বিভাগ: সাহিত্য-সংস্কৃতি

মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া’র একগুচ্ছ কবিতা

kib
ছড়িয়ে নয় জড়িয়ে

কোন কোন সময় নিজেকে খুব ছড়িয়ে দিতে ইচ্ছে হয়।
মনে হয় এইতো বেশ আছি, ছড়িয়ে, জড়িয়ে, সর্বাঙ্গে
মনে হয় ছড়িয়েও আছি, জড়িয়েও আছি
মনে হয় দূরে থেকেও আছি, আছি কাছের মায়ায়।
কিন্তু, ডানা দুটো সহসাই ক্লান্তিতে বিমর্ষ হয়ে পড়ে
ছড়িয়ে থাকা ডানার ভার ডানার কাঁধে চেপে বসে
পাহাড়ের চেয়েও ভারি হয়ে ওঠে পালকের ওজন।
ছড়িয়ে থাকি আগুনের চারপাশে
ধবল শীতে মনে হয় ঐতো আগনের শিখা নাগালের মাঝে।
শীতের প্রকোপে ডানা দুটো জড়িয়ে যায়
ফিরে ফিরে আসি শিখার আলিঙ্গনে
ছড়ানো ডানা জড়িয়ে যায় শিখার উত্তাপে।
আসলে বেশিক্ষণ ছড়িয়ে থাকা যায় না।
কখনো কখনো জড়িয়ে থাকাতেই ছড়ানোর সুখ
জড়িয়ে পড়ি হারানো আঙ্গিনায়।
দিগন্তের শেষ বিন্দু থেকে ক্রমশ:
নিজেকে জড়িয়ে নিই জির্ণ কুটিরে।
মনে হয়, ছড়ানোতে সুখ নেই
জড়িয়ে আছি সেই বেশ, সেই বেশ।

হর্ষে বিষাদে

আকাশে বুক পেতেছি
নক্ষত্রে রেখেছি পদযুগল
তারারা খসে যায় হাতের স্পর্শে।
এই অবেলায় তোমাকে খুঁজছে বুকের আকাশ
পায়ে পায়ে তোমার পদধ্বণি
হাতের মায়ায় মেঘ ছুটে যায় বিষাদ-হর্ষে।
স্পর্শে হর্ষে বিষাদ-বিবাদে
তুমি হাসছিলে অবিরাম
অবিরাম হাসছিলে।
তারারা তখন খসছিলো
নক্ষত্রে আঁধারের প্রলেপ
বুকের রঙিন আকাশটা দুমড়ে যায়
এই অবেলায়
এই অযতনে।
তাই বুক পেতেছি আকাশে
পদযুগল নক্ষত্রে
হাতের স্পর্শে তারার হাহাকার।

বুকের ঘুম

ব্যস্ত শহর ঘুমায় না
বুকের ভেতর যেদিন শহুরে আনাগোনা
সেদিন ঘুম আসে না।
মাথায় জ্বলে শত শত সোডিয়াম বাতি
বুকের মসৃণ পীচে ছোটে চলে যন্ত্র-দানব।
বুকের শহর জেগে রয়।
নিশিরাত, বাঁকা চাঁদ জেগে রয়
মানুষগুলোর স্বপ্নেরা সারথী হয়
রাতজাগা মাতালের গান
নিশিবালার অতৃপ্ত প্রাণ
জেগে রয় বুকের পাশে।
রাত জেগে রয়, জাগে বুকের আকাশ
জেগে রয় গুনগুনানি পেলব বাতাস।
বুকের জমিনে যেদিন সোডিয়াম জ্বলে
সেদিন মাথায় অঘুমের আয়োজন।
এমনও হয়-
বুকটাই রাজপথ হয়ে যায়!

আলোকিত প্রদীপের ছায়া

আকাশে যে আলোটা জ্বেলেছো
তার রং ছেলেবেলার সন্ধ্যার মতো
আলোরা ছুটে চলে এপারে ওপারে
সোহাগির দু’কূল ঘেষে।
সন্ধ্যার প্রদীপে যে সুগন্ধি ঢেলেছো
তার থেকে ভেসে আসে কৈশোরের দোলাচল
সুগন্ধিটুকু ছড়িয়ে যায় মর্মে মর্মে
বিবিয়ানার নির্জীব স্রোতে।
যে ছায়া মেলেছো রোদেলা দুপুরে
সে যেনো চেনা বটের ফুলঝুড়ি; তপ্ত যৌবনের বিশ্রাম
ছায়ার মায়ায় ভেসে আসে অবিরাম
কুহকী প্রিয়ার দীর্ঘশ্বাস।
ওহে আলোকিত প্রদীপের ছায়া
গোছাও তোমার মায়া
এবার একটু বেড়ে ওঠতে দাও
এবার একটু দূরে সরে যাও।

ওয়াহিদ জালাল’র একগুচ্ছ কবিতা

jalal

তুমি আমার একাকীত্বের চাঁদ

চারদিকে মাটির দেয়াল, খুব শীতল অন্ধকার,
সদ্য বিয়োগ ব্যথাতুরা সম্পর্ক
তবুও তুমি ঘুমিয়ে আছো একা;
এভাবেই বুঝি ছেড়ে থাকতে হয় সেখানে?
মনে পড়ে আজ, খুব করে মনে পড়ে;
প্রবল শীতের আহ্লাদে ঘরময় তুমি
খুঁজে ফিরতে একটু ওম, তারপরঃ
নিরবচ্ছিন্ন নিরবতায় তাকাতে আমার মুখের দিকে!
যা কিছু পাবার যোগ্য নই আমি
পেয়েছি কত পূর্বে, নিবিড় দেহে মুখর সন্ধ্যা!
চিঠির মত ভয়ে খুলছি অন্ধকারে বিরহ
নিস্তব্ধ নিঝুম কাগজে তোমার নাম লেখা,
ব্যাকুল সুরে দুরাশা মনের মলাটে আঁকে
শূন্যতার পরিচয়; সরল স্নেহে দুঃসাহসিক হবার
জন্য বালিশে পুরানো ঘামের গন্ধ শুঁকি;
প্রেমের ওপর আস্থা সহানুভূতির হাত রাখে।
তুমি ছিলে তখন আমি বুঝিনি,
তোমার শূন্যতায় মনের পৃথিবীর তৃষ্ণা অধিক,
অসীম জিজ্ঞাসা আয়ুর মুখোমুখি এসে দাঁড়ায়!
তোমাকে দেখার ব্যাকুলতায় অনন্তে ভিখিরি হই;
শেষে ভাবি, তুমি আমার একাকীত্বের চাঁদ।

বেখেয়ালে দীর্ঘ হয়ে যায়

ক্ষতবিক্ষত জীবনের বিস্ময় অজান্তে খসে
পড়ে সাধকের আহ্বানে ছোঁয়া মাটিতে,
সালিশ শেষে অন্যায়গুলো যেমন করে হাসে
সত্যের চোখে জলের ওপর বসে
ঠিক সেই ভাবে নিরুদ্দেশ এক বিজন কায়া।
রাত্রির কুসুমগন্ধী বাতাস পথরেখা খুঁজে
শপথ মুখর সূর্যের নামে মালা গাঁথে
সেও এক সঞ্চিত প্রেমিকের শুদ্ধ অভিমান,
আয়ত্তের খুঁটায় অন্তিমের আনাগোনা
বেঁধে রাখি অনাগত দিনের অভিশাপ।
অবরুদ্ধ স্বপ্নহীন অসংখ্য বেদনার জিজ্ঞাসা
স্বপ্নময় ঘরে সন্ধ্যার হৃদয়ের কাছে
খুব ভেতরে যাবার আকুতি করছে আজ
তবু বেখেয়ালে দীর্ঘ হয়ে যায় দীর্ঘশ্বাসের
ছায়া, বকুলের মায়া ভেজা কবির ভোরবেলা।

পুড়াপাখী তুই দীর্ঘশ্বাস

বদলে যায় একদিন
জ্বলন্ত বুকের ওপর জীবনের দীর্ঘশ্বাস
সারারাত নক্ষত্রের তলে
বিষম চেনা দূরের বেহায়া আকাশ।
বুকের মাটিতে
তোমার স্পর্শবীজ হেফাজতে নিজস্ব আগ্রহে
যদি লুটিতে
বিলকুল খাঁটি মহব্বতে মনের সিজদারত ঈদগাহে।
বদলে যায় একদিন
রক্তের ভেতর বয়েচলা সুখ কিংবা দুঃখ
শরিফ হৃদয়ের নয়নে
চাঁদের শরীর ছুঁতে কপালের তৃষ্ণা অতি সুক্ষ্ম।
চোখের লোভ বেহায়া হয় তোমার দেয়া রুমালে
আমার স্মৃতির বিশ্ব ভেজা রাশি-রাশি বেদনার জলে!

নৈঃশব্দের রাত জেগে

আমি জানতাম
একদিন তুমি ঘুমিয়ে পড়বে
আর আমি
তোমার নাম ধরে ডাকতে-ডাকতে
আবার মানুষ হবার জন্যে ছুটে যাবো
পুণ্যফলের লোভে শূন্যতার দিকে ।
জ্ঞানের গেলাসে
অলৌকিক অমৃতের ভাড় রাখবে
কেবল ঘূর্ণিঝড় অথবা
দয়াময়ী কোন দেবীর পরম হাত
যে বুকের কপাট খুলে দেবে রেশমি হাতে ।
যে কাজল
দেহের ঝরেপড়া ঘামে বসে শিস দেয়
তার চেয়ে
অধীক অদৃশ্য তড়িত প্রার্থনা করে বসে
ব্যাকুল রাজকীয় স্পর্শের বেদনার উল্লাস ।
আমি জানতাম
পৃথিবী সুর্যলোকে আর কোনদিন পৌঁছবেনা
তোমাকে আমার চিৎকার
আমি জানতাম
রাত পোহানোর ডাক শুনে অবাক পৃথিবী
কুসুম শয্যায় দেবে বিচ্ছেদ উপহার ।

কাজল রশীদ‘র একগুচ্ছ কবিতা

k
দুঃখাভিভূত

ঘন কালো মেঘ দেখে
এক শিথিল হাওয়ায়,
জড়িয়ে আছে
সোনারাঙ্গা মায়াবী মন।
নুয়ে আছে
কুমারী চাঁপা মালিহীন বাগানে।
ধুলিভরা পাতায় লেগেছে
উড়াল হাওয়া।
জমিন কাঁদে চৈত্রে
মেঘ উড়ে বিমর্ষে
পাংশুল তীরে অভিভূত পাখি
আঁধার রাতের যাত্রী
পার হই না গোধূলি লগ্ন।

অলীক নগর

ভোরে পাড়ি দিলাম উত্তাল ঢেউ
দুপুরে বৃষ্টির নোনাজল
সন্ধ্যায় দাঁড়িয়ে আছে বেশ কিছু পাখি
সমুদ্র তীরে
ঢেউয়ের গুঞ্জন থেকে জল তুলবে বলে ।
রাত্রির রাগিণী…
দীর্ঘ সময়ের ক্লান্তিময় দুপুর শুয়ে আছে কাগজের পানসীতে ।
জমকালো তীর, সমুদ্রে মাতাল ঢেউ, উদভ্রান্ত বাঁক
ভীত শিরে দাঁড়িয়ে আছে শ্যামলা পাখীর ঝাঁক ।

এখানে নোঙর ফেলা যাবে…?

ধারণা গুচ্ছ
ক,
জ্যামিতিক নিয়ম তুমি মান না
সমীহ করো না বিবাগী সন্ধ্যার
অথচ নিজেকে সঁপ আর
ঢেউ তুলো কান্দার।

খ,
তোমার লজ্জা ঢাকতে গিয়ে
লাজের চাদর খুলে দিলাম
অথচ তোমার সৌভিক উপহার
হারানো রাত্রিতে পেলাম।

গ,
শূন্যেতে জন্ম যার বদ্ধ কুঠিরে
দশক বিভাজন করো কবিতার ফিতায়
অথচ অতীতের পা-চাটো
মননের পূরক সমতায়।

ঘ,
তুমি বিভক্ত করো শীর্ণ কুঠির
সওদা করো নিভৃত চুলা
অথচ বিত্ত-বৈভবের সৌখীন খেলায়
নাঙ্গা হলো বেলা ।

বেআব্রু সময়

নিরন্তর পেরেক মারে
বেআব্রু সময়
কর্ণের কথা শুনে কয়জন।

টিকটিকদের শহরে জলখোর
গঙ্গাজল ছিটিয়ে রাখে
এ কোন মহাজন ?

খ,
পরস্ত্রীর দিকে ঝুঁকে থাকা বিকেল
বেআব্রু গরম হাওয়া তীব্রতা নিয়ে
লাটিমের মতো ঘুরছে… হাতে ভায়োলিন।

রমণী রাত জানে গর্তের ঠিকানা
জন্ম-দোষের কোন সীমানা নেই।

গ,
ক্যানভাসের রঙচঙ দ্যাখে
বেতবন কাপাচ্ছে লম্পট প্রাচীর
সময় কতটা বেআব্রু হলে
মেঠো কুমারী রক্তস্নাত হয়।

সিলেট অঞ্চলে মরমী কবিরা জন্মগ্রহণ করে আমাদেরকে ধন্য করেছেন —-প্রফেসর ড. মো. আমিনুল হক ভুইয়া

20160731210438শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আমিনুল হক ভুইয়া বলেছেন, অসংখ্য মরমী কবি ও সাধকদের পূন্যভুমি আমাদের সিলেট অঞ্চল। আধ্যাতিক রাজধানী খ্যাত এই সিলেট অঞ্চলে অনেক জ্ঞানী গুণীরা জন্মগ্রহণ করে আমাদেরকে ধন্য করেছেন। গীতিকার শাহ আবদুল ওদুদ একজন প্রবাসী কবি। প্রবাসে থেকেও তিনি দেশের মানুষকে আলোকিত করতে অনেক অবদান রেখে যাচ্ছেন। তার একটি গান যদি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারে তবেই তার গান লেখা স্বার্থক হবে। গীতিকার শাহ আবদুল ওদুদ রচিত ‘পরশমণি’ গ্রন্থের প্রকাশনা ও মনোজ্ঞ সাস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
বাসিয়া প্রকাশনী সিলেট কর্তৃক আয়োজিত গত ৩১ জুলাই রোববার বিকেল সাড়ে ৫টায় সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ প্রকাশনা ও মনোজ্ঞ সাস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
কবি ও সাংবাদিক সাইদুর রহমান সাঈদের সভাপতিত্বে এবং আনহার আলী ও জান্নাতুল ফেরদৌসের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বেতার, সিলেট-এর উপআঞ্চলিক পরিচালক আব্দুল্লাহ মো. তারিক, সিলেট কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ কবি ড. মোস্তাক আহমাদ দীন, কবি ও গবেষক এ কে শেরাম, কবি ও সংগঠক আসমা মতিন, শাবিপ্রবির রেজিষ্ট্রার মোঃ ইসফাকুল হোসেন, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবু জাহিদ, সমাজসেবী ডা. আব্দুল হাই প্রমুখ।
বাসিয়া প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মাসিক বাসিয়া পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ নওয়াব আলীর স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন কবি ও অধ্যাপক শিউল মঞ্জুর। এছাড়াও অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রভাষক কবি খালেদ উদ দীন, বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাধব রায়, বিশিষ্ট শিশু সংগঠক ছড়াকার তাজুল ইসলাম বাঙালি, গীতিকবি হরিপদ চন্দ্র, জামালগঞ্জের সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মিছবাহ উদ্দিন, ক্রীড়া সংগঠক মতিউর রহমান, কবি কামরুন নাহার চৌধুরী শেফালী ও এমরুল কয়েস প্রমুখ। অতিথিদেরকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান শাহ আমিনুল ইসলাম, সাইদুর রহমান জাবেদ, শাকিল আহমদ, মারুফ আহমদ, আকরাম হোসেন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, গীতিকার শাহ আবদুল ওদুদের প্রতিটি গানের মধ্যেই আমাদের না বলা কথাগুলো বিদ্যমান রয়েছে। আমাদের দেশে কবিতা ও গল্পের বই বেশি হলেও গানের বই সচরাচর কম দেখা যায়। সেই দৃষ্টিতে গীতিকার শাহ আবদুল ওদুদ একটি বিশাল কাজ করেছেন। এই বইয়ের মাধ্যমে মানুষ যদি বিন্দুমাত্র উপকৃত হন তবেই লেখকের শ্রম সাধনা স্বার্থক হবে।
পওে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পেশ করেন বাংলাদেশ বেতারের শিল্পী সৈয়দা হ্যাপী রাজা, প্রদীপ মল্লিক, বাউল কালা মিয়া, বাউল কাদির শাহ, সৌরব সুহেল, বাউল জুয়েল আহমদসহ অসংখ্য শিল্পীবৃন্দ।

ফারজানা শারমিন এর একগুচ্ছ কবিতা

f

হারিয়ে গেছি নিজের প্রতিচ্ছায়ায়

এক মুঠো স্বপ্ন কে যেন দিয়ে গেছে নিশীথ রাতে ,
ভোরের ক্ষীন আলোয় উড়ে গেছে সমস্ত সুখ অনুভূতি ,
অভিযোগের কারন এই মুহুর্তে কিছুই নেই ,
অনেক সময় জীবন এই ভাবেই ঘটে ,
আপনজন মুখোমুখি দাড়িয়ে বুঝিয়ে দিতে চায় হৃদয়ের নিষ্ঠুর পরিভাষা…
এক অদৃশ্য দুরত্ব রেখা টেনে যায় |
খুব সহজেই হাসি মুখে অভিলাষী মন খুঁছে পায়না ওই উপেক্ষার কারন ,
আস্তে আস্তে ভূলে যেতে চায় অতীতের সব ইতিবৃত্ত ,
তাছাড়া উপায় কি বা থাকে ,
বলো… নিখোঁজ রাতের জোনাকির সাথে অদৃশ্য পথে ,
এক মুঠো স্বপ্ন কে যেন দিয়ে গেছে নিশীথ রাতে ,
হৃদয়ের আকাশ কি শুধুই মেঘে ঢাকা……..
সবকিছুর উপলব্দি হাতের নাগালে তবুও সবাই কে চেনা যায় না |
স্মৃতির গন্ধ আজ ও ছুঁয়ে যায় ক্ষত চিহ্ন ,
আজো মনে হয় কে যেন লিখতে চায় ,
অসমাপ্ত কবিতার উপসংহার… ওই ছন্দহীন ভালোবাসার গভীরে ,
বহুবার খুঁজেছি জীবনের মর্ম ,
ভ আর প্রতিবার হারিয়ে গেছি নিজের প্রতিচ্ছায়ায়…. |

কেঁদেছি তোমার জন্য

ক্ষমা করে দিও ওগো যদি দিয়ে থাকি ব্যথা
ভুলে যেওনা প্রিয় করো নাকো অবহেলা |
শুধু নিরবতাই দেখলে
তোমার জন্য আমার চোখের অশ্রু দেখলে না…?
নিষ্ঠুরতাই দেখলে তোমার জন্য
আমার আকাশ সমান সীমাহীন ভালোবাসা গুলো দেখলেনা?
শুধু আমার ছলনা টাই দেখলে পুরোটা হ্রদয় জুড়ে যে তুমি আছো,
আমার বিশ্বাসে, আমার নি:শ্বাসে, আমার কল্পনাতে,
আমার সপ্নে আমার অস্তিত্ব এ তুমি আছো সেটা একবার ও বুঝলেনা?
কতোটা প্রহর কেটেছে নি:শব্দে একাকী তুমি কি তা জানো,
কিছু দীর্ঘ নি:শ্বাস জমা হয়ে আছে এই বুকে
কিছু অশ্রুজল জমা হয়ে আছে চোখের নিকটে ঝড়বে এখনি শিশির বিন্দু হয়ে,
হ্যা আমি কেঁদেছি, অনেক কেঁদেছি তোমার জন্য শুধুই তোমার জন্য
কতোটা নিষ্ঠুর হতে পারো তুমি
বলতে পারো আর কতো কাল সইবো এই প্রনয়ের ব্যথা…

বেদনার বানী

নিরবে নি:শব্দে ফেলা চোখের জল ভাগ্যের লিখনে আমার কাটে যায় বেলা,
নিয়তি আমার দিয়েছে দু:খ করেছে অবহেলা,
না বলা কথা গুলো মনে জাগায় হাহাকার
দক্ষিনা হাওয়ায় গোপন কথা জানায় কানে কানে,
বসে আছি কেন আপণ মনে প্রেমহীন শূন্য জীবনে তবুও মন উদাসী,
দুরাশায় বসে গাঁথি বেদনারও বানী |
তোমার আমার ভালোবাসা সে কি ফাগুন ? এ কেমন প্রেমের আগুন ?
পুরে চলেছে রাতের পর রাত
ঝড় বয়ে যাচ্ছে বাহিরে অন্তরে এলোমেলো |
মুছে দিয়ে যাও হৃদয়ের যতো ক্ষত কেন করছো এমন দগ্ধ,
বলো তো আর কতো পোড়াবে আমায় সে কি ফাগুন ?
এ কেমন প্রেমের আগুন ?
মনে হলো আঁখির কোনে আমায় যেন ডেকে গেছে সে,
ভাবিতেছে তাই একেলা বসে আপণ মনে সমাজ সংসার সব মিছে,
মিছে এ জীবনের কলরব |
হৃদয় দিয়া অনুভব করি আঁধারে মিশে গেছে সব,
ভিজেছিলো মোর বিরহ বেদনায় দুটি আঁখির পাতা,
যে গান গেয়েছিলেম তোমাদের হাসি খেলায় বিলীন হয়ে গেছে শূন্য অনাদরে অবহেলায় |
দিবানিশি মনে মনে পরাণও মাঝে বেজে ওঠে এমন কঠিন সুর,
তোমার পাষান হৃদয় তোমারে করেছে এমন নিষ্ঠুর…
নিরবে নি:শব্দে ফেলা চোখের জল আর ভাগ্যের লিখনে আমার কাটে যায় বেলা,
নিয়তি আমার দিয়েছে দু:খ করেছে অবহেলা |
না বলা কথা গুলো মনে জাগায় হাহাকার দক্ষিনা হাওয়ায় গোপন কথা জানায় কানে কানে,
বসে আছি কেন আপণ মনে প্রেমহীন শূন্য জীবনে তবুও মন উদাসী,
দুরাশায় বসে গাঁথি বেদনারও বানী… |

আবৃত্তিটা কেমন হলো

আবৃত্তিটা কেমন ? হলো বলোনি সে রাতে রাগ কিংবা অভিমানে
শুধু শুনে নিলে আনমনে, কবিতায় কি কবিকে দেখা যায়, বলতো কেন কষ্ট পাও?
ভালোবেসে ছুঁয়ে দেইনি বলে..
সব কবিতা তো তোমার জন্যই আজকাল কত ভাবে যে তোমাকে মনে আসে|

লিখতে বসে কিংবা কিছু না লিখেও
হঠাত হেডফোনে বেজে ওঠা সুরে বেসুরে,
চায়ের কাপে ঠোঁট ছোঁয়াতে ইউইন্ডচাইমস এর টুং টাং শব্দে..
নাইবা হলো দেখা তোমার সনে,
শুধু এক হাহাকার বলে দেবে কিছু শব্দ ছিলোনা বলা ক্ষণে,
দূর থেকে আরো দূরে কথা নাই বা হলো দূরালাপনে,
আবৃত্তিটা কেমন হলো ? বলোনি সে রাতে রাগ কিংবা অভিমানে
শুধু শুনে নিলে তালেতালে,
কবিতায় কি কবিকে দেখা যায় বলতো কেন কষ্ট পাও ?
ভালোবেসে ছুঁয়ে দেইনি বলে.. |

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নিবেদিত অনন্য প্রকাশনা / বাংলাদেশের আকাশ -মতিন রায়হান

Bangabondhu

একটি জাতিরাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা ও নির্মাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রকৃত অর্থেই তিনি বাংলাদেশের এক অবিসংবাদিত নেতা ও প্রাণপুরুষ। কাব্য করে বললে সত্যিকার অর্থেই তিনি ‘বাংলাদেশর আকাশ’। এদেশের আপামর জনমানুষের অন্যসব নেতাকে তুলনা করা যেতে পারে বাংলাদেশের আকাশে এক একটি নক্ষত্র হিসেবে। বাংলাভাষা, বাঙালি জাতি ও বঙ্গবন্ধুÑ এই তিনটি বিষয় যখন একরেখায় মিলে যায়, ঠিক তখনই স্বাধীন সার্বভ্যেম ‘বাংলাদেশ’ নামক রাষ্ট্রটির মুখ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কিন্তু যখনই এই তিন অনুষঙ্গ থেকে ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি বাদ কিংবা আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশের আকাশ ছেয়ে গেছে গহীন অন্ধকারে। নষ্ট-ভ্রষ্ট রাজনীতির শকুনিরা বাংলাদেশের উদার আকাশকে হিংস্র নখরে রক্তাক্ত করেছে, তবে পরাস্ত করতে পারেনি। বারবারই বাংলাদেশ বুক টান করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, ঘোষণা করেছে জাতিসত্তার অবিনাষী বিজয়গাঁথা। ‘বাংলাদেশে’ আর ‘বঙ্গবন্ধু’ যেন অসংখ্য নদীর অপরাজেয় এক মিলনমোহনা।

এই নাতিদীর্ঘ সূচনা-কখন ছাড়া ‘বাংলাদেশের আকাশ’ নিয়ে দু’চার কথা লেখা প্রাসঙ্গিক হতো না ভেবেই এমন অবতারণা। এবার সোজা কথায় আসি। ‘বাংলাদেশের আকাশ’ বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে নিয়ে কবিদের শ্রদ্ধা ও ভালবাসার এক মহান অর্ঘ্য। আলোচ্য গ্রন্থে সূচীবদ্ধ হয়েছেন একজন কবি ও বঙ্গবন্ধুপ্রেমী। দশক বিভাজনের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে পঞ্চাশের দশকের কবি থেকে শুরু করে একুশ শতকের প্রথম দশকের কবিও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। লন্ডন প্রবাসী কবি কাজল রশীদ সম্পাদিত ‘বাংলাদেশের আকাশ’ প্রকাশ করেছে প্রবাস প্রকাশনী, ইউকে, । বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে ঘাতকদের নৃশংসতা থেকে পঁচাত্তরের পনোরোই আগস্ট বেঁচে যাওয়া বঙ্গবন্ধুর দু’কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে। বইটির প্রকাশনা সৌকর্য এককথায় অসাধারণ। প্রচ্ছদপটে গাঢ় কালোর মধ্যে বঙ্গবন্ধুর অস্পষ্ট প্রতিকৃতি ও ‘বাংলাদেশের আকাশ’ লেখাটি এক আবেগঘন দ্যোতনা নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। বলা যেতে পারে, তমসাচ্ছন্ন বাংলাদেশের আকাশে বঙ্গবন্ধুর যেন ফুটে আছেন একবিন্দু আলোর মহিমায়। এমন প্রচ্ছদ পরিকল্পনার জন্য কবি শিহাব শাহরিয়ারকে সত্যি ধন্যবাদ দিতেই হয়। গ্রন্থভুক্ত কবিতার চুলচেরা বিশ্লেষণে না গিয়ে গ্রন্থের নাতিদীর্ঘ ভূকিা থেকে খানিকটা উদ্ধৃত করলেই বইটি প্রকাশনার প্রাসঙ্গিকতা ও এর স্বরূপ আঁ করা যাবে। ভূমিকায় পঞ্চাশের বিশিষ্ট কবি ও শিক্ষাবিদ জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী বলেছেন : ‘তাঁকে (বঙ্গবন্ধুকে) মানুষের হৃদয়ের সিংহাসন থেকে যে টেনে নামানো যায়নি, তারই এক অনবদ্য প্রমাণ ও প্রকাশ এই কবিতাগুচ্ছ।… আমি এই কবিতাগুচ্ছকে বরণ করছি, আর কোনো কারণে নয়; বঙ্গবন্ধু মুজিব যে এখনো, স্বদেশে ও প্রবাসে, সকল বাঙালির প্রাণের সম্রাট, এই সত্যটির এক প্রবল ও আন্তরিকউচ্চারণরণ, এই বিবেচনায়। ১০০ জন কবির ব্যক্তিগত আবেগের স্বর সম্মিলিত সুর-মুর্চনায় পরিণত হয়েছে। মুজিবের মৃত্যু নেই। কবিতার মৃত্যু নেই।’
বঙ্গবন্ধুর প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা ও শ্রদ্ধায় আলোচ্য গ্রন্থে নিবেদিত পঙক্তিগুলো নিয়ে যাঁরা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই কবি, পাশাপাশি আছেন ছড়াকার, আবৃত্তিকার, গল্পকার, সাংবাদিক ও বঙ্গবন্ধুপ্রেমী; উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেনÑ জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, সৈয়দ শামসুল হক, বেলাল চৌধুরী, কাজী আবু জাফর সিদ্দিকী, হাবীবুল্লাহ সিরাজী, মুহম্মদ নূরুল হুদা, জাহিদুল হক, অসীম সাহা, রবিউল হুসাইন, কাজী রোজী, আনোয়ারা সৈয়দ হক, মাকিদ হায়দার, নাসির আহমেদ, কামাল চৌধুরী, সোহরাব হাসান, খোন্দকার আশরাফ হোসেন, আসাদ মান্নান, ইকবাল আজিজ, হালিম আজাদ, সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, শামীম আজাদ, লুৎফর রহমান রিটন, নিতাই সেন, ফকির ইলিয়াস, মাহবুব বারী, মাহমুদ কামাল, খালেদা হোসাইন, গোলাম কিবরিয়া পিনু, আনিসুল হক,আতাউর রহমান মিলাদ,মুজিব ইরম সহ আরও অনেকে। একশ’ আটাশ পৃষ্ঠার এই বইটির বাংলাদেশ পরিবেশক পাঠশালা, ২২ আজিজ সুপার মার্কেট (নিচতলা), শাহবাগ, ঢাকা। বইটির প্রকাশকাল মার্চ ২০০৭, মূল্য ১৫০ টাকা।

মাসুদা সিদ্দিকা রুহী’র একগুচ্ছ কবিতা

11892097_516624551827604_2826005899393156745_n
# ভালোবাসি বলেই ভালোবাসা #

ভলোবাসা দুরে নয়, পৃথিবীর সব কষ্ট

ভালোবাসাহীনতায়

নিঃশব্দে কানে কানে যদি বলো

ভালোবাসি

ভেঙ্গে যাওয়া সমস্ত শূন্যতা

জোড়া তালি দিয়ে সাজাবো

খোলা জানালার মিষ্টি হাওয়ায়।

পৃথিবীর সবচেয়ে স্ধুসঢ়;ন্দর দৃশ্যের বর্ননা

আমি তোমাকে চুলচেরা দিতে পারবো

যদি বিশ্বাসী হতে পারো

আমার কাছে।

দ্বিধা আর দ্বিধায় কেটেছে

ভৌগলিক অনেক সীমারেখা

এতো দ্বিধায় থেকে

চোখ বুজে চেয়েছি বিধাতা

একবার ভালোবাসা হাতের মুঠোয় দাও

আমি না পাবার অনেক ব্যথা ভুলে যাব

আমি আমার প্রতিবেশীর নোনাজল মুছে দেব।

এরকম শতেক শব্দের মায়াজালে

নিজেকে আচ্ছন্ন করি

অবশেষে একাই গুমড়ে মরি

এ মরণ শুধুই আমার একার।

# জ্যোছনায় মধ্যরাত #

আধখানা চাঁদ জুড়েছে শহরতলী

নিশি পাখিদের ছটফটানি

জোনাকী পোকা নিভছে আর জ্বলছে

আমাদের পান্থনিবাসে

আজ বড় দুঃখের দিন

বাগানের ফুলগুলো রুগ্ন মূমুর্ষ

কান্নাগুলি ছুটছে দিক্বিদিক অরন্যে,

লেবু গাছের বাহারি খুশবু

সুগন্ধি নেয়ার মানুষ নেই,

আমাদের আজ বড় দুঃখের দিন

গত বসন্তের সমীরন নেই

তাল ছিড়ে গেছে কোথাও

সুতোটুকু নেই আঁধারপুরীতে

জ্যোছনাটুকু বৃত্তের বাইরে

বাতাসে প্রেতাত্বার কঠিন নৃত্য,

একরকম স্মৃতি নিয়ে

বছরের পর বছর বেঁচে থাকা

পুরনো দিন পুরনো ভুল

কিংবা তারচেয়ে ভয়ংকর

জীবন বদলে দেয়া।

তীব্র মমতা মাখানো

এ বাড়ীর বড় ছেলেটি

সাতাশ বছর বয়সে মৃত্যুকে টেনে নিল

পেছনে ছিল সেই মেয়েটির জন্য

প্রগাঢ় ভালোবাসা

জীবন তার সুবিশাল বাহু বাড়ায়নি

তাই অভিমানী ছেলেটি নিরবে নিঃশব্দে

আকাশ ভরা জ্যোছনায়

মধ্যরাত বেছে নিল।

# কয়েকটি নিঃশব্দ রাত #

আমার কয়েকটি নিঃশব্দ রাত ছিল, চোখে জল ছিল, আমি জলের জন্য

তৃষ্ণার্ত ছিলাম, ব্যর্থতা হতাশায় জীবন ঢেকে ছিল, কপালে ঘাম শুকানোর

আগেই আমি ক্লান্ত হয়ে পড়তাম, শেষ কবে হেসেছি মনে নেই, ভন্ড পীরের

পানি পড়া জ্যোতিষের হাত দেখা অসহ্য। রাত্রিরে বইয়ের পাতা ওল্টাই ঘ্রান

নেই পড়া হয়না, এ শহরটা মাঝে মাঝে বিষম ব্যথা হয়ে বাজে অথচ এ শহরের

কোন এক সন্ধ্যা কত প্রিয় ছিল, গরম চায়ে চুমুক, বৃষ্টিতে আটকে পড়া,

ভীষন ধুলো মাখা বাতাস, দিন দুপুরে কবিতায় টেবিল কাঁপানো, কথা

রাখার সুখ কথা না রাখার সুখ, নদীর মাঝে সমুদ্রের ডাক, সাহিত্য নিয়ে

নাড়াচাড়া না করলে শব্দেরা হারিয়ে যায়, এরকম শতেক অনুভূতি- লঘু ছন্দে

আমাকে অস্থির করে তুলে –

আমি পুরনো বন্ধুর খুঁজে সমালোচকের দৃষ্টিকে কটাক্ষ করি, শৃংখলার মাঝে

আকাশ নীলের খবর রাখি, আমি মমতা মাখানো অসহায় শিশুর জন্য অশ্রু করি

ফালি ফালি, কোমল জ্যোস্নায় দক্ষিন দুয়ারে উত্তরাধিকারের সুখ খুঁজি,

আমি একবার শুধু একবার শুদ্ধ কান্নায় ভেঙ্গে পড়ি, সরু নদীর বাঁক আমাকে

ভাবায়, আমি শব্দ ভাঙ্গি গড়ি অথচ আমার গোপন দুঃখ ছিল অনেক।

আতাউর রহমান মিলাদ এর তিনটি কবিতা

milad

গন্তব্য বিভ্রম

অন্ধকার নিমগ্ন ফুটপাতে দাঁড়িয়ে আছি একা
আলো কবেই খেয়েছে সব রাজনৈতিক দল
অন্ধকারে সবকিছু মরা জোসনার ছায়া
আমি দাঁড়িয়ে আছ গন্তব্য বিভ্রমে
কোন দিকে যাবো!
কোন পথে যাবো!

চল্লিশ বছর ধরে গন্তব্যের খোঁজে আছি
আমি যাবো
আমি যেতে চাই,যেভাবে
নাটাইয়ের হাত ধরে যায় ঘুড়ির আকাশ
বাবার হাত ধরে সন্তানের নির্ভয় নির্ভরতা
মাটির ভেতর যায় তৃষ্ণার স্রোতহীন জল
প্রেমিকার চুম্বনের ভেতর যায় ভালবাসা ওম

যাত্রার গন্তব্য থাকে;থাকে পথের নকশা
ছিনতাই হয়েছে পথ,যেতে পারিনা যেভাবে
রাজনীতির ভেতর সন্ত্রাস যায় গানের মুদ্রায়
ক্ষমতার ভেতর দুর্নীতি যায় ওমের তীব্রতায়
সংসদে যায় জাল ভোটে জেতা নিরক্ষর নেতা
নেতাদের পুকুরে যায় ত্রানের পুষ্টিবান টিন
মানুষের ভেতর যায় আগুনের লেলিহান লোভ

অন্ধকার নিমগ্ন ফুটপাথে দাঁড়িয়ে আছি একা
চারিদিকে নগ্নতার সৌখিন রাজনৈতিক বিলাস
লাওয়ারিশ কুকুরের দখলে ক্ষমতার রাজপথ
আশটে জমিনে খুঁজি শর্তহীন আলোর ঈশারা
মাঠে ঘাটে জীবন আজ যাযাবর পাখি
কষ্ট পারাপার।
কোন দিকে যাবো!
কোন পথে যাবো!

আত্ম বিকৃতি

এই যে জীবন বহন করি সে জীবন আমার নয়
অলিখিত শর্তের শতজালের কফিনে মোড়ানো
জীবনের মানচিত্র লিখা হয় অন্যের কলমে

এই যে কিশোরী মেয়েরা বেড়ে উঠছে রঙীন ব্রেসিয়ারে
তাদের যুবতী স্বপ্নটা ভেঙ্গে যাবে মৌলবাদের থাবায়
মৃত স্বপ্ন কুড়াতে কুড়াতে একদিন চুলে ধরবে পাক

এই যে ছেলেটা সিনা টান করে মিছিলে মুখর শ্লোগানে
তার বুকের রঞ্জিত রাজপথে কৌশলী পা ফেলে
মন্ত্রীর শপথ নেবে নির্বাচিত সেই প্রিয় নেতা

এই যে রাতজাগা বুদ্ধিজীবিরা ভীড় করে টিভির পর্দায়
অন্যের বিশ্বাস হরণ করে গড়ে বাণিজ্য-বেসাত
অচল ঘড়ির সময় মেপে ওরাও ঘুমিয়ে যাবে স্থবিরতায়

এই যে আমাকে পেছনে ফেলে আমারই ছায়া যায়
সফল সময় ধরবে বলে ভ্রাম্যমান পথের সন্ধানে
সেও একদিন এখানে ওখানে প্রসব করবে মৃত কচ্ছপ

এই যে চতুর কোলাহল ঠেলে নির্ঝণ পার্কে বসে
মানুষেরা প্রতিদিন খুটে খায় নগ্ন নীরবতা
তারাও একদিন ঝরে যাবে আর্দ্রতার কালে

এই যে এই পৃথিবী জুড়ে এতো আলোর মিছিল
স্রোত ভেঙ্গে এগিয়ে যাবার তীব্র প্রতিযোগিতা
আমাদের কোন ঋণ নেই কাতর আর্তি ছাড়া।

অন্ধকার চক্র

উদার আকাশের নীচে পুষ্টিহীন অন্ধকার গভীরে
যে শিশু জন্ম নিলো অভুক্ত জরায়ু থেকে
ধূসর পৃথিবীতে
তাকে কি করে বলি, ভাল থেকো…

শোষণের পিচ্ছিল পথে যাদের জন্মের যাত্রা শুরু
জীবনের ছেঁড়া খোঁড়া মাঠে
হাটি হাটি পা’ পা’ করে
তাদের,ভালো থাকা মানায় না এই সুগন্ধি সমাজে

যারা কেড়ে নেয় অবুঝ শিশুর দুঘের বোতল
শিথান থেকে স্বপ্নের বালিশ
উষ্ণ স্নেহের শীতের কাঁথা
তারাই আজ সমাজের মাপকাঠি হাতে মেপে দেয়
কংকালসার জীবনের উচ্চতা নিম্নতা
বেড়ে উঠার পকেট সাইজ ডাইরি

শর্তের তালি দেয়া জীবনের মলিন চাদর
অর্থহীন পড়ে থাকে কারো কারো গায়ে…

আবীর ইসলাম এর গুচ্ছ কবিতা

অবিবাহিত সুখabir

ঘুমুতে দেয় না অবিবাহিত সুখ
দক্ষিণের জানালা খোলা রাখি
বিবিধ মায়ারা দরজা খুলতে চায়
আকাশ দেখি, আকাশে তাকাই।

রাতের নিরবতা এতো জ্বালা দেয়!
প্রকাশিত হতে চায় বুকের মুখোশ
ফেরারী যাতনারা কলিংবেল টিপে
ভয়ের কাঁথা আরো জড়িয়ে ধরি।

পরকীয়া উস্কানি হৃদয়ের পাড়ায়
সয়ে যাই নিরবে কার মুখ চেয়ে?
বিশ্বাসের নৌকা বেধে রেখেছি ঘাটে
এলোমেলো নদীতে ভাসিয়ে দেইনি।

প্রেরণা

ব্যথা স্বপ্ন যখন পরস্পর
দাড়াও এসে সপ্নের পাশাপাশি
মানচিএটা মেলে জীবনের
আঁকাবাঁকা শেখাও অলিগলি।

তুমি হলে কবিতার এক বই
মন খারাপে নিপুণ আবৃত্তি
অস্তিরবেলার ইতিবাচক ভাবনা,
প্রেরণাতে স্বচছল দৃশ্যায়ন।

জ্যোৎস্নায় পুড়ি যখন মধ্য রাতে
শেখাও তুমি ভালোবাসার গান।

বাকি রয়ে গেছে

কোথাও বাকি রয়ে গেছে কোথাও
নামহীন মমতার মোড়
সভ্যতার মোড়কে লেপ্টে থাকা
সভ্যতা থেকে বহুদূর।

আচ্ছন্ন অন্ধকার বুকের ভেতর
কিভাবে ডাকি আলোর ডাক
নষ্টের সড়ক বাক নেয় যেদিকে
নিচ্ছি সেদিকে আমিও বাক।

কোথাও বাকি রয়ে গেছে কোথাও
পথহীন মানুষের মোড়
মানুষ মোড়কে লেপ্টে থাকা
মানুষের থেকে বহুদূর।

তবু বেঁচে রই

মনে হয় কেনো এতো মরে যাই
তবু বেঁচে রই আহা বেঁচে রই,
হতাশার শীতে ভুগতে ভুগতে
সারাদিন –
দীর্ঘনিঃশ্বাসের কাঁথা জরিয়ে পড়ে রই।

এই চোখ আহা মায়াবী চোখ
দেখেও দেখি না
হৃদয়ের ক্যনভাসে আঁকা হয়ে যায়,
মুছে ফেলি, আঁকি না।

বোধের মমি গলে গলে পড়ে যায়
যাতনার পাশাপাশি হেটে
স্বপ্নের বুকে ব্যথা শুধু বাড়ে
ভুলের পাঠগুলো ঘেটে।

মনে হয় কেনো এতো মরে যাই
পাতকের ভালোবাসা সয় না
আবীর নিরুদ্দেশ হেটেই চলে
চেনা পথে আর রয় না ….

উদয় শংকর দুর্জয় এর গুচ্ছ কবিতা

ud

ব্যর্থতার দলিল মোড়া সময়

আরেকটু পর হাফিজের জানাজা। ক্ষুধার্ত নিউমোনিয়ার হিংস্র দাঁত
যেন বিক্ষত করল শুধু এম এস হলের হাফিজকে নয়
রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতাকে দলিল লিখে শিকার হয়ে গেল অবলীলায়।

বাবুল মাতুব্বর! চা বিক্রেতার পোড়া হৃৎপিণ্ড যেন কাঁপিয়ে দিয়ে গেল
পুরো আকাশ। মাত্র ৫০০ টাকা চাঁদা দেয়ার ব্যর্থতায়
দেশলাই জ্বলে উঠলো একদল রাষ্ট্রীয় পোশাকিদের
ঘৃণ্য কপাট খুলে। সব লেনদেন মুঠো বন্দী করে
বার্ন ইউনিটে খুঁজে নিল অন্তিম আশ্রয়।

বিবৃতি আর সংলাপে ফুলে ফেঁপে উঠবে টক শো
আর ওয়েব শো। পরিযায়ী ফিরে যাবে ঘরে।
হাফিজ ও বাবুলের দাফনের সিক্ত হাওয়া মেখে
একদল স্বজন ঘরে ফিরবে কঠিন পাথর – হৃতভূমে চাপা রেখে।
চাপা রেখে সব ব্যথার কলহ, নিরন্তর আহত মেঘ
বুকের বন্দরে জমা রেখে হাফিজের বাবা শুকিয়ে নেবে অশ্রু
অটোরিকশার তৃষ্ণার্ত বিবাগী হাওয়াতে। বাবুলের সহধর্মিণী
হিসেবের খাতা লিখতে লিখতে চা – পাতার গোপন সৌরভে
বুকের মধ্যে লালন করে চলবে প্রাণেশ্বরকে।

এর পরও আমরা কিনছি ১ মিলিয়ন ডলারে সামরিক অস্ত্র
২২০ মিলিয়ন ডলারে যুদ্ধ জাহাজ, আর পরিচর্যায় ৫৫৯ মিলিয়ন ডলার।

… তবু, আমরা গড়ছিনা পর্যাপ্ত আবাসিক হল, ভাবছিনা হাফিজের
কনকনে রাত্রির শীতকনা ঘায়েলের অস্ত্র নিয়ে। দেখছি না
পানিবন্দী পাঠশালা শূন্য পড়ে থাকা অসহায় সময়গুলো।
মুখ লুকিয়ে নিচ্ছি শাসক আর শোষকের ভুলে ভরা
পাণ্ডুলিপি দেখেও। আমরা একটিবারও ভাবছি না
একটি বটবৃক্ষের কথা, একটি নিশ্চিত ভবিষ্যতের সোনালি পথ।

***
তোমাদের জন্য জমা থাক সমস্ত ঘৃণা আর অভিশাপ

অভিশাপ দিচ্ছি, আজ যারা
আমার ঘর ভাঙ্গছ, আমার প্রানের ঠাকুরের আসন পোড়াচ্ছ,
আমার সম্ভ্রম কেঁড়ে নিচ্ছ, ঠিক একদিন তোমাদের ঘরেও
দুঃখের ঘন আঁধার নেমে আসবে,
কষ্টের ক্যালেন্ডার জুড়ে থাকবে শোকের মাতম।

অভিশাপ দিচ্ছি, আজ যারা
আমার বুকের মানিক কেঁড়ে নিলে, আমার পানের বরজ পোড়ালে,
যারা আমার ঘরের চাল গুঁড়িয়ে দিয়ে আনন্দ উৎসব করলে, যারা
আমার এক মাত্র আয়ের উৎস মাছ ধরা জাল পুড়িয়ে দিলে
একদিন তোমাদের অঢেল সম্পদে পঙ্গপালের আক্রমন দেখবে,
ভিক্ষার জন্য দুয়োরে দুয়োরে ঘুরবে।

অভিশাপ দিচ্ছি, আজ যারা
আমার চোখের জল ঝরালে, বিশ্বাস ভেঙ্গে করলে চুরমার
একদিন তোমাদের চোখে নামবে রক্ত বৃষ্টি, আত্মার দেয়াল জুড়ে
বিষাক্ত সাপ খেলা করবে, কঠিন অসুখে দিনাতিপাত করবে।
যারা আজ আমকে ভিটে ছাড়া করলে একদিন তোমাদেরকেও
পথে বসতে হবে- আমি অভিশাপ দিচ্ছি।

আমি কাতর হৃদয়ে অভিশাপ দিচ্ছি
যারা আমার বুকের পাজর ভেঙ্গেছ, আমার হৃদপিণ্ডে
আঘাতের পর আঘাত হেনেছ…
তোমাদের যেন শ্রেষ্ঠতম শাস্তি প্রাপ্য থাকে।
তোমাদের জন্য জমা থাক সমস্ত ঘৃণা আর অভিশাপ
জমা থাক বিষাক্ত অক্সিজেন আর প্রলয় অগ্নিশিখা।

***
যে রাষ্ট্র দায় স্বীকার করে না

রাষ্ট্রের জন্য মায়া জাগে। ক্রোধ ছাড়িয়ে যায় সীমানা।
একটি যথোচিত ভোরের জন্য প্রার্থনায় লীন হয় রাতপ্রহর।
আর ক্রন্দিত সমাচার পড়তে পড়তে আকাশ লুকিয়ে রাখে মুখ।

আশঙ্কা নিয়েই দাঁড়াই মুখোমুখি। কোন হিসেবের খাতায়
ভুলের ঘ্রাণ মাখা ফুল। কোন রমণী আজ আবার ঠায় দাঁড়াবে
অঙ্গনে আনত মস্তকে। যে শিশু সম্ভ্রমের সংজ্ঞা বুঝে উঠবার
বহু আগেই রক্তাক্ত মেঘ মেখে নেয় শরীরে। আর যে রাষ্ট্র
দায় স্বীকার করে না…

ফেনীর সাড়ে তিন বছরের শিশু আর কুমিল্লার সোহাগীর জন্য
কার কাছে চাইব এক খণ্ড সুবিচার। এ লজ্জার নিবারনের জন্য
আকাশ ভেঙে পড়ুক। এক প্রলয়ঙ্কর দানবীয় ঝড়ে সব পরাভব
নিঃশেষিত হোক। অতঃপর একটি নতুন মানব সভ্যতা জাগুক
পাখিদের মত মন আর গাছেদের মত মায়াবী হোক এই নব গ্রহ।

***
অস্ত্র যখন অতন্দ্রি জনতা

বিশ হাজার টাকা আর এক খণ্ড জমির নামেই নিলামে উঠে যায় সম্ভ্রম। শীলতার
দালালি করতে রাষ্ট্রজীবিরাও অজন্তে লিখিয়েছে নাম। আর আমরা যারা শাহবাগে
গর্জন ফাটিয়ে নিদাঘ মেঘ ডেকে আনি তারা আসলে বোকাচোদা। আন্দোলনে উত্তাল
হলে ঋতি ধমনির জমাট ক্রোধ ছিঁড়ে যাবে। অগ্নিপুঞ্জ এখন প্রতিবাদীদের চোখের
গহনে – ছাই হয়ে যাবে মাইলের পর মাইল। বলে রাখছি।

যারা বসে আছেন চেয়ারে আর চূড়োয়, যারা আছেন আইন ও আদালতে – জেনে রাখুন
ওরা একাত্তরে লুটেছিল আজ আপানরা খেলছেন ষোল কোটির সাথে। লোপাট যখন
আটশ কোটি তখন সেনানিবাসে লুটে নিলেন সোহাগীর ইজ্জত। ঢাকা পড়ে গেল
একটির অন্তরালে আরেকটি। আপনারা মানুষ আমরা সবাই বোকাচোদা।

যারা ভাবছেন ওসব মিডিয়া ফিডিয়া। জেনে রাখুন বিভীষিকাময় নয়টি মাস – এ বুকের
মধ্যি জমা আছে জ্বলন্ত সূর্য। ত্রিশ লাখ আর দুই লাখ, রক্তাক্ত ক্রন্দন ভাসিয়ে দ্যায়
বুকের পাটাতন যখন তখন। শুনুন! আবার অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে অতন্দ্রি জনতা –
আবার যদি প্রয়োজন হয় স্ব-অধীনতার।

Developed by: