বিভাগ: সাহিত্য-সংস্কৃতি

দক্ষিণ সুরমার সুরটা কেমন? আলম তালুকদার

27-7-4‘দক্ষিণ সুরমার ইতিহাস ও ঐতিহ্য’ বইটি আমার সামনে। সুরমার সাথে সিলেট নামটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। উত্তরের নয়, দক্ষিণের সুরমা। এখানের সুর কী অন্যরকম? এখানের সুরে কী মিঠা বেশি নাকি চিনি বা গুড় বেশি। এর জবাব দিয়েছে নওয়াব। মানে মোহাম্মদ নওয়াব আলী। তিনি অনুসন্ধানী, তিনি মনুসন্ধানী এবং মননশীল লেখক ও সম্পাদক।
আসুন এক নজরে বইটি দেখা যাক। বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মাত্র ৪৮০, প্রকাশক মকসুদ আহমদ বাসিত। বাসিয়া প্রকাশনী, স্টেশন রোড সিলেট। প্রচ্ছদশিল্পী আরেক স্বনামধন্য সিলেটবাসী ধ্র“ব এষ। আলোকচিত্রী : মো. রিয়াজউদ্দিন ও আজাদুর রহমান সুমন, মূল্য মাত্র ৫০০/- টাকা। প্রকাশকাল- অমর গ্রন্থমেলা-২০১৩। বইটিতে প্রথম অধ্যায় হতে শুরু করে পঞ্চদশ অধ্যায়ে খতম করা হয়েছে। সুরমা দক্ষিণের মানচিত্রসহ ৯টি ইউনিয়নের মানচিত্র ব্যবহার করা হয়েছে। সুরমা দক্ষিণ উপজেলার কি কি আছে তা এক নজরে উল্লেখ করা হয়েছে।
মৌজা, নদ-নদী, খালবিল, জল মহলের এবং হাট-বাজারের তালিকা আছে তৃতীয় অধ্যায়ে। মসজিদ, মন্দির, গির্জা, তীর্থস্থানসহ বিভিন্ন স্থানের নামকরণের বিবরণ আছে চতুর্থ অধ্যায়ে। গণকবরের বিবরণও পাওয়া যাবে এ অধ্যায়ে।
৫ম অধ্যায়ে ঐতিহাসিক স্থানের বিবরণ। ৬ষ্ঠ অধ্যায়ে ব্যক্তিত্ব, শিক্ষা, সাহিত্য, রাজনীতি, সাংবাদিকতার আইন বিচার প্রকাশ, কৃষি বাণিজ্য, তথ্য প্রযুক্তি, চিকিৎসাসহ প্রবাসীদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
৭ম অধ্যায়ে বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাবে। ৮ম অধ্যায়ে সরকারি-বেসকারি যাবতীয় প্রতিষ্ঠানের বিবরণ পাওয়া যাবে।
৯ম অধ্যায়ে শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা সন্নিবেশিত করা হয়েছে। দশম ও একাদশ অধ্যায়ে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া যাবে।
দ্বাদশ, প্রাথমিক শিক্ষা, ত্রয়োদশ অধ্যায়ে আছে সংসদ, উপজেলা ও সিটি নির্বাচন। চতুর্দশ অধ্যায়ে বিভিন্ন ওলি আওলিয়া দরবেশদের পরিচয় পাওয়া যাবে। পঞ্চদশ অধ্যায়ে আছে বিবিধ বিষয়ের কথা।
বইটি পাঠ করলেই বোধা যাবে কতটা পরিশ্রম এবং মেধা খরচ করা হয়েছে। নওয়াব আলী অসাধ্য সাধনের কাজটি করেছেন। তাকে দেখলে কথা বললে মালুম করা কঠিন। ভিতরে ভিতরে এতটা গবেষণার জন্য প্রস্তুতি এবং প্রস্তুত হয়ে কাজটি সমাধান করেছেন। সে জন্য আমি বিষ্ময়ের সাথে অভিনন্দন জানাচ্ছি। এটা খাতিরের মন্তব্য নয় এটা তার আদায় করে নেবার যোগ্যতার স্বীকৃতি। নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো মানুষের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। মোহাম্মদ নওয়াব আলী এই বিষয়ে অগ্রগামী। জানিনা তার পরিবার তাকে কীভাবে মূল্যায়ণ করে থাকে। তবে আগামীদিনে তিনি সুরমা অঞ্চলের একজন অগ্রগামী গবেষক বলে চিহ্নিত হয়ে গেলেন।
তিনি বইয়ের কথাসূত্র নামক ভূমিকায় বলেছেন, “নানা জনের হরেক রকম কথা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ সমালোচনা, মন্তব্য মহতী কাজে স্থির থাকার পথে বিরাট অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তারপরও নিজেকে প্রোএকটিভ রেখে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহে ছুটেছি গ্রাম থেকে গ্রামে। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর। সমালোচকদের সমালোচনাকে উপেক্ষা করে তা থেকে শক্তি ও সাহস নিয়ে এগিয়েছি”।
তিনি আরো প্রত্যাশা করেছেন, “এ গ্রন্থ কোন আর্থিক রুটি রুজির বাহন নয়, বরং আমার জন্মভূমির যে মাটিতে আমার শেকড় প্রোথিত যে মাটিতে সে মাটি ও মানুষের ইতিহাস ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াস। কারণ আঞ্চলিক ইতিহাস সংগৃহীত হলে জাতীয় ইতিহাস সমৃদ্ধ হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস”।
এই তার সরল এবং স্বাভাবিক উচ্চারণ তার প্রতি আমার সহমর্মিতা সে আদায় করেই নিয়েছে আর কী !
কোন এক মনীষী বলেছেন, মানুষ অমরতার জন্য তিনটি কাজ করে। একটি হলো- সে প্রজন্ম সৃষ্টি করে। মানে বাবা-মা, দাদা-দাদী, নানা-নানী হয়। দ্বিতীয়টা হলো, সে সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চায় আকৃষ্ট হয়। মানুষ এতেই সন্তুষ্ট হতে পারে না। বয়স হলে, শরীর দুর্বল হলে মানুষ ধর্মে মনোযোগ দেয়, সেই জন্য ধর্মীয় গ্রন্থ তৈরি করে। তীর্থ স্থানে গমন করে যাতে পরলোকেও সে ভালো থাকতে পারে।
আমাদের দক্ষিণ সুরমার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের লেখক মোহাম্মদ নওয়াব আলীর তিনটি আশাই পূর্ণ হোক এটাই আমার আন্তরিক প্রত্যাশা।
লেখক : মহাপরিচালক, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর, শাহবাগ ঢাকা।

কয়েকটি অনির্বাচিত কবিতা ॥ ফকির ইলিয়াস

27-7-3পাঠক সংখ্যা এক

 

যে কবিতাটি আমি একটি জাতীয় দৈনিকে

পাঠিয়েছিলাম, তা আর কেউ পড়েনি।শুধু

পড়েছিলেন ঐ দৈনিকের সাহিত্য সম্পাদক।

তারপরে ছুঁড়ে দিয়েছিলেন ডাস্টবিনে।সেই

থেকে আমার ঐ কবিতাটির পাঠক সংখ্যা

একজনই ।

 

তিনি ফেলে দিয়েছিলেন ,কারণ তার ভালো

লাগেনি কবিতাখানি।

 

এই ভবের বাজারে ,অনেকের অনেক কিছুই

ভালো লাগে না।

কারো ভালো লাগে না যোগাত্মক যন্ত্রনা।

আবার, কারো ভালো লেগে যায় বিয়োগাত্মক বন্দনা ।

 

তা নিয়ে আমার কোনো অনুযোগ নেই

প্রকাশিত কথা হচ্ছে এই ……

যারা কবিতা বুঝতে জানে তারা প্রজাপতির পাশে দাঁড়াবেই ।

 

।।।।।।।।

ছিটমহল

 

ছড়িয়ে আছে পাথরদানা।জানা- অজানার বনভূমি ছুঁয়ে শিশুরা খেলে

যাচ্ছে সাপ-লুডু খেলা। বেলা দাঁড়িয়ে দেখছে জীবনের গমনদৃশ্যরূপ।

চুপ করে থাকি। আঁকি আমিও সম্প্রসারিত ভুলের কোলাজ। আওয়াজ

দেবার কথা ছিল যাদের, তারাও ছিটমহলের বাসিন্দা এখন। দ্রবণ

শেষ হলে প্রেমও কি তবে ছিটকে পড়ে পরাকাশের ,প্রান্তে অবশেষে!

ভালোবেসে মাটির মরম, দেখে যেয়ো … জমাট পাথর বাঁধা বুকের প্রদেশে।

 

।।।।।।।।

ঘাসগল্প

 

কিছুটা গৌরবগরজ নিয়ে আছি। কিছুটা রক্তাক্ত রাতের শরীরে মিশিয়ে শরীর।

এভাবে থেকে যেতে হয় । বিনয়ের কবিতা পড়ে শিখেছি বিনয়।

আর শক্তির কাছ থেকে ধার নিয়ে শক্তি, খুঁজেছি নির্জনতার ছায়া।

 

শনাক্ত করতে পারলে বুঝা যায় জলভাষা। দৃষ্টির দিগন্ত ছুঁলে ধরা যায়

বৃষ্টিবর্ণ । প্রতিবেশী প্রেমিকাকে ঘাসগল্প শুনিয়ে ঘুরা যায় নক্ষত্রনগর ।

 

কিছুটা মৌনতা নিয়ে আছি। গৌণ ভুলগুলোর চূড়ায় গোলাপ পাপড়ি

সাজিয়ে বার বার হয়েছি বশ্য। পারলে দিয়ে যেতাম এর অধিক কিছু।

এই শৌর্যের সন্ধ্যাতারার মেলায়, ভার্চুয়াল জোসানারা যেমন ভাসে দ্যোতনায়।

 

।।।।।।।।

এ্যাটাচম্যান্ট

 

মেঘের আলোয় লুকিয়ে রাখি মেঘালয়। অনাদি ঈশ্বর এসে ঢেকে দেবেন

আমাদের কামঘুম , সে প্রত্যয় নিয়ে গোণি প্রহর । বুঝে , না বুঝে আমরা

যারা খেলি প্লাস-মাইনাস খেলা ,তাদের সমবেত তাঁবুতে ছিটাই কুয়াশামন।

 

সংগ্রহ শেষ হলে পাঠিয়ে দেবো তোমার ঠিকানায়। লগো দেখে তুমি তা

যুক্ত করে নিতে পারবে তোমার ডেস্কটপে।তারপর ম্যাচমেকিং করে দূর

আকাশের রঙের সাথে মিলিয়ে নিতে পারবে গৃহীত উত্তরের রঙ। চাইলে

ডিলিট ও করতে পারবে । তবে বলি ,তার আগে শিখে নিও ‘সেভ ইয়র

সোল’। এ্যাটাচম্যান্ট করে পাঠিয়ে দিও অন্য কারো কাছে।যে জন যতনে

শিলং শহরে ……..

একজন অনিমিতা দেবরায়ের খোঁজে দিবানিশী ঘুরে ।

 

।।।।।।।।

মাস্তুল

 

এই বাঁকে কী এর আগে দাঁড়িয়েছিল কেউ। মাস্তুল কাঁধে ফেরারী মাঝির

মন নিয়ে দেখেছিল ভাঙনের সপ্তদৃশ্য ! এবং ওপারের মানুষের বিরহে

ঢেকেছিল দু’চোখ !

 

এমন প্রশ্ন নিয়ে জল খেলে ঘূর্ণি ঘূর্ণি খেলা

বেলা বয় ধীরে-

যমুনার দুই পাড়ে স্মৃতিমেদ বসিয়েছে মেলা

Developed by: