয় এবং বাংলাদেশ রাইফেলস এর মেডিকেল সার্ভিসের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে বিগ্রেডিয়ার জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন। তিনি ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ হতে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিডফোর্ড হাসপাতালের পরিচালকের দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন। বর্তমানে তিনি অবসর গ্রহণ করছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ৩ কন্যা সন্তানের জনক।

প্রবাসী জিলানী : একজন আদর্শ ব্যক্তিত্ব

images11মেধা মননে একজন বিচক্ষণ বাঙালি এ কে এম জিল্লুর রহমান জিলানী। পরোপকারে বেশিভাগ সময় ব্যয় করেন। তিনি ইউরোপের ইংল্যান্ডে বসবাস করলেও বুকে ধারণ করেন বাংলাদেশকে। আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে গভীরভাগে ভালোবাসেন জিলানী। এ মাধ্যমগুলোতে মিশে থাকতে চান আজীবন। কারণ এখানে রয়েছে তাঁর মনের খোরাক। আত্মার মিল।
জিল্লুর রহমান জিলানীর জন্ম ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৩ মার্চ। তিনি সিলেটের দক্ষিণ সুরমার কুচাই ইউনিয়নের পশ্চিমভাগ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা মরহুম হাবিবুর রহমান ও মাতা মরহুমা রোকেয়া খানম। পিতা হাবিবুর রহমান প্রথম দিকে মুসলিম লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন, পরবর্তীতে আওয়ামীলীগ রাজনীতি করতেন। তিনি কুচাই ইউনিয়ন পরিষদে দুই মেয়াদে বার বছর মেম্বার হিসেবে জনগণের সেবা করেন এবং মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত বাস মালিক সমিতির সভাপতির গুরুদায়িত্ব পালন করেন।
জিল্লুর রহমান জিলানী প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন ব্লুবার্ড স্কুলে। পরবর্তীতে তিনি দুর্গাকুমার পাঠশালায় তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে সিলেট সরকারি পাইলট হাই স্কুল থেকে ১৯৭২ সালে এসএসসি পাশ করেন। ভর্তি হন এমসি কলেজে (বর্তমানে যা সরকারি কলেজ) এবং ১৯৭৫ সালে যথারীতি এইচএসসি পাশ করেন। তারপর সুপরিচিত বিদ্যাপীঠ সিলেট সরকারি কলেজ অর্থাৎ বর্তমান এমসি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স পাস করেন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮১ খ্রিস্টাবে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। লেখাপড়া শেষে দেশে কিছু দিন চাকরি করেন। ১৯৮৬ সালে তিনি স্বপ্নের দেশ ইংল্যান্ড ভ্রমণ করেন এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
ইংল্যান্ডে বাঙালিদের চিরচেনা রেষ্টুরেন্ট ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন তিনি এবং ধীরে ধীরে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। ব্যবসায় সফল হলেও তিনি শুধু ব্যবসায় ডুবে থাকেননি। ইংল্যান্ডের বহুল প্রচারিত সাপ্তাহিক সুরমা পত্রিকায় কাজ করার প্রয়াস পান। সাপ্তাহিক সুরমা পত্রিকার সত্যবাণী সম্পাদনা দায়িত্ব তাঁর ওপর পড়ে এবং সফলতার সাথে তিনি সম্পাদনা করেন। পরবর্তীতে তিনি ‘সাপ্তাহিক পত্রিকায়’ কাজ শুরু করেন। সাপ্তাহিক পত্রিকায়ও তিনি ইসলামের শিক্ষা, ইতিহাস ও ঐতিহ্য পাতা সম্পাদনা করেন। বর্তমানেও তিনি সাপ্তাহিক পত্রিকায় কর্মরত আছেন। ধর্মের প্রতি অগাধ বিশ্বাস এবং ধর্মীয় চিন্তাচেতনায় গভীর মনোযোগ থাকায় তাঁর ওপর পত্রিকার ধর্মীয় পাতাগুলো সম্পাদনার দায়িত্ব পড়ে। তিনি দৃঢ়তা ও দক্ষতার সাথে তাঁর দায়িত্ব পালন করে যান।
জিল্লুর রহমান জিলানী আপাদমস্তক একজন মুসলমান। কোরআন ও হাদিসের শাশ্বত বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে মেধা ও অর্থ উভয় ব্যয় করতে কার্পণ্য করেন না। তিনি বাংলাদেশের খুলনার প্রফেসর শামসুর রহমান এর ৪০টির মত ইসলামী বই নিজের অর্থায়নে প্রকাশ করে দিয়েছেন।
জিলানী একজন গর্বিত বাঙালি। যিনি কাজে বিশ্বাসী। নিরবে নিভৃতে কাজে ডুবে থাকতে চান। কাজে আনন্দ পান। কথায় আর কাজে মিল রেখে এগুতে চান সামনের দিকে। তিনি সর্বদা প্রচারবিমুখ। প্রবাসে ব্যবসার পাশাপাশি বহুল প্রচার মাধ্যম সংবাদপত্রে কাজ করেও প্রচারবিমুখ তিনি।
আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হলেও ফার্স্ট ওয়ার্ল্ডের কালচার সংস্কৃতিকে ধারণ করতে চান না। শাশ্বত ইসলামের ঐশিবাণী বুকে ধারণ করে তাঁর নিত্যদিনের পথ চলা। তিনি কুরআন ও সুন্নার প্রতি গভীর অনুরক্ত। তাই নিজ খরচে ও নিজের তত্বাবধানে বোখারী শরীফ ও আবু দাউদ শরীফের সকল খন্ড বাংলায় অনুবাদ করান এবং সাধারণ মানুষের পড়ার সুযোগ করে দেন। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকার আলবাণী একাডেমি থেকে বোখারী শরীফ ও আবু দাউদ শরীফ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি আবার আলবাণী একাডেমির অনেক ইসলামি বইয়ের প্রকাশক এবং পৃষ্ঠপোষকের দায়িত্ব পালন করছেন। এ জন্য আলবাণী একাডেমি তাঁকে প্রধান উপদেষ্টা মনোনিত করেছেন এবং খুলনার প্রফেসর শামসুর রহমান সংসদের সাথেও তিনি ওতোপ্রোতভাবে জড়িত।
জিল্লুর রহমান জিলানী ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। তিনি ১৯৮৩ সালে বিবাহ বন্ধনে আবন্ধ হন। তাঁর সহধর্মিণী জেসমিন নাহার রহমান। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান। বড় ছেলে সানিয়াত রহমান অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে বায়ো কেমিস্ট্রিতে এমএসসি পাস করে লন্ডন ইমপিয়েল কলেজে পিএইচ.ডি অধ্যয়নরত। ছোট ছেলে জাহিন রহমান ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স করছেন। আর একমাত্র মেয়ে রামিশা রহমান ও লেভেল পরীক্ষার ফল প্রার্থী।
জিলানী একজন সফল, সুখী ও সার্থক মানুষ। তাঁর মনে সদানন্দ বিরাজ করছে। বাকী দিনগুলো এভাবেই কাটিয়ে দিতে চান তিনি।

অধ্যাপক ড. আহমদ কবীর

2-18শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমদ কবীর দণি সুরমার মোল্লারগাঁও ইউনিয়নের নিদনপুর (লতিপুর) গ্রামে ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা হাজি মো. রিয়াজুল ইসলাম ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ট্রেজারি একাউন্টেন্ট ও দাদা (মরহুম) হাজি আবদুর রহমান ছিলেন ডিসি অফিসের জেলা নাজির। ড. আহমদ কবীর ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে এস.এস.সিতে প্রথম বিভাগে, ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দের এইচ.এস.সিতে প্রথম বিভাগে পাস করেন। তিনি ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এস.সি (সম্মান) প্রথম বিভাগে পাস করেন এবং ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এস.সি প্রথম বিভাগে পাস করেন। তিনি ২০০১ খ্রিস্টাব্দে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচ.ডি ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০৬ থেকে ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ লন্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিষয়ে পোস্ট ডক্টরেট আন্ডার কমনওয়েলথ ফেলোশিপ লাভ করেন। তিনি ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দের ১৫ ডিসেম্বর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি এই বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। এছাড়া তিনি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক সমিতির ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে নির্বাচিত সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

Developed by: